সূরা সোয়াদ (আয়াত: 54)
হরকত ছাড়া:
إن هذا لرزقنا ما له من نفاد ﴿٥٤﴾
হরকত সহ:
اِنَّ هٰذَا لَرِزْقُنَا مَا لَهٗ مِنْ نَّفَادٍ ﴿ۚۖ۵۴﴾
উচ্চারণ: ইন্না হা-যা-লারিযকূনা-মা লাহূমিন নাফা-দ।
আল বায়ান: নিশ্চয় এটি আমার দেয়া রিয্ক, যা নিঃশেষ হবার নয়।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৪. নিশ্চয় এটা আমাদের দেয়া রিযিক যা নিঃশেষ হবার নয়।
তাইসীরুল ক্বুরআন: এ হল আমার দেয়া রিযক- যা কক্ষনো ফুরাবে না।
আহসানুল বায়ান: (৫৪) নিশ্চয় এটি আমার (দেওয়া) রুযী; যার কোন শেষ নেই। [1]
মুজিবুর রহমান: এটাই আমার দেয়া রিয্ক যা নিঃশেষ হবেনা।
ফযলুর রহমান: নিশ্চয়ই এটা আমার দেওয়া জীবিকা, যা কখনো নিঃশেষ হবে না।
মুহিউদ্দিন খান: এটা আমার দেয়া রিযিক যা শেষ হবে না।
জহুরুল হক: এইই আলবৎ আমাদের দেওয়া রিযেক, এর কোনো নিঃশেষ নেই।
Sahih International: Indeed, this is Our provision; for it there is no depletion.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫৪. নিশ্চয় এটা আমাদের দেয়া রিযিক যা নিঃশেষ হবার নয়।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫৪) নিশ্চয় এটি আমার (দেওয়া) রুযী; যার কোন শেষ নেই। [1]
তাফসীর:
[1] এখানে رِزْق (রুযী) এর অর্থ দান এবং هَذَا (এটি) শব্দ দ্বারা পূর্বে বর্ণিত সকল নিয়ামত এবং খাতির-সম্মানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা জান্নাতী ব্যক্তিরা উপভোগ করবে। نفاد শব্দের অর্থ বন্ধ বা শেষ হয়ে যাওয়া। এ সকল নিয়ামতও অশেষ হবে এবং সে খাতির-সম্মানও চিরস্থায়ী হবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫০-৬৪ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
(جَنّٰتِ عَدْنٍ مُّفَتَّحَةً لَّھُمُ .... مَا لَھ۫ مِنْ نَّفَادٍﮅﺊ)
এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৎ বান্দাদের জন্য পরকালে যে উত্তম পুরস্কার ও সুন্দর সুন্দর বাসস্থান ও চিরস্থায়ী জান্নাত তৈরী করে রেখেছেন সে সম্পর্কে আলোচনা করছেন। জান্নাতের দরজাগুলো তাদের জন্য সর্বদা খোলা থাকবে। তারা সেখানে আসনে হেলান দিয়ে থাকবে এবং বিভিন্ন প্রকার ফলমূলের জন্য তাদেরকে নির্দেশ প্রদান করবেন যারা তাদের নিকট পান পাত্র নিয়ে তাদেরকে প্রদক্ষিণ করবে। তাদের জন্য সেখানে আনতনয়না হুরগণ থাকবে এবং তাদেরকে সেখানে এমন রিযিক দান করা হবে যা কোন দিন শেষ হবে না। এ সম্পর্কে সূরা আস্ সা-ফ্ফা-ত-সহ অন্যান্য সূরাতেও আলোচনা করা হয়েছে।
(ذَاﺚ وَاِنَّ لِلطّٰغِیْنَ لَشَرَّ مَاٰ.... لَحَقٌّ تَخَاصُمُ اَھْلِ النَّارِﮏﺟ)
আলোচ্য আয়াতগুলোতে জাহান্নামীদের অবস্থা, জাহান্নামে কেমন হবে এবং তারা যে সেখানে পরস্পর তর্ক-বিতর্ক করবে সে কথা আলোচনা করা হয়েছে।
যারা আল্লাহ তা‘আলার বিরুদ্ধাচরণ করবে ও সীমালঙ্ঘন করবে তারা নিকৃষ্টতম স্থান জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এটা হবে তাদের আবাসস্থল, আর তা খুবই নিকৃষ্ট একটি জায়গা। তারা সেখানে পান করবে ফুটন্ত পানি ও পুঁজ, এরূপ আরো কঠিন শাস্তি তারা সেখানে ভোগ করবে। এ সম্পর্কে সূরা আস্ সা-ফ্ফা-ত, সূরা ইউনুস-সহ অন্যান্য সূরাতেও আলোচনা করা হয়েছে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা দিচ্ছেন যে, জাহান্নামীরা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্ক ও ঝগড়ায় লিপ্ত হবে। নেতারা অনুসারীদেরকে বলবে, এতো তোমাদের মতো আরেকটি দল যারা তোমাদের মতই জাহান্নামে দগ্ধ হবে, এদের জন্য কোন অভিনন্দন নেই। তখন অনুসারীরাও তাদের নেতাদেরকে অনুরূপ কথা বলবে। এভাবে তারা পরস্পর কথা কাটাকাটি করবে। তারা নেতাদের জন্য দ্বিগুণ শাস্তি দাবী করবে।
(كُنَّا نَعُدُّهُمْ مِّنَ الْأَشْرَارِ)
