আল কুরআন


সূরা আয-যুমার (আয়াত: 18)

সূরা আয-যুমার (আয়াত: 18)



হরকত ছাড়া:

الذين يستمعون القول فيتبعون أحسنه أولئك الذين هداهم الله وأولئك هم أولو الألباب ﴿١٨﴾




হরকত সহ:

الَّذِیْنَ یَسْتَمِعُوْنَ الْقَوْلَ فَیَتَّبِعُوْنَ اَحْسَنَهٗ ؕ اُولٰٓئِکَ الَّذِیْنَ هَدٰىهُمُ اللّٰهُ وَ اُولٰٓئِکَ هُمْ اُولُوا الْاَلْبَابِ ﴿۱۸﴾




উচ্চারণ: আল্লাযীনা ইয়াছতামি‘ঊনাল কাওলা ফাইয়াত্তাবি‘ঊনা আহছানাহূ উলাইকাল্লাযীনা হাদা-হুমুল্লা-হু ওয়া উলাইকা হুম ঊলুল আলবা-ব।




আল বায়ান: যারা মনোযোগ সহকারে কথা শোনে অতঃপর তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে তাদেরকেই আল্লাহ হিদায়াত দান করেন আর তারাই বুদ্ধিমান।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৮. যারা মনোযোগের সাথে কথা শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ্ হিদায়াত দান করেছেন আর তারাই বোধশক্তি সম্পন্ন।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শুনে আর এর উত্তমগুলো মেনে চলে। ওরাই হল তারা আল্লাহ যাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন আর ওরাই হল জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন।




আহসানুল বায়ান: (১৮) যারা মনোযোগ সহকারে কথা শোনে এবং যা উত্তম[1] তার অনুসরণ করে। ওরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেন এবং ওরাই বুদ্ধিমান। [2]



মুজিবুর রহমান: যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে এবং ওর মধ্যে যা উত্তম তা গ্রহণ করে তাদেরকে আল্লাহ সৎ পথে পরিচালিত করেন এবং তারাই বোধশক্তি সম্পন্ন।



ফযলুর রহমান: যারা মন দিয়ে কথা শোনে এবং ভাল কথা মেনে চলে। ওদেরকেই আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন এবং ওরাই বুদ্ধিমান।



মুহিউদ্দিন খান: যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।



জহুরুল হক: যারা বক্তব্য শোনে এবং তার ভালগুলোর অনুসরণ করে -- এরাই তারা যাদের আল্লাহ্ সৎপথে পরিচালিত করেছেন, আর এরাই স্বয়ং বোধশক্তিসম্পন্ন।



Sahih International: Who listen to speech and follow the best of it. Those are the ones Allah has guided, and those are people of understanding.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৮. যারা মনোযোগের সাথে কথা শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ্ হিদায়াত দান করেছেন আর তারাই বোধশক্তি সম্পন্ন।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৮) যারা মনোযোগ সহকারে কথা শোনে এবং যা উত্তম[1] তার অনুসরণ করে। ওরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেন এবং ওরাই বুদ্ধিমান। [2]


তাফসীর:

[1] أَحْسَنُ (উত্তম) শব্দ দ্বারা সুস্পষ্ট ও বলিষ্ঠ কথাকে বুঝানো হয়েছে। অথবা বিধি-বিধানের মধ্যে সব থেকে উত্তম বিধানকে, অথবা বাধ্যবাধকতামূলক ও অনুমতিপ্রাপ্ত কর্মের মধ্যে বাধ্যবাধকতামূলক কর্মকে, অথবা শাস্তি দানের পরিবর্তে ক্ষমাশীলতাকে বেছে নেওয়ার প্রশংসা করা হয়েছে।

[2] কারণ, তারা নিজ জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হয়েছে। পক্ষান্তরে অন্যরা নিজ জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হয়নি।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৭-২০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



যারা দুনিয়াতে ভাল কাজ করবে, শয়তানের আনুগত্য করা থেকে বেঁচে থাকবে, একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সুসংবাদ। দুনিয়াতে তারা আল্লাহ তা‘আলার সাহায্যপ্রাপ্ত হবে, আর আখিরাতে তারা আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি এবং জান্নাতে চিরস্থায়ী নেয়ামত লাভ করবে। যে নেয়ামত কখনো শেষ হবার নয়।



أحسن দ্বারা সুস্পষ্ট ও বলিষ্ঠ কথাকে বুঝানো হয়েছে।



পক্ষান্তরে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবীকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন যে, হে নাবী! তুমি যে সকল লোকদের হিদায়াতের ব্যাপারে চেষ্টা করছ তারাতো এমন লোক যাদের অবাধ্যতার কারণে তাদের ওপর জাহান্নামের শাস্তি অবধারিত হয়ে গেছে। সুতরাং তাদেরকে তুমি হিদায়াতের পথে নিয়ে আসতে পারবে না। তাদের জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নাম বিধিবদ্ধ হয়ে গেছে। তাই তাদেরকে তুমি জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না।



তবে যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করে তাদের জন্য রয়েছে বহুতলবিশিষ্ট প্রাসাদ। অর্থাৎ জান্নাতে একের ওপর এক তলা হবে, যেমন পৃথিবীতে বহুতলবিশিষ্ট বিল্ডিং দেখা যায়। আর তার নিম্নদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে ঝর্ণাধারা।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে হবে এবং তাগুতের অনুসরণ করা হতে বেঁচে থাকতে হবে।

২. দীনি আলোচনা মনোযোগসহকারে শুনতে হবে এবং তদানুযায়ী আমল করতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৭-১৮ নং আয়াতের তাফসীর:

বর্ণিত আছে যে, এ আয়াত দু'টি হযরত যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল (রাঃ), হযরত আবু যার (রাঃ) এবং হযরত সালমান ফারসী (রাঃ)-এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। কিন্তু সঠিক কথা এই যে, এ আয়াত দু’টি যেমন এই মহান ব্যক্তিবর্গকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, অনুরূপভাবে এমন প্রত্যেক ব্যক্তি এর অন্তর্ভুক্ত যার মধ্যে এই পবিত্র গুণাবলী বিদ্যমান রয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ্ ছাড়া সবারই প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা এবং মহান আল্লাহর আনুগত্যে অটল থাকা। এ ধরনের লোকদের জন্যে উভয় জগতে সুসংবাদ রয়েছে। যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে এবং ওর মধ্যে যা উত্তম তা গ্রহণ করে। এই প্রকৃতির লোকদেরকে মহান আল্লাহ্ সৎপথে পরিচালিত করেন এবং এঁরাই বোধশক্তি সম্পন্ন। যেমন আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা হযরত মূসা (আঃ)-কে তাওরাত প্রদানের সময় বলেছিলেনঃ “এটাকে তুমি শক্তভাবে ধারণ কর এবং তোমার কওমকে নির্দেশ দাও যে, তারা যেন এটাকে উত্তমরূপে ধারণ করে।” সুতরাং জ্ঞানী ও সৎ লোকদের মধ্যে ভাল কথা গ্রহণ করার সঠিক অনুভূতি অবশ্যই বিদ্যমান থাকে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।