সূরা সোয়াদ (আয়াত: 79)
হরকত ছাড়া:
قال رب فأنظرني إلى يوم يبعثون ﴿٧٩﴾
হরকত সহ:
قَالَ رَبِّ فَاَنْظِرْنِیْۤ اِلٰی یَوْمِ یُبْعَثُوْنَ ﴿۷۹﴾
উচ্চারণ: কা-লা রাব্বি ফাআনজিরনীইলা-ইয়াওমি ইউব‘আছূন।
আল বায়ান: সে বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে সে দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন যেদিন তারা পুনরুত্থিত হবে।’
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৯. সে বলল, হে আমার রব! অতএব আপনি আমাকে সে দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন, যে দিন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: সে বলল- হে আমার প্রতিপালক! তাহলে আমাকে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত সময় দিন।
আহসানুল বায়ান: (৭৯) সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তাহলে তুমি আমাকে পুনরুত্থান দিন পর্যন্ত অবকাশ দাও।’
মুজিবুর রহমান: সে বললঃ হে আমার রাব্ব! আপনি আমাকে অবকাশ দিন পুনরুত্থান দিন পর্যন্ত।
ফযলুর রহমান: সে বলল, “হে প্রভু! তাহলে (মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য) আমাকে সেদিন পর্যন্ত অবকাশ দাও যেদিন তাদেরকে (কবর থেকে) উঠানো হবে।”
মুহিউদ্দিন খান: সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।
জহুরুল হক: সে বললে -- "আমার প্রভু! তবে আমাকে অবকাশ দাও তাদের পুনরুত্থান করানোর দিন পর্যন্ত।"
Sahih International: He said, "My Lord, then reprieve me until the Day they are resurrected."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭৯. সে বলল, হে আমার রব! অতএব আপনি আমাকে সে দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন, যে দিন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭৯) সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তাহলে তুমি আমাকে পুনরুত্থান দিন পর্যন্ত অবকাশ দাও।”
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭১-৮৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আলোচ্য আয়াতগুলোতে আদম (আঃ)-এর সৃষ্টি এবং সৃষ্টি করার পর সকল ফেরেশতা কৃর্তক তাঁকে সিজদাহ্ করানো, ইত্যাদিসহ ইবলিসের সাথে আল্লাহ তা‘আলার কথোপকথন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আল্লাহ তা‘আলা ফেরেশতাদেরকে অবগত করলেন যে, তিনি মাটির মানুষ (আদমকে) সৃষ্টি করবেন, এটা ছিল ফেরেশতাদেরকে অবগত করানোর জন্য, পরামর্শ করার জন্য নয়। তখন ফেরেশতারা যে অভিব্যক্তি পেশ করেছিল তা সূরা বাকারার ৩০ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন এবং আদমের ভিতরে রূহ দিলেন তখন সকল ফেরেশতা সিজদাহ্ করল কিন্তু ইবলীস করল না, সে অস্বীকার ও অহঙ্কার করল।
(خَلَقْتُ بِيَدَيَّ)
‘নিজের হাতে সৃষ্টি করেছি’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা আদম (আঃ)-কে স্বহস্তে সৃষ্টি করার পর ইবলিসকে বললেন, আমি যাকে স্বহস্তে সৃষ্টি করে অন্যান্য মাখলুক থেকে সম্মানিত করেছি তুমি কেন তাকে সিজদাহ করলে না, তুমি কি অহঙ্কার করলে, না তুমি তার চেয়ে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন? তখন ইবলিস নিজেকে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও শ্রেষ্ঠ বলে যুক্তি দেখালো যে, আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছ, আর তাকে সৃষ্টি করেছ মাটি থেকে। আগুন মাটির কাছে মাথা নত করতে পারে না। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে কিয়ামত অবধি লা‘নত করে বিতাড়িত করে দেন। এ সম্পর্কে পূর্বে সূরা আল হিজ্র, সূরা আল আ‘রাফ-সহ অন্যান্য সূরাতেও পূর্ণভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
(بَعْدَ حِيْنٍ) ‘কিছুকাল পরে’ অর্থ কেউ বলেছেন মৃত্যু, আবার কেউ বলেছেন কিয়ামত। তবে দুয়ের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। কারণ মৃত্যুর পরেই মানুষের কিয়ামত শুরু হয়ে যায়।
মাসরূক (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন : আমি আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ)-এর কছে গেলাম। তিনি বললেন : হে লোকসকল! যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে অবগত সে তা বর্ণনা করবে। আর যে না জানে তার বলা উচিত, আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন। কেননা অজানা বিষয় সম্বন্ধে আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন। এ কথা বলাও জ্ঞানের নিদর্শন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেছেন বল, এর (কুরআন বা তাওহীদ প্রচারের) জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না এবং আমি মিথ্যারোপকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই। (সহীহ বুখারী হা. ৪৮০৯, সহীহ বুখারী হা. ২৭৯৮)
শয়তান আল্লাহ তা‘আলার কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, মানুষকে তার অনুসারী বানিয়ে জাহান্নামে নিবেই। এ জন্য তাকে কিয়ামত অবধি অবকাশ দেয়া হয়েছে। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনক্রমেই শয়তানের ফাঁদে পড়ে নিজেকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে না দেই।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. আল্লাহ তা‘আলার হাত রয়েছে, তিনি নিজ হাতে আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করেছেন।
