আল কুরআন


সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 114)

সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 114)



হরকত ছাড়া:

يؤمنون بالله واليوم الآخر ويأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر ويسارعون في الخيرات وأولئك من الصالحين ﴿١١٤﴾




হরকত সহ:

یُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَ یَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَ یَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْکَرِ وَ یُسَارِعُوْنَ فِی الْخَیْرٰتِ ؕ وَ اُولٰٓئِکَ مِنَ الصّٰلِحِیْنَ ﴿۱۱۴﴾




উচ্চারণ: ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি ওয়া ইয়া’মুরূনা বিলমা‘রূফি ওয়াইয়ানহাওনা ‘আনিল মুনকারি ওয়া ইউছা-রি‘ঊনা ফিল খাইরা-তি ওয়া উলাইকা মিনাসসা-লিহীন।




আল বায়ান: তারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে এবং তারা ভাল কাজের আদেশ দেয় ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে। আর তারা কল্যাণকর কাজে দ্রুত ধাবিত হয় এবং তারা নেককারদের অন্তর্ভুক্ত।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১৪. তারা আল্লাহ এবং শেষ দিনে ঈমান আনে, সৎকাজের নির্দেশ দেয়, অসৎকাজে নিষেধ করে এবং তারা কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করে(১)। আর তারাই পূণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা আল্লাহর ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে, সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ করে এবং কল্যাণকর কাজে তৎপর থাকে। বস্তুতঃ তারা পুণ্যবানদের মধ্যে গণ্য।




আহসানুল বায়ান: (১১৪) তারা আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সৎকার্যের নির্দেশ দেয়, অসৎ কার্য (করা থেকে) নিষেধ করে এবং তারা সৎকার্যে তৎপর থাকে। তারাই সজ্জনদের অন্তর্ভুক্ত।



মুজিবুর রহমান: তারা আল্লাহ ও আখিরাত বিশ্বাস করে এবং সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করে এবং সৎ কাজসমূহে তৎপর থাকে, আর তারাই সৎ কর্মশীলগণের অন্তর্ভুক্ত।



ফযলুর রহমান: তারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, ভাল কাজের আদেশ দেয় ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং সৎকর্মের চেষ্টা করে। তারা সৎলোকদের অন্তর্ভুক্ত।



মুহিউদ্দিন খান: তারা আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে এবং কল্যাণকর বিষয়ের নির্দেশ দেয়; অকল্যাণ থেকে বারণ করে এবং সৎকাজের জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করতে থাকে। আর এরাই হল সৎকর্মশীল।



জহুরুল হক: তারা আল্লাহ্‌র প্রতি ও আখেরাতের দিনের প্রতি বিশ্বাস করে, আর তারা ন্যায়ের পথে নির্দেশ দেয় ও অন্যায় থেকে নিষেধ করে, আর তারা শুভকাজে পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে, আর এরা সাধুপুরুষদের অন্তর্ভুক্ত।



Sahih International: They believe in Allah and the Last Day, and they enjoin what is right and forbid what is wrong and hasten to good deeds. And those are among the righteous.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১১৪. তারা আল্লাহ এবং শেষ দিনে ঈমান আনে, সৎকাজের নির্দেশ দেয়, অসৎকাজে নিষেধ করে এবং তারা কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করে(১)। আর তারাই পূণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত।


তাফসীর:

(১) এ আয়াতে আহলে কিতাব তথা ইয়াহুদী ও নাসারা সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে তাদের কিছু গুণাগুণ বর্ণনা করা হয়েছে যে, প্রথমত: তারা হকের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে, কোন কিছুই তাদেরকে হক পথ থেকে টলাতে পারে না। দ্বিতীয়ত: তারা রাতের বিভিন্ন সময়ে আল্লাহর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করে। তৃতীয়ত: তারা সালাত আদায় করে। চতুর্থত: তারা আল্লাহর উপর পূর্ণ ঈমান রাখে, পঞ্চমত: তারা সৎকাজের আদেশ দেয়, ষষ্টত; তারা অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে। আয়াতের পূর্বাপর সম্পর্কদৃষ্টে মনে হয়, যখন আল্লাহ্ তা'আলা এ উম্মাতে মুহাম্মদীকে সবচেয়ে উত্তম উম্মত হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তার কারণ হিসেবে ঈমান ও সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করার গুণ তাদের জন্য সাব্যস্ত করেছেন, তখন এ গুণগুলো অন্যান্য উম্মত বিশেষ করে আহলে কিতাবদের যাদের মধ্যে পাওয়া যাবে, তাদেরকেও উত্তম উম্মতের অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন।

পবিত্র কুরআনের অন্যান্য স্থানে এ ঈমানদার আহলে কিতাবদের আরও কিছু গুণাগুণ বর্ণনা করা হয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে, “আর যাদেরকে আমরা কিতাব দিয়েছি, তাদের মধ্যে যারা যথাযথভাবে তা তিলাওয়াত করে, তারা তাতে ঈমান আনে ৷ [সূরা আল-বাকারাহ: ১২১] আবার কোথাও বলা হয়েছে, “আর কিতাবীদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা আল্লাহর প্রতি বিনয়াবনত হয়ে তার প্রতি এবং তিনি যা তোমাদের ও তাদের প্রতি নাযিল করেছেন তাতে অবশ্যই ঈমান আনে এবং আল্লাহর আয়াত তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে না।” [সূরা আলে-ইমরান ১৯৯]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১১৪) তারা আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সৎকার্যের নির্দেশ দেয়, অসৎ কার্য (করা থেকে) নিষেধ করে এবং তারা সৎকার্যে তৎপর থাকে। তারাই সজ্জনদের অন্তর্ভুক্ত।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১১৩-১১৭ নং আয়াতের তাফসীর:



১১৩ নং আয়াদের শানে নুযূল:



ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সালাত আদায় করতে বিলম্ব করলেন। অতঃপর মাসজিদের দিকে বের হলেন। তখন দেখতে পেলেন লোকজন সালাতের জন্য অপেক্ষা করছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের লোক এখন আল্লাহ তা‘আলার যিকির করছে না। তখন এ



(لَيْسُوْا سَوَا۬ءً مِّنْ أَهْلِ الْكِتٰبِ...)



আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (সহীহ বুখারী হা: ৫৬৭, সহীহ মুসলিম হা: ৬৪১)



পূর্বের আয়াতে যেসব আহলে কিতাবের নিন্দা করা হয়েছে, তাদের সবাই এক রকম ছিল না; বরং তাদের মধ্যে কিছু লোক ছিল যারা ভাল। যেমন আবদুল্লাহ বিন সালাম, উসায়েদ বিন উবায়েদ। সালাবা বিন সায়্যাহ প্রমুখ।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِنَّ مِنْ أَهْلِ الْكِتٰبِ لَمَنْ يُّؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَمَآ أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ وَمَآ أُنْزِلَ إِلَيْهِمْ خَاشِعِيْنَ لِلّٰهِ)



‘আর নিশ্চয়ই আহলে কিতাবের মধ্যে এরূপ লোকও রয়েছে যারা আল্লাহর প্রতি এবং তোমাদের প্রতি ও তাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে আল্লাহর ভয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে।” (সূরা আলি-ইমরান ৩:১৯৯)



أُمَّةٌ قَآئِمَةٌ



অর্থাৎ আহলে কিতাবদের মধ্যে একশ্রেণি আছে যারা আল্লাহ তা‘আলার দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর ঈমান এনেছে। তারা রাতে সালাতরত অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াত করে।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা কাফিররা যা ব্যয় করে তার একটি দৃষ্টান্ত দিয়েছেন- প্রচণ্ড ঠাণ্ডা অথবা গরম হাওয়ার মত, যা সবুজ-শ্যামল শস্য ক্ষেতকে ধ্বংস করে দেয়। অত্যাচারী যে ক্ষেত দেখে খুব আনন্দিত এবং তা লাভের প্রতি চরম আশাবাদী থাকে, কিন্তু হঠাৎ করে তার সমস্ত আশা-আকাক্সক্ষা মাটিতে মিশে যায়।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. প্রতিকুল অবস্থাতেও হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার মর্যাদা অনেক।

