সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 116)
হরকত ছাড়া:
إن الذين كفروا لن تغني عنهم أموالهم ولا أولادهم من الله شيئا وأولئك أصحاب النار هم فيها خالدون ﴿١١٦﴾
হরকত সহ:
اِنَّ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا لَنْ تُغْنِیَ عَنْهُمْ اَمْوَالُهُمْ وَ لَاۤ اَوْلَادُهُمْ مِّنَ اللّٰهِ شَیْـًٔا ؕ وَ اُولٰٓئِکَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ﴿۱۱۶﴾
উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ লান তুগনিয়া ‘আনহুম আমওয়া-লুহুম ওয়ালা-আওলা-দুহুম মিনাল্লা-হি শাইআওঁ ওয়া উলাইকা আসহা-বুন্না-রি হুম ফীহা-খা-লিদূ ন।
আল বায়ান: নিশ্চয় যারা কুফরী করে, আল্লাহর বিপক্ষে তাদের ধন-সম্পদ না তাদের কোন কাজে আসবে, আর না তাদের সন্তানাদি। আর তারা আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১৬. নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর কাছে কখনো কোন কাজে আসবে না। আর তারাই অগ্নিবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা কুফরী করে, আল্লাহর নিকটে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কক্ষনো কোন কাজে আসবে না এবং তারা হচ্ছে অগ্নির অধিবাসী, তারা তাতে চিরকাল থাকবে।
আহসানুল বায়ান: (১১৬) নিশ্চয় যারা অবিশ্বাস করে, তাদের ধন-মাল ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর নিকট কখনো কোন কাজে লাগবে না। তারাই অগ্নিবাসী, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।
মুজিবুর রহমান: নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাস করেছে তাদের ধনরাশি ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর নিকট কিছুমাত্র কাজে আসবেনা; এবং তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, তন্মধ্যে তারা চিরকাল অবস্থান করবে।
ফযলুর রহমান: যারা অবিশ্বাস করে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর সামনে তাদের কোনই উপকারে আসবে না। তারা জাহান্নামের অধিবাসী (হবে)। সেখানে তারা চিরদিন থাকবে।
মুহিউদ্দিন খান: নিশ্চয় যারা কাফের হয়, তাদের ধন সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর সামনে কখনও কোন কাজে আসবে না। আর তারাই হলো দোযখের আগুনের অধিবাসী। তারা সে আগুনে চিরকাল থাকবে।
জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ যারা অবিশ্বাস পোষণ করে, তাদের ধনসম্পত্তি ও তাদের সন্তানসন্ততি আল্লাহ্র বিরুদ্ধে কোনোভাবেই তাদের কখনো লাভবান করবে না। আর এরাই হচ্ছে আগুনের বাসিন্দা, তারা সেখানে থাকবে দীর্ঘকাল।
Sahih International: Indeed, those who disbelieve - never will their wealth or their children avail them against Allah at all, and those are the companions of the Fire; they will abide therein eternally.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১১৬. নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর কাছে কখনো কোন কাজে আসবে না। আর তারাই অগ্নিবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১১৬) নিশ্চয় যারা অবিশ্বাস করে, তাদের ধন-মাল ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর নিকট কখনো কোন কাজে লাগবে না। তারাই অগ্নিবাসী, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১১৩-১১৭ নং আয়াতের তাফসীর:
১১৩ নং আয়াদের শানে নুযূল:
ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সালাত আদায় করতে বিলম্ব করলেন। অতঃপর মাসজিদের দিকে বের হলেন। তখন দেখতে পেলেন লোকজন সালাতের জন্য অপেক্ষা করছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের লোক এখন আল্লাহ তা‘আলার যিকির করছে না। তখন এ
(لَيْسُوْا سَوَا۬ءً مِّنْ أَهْلِ الْكِتٰبِ...)
আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (সহীহ বুখারী হা: ৫৬৭, সহীহ মুসলিম হা: ৬৪১)
পূর্বের আয়াতে যেসব আহলে কিতাবের নিন্দা করা হয়েছে, তাদের সবাই এক রকম ছিল না; বরং তাদের মধ্যে কিছু লোক ছিল যারা ভাল। যেমন আবদুল্লাহ বিন সালাম, উসায়েদ বিন উবায়েদ। সালাবা বিন সায়্যাহ প্রমুখ।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَإِنَّ مِنْ أَهْلِ الْكِتٰبِ لَمَنْ يُّؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَمَآ أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ وَمَآ أُنْزِلَ إِلَيْهِمْ خَاشِعِيْنَ لِلّٰهِ)
‘আর নিশ্চয়ই আহলে কিতাবের মধ্যে এরূপ লোকও রয়েছে যারা আল্লাহর প্রতি এবং তোমাদের প্রতি ও তাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে আল্লাহর ভয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে।” (সূরা আলি-ইমরান ৩:১৯৯)
أُمَّةٌ قَآئِمَةٌ
অর্থাৎ আহলে কিতাবদের মধ্যে একশ্রেণি আছে যারা আল্লাহ তা‘আলার দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর ঈমান এনেছে। তারা রাতে সালাতরত অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াত করে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা কাফিররা যা ব্যয় করে তার একটি দৃষ্টান্ত দিয়েছেন- প্রচণ্ড ঠাণ্ডা অথবা গরম হাওয়ার মত, যা সবুজ-শ্যামল শস্য ক্ষেতকে ধ্বংস করে দেয়। অত্যাচারী যে ক্ষেত দেখে খুব আনন্দিত এবং তা লাভের প্রতি চরম আশাবাদী থাকে, কিন্তু হঠাৎ করে তার সমস্ত আশা-আকাক্সক্ষা মাটিতে মিশে যায়।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. প্রতিকুল অবস্থাতেও হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার মর্যাদা অনেক।
২. রাতের নফল সালাতে বেশি পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত অতি উত্তম।
৩. ইসলামের দিকে আহ্বান ও ঈমানের ফযীলত অপরসীম।
৫. আহলে কিতাবদের যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তারা দ্বিগুণ নেকী পাবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১১৩-১১৭ নং আয়াতের তাফসীর:
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, আহূলে কিতাব এবং মুহাম্মাদ (সঃ)-এর অনুসারীগণ সমান নয়। মুসনাদ-ই-আহমাদে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একদা ইশার নামাযে আসতে বিলম্ব করেন। অতঃপর যখন আগমন করেন তখন সাহাবীগণ অপেক্ষমান ছিলেন। তিনি তাদেরকে বলেনঃ তোমরা ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের লোক এখন আল্লাহ তাআলার যিকির করছে না। তখন আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। কিন্তু অধিকাংশ ব্যাখ্যাতার মতে এ আয়াতগুলো আহলে কিতাবের আলেমগণের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়, যেমন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ), হযরত আসাদ ইবনে উবায়েদ (রাঃ), হযরত সা’দ ইবনে শুবা (রাঃ) প্রভৃতি। এসব লোক ঐসব আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত নন পূর্বে যাদের জঘন্য কাজের নিন্দে করা হয়েছে এবং এ ঈমানদার লোকদের সম্বন্ধেই আল্লাহ তাআলা বলেন- তারা আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পালন করে, মুহাম্মদ (সঃ)-এর শরীয়তের তারা অনুসারী, তাদের মধ্যে ধৈর্য ও ঈমানের দৃঢ়তা রয়েছে। এ নির্মল নিষ্কলুষ লোকগুলো রাত্রে তাহাজ্জুদের নামাযেও আল্লাহ পাকের কালাম পাঠ করে থাকে এবং জনগণকেও তারা এসব কাজেই নির্দেশ দেয় এবং এরা বিপরীত কার্য হতে বিরত রাখে। ভাল কাজে তারা সদা অগ্রগামী থাকে। এখন আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্বন্ধে বলেন যে, তারা ভাল লোক। এ সূরার শেষেও বলেনঃ “আহলে কিতাবের মধ্যে নিশ্চয়ই এমন লোকও রয়েছে যারা আল্লাহর উপর, তোমাদের উপর অবতারিত গ্রন্থের উপর এবং তাদের উপর অবতারিত গ্রন্থের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আল্লাহকে ভয় করে থাকে। এখানেও বলা হচ্ছে যে, তাদের সৎকার্যাবলী বিনষ্ট হবে না এবং তাদেরকে তাদের সমুদয় কার্যের পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। সমস্ত আল্লাহ-ভীরু মানুষ আল্লাহ পাকের দৃষ্টিতেই রয়েছে। তিনি কারও সকার্য বিনষ্ট করেন না। তবে ধর্মদ্রোহী লোকদের জন্যে তাদের ধন-মাল ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহ তা'আলার নিকট কোন উপকারে আসবে না। তারা জাহান্নামের অধিবাসী। (আরবী) শব্দের অর্থ হচ্ছে ভীষণ ঠাণ্ডা যা শস্যসমূহ ধ্বংস করে থাকে। মোটকথা যেমন শস্য ক্ষেত্রে বরফ জমে যাওয়ার ফলে সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যায়, এ কাফিরদের অবস্থাও ঠিক তদ্রুপ। এরা যা কিছু খরচ করে তার পুণ্য লাভ তো দূরের কথা, বরং তাদের আরও শাস্তি হবে। এটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তাদের প্রতি অত্যাচার নয়, বরং এটা তাদের মন্দ কার্যাবলীরই শাস্তি।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।