২. নিজে অনেক বড় হলেও নিম্ন শ্রেণির লোকদেরকে অবহেলা করা যাবে না।
৩. গর্ব-অহঙ্কার করা হতে বিরত থাকতে হবে, কারণ অহঙ্কার ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় যেমন ইবলিসকে নিয়ে গেছে।
৪. শয়তানের ধোঁকা থেকে সাবধান, কারণ সে আল্লাহ তা‘আলার কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে যে, তার অনুসারীদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাবেই।
৫. কেউ আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য হলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে অবকাশ দেন, তবে তার জন্য পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭১-৮৫ নং আয়াতের তাফসীর:
এ ঘটনাটি সূরায়ে বাকারা, সূরায়ে আ'রাফ, সূরায়ে হিজ্বর, সূরায়ে সুবহান, সূরায়ে কাহাফ এবং সূরায়ে সোয়াদে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করার পূর্বে আল্লাহ্ ফেরেশতাদেরকে নিজের ইচ্ছার কথা বলেন যে, তিনি মাটি দ্বারা আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করবেন। তিনি তাদেরকে এ কথাও বললেন যে, যখন তিনি আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করবেন তখন যেন তারা তাকে সিজদা করেন, যাতে আল্লাহর আদেশ পালনের সাথে সাথে আদম (আঃ)-এরও আভিজাত্য প্রকাশ পায়। ফেরেশতারা সাথে সাথে আল্লাহর আদেশ পালন করেন। কিন্তু ইবলীস এ আদেশ পালনে বিরত থাকে। সে ফেরেশতাদের শ্রেণীভুক্ত ছিল না। বরং সে ছিল জ্বিনদের অন্তর্ভুক্ত। তার প্রকৃতিগত অশ্লীলতা এবং স্বভাবগত ঔদ্ধত্যপনা প্রকাশ পেয়ে গেল। মহান আল্লাহ্ তাকে প্রশ্ন করলেনঃ “হে ইবলীস! আমি যাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাবনত হতে। তোমাকে কিসে বাধা দিলো? তুমি কি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করলে, না তুমি উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন?” সে উত্তরে বললোঃ “আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কেননা, আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন হতে এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে। সুতরাং মর্যাদার দিক দিয়ে আমি তার চেয়ে বহুগুণে উচ্চ।” ঐ পাপী শয়তান হযরত আদিম (আঃ)-কে বুঝতে ভুল করলো এবং আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিলো। আল্লাহ্ তা'আলা তাকে বললেন:“তুমি এখান হতে বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তুমি বিতাড়িত। তুমি আমার রহমত হতে দূর হয়ে গেলে। তোমার উপর আমার লা'নত কর্মফল দিবস পর্যন্ত স্থায়ী হবে।” সে বললোঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আপনি পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।” মহান ও সহনশীল আল্লাহ্, যিনি স্বীয় মাখলুককে তাদের পাপের কারণে তাড়াতাড়ি পাকড়াও করেন না, ইবলীসের এ প্রার্থনাও কবুল করলেন এবং তিনি তাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিলেন। অতঃপর সে বললোঃ “আপনার ক্ষমতার শপথ! আমি আদম (আঃ)-এর সমস্ত সন্তানকে পথভ্রষ্ট করবো, তবে তাদেরকে নয় যারা তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দা।” যেমন আল্লাহ্ তা'আলা অন্য আয়াতে ইবলীসের উক্তি উদ্ধৃত করেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তাকে যে আপনি আমার উপর মর্যাদা দান করলেন, কেন? কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যদি আমাকে অবকাশ দেন তাহলে আমি অল্প কয়েকজন ব্যতীত তার বংশধরদেরকে কর্তৃত্ত্বাধীন করে ফেলবো।” (১৭:৬২) এই স্বতন্ত্ৰকৃতদের কথা আল্লাহ্ তা'আলা অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই। কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।” (১৭:৬৫)
(আরবী) এখানে (আরবী) শব্দকে মুজাহিদ (রঃ) পেশ দিয়ে পড়েছেন এবং ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন যে, এর অর্থ হলোঃ “আমি স্বয়ং সত্য এবং আমার কথাও সত্য হয়ে থাকে।” হযরত মুজাহিদ (রঃ) হতেই আর একটি রিওয়াইয়াতে রয়েছে যে, এর অর্থ হলোঃ “সত্য আমার পক্ষ হতে হয় এবং আমি সত্যই বলে থাকি।” অন্যেরা (আরবী) শব্দ দুটোকেই যবর দিয়ে পড়ে থাকেন। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, এটা হলো কসম, যার দ্বারা আল্লাহ কসম খেয়েছেন। আমি (ইবনে কাসীর রঃ) বলি যে, এ আয়াতটি আল্লাহ তা'আলার নিম্নের উক্তির মতঃ (আরবী) অর্থাৎ “কিন্তু আমার এ কথা অবশ্যই সত্যঃ আমি নিশ্চয়ই জ্বিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করবো।” (৩২:১৩) আর এক জায়গায় মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহ বললেনঃ যাও, তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, জাহান্নামই তোমাদের সকলের শাস্তি- পূর্ণ শাস্তি।” (১৭:৬৩)।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।