আল কুরআন


সূরা সোয়াদ (আয়াত: 1)

সূরা সোয়াদ (আয়াত: 1)



হরকত ছাড়া:

ص والقرآن ذي الذكر ﴿١﴾




হরকত সহ:

صٓ وَ الْقُرْاٰنِ ذِی الذِّکْرِ ؕ﴿۱﴾




উচ্চারণ: সাদ ওয়াল কুরআ-নি যিযযিকরি।




আল বায়ান: সোয়াদ; কসম উপদেশপূর্ণ কুরআনের।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১. সোয়াদ(১), শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের!




তাইসীরুল ক্বুরআন: স্ব-দ, উপদেশপূর্ণ কুরআনের শপথ- (এটা সত্য)।




আহসানুল বায়ান: (১) স্বা-দ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের![1] (তুমি অবশ্যই সত্যবাদী)।



মুজিবুর রহমান: সা‘দ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের!



ফযলুর রহমান: ছাদ [পবিত্র কোরআনে কোন কোন সূরার শুরুতে শব্দসংক্ষেপের আদলে সন্নিবেশিত এ জাতীয় বিচ্ছিন্ন হরফমালার প্রকৃত তাৎপর্য আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না]। উপদেশপূর্ণ কোরআনের শপথ!



মুহিউদ্দিন খান: ছোয়াদ। শপথ উপদেশপূর্ণ কোরআনের,



জহুরুল হক: ছোয়াদ! উপদেশ পরিপূর্ণ কুরআনের শপথ।



Sahih International: Sad. By the Qur'an containing reminder...



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১. সোয়াদ(১), শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের!


তাফসীর:

(১) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, এই সূরার প্রাথমিক আয়াতগুলো কাফের-মুশরিক ও তাদের সেই মজলিসের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। অর্থাৎ আবু তালিব ও আবু জাহলসহ কুরাইশ কাফেরদের অন্যান্য নেতৃবর্গের প্রস্তাব সম্পর্কিত ঘটনা। যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল [মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৪৩২] এ ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পিতব্য আবু তালেব ইসলাম গ্ৰহণ না করা সত্বেও ভ্রাতুস্পপুত্রের পূর্ণ দেখা-শোনা ও হেফাযত করে যাচ্ছিলেন। তিনি যখন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন, তখন কোরাইশ সরদাররা এক পরামর্শসভায় মিলিত হল।

এতে আবু জাহল, আস ইবনে ওয়ায়েল, আসওয়াদ ইবনে মুত্তালিব, আসওয়াদ ইবনে আবদে ইয়াগুস ও অন্যান্য সরদার যোগদান করল। তারা পরামর্শ করল যে, আবু তালেব রোগাক্রান্ত। যদি তিনি মারা যান এবং তার অবর্তমানে আমরা মুহাম্মদ-এর বিরুদ্ধে কোন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করি, তবে আরবের লোকেরা আমাদেরকে দোষারোপ করার সুযোগ পাবে। বলবে: আবু তালেবের জীবদ্দশায় তো তারা মুহাম্মদ-এর কেশগ্রও স্পর্শ করতে পারল না, এখন তার মৃত্যুর পর তাকে উৎপীড়নের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। তাই আমরা আবু তালেব জীবিত থাকতেই তার সাথে মুহাম্মদ এর ব্যাপারে একটা মীমাংসায় উপনীত হতে চাই, যাতে সে আমাদের দেব-দেবীর নিন্দাবাদ পরিত্যাগ করে। সেমতে তারা আবু তালেবের কাছে গিয়ে বললঃ আপনার ভ্রাতুস্পপুত্র আমাদের উপাস্য দেব-দেবীর নিন্দা করে।