২. রাতের নফল সালাতে বেশি পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত অতি উত্তম।

৩. ইসলামের দিকে আহ্বান ও ঈমানের ফযীলত অপরসীম।

৫. আহলে কিতাবদের যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তারা দ্বিগুণ নেকী পাবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১১৩-১১৭ নং আয়াতের তাফসীর:

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, আহূলে কিতাব এবং মুহাম্মাদ (সঃ)-এর অনুসারীগণ সমান নয়। মুসনাদ-ই-আহমাদে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একদা ইশার নামাযে আসতে বিলম্ব করেন। অতঃপর যখন আগমন করেন তখন সাহাবীগণ অপেক্ষমান ছিলেন। তিনি তাদেরকে বলেনঃ তোমরা ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের লোক এখন আল্লাহ তাআলার যিকির করছে না। তখন আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। কিন্তু অধিকাংশ ব্যাখ্যাতার মতে এ আয়াতগুলো আহলে কিতাবের আলেমগণের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়, যেমন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ), হযরত আসাদ ইবনে উবায়েদ (রাঃ), হযরত সা’দ ইবনে শুবা (রাঃ) প্রভৃতি। এসব লোক ঐসব আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত নন পূর্বে যাদের জঘন্য কাজের নিন্দে করা হয়েছে এবং এ ঈমানদার লোকদের সম্বন্ধেই আল্লাহ তাআলা বলেন- তারা আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পালন করে, মুহাম্মদ (সঃ)-এর শরীয়তের তারা অনুসারী, তাদের মধ্যে ধৈর্য ও ঈমানের দৃঢ়তা রয়েছে। এ নির্মল নিষ্কলুষ লোকগুলো রাত্রে তাহাজ্জুদের নামাযেও আল্লাহ পাকের কালাম পাঠ করে থাকে এবং জনগণকেও তারা এসব কাজেই নির্দেশ দেয় এবং এরা বিপরীত কার্য হতে বিরত রাখে। ভাল কাজে তারা সদা অগ্রগামী থাকে। এখন আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্বন্ধে বলেন যে, তারা ভাল লোক। এ সূরার শেষেও বলেনঃ “আহলে কিতাবের মধ্যে নিশ্চয়ই এমন লোকও রয়েছে যারা আল্লাহর উপর, তোমাদের উপর অবতারিত গ্রন্থের উপর এবং তাদের উপর অবতারিত গ্রন্থের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আল্লাহকে ভয় করে থাকে। এখানেও বলা হচ্ছে যে, তাদের সৎকার্যাবলী বিনষ্ট হবে না এবং তাদেরকে তাদের সমুদয় কার্যের পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। সমস্ত আল্লাহ-ভীরু মানুষ আল্লাহ পাকের দৃষ্টিতেই রয়েছে। তিনি কারও সকার্য বিনষ্ট করেন না। তবে ধর্মদ্রোহী লোকদের জন্যে তাদের ধন-মাল ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহ তা'আলার নিকট কোন উপকারে আসবে না। তারা জাহান্নামের অধিবাসী। (আরবী) শব্দের অর্থ হচ্ছে ভীষণ ঠাণ্ডা যা শস্যসমূহ ধ্বংস করে থাকে। মোটকথা যেমন শস্য ক্ষেত্রে বরফ জমে যাওয়ার ফলে সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যায়, এ কাফিরদের অবস্থাও ঠিক তদ্রুপ। এরা যা কিছু খরচ করে তার পুণ্য লাভ তো দূরের কথা, বরং তাদের আরও শাস্তি হবে। এটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তাদের প্রতি অত্যাচার নয়, বরং এটা তাদের মন্দ কার্যাবলীরই শাস্তি।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।