আল কুরআন


সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 10)

সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 10)



হরকত ছাড়া:

إن الذين كفروا لن تغني عنهم أموالهم ولا أولادهم من الله شيئا وأولئك هم وقود النار ﴿١٠﴾




হরকত সহ:

اِنَّ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا لَنْ تُغْنِیَ عَنْهُمْ اَمْوَالُهُمْ وَ لَاۤ اَوْلَادُهُمْ مِّنَ اللّٰهِ شَیْئًا ؕ وَ اُولٰٓئِکَ هُمْ وَقُوْدُ النَّارِ ﴿ۙ۱۰﴾




উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযীনা কাফারু লান তুগনিয়া ‘আনহুম আমওয়া-লুহুম ওয়ালা আওলা-দুহুম মিনাল্লা-হি শাইআওঁ ওয়া উলাইকাহুম ওয়াকূদুন্না-র।




আল বায়ান: নিশ্চয় যারা কুফরী করে, তাদের মাল-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর আযাব থেকে কখনও কোন কাজে আসবে না এবং তারাই আগুনের জ্বালানি।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০. নিশ্চয় যারা কুফরী করে আল্লাহর নিকট তাদের ধন-সম্পদ ও সস্তান-সন্তুতি কোন কাজে আসবে না এবং এরাই আগুনের ইন্ধন।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: নিশ্চয়ই যারা কুফরী করে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর সামনে কোন কাজে লাগবে না এবং তারাই আগুনের ইন্ধন।




আহসানুল বায়ান: (১০) যারা অবিশ্বাস করে তাদের ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর নিকট কোন কাজে লাগবে না। এবং এ সকল লোকই দোযখের ইন্ধন হবে।



মুজিবুর রহমান: নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাস করেছে, তাদের ধন-সম্পদ ও তাদের সন্তান-সন্ততি আল্লাহর নিকট কোন বিষয়েই ফলপ্রদ হবেনা এবং তারাই জাহান্নামের ইন্ধন।



ফযলুর রহমান: যারা (সত্যকে) অবিশ্বাস করে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর সামনে তাদের কোনই কাজে আসবে না। আর তারাই হবে দোযখের জ্বালানি।



মুহিউদ্দিন খান: যারা কুফুরী করে, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর সামনে কখনও কাজে আসবে না। আর তারাই হচ্ছে দোযখের ইন্ধন।



জহুরুল হক: যারা অবিশ্বাস পোষণ করে, নিঃসন্দেহ আর তারা নিজেরাই হচ্ছে আগুনের ইন্ধন --



Sahih International: Indeed, those who disbelieve - never will their wealth or their children avail them against Allah at all. And it is they who are fuel for the Fire.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০. নিশ্চয় যারা কুফরী করে আল্লাহর নিকট তাদের ধন-সম্পদ ও সস্তান-সন্তুতি কোন কাজে আসবে না এবং এরাই আগুনের ইন্ধন।(১)


তাফসীর:

(১) মহান আল্লাহ এ আয়াতে কাফেরদের সম্পর্কে এটা জানিয়ে দিচ্ছেন যে, তারা জাহান্নামের ইন্ধন হবে। “যেদিন যালেমদের কোন ওজর-আপত্তি কাজে আসবে না, আর তাদের জন্য থাকবে লা'নত এবং তাদের জন্য থাকবে খারাপ আবাস” [গাফের: ৫২] দুনিয়াতে তাদেরকে যে সমস্ত সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দেয়া হয়েছিল তাও তাদের কোন উপকার দিবে না এবং তাদেরকে আল্লাহর কঠোর শাস্তি ও কঠিন পাকড়াও থেকে উদ্ধার করতে সমর্থ হবে না। অন্য আয়াতেও আল্লাহ তা'আলা এ বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন, “কাজেই ওদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আপনাকে যেন বিমুগ্ধ না করে, আল্লাহ তো এসবের দ্বারাই ওদেরকে পার্থিব জীবনে শাস্তি দিতে চান। ওরা কাফের থাকা অবস্থায় ওদের আত্মা দেহত্যাগ করবে” [আত-তাওবাহঃ ৫৫] আরও বলেন, “যারা কুফরী করেছে, দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন কিছুতেই আপনাকে বিভ্রান্ত না করে। এ তো স্বল্পকালীন ভোগ মাত্র; তারপর জাহান্নাম তাদের আবাস আর ওটা কত নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল! [সূরা আলে ইমরান: ১৯৬–১৯৭]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০) যারা অবিশ্বাস করে তাদের ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর নিকট কোন কাজে লাগবে না। এবং এ সকল লোকই দোযখের ইন্ধন হবে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০ ও ১১ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা বলেন, অস্বীকারকারীরা জাহান্নামের ইন্ধন হবে। সেদিন ঐ অত্যাচারীদের কোন ওযর-আপত্তি গ্রহণ করা হবে না। সেদিন তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহ তা‘আলার নিকট কোন উপকারে আসবে না। তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি থেকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না।



যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(اَیَحْسَبُوْنَ اَنَّمَا نُمِدُّھُمْ بِھ۪ مِنْ مَّالٍ وَّبَنِیْنَﮆﺫ نُسَارِعُ لَھُمْ فِی الْخَیْرٰتِﺚ بَلْ لَّا یَشْعُرُوْنَ)‏



“তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে যে সাহায্য করে থাকি, তা দ্বারা আমি তাদের জন্য সকল প্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করছি? না, তারা বুঝে না।” (সূরা মু’মিনুন ২৩:৫৫-৫৬)



আর যারা সন্তান-সন্ততি দ্বারা নাজাতের আশা করবে এবং আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করবে তারা চিরকাল জাহান্নামে অবস্থান করবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(اِنَّ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا لَنْ تُغْنِیَ عَنْھُمْ اَمْوَالُھُمْ وَلَآ اَوْلَادُھُمْ مِّنَ اللہِ شَیْئًاﺚ وَاُولٰ۬ئِکَ اَصْحٰبُ النَّارِﺆ ھُمْ فِیْھَا خٰلِدُوْنَ)



“নিশ্চয়ই যারা কুফরী করেছে আল্লাহর (শাস্তি থেকে রক্ষা করতে) তাদের সন্তান ও সম্পদ কখনও কোন কাজে আসবে না। আর তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।” (সূরা আলি-ইমরান ৩:১১৬)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(وَقَالُوْا نَحْنُ اَکْثَرُ اَمْوَالًا وَّاَوْلَادًاﺫ وَّمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِیْنَ) ‏



“তারা বলত: আমরা ধনে-জনে সমৃদ্ধশালী; সুতরাং আমাদেরকে কিছুতেই শাস্তি দেয়া হবে না।” (সূরা সাবা ৩৪:৩৫)



তাদের ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না যেমনভাবে ফির‘আউন ও তার পূর্ববর্তী কাফিরদের ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি তাদের কোন কাজে আসেনি। আল্লাহ তা‘আলার পাকড়াও অত্যন্ত কঠিন এবং তাঁর শাস্তি বড়ই বেদনাদায়ক। কেউ কোন ক্ষমতা বলে ঐ শাস্তি হতে রক্ষা পেতে পারে না এবং তা সরিয়ে দিতেও পারে না। সুতরাং যারা কুফরী করবে তাদের অবস্থাও পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের মতই হবে।



আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে কঠিন শাস্তির মাধ্যমে পাকড়াও করবেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(فَكَذَّبُوْهُ فَأَخَذَهُمْ عَذَابُ يَوْمِ الظُّلَّةِ ط إِنَّه۫ كَانَ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيْمٍ)



“অতঃপর তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করল, পরে তাদেরকে মেঘাচ্ছন্ন দিবসের শাস্তি গ্রাস করল। এটা তো ছিল এক ভীষণ দিবসের শাস্তি!” (সূরা শুয়ারা ২৬:১৮৯)



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَلَبِثَ فِيْهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِيْنَ عَامًا ط فَأَخَذَهُمُ الطُّوْفَانُ وَهُمْ ظٰلِمُوْنَ) ‏



“সে তাদের মধ্যে অবস্থান করেছিল পঞ্চাশ কম হাজার বছর। অতঃপর প্লাবন তাদেরকে গ্রাস করে; কারণ তারা ছিল সীমালঙ্ঘনকারী।” (সূরা আনকাবুত ২৯:১৪)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(وَفِيْ عَادٍ إِذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الرِّيْحَ الْعَقِيْمَ)



“আর আদ সম্প্রদায়, যখন আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম অকল্যাণকর বাতাস।” (সূরা যারিয়াত ৫১:৪১)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১। যারা কুফরী করে তাদের জন্য ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন উপকারে আসবেনা।

২। যারা আল্লাহ তা‘আলার আয়াতকে অস্বীকার করে তিনি তাদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদান করেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০-১১ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, অস্বীকারকারীরা জাহান্নামের জ্বালানী কাষ্ঠ হবে। সেদিন ঐ অত্যাচারীদের ওযর কৈফিয়ত কোন কাজে আসবে না। তাদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত এবং তাদের জন্যে জঘন্য বাসস্থান রয়েছে। সেদিন তাদের ধন-মাল ও সন্তান-সন্ততি তাদের কোনই উপকার করতে পারবে না, তাদেরকে আল্লাহ তাআলার শাস্তি হতে রক্ষা করতে পারবে না। যেমন অন্য জায়গায় বলেছেনঃ ‘তাদের ধন-মাল ও সন্তান-সন্ততির উপর বিস্ময়বোধ করো না, আল্লাহ ওর কারণে তাদেরকে দুনিয়ায় শাস্তি দিতে চান, কফরীর অবস্থাতেই তাদের প্রাণ বহির্গত হবে।