‘আমরা যেসব লোককে খারাপ বলে গণ্য করতাম’ অর্থাৎ কাফির-মুশরিকরা জাহান্নামে প্রবেশ করার পর বলবে : আমরা যাদেরকে দুনিয়াতে খারাপ মনে করতাম তথা মুহাম্মাদের সাথী, যারা ঈমান এনেছিল, তারা দুর্বল ছিল, সমাজে তাদেরকে গণ্যই করতাম না তাদেরকে তো আমরা জাহান্নামী মনে করতাম। কারণ তারা মুহাম্মাদের অনুসরণ করে পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে বলে বিশ্বাস করতাম, তারা কোথায়? আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে তিরস্কার করে বলবেন : তাদেরকে কি জাহান্নামে দেখতে পাচ্ছ? জাহান্নামীরা বলবে, তাহলে কি দুনিয়াতে তাদেরকে নিয়ে ঠাট্টাই করেছি, নাকি আমাদের দৃষ্টিতে সমস্যা যে কারণে আমরা তাদেরকে দেখতে পাচ্ছি না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. জান্নাতের দরজা রয়েছে এ কথা জানা গেল।
২. জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামত কোনদিন শেষ হবে না।
৩. জাহান্নাম একটি অতি নিকৃষ্ট আবাসস্থল, যা কাফির-মুশরিকদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।
৪. জাহান্নামীদের খাদ্য হিসেবে থাকবে গরম পানি, পুঁজ ইত্যাদি।
৫. যারা মু‘মিনদেরকে নিয়ে দুনিয়াতে ঠাট্টা করত যে, এরা পথভ্রষ্ট তারা জাহান্নামে প্রকৃত সত্য অনুধাবন করতে পারবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫০-৫৪ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৎ বান্দাদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, তাদের জন্যে পরকালে উত্তম পুরস্কার ও সুন্দর সুন্দর জায়গা রয়েছে এবং রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত। জান্নাতের দরগুলো তাদের জন্যে বন্ধ থাকবে না, বরং সব সময় খোলা থাকবে। দরযা খুলবার কষ্টটুকুও তাদেরকে করতে হবে না।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “জান্নাতের মধ্যে আদন নামক একটি প্রাসাদ রয়েছে, যার আশে পাশে মিনার রয়েছে। ওর পাঁচ হাজার দর আছে এবং প্রত্যেক দরযার উপর পাঁচ হাজার চাদর রয়েছে। তাতে শুধু নবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং ন্যায়পরায়ণ বাদশাহগণ অবস্থান করবেন। (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন) আর এটা তো বিশুদ্ধ হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত যে, জান্নাতের আটটি দরযা রয়েছে।
মহান আল্লাহ বলেনঃ সেথায় তারা আসীন হবে হেলান দিয়ে। নিশ্চিন্তভাবে অতি আরামে চার জানু হয়ে তারা বসে থাকবে। আর সেথায় তারা বহুবিধ ফল মূল ও পানীয়ের জন্যে আদেশ দিবে। অর্থাৎ যে ফল অথবা যে সুরা পানাহারের তাদের ইচ্ছা হবে, হুকুমের সাথে সাথে পরিচারকের দল সেগুলো এনে তাদের কাছে হাযির করে দিবে। সেথায় তাদের পার্শ্বে থাকবে আনত নয়না সমবয়স্কা তরুণীগণ। তারা হবে অতি পবিত্র। তারা চক্ষু নীচু করে থাকবে এবং জান্নাতীদের প্রতি তারা চরমভাবে আসক্তা থাকবে। তাদের চক্ষু কখনো অন্যের দিকে উঠবে না এবং উঠতে পারে না। তারা হবে সমবয়স্কা।
মহান আল্লাহ বলেনঃ এটাই হিসাব দিবসের জন্যে তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি। অর্থাৎ এসব গুণ বিশিষ্ট জান্নাতের ওয়াদা আল্লাহ তাআলা তাঁর ঐ বান্দাদের সাথে করেছেন যারা তাকে ভয় করে। তারা কবর হতে উঠে, জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তি পেয়ে এবং হিসাব হতে অবকাশ প্রাপ্ত হয়ে এই জান্নাতে গিয়ে পরম সুখে বসবাস করবে।
অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, এটাই তার দেয়া রিযক যা কখনো নিঃশেষ হবে না। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমাদের কাছে যা আছে তা শেষ হয়ে যাবে, আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা বাকী থাকবে (কখনো নিঃশেষ হবে না)।” (১৬:৯৬)
আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তাদের জন্যে রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।”(৮৪:২৫) আরো বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “ওর ফলমূল ও পানাহারের জিনিস এবং ওর ছায়া চিরস্থায়ী, পরহেযগারদের পরিণাম ফল এটাই। আর কাফিরদের পরিণাম ফল জাহান্নাম।” (১৩:৩৫) এ বিষয়ের আরো বহু আয়াত রয়েছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।