সূরা আয-যুমার (আয়াত: 17)
হরকত ছাড়া:
والذين اجتنبوا الطاغوت أن يعبدوها وأنابوا إلى الله لهم البشرى فبشر عبادي ﴿١٧﴾
হরকত সহ:
وَ الَّذِیْنَ اجْتَنَبُوا الطَّاغُوْتَ اَنْ یَّعْبُدُوْهَا وَ اَنَابُوْۤا اِلَی اللّٰهِ لَهُمُ الْبُشْرٰی ۚ فَبَشِّرْ عِبَادِ ﴿ۙ۱۷﴾
উচ্চারণ: ওয়াল্লাযীনাজ তানাবুত্তা-গূতা আইঁ ইয়া‘বুদূ হা-ওয়া আনাবূইল্লাল্লা-হি লাহুমুল বুশরা- ফাবাশশির ‘ইবা-দ।
আল বায়ান: আর যারা তাগূতের উপাসনা পরিহার করে এবং আল্লাহ অভিমুখী হয় তাদের জন্য আছে সুসংবাদ; অতএব আমার বান্দাদেরকে সুসংবাদ দাও।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৭. আর যারা তাগূতের ইবাদাত থেকে দূরে থাকে এবং আল্লাহর অভিমুখী হয় তাদের জন্য আছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দিন আমার বান্দাদেরকে—
তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা তাগূতের দাসত্ব থেকে দূরে থাকে, আর আল্লাহর অভিমুখী হয়, সুসংবাদ তাদেরই জন্য। কাজেই সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদেরকে
আহসানুল বায়ান: (১৭) যারা তাগূতের পূজা হতে দূরে থাকে এবং আল্লাহর অনুরাগী হয়, তাদের জন্য আছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দাও আমার দাসদেরকে --
মুজিবুর রহমান: যারা তাগুতের পূজা হতে দূরে থাকে এবং আল্লাহর অভিমুখী হয় তাদের জন্য আছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদেরকে।
ফযলুর রহমান: আর যারা তাগূতের (দেব-দেবীর) পূজা করা থেকে দূরে থাকে এবং আল্লাহর দিকে মুখ ফিরায় (মনোনিবেশ করে), তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে। অতএব, আমার (এরূপ খাঁটি) বান্দাদেরকে সুসংবাদ দাও।
মুহিউদ্দিন খান: যারা শয়তানী শক্তির পূজা-অর্চনা থেকে দূরে থাকে এবং আল্লাহ অভিমুখী হয়, তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ। অতএব, সুসংবাদ দিন আমার বান্দাদেরকে।
জহুরুল হক: আর যারা তাগুতকে এড়িয়ে চলে তাদের পূজাঅর্চনা থেকে, আর আল্লাহ্র দিকে অনুগত হয় তাদেরই জন্য রয়েছে সুসংবাদ, সেজন্য সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদের --
Sahih International: But those who have avoided Taghut, lest they worship it, and turned back to Allah - for them are good tidings. So give good tidings to My servants
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৭. আর যারা তাগূতের ইবাদাত থেকে দূরে থাকে এবং আল্লাহর অভিমুখী হয় তাদের জন্য আছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দিন আমার বান্দাদেরকে—
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৭) যারা তাগূতের পূজা হতে দূরে থাকে এবং আল্লাহর অনুরাগী হয়, তাদের জন্য আছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দাও আমার দাসদেরকে --
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৭-২০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
যারা দুনিয়াতে ভাল কাজ করবে, শয়তানের আনুগত্য করা থেকে বেঁচে থাকবে, একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সুসংবাদ। দুনিয়াতে তারা আল্লাহ তা‘আলার সাহায্যপ্রাপ্ত হবে, আর আখিরাতে তারা আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি এবং জান্নাতে চিরস্থায়ী নেয়ামত লাভ করবে। যে নেয়ামত কখনো শেষ হবার নয়।
أحسن দ্বারা সুস্পষ্ট ও বলিষ্ঠ কথাকে বুঝানো হয়েছে।
পক্ষান্তরে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবীকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন যে, হে নাবী! তুমি যে সকল লোকদের হিদায়াতের ব্যাপারে চেষ্টা করছ তারাতো এমন লোক যাদের অবাধ্যতার কারণে তাদের ওপর জাহান্নামের শাস্তি অবধারিত হয়ে গেছে। সুতরাং তাদেরকে তুমি হিদায়াতের পথে নিয়ে আসতে পারবে না। তাদের জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নাম বিধিবদ্ধ হয়ে গেছে। তাই তাদেরকে তুমি জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
তবে যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করে তাদের জন্য রয়েছে বহুতলবিশিষ্ট প্রাসাদ। অর্থাৎ জান্নাতে একের ওপর এক তলা হবে, যেমন পৃথিবীতে বহুতলবিশিষ্ট বিল্ডিং দেখা যায়। আর তার নিম্নদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে ঝর্ণাধারা।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে হবে এবং তাগুতের অনুসরণ করা হতে বেঁচে থাকতে হবে।
২. দীনি আলোচনা মনোযোগসহকারে শুনতে হবে এবং তদানুযায়ী আমল করতে হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৭-১৮ নং আয়াতের তাফসীর:
বর্ণিত আছে যে, এ আয়াত দু'টি হযরত যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল (রাঃ), হযরত আবু যার (রাঃ) এবং হযরত সালমান ফারসী (রাঃ)-এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। কিন্তু সঠিক কথা এই যে, এ আয়াত দু’টি যেমন এই মহান ব্যক্তিবর্গকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, অনুরূপভাবে এমন প্রত্যেক ব্যক্তি এর অন্তর্ভুক্ত যার মধ্যে এই পবিত্র গুণাবলী বিদ্যমান রয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ্ ছাড়া সবারই প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা এবং মহান আল্লাহর আনুগত্যে অটল থাকা। এ ধরনের লোকদের জন্যে উভয় জগতে সুসংবাদ রয়েছে। যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে এবং ওর মধ্যে যা উত্তম তা গ্রহণ করে। এই প্রকৃতির লোকদেরকে মহান আল্লাহ্ সৎপথে পরিচালিত করেন এবং এঁরাই বোধশক্তি সম্পন্ন। যেমন আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা হযরত মূসা (আঃ)-কে তাওরাত প্রদানের সময় বলেছিলেনঃ “এটাকে তুমি শক্তভাবে ধারণ কর এবং তোমার কওমকে নির্দেশ দাও যে, তারা যেন এটাকে উত্তমরূপে ধারণ করে।” সুতরাং জ্ঞানী ও সৎ লোকদের মধ্যে ভাল কথা গ্রহণ করার সঠিক অনুভূতি অবশ্যই বিদ্যমান থাকে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।