অন্য স্থানে রয়েছেঃ “তাদের শহরে ঘুরাফেরা যেন তোমাদের প্রতারিত না করে, এ পুঁজি অল্পদিনের, অতঃপর তাদের বাসস্থান জাহান্নাম এবং ওটা জঘন্যতম স্থান। অনুরূপ এখানেও বলা হচ্ছে যে, যারা আল্লাহ তাআলার কথা অস্বীকারকারী, তাঁর রাসূল (সঃ)-কে অমান্যকারী, তাঁর কিতাবের বিরোধী, অহীর অবাধ্য তারা যেন তাদের মাল-ধন ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা কোন মঙ্গলের আশা না করে। তারা জাহান্নামের জ্বালানী কাষ্ঠ, তাদের দ্বারা জাহান্নাম প্রজ্জ্বলিত করা হবে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ “তোমরা ও তোমাদের উপাস্যেরা জাহান্নামের জ্বালানী কাষ্ঠ।' মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতিমের মধ্যে রয়েছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর মা হযরত উম্মে ফযল (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ মক্কা শরীফে রাসূলুল্লাহ (সঃ) এক রাত্রে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে বলেনঃ “হে জনমণ্ডলী! আমি কি আল্লাহর কথা তোমাদের নিকট পৌছিয়ে দিয়েছি? হে জনগণ! আমি কি প্রচারকার্য চালিয়েছি? হে লোক সকল! আমি কি একত্ব ও রিসালাত তোমাদের নিকট পৌছিয়ে দিয়েছি’? হযরত উমার (রাঃ) তখন বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর দ্বীন আমাদের নিকট পৌছিয়ে দিয়েছেন।'

অতঃপর সকাল হলে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “জেনে রেখো! আল্লাহর শপথ! ইসলাম জয়যুক্ত হবে এবং বহুদূর ছড়িয়ে পড়বে। শেষ পর্যন্ত কাফিরেরা তাদের জায়গায় আত্মগোপন করবে। মুসলমানেরা ইসলামকে নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দেবে ও তার কার্য চালিয়ে যাবে। জেনে রেখো যে, এমন যুগও আসবে যখন মানুষ কুরআন মাজীদ শিক্ষা করবে ও পাঠ করবে। অতঃপর (অহংকার ও আমিত্ব প্রকাশ করতঃ) বলবেঃ আমরা কুরআন কারীমের পাঠক, আমরা বিদ্বান। কে আমাদের চেয়ে বেড়ে যাবে?' তাদের জন্য কোন মঙ্গল রয়েছে কি”? জনগণ জিজ্ঞেস করেনঃ “হে আল্লাহ রাসূল (সঃ)! ঐগুলো কে?' তিনি বলেনঃ “তোমাদের মুসলমানদের মধ্য হতেই হবে কিন্তু মনে রাখবে যে, তারা জাহান্নামের জ্বালানী কাষ্ঠ।

ইবনে মিরদুওয়াই (রঃ)-এর গ্রন্থেও এ হাদীসটি রয়েছে। ওতে এও রয়েছে যে, হযরত উমার (রাঃ) উত্তরে বলেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! আপনি অত্যন্ত আশা ও উদ্দীপনা নিয়ে প্রচার কার্য চালিয়েছেন এবং আপনি যথেষ্ট চেষ্টা ও পরিশ্রম করেছেন। আপনি বিশেষভাবে আমাদের মঙ্গল কামনা করেছেন।

অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “যেমন অবস্থা ফিরআউন সম্প্রদায়ের ছিল, যেমন তাদের কৃতকর্ম ছিল। (আরবী) শব্দটির (আরবী) অক্ষরটি জযমের সঙ্গেও এসেছে এবং যবরের সঙ্গেও এসেছে। যেমন নাহরুন ও নাহার শব্দটি। (আরবী) শব্দটি জাকজমক, অভ্যাস, অবস্থা এবং পন্থা ইত্যাদি অর্থে এসে থাকে। ইমরুল কায়েসের কবিতায়ও এ শব্দটি এরূপ অর্থে এসেছে। পবিত্র আয়াতটির ভাবার্থ এই যে, আল্লাহর নিকট কাফিরদের মাল-ধন ও সন্তান-সন্ততি তাদের কোন কাজে আসবে না, যেমন ফিরআউন সম্প্রদায় ও তাদের পূর্ববর্তী কাফিরদের ধন-মাল ও সন্তানাদি তাদের কোন কাজে আসেনি। আল্লাহ তা'আলার পাকড়াও অত্যন্ত কঠিন এবং তার শাস্তি বড়ই বেদনাদায়ক। কেউ কোন ক্ষমতার বলে ঐ শাস্তি হতে রক্ষা পেতে পারে না এবং তা সরিয়ে দিতেও পারে না। আল্লাহ পাক যা চান তাই করে থাকেন। প্রত্যেক জিনিসই তার বশীভূত। তিনি ব্যতীত কেউ মাবুদ নেই।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।