আবু তালেব রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মজলিসে ডেকে এনে বললেনঃ ভ্রাতুস্পপুত্র, এ কোরাইশ সরদাররা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে যে, তুমি নাকি তাদের উপাস্য দেব-দেবীর নিন্দা কর। তাদেরকে তাদের ধর্মে ছেড়ে দাও এবং তুমি আল্লাহর ইবাদত করে যাও। অবশেষে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ চাচাজন, “আমি কি তাদেরকে এমনি বিষয়ের প্রতি দাওয়াত দেবো না, যাতে তাদের মঙ্গল রয়েছে?” আবু তালেব বললেনঃ সে বিষয়টি কি? তিনি বললেনঃ আমি তাদেরকে এমন একটি কালেমা বলতে চাই, যার বদৌলতে সমগ্র আরব তাদের সামনে মাথা নত করবে এবং তারা সমগ্ৰ অনারবদের অধীশ্বর হয়ে যাবে। একথা শুনে আবু জাহল বলে উঠল: বল, সে কলেমা কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ “লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ”। একথা শুনে সবাই পরিধেয় বস্ত্র ঝেড়ে উঠে দাঁড়াল এবং বললঃ আমরা কি সমস্ত দেব-দেবীকে পরিত্যাগ করে মাত্র একজনকে অবলম্বন করব? এ যে, বড়ই বিস্ময়কর ব্যাপার! এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে সূরা ছোয়াদের আলোচ্য আয়াতগুলো নাযিল হয়। [দেখুন: তিরমিযী: ৩২৩২. আত-তাফসীরুস সহীহ ৪/২১৭]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১) স্বা-দ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের![1] (তুমি অবশ্যই সত্যবাদী)।


তাফসীর:

[1] যাতে তোমাদের জন্য সর্ব প্রকার নসীহত এবং এমন কথা আলোচনা হয়েছে, যার দ্বারা তোমাদের ইহকাল ও পরকাল উভয়ই শুধরে যাবে। অনেকে ذِي الذِّكر -এর অর্থঃ মর্যাদা ও মাহাত্ম্যের অধিকারী করেছেন। ইমাম ইবনে কাসীর বলেন, দুটি অর্থই ঠিক। কারণ কুরআন মর্যাদারও অধিকারী এবং মু’মিন ও মুত্তাক্বীদের জন্য উপদেশ ও শিক্ষণীয় গ্রন্থও বটে। এখানে শপথের উত্তর ঊহ্য আছে, আর তা হল, আসল কথা তা নয় যা মক্কার কাফেররা বলে; তারা বলে মুহাম্মাদ জাদুকর, কবি বা মিথ্যুক। বরং তিনি আল্লাহর সত্য রসূল; যাঁর উপর এই মর্যাদাময় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: নামকরণ :



প্রত্যেকটি সূরার নামকরণের পেছনে একটি কারণ থাকে। যে নামে নামকরণ করা হয় হয়তো সে সম্পর্কে উক্ত সূরাতে আলোচনা করা হয়েছে নতুবা ঐ শব্দটি ঐ সূরাতে ব্যবহার হয়েছে। এ সূরার শুরুতেই সোয়াদ শব্দটি ব্যবহার হয়েছে। ফলে একে সোয়াদ নামে নামকরণ করা হয়েছে।



অত্র সূরায় পূর্ববর্তী কয়েকটি অবাধ্য জাতির ধ্বংসের বিবরণ, সকল বাতিল মা‘বূদ বর্জন করত এক আল্লাহর ইবাদত করাটা কাফিরদের কাছে আর্শ্চযের মনে হওয়া, পূর্বের নাবীদের মত নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ, দাঊদ (আঃ) ও তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিচারের ঘটনা, সুলাইমান (আঃ) ও তাঁর পরীক্ষার কথা, আইয়ুব (আঃ), ইবরাহীম, ইসহাক, ইয়া‘কূব, ইয়াসা‘ ও যুলকিফালসহ অনেক নাবীর বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সূরার শেষে মানব জাতির পিতা আদম (আঃ)-কে সকল ফেরেশতা দ্বারা সিজদা করার নির্দেশ ও ইবলিসের অমান্য করা প্রসঙ্গ আলোচনা করা হয়েছে।



১-৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



صٓ (সোয়াদ)- এ জাতীয় “হুরূফুল মুক্বাত্বআত” বা বিচ্ছিন্ন অক্ষর সম্পর্কে পূর্বে সূরা বাকারার শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে। এগুলোর আসল উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন।



আল্লাহ তা‘আলা এখানে কুরআনের শপথ করে বলছেন : কুরআন উপদেশে পরিপূর্ণ। এতে তোমাদের জন্য সর্বপ্রকার নসীহত ও এমন কথা আলোচনা করা হয়েছে যার দ্বারা তোমাদের ইহকাল ও পরকাল উভয়ই শুধরে যাবে।



আবার কেউ ذي الذكر-এর অর্থ বলেছেন : কুরআন মর্যাদা ও মাহাত্ম্যের অধিকারী। ইমাম ইবনু কাসীর বলেন, দু’টি অর্থই ঠিক। কারণ কুরআন মর্যাদারও অধিকারী এবং মু’মিন ও মুত্তাক্বীদের জন্য উপদেশ ও শিক্ষণীয় গ্রন্থও বটে। আল্লাহর বাণী :



(لَقَدْ أَنْزَلْنَآ إِلَيْكُمْ كِتٰبًا فِيْهِ ذِكْرُكُمْ ط أَفَلَا تَعْقِلُوْنَ)‏



“আমি তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছি কিতাব যাতে আছে তোমাদের জন্য উপদেশ, তবুও কি তোমরা বুঝবে না?” (সূরা ‘আম্বিয়া ২১ : ১০)



আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা যে শপথ করেছেন তার উত্তর হলো যে, মক্কার কাফিররা বলে যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাদুকর, কবি, পাগল এবং মিথ্যুক, তা সঠিক নয়। বরং তিনি আল্লাহ তা‘আলার সত্য রাসূল; তাঁর ওপর এ মর্যাদাপূর্ণ কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।



(فِيْ عِزَّةٍ وَّشِقَاقٍ)



‘অহঙ্কার ও বিরোধিতায় লিপ্ত’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা কুরআনকে উপদেশপূর্ণ করার পরেও কাফিররা তা হতে উপদেশ গ্রহণ করতে অহঙ্কার করছে ও ঈমান আনা হতে বিমুখ রয়েছে এবং সত্যকে বাতিল করার জন্য বিবাদে নিমজ্জিত।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(وَإِذَا قِيْلَ لَهَااِتَّقِ اللّٰهَ أَخَذَتْهُ الْعِزَّةُ بِالْإِثْمِ فَحَسْبُهُ جَهَنَّمُ ط وَلَبِئْسَ الْمِهَادُ)‏



“আর যখন তাকে বলা হয়, তুমি আল্লাহকে ভয় কর, তখন তার সম্মানের গরীমা তাকে অনাচারে লিপ্ত করে। অতএব জাহান্নামই তার জন্য যথেষ্ট, আর তা কতইনা নিকৃষ্ট বাসস্থান!” (সূরা বাকারাহ ২ : ২০৬)



(كَمْ أَهْلَكْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ) ‘তাদের পূর্বে আমি বহু সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি; অর্থাৎ পূর্ববর্তী জাতির মধ্যে যারা আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তাদেরকে তিনি ধবংস করেছিলেন। তারা যখন আযাব প্রত্যক্ষ করেছিল তখন আল্লাহ তা‘আলার কাছে সাহায্য কামনা করেছিল, কিন্তু তাদের এ কামনা কোন উপকারে আসেনি। অতএব যে-কেউ তাদের মত আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলের সাথে এরূপ আচরণ করে তাহলে তারাও শাস্তির সম্মুখিন হবে।



لات শব্দটি মূলত لا, এখানে ت অক্ষরটি অতিরিক্ত যুক্ত হয়েছে। যেমন ثم-তে ثمت এবং رب-তে ربت বলা হয়ে থাকে। এগুলোতেও ت অক্ষরটি অতিরিক্ত।



مناص-এর অর্থ হলো, পলায়ন করা, পিছু হটা ইত্যাদি। সুতরাং পূর্ববর্তী জাতিদের ইতিহাস অধ্যয়ন করত আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত যে, আমরা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের নাফরমান হব না বরং একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করব এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রেখে যাওয়া পন্থার অবলম্বন করব।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. কুরআন একটি উপদেশ বাণী।

২. অহঙ্কার করা, কুরআন সুন্নাহর বিরোধিতা করা কাফির-মুশরিকদের কাজ।

৩. দুনিয়ার কোন শক্তিশালীর শক্তি আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির বিপরীতে কোন কাজে আসবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১-৩ নং আয়াতের তাফসীর:

হুরফে মুকাত্তা'আত যেগুলো সূরাসমূহের শুরুতে এসে থাকে, ওগুলোর পূর্ণ তাফসীর সূরায়ে বাকারার শুরুতে গত হয়েছে। এখানে মহান আল্লাহ কুরআন কারীমের শপথ করেছেন এবং ওকে শিক্ষা ও উপদেশপূর্ণ বলেছেন। কেননা এর কথার উপর আমলকারীদের দ্বীন ও দুনিয়া সুন্দর ও কল্যাণময় হয়ে থাকে। অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “অবশ্যই আমি তোমাদের উপর কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যার মধ্যে তোমাদের জন্যে উপদেশ রয়েছে।”(২১:১০) ভাবার্থ এটাও যে, কুরআন ইযযত, সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। কারো কারো মতে কসমের উত্তর হলো ... (আরবী) অর্থাৎ “প্রত্যেকেই রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।” (৩৮:১৪) কেউ কেউ বলেন যে, কসমের জবাব হলোঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই ওটা সত্য।” (৩৮:৬৪) কিন্তু এটা খুব সঠিক বলে মনে হচ্ছে না। কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর জবাব হলো এর পরবর্তী আয়াতটি। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) এটাকেই পছন্দ করেছেন। কোন কোন আরবী ভাষাবিদ বলেছেন যে, এই কসমের জবাব হলো (আরবী) এবং এর অর্থ হলো সভ্যতা। একটি উক্তি এও আছে যে, সম্পূর্ণ সূরাটির সারমর্মই হলো এই কসমের জবাব। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।

এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ এই কুরআন তো হলো সরাসরি শিক্ষা ও উপদেশ। কিন্তু এর দ্বারা উপকার শুধু সেই লাভ করতে পারে যার অন্তরে ঈমান রয়েছে। কাফির লোকেরা এটা হতে উপকার লাভে বঞ্চিত থাকে। কেননা, তারা অহংকারী এবং এর চরম বিরোধী। তাদের উচিত তাদের ন্যায় পূর্ববর্তী লোকদের পরিণাম চিন্তা করা এবং নিজেদের পরিণাম সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকা। পূর্ববর্তী উম্মতদেরকে এরূপই অপরাধের কারণে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহর আযাব এসে যাওয়ার পর তারা খুব কান্নাকাটি করেছিল। কিন্তু ঐ সময় সবই বৃথা হয়েছিল। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ .... (আরবী) অর্থাৎ “যখন তারা আমার আযাব অনুভব করলো তখন তা থেকে বাঁচতে ও পালাতে ইচ্ছা করলো, কিন্তু তা কিরূপে সম্ভব ছিল?” (২১:১২) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এখন পালাবারও সময় নয় এবং ফরিয়াদেরও সময় নয়। তখন ফরিয়াদ কেউ শুনবে না এবং কিছু উপকারও করতে পারবে না। যতই কান্নাকাটি ও চীৎকার করুক না কেন সবই বিফল হবে। ঐ সময় তাওহীদকে স্বীকার করলেও কোন লাভ হবে না এবং তাওবা করেও কোন উপকার হবে না। এটা হবে অসময়ের চীৎকার ও কান্না।

এখানে (আরবী) শব্দটি (আরবী)-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে (আরবী) টি অতিরিক্ত। যেমন (আরবী) কে (আরবী) এবং (আরবী) কে বলা হয়ে থাকে। এই দুই স্থানেও (আরবী) টি অতিরিক্ত।

ইমাম ইবনে জারীর (রঃ)-এর উক্তি এই যে, এই (আরবী) টি (আরবী)-এর সাথে মিলিত রয়েছে। অর্থাৎ (আরবী) হবে। কিন্তু প্রথম উক্তিটিই সমধিক খ্যাত। জমহুর (আরবী)-কে যবরের সাথে পড়েছেন। ভাবার্থ হলোঃ এটা আক্ষেপ ও হা-হুতাশ করার সময় নয়। কেউ কেউ (আরবী)-কে যের দিয়ে পড়াকেও বৈধ বলেছেন। ভাষাবিদরা বলেন যে, (আরবী)-এর অর্থ হলো পিছনে সরে আসা এবং (আরবী) বলা হয় সম্মুখে অগ্রসর হওয়াকে। সুতরাং অর্থ হলোঃ এটা পালাবার ও বের হয়ে যাবার সময় নয়। এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।