সূরা আস-সাফফাত (আয়াত: 181)
হরকত ছাড়া:
وسلام على المرسلين ﴿١٨١﴾
হরকত সহ:
وَ سَلٰمٌ عَلَی الْمُرْسَلِیْنَ ﴿۱۸۱﴾ۚ
উচ্চারণ: ওয়া-ছালা-মুন ‘আলাল মুরছালীন।
আল বায়ান: আর রাসূলদের প্রতি সালাম।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৮১. আর শান্তি বৰ্ষিত হোক রাসূলদের প্ৰতি!
তাইসীরুল ক্বুরআন: শান্তি বর্ষিত হোক রসূলদের প্রতি।
আহসানুল বায়ান: (১৮১) শান্তি বর্ষিত হোক রসূলদের প্রতি! [1]
মুজিবুর রহমান: শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের প্রতি।
ফযলুর রহমান: রসূলদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক!
মুহিউদ্দিন খান: পয়গম্বরগণের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।
জহুরুল হক: আর 'সালাম’ প্রেরিতপুরুষদের উপরে।
Sahih International: And peace upon the messengers.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৮১. আর শান্তি বৰ্ষিত হোক রাসূলদের প্ৰতি!
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৮১) শান্তি বর্ষিত হোক রসূলদের প্রতি! [1]
তাফসীর:
[1] কারণ, তাঁরা আল্লাহর পয়গাম পৃথিবীর বাসিন্দাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। সুতরাং তাঁরা অবশ্যই সালাম ও বর্কতের অধিকারী।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৭১-১৮২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসসমূহ যুক্তি-প্রমাণ দ্বারা প্রমাণ করার পর ১৬৭-১৭৯ আয়াতসমূহে কাফিরদের হঠকারিতা বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের পূর্বে বাসনা প্রকাশ করত যে, কোন নাবী আগমন করলে তারা ঈমান আনবে। কিন্তু যখন নাবীর আগমন হল আর তা তাদের মনপুত হল না তখন তারা জেদ ও হঠকারিতার পথ অবলম্বন করল।
অতঃপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে যে, আপনি তাদের উৎপীড়ন ও নির্যাতনে মনঃক্ষুণœ হবেন না। সেদিন দূরে নয়, যখন আপনি বিজয়ী ও কৃতকার্য হবেন এবং তারা হবে পরাভূত ও আযাবের লক্ষ্যবস্তু। এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা সে দিকেই ইঙ্গিত করে বলছেন : যারা তাঁর অনুসারী, যারা তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, একমাত্র তাঁরাই ‘ইবাদত করে, তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক করে না তারাই আল্লাহ তা‘আলার সাহায্যপ্রাপ্ত হবে এবং তারাই বিজয়ী হবে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
(كَتَبَ اللّٰهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِيْ ط إِنَّ اللّٰهَ قَوِيٌّ عَزِيْزٌ)
“আল্লাহ লিখে রেখেছেনঃ আমি এবং আমার রাসূলগণ নিশ্চয়ই জয় লাভ করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিশালী, মহাপ্রতাপশালী।” (সূরা মুজা-দালাহ্ ৫৮ : ২১)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
(إِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا فِي الْحَيٰوةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُوْمُ الْأَشْهَادُ)
“নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদের ও মু’মিনদেরকে সাহায্য করব পার্থিব জীবনে ও যেদিন সাক্ষীগণ দন্ডায়মান হবে।” (সূরা মু’মিন ৪০ : ৫১) সুতরাং রাসূল ও তাদের অনুসারীরা দুনিয়াতে সর্বদা শত্র“দের বিরুদ্ধে দলীল-প্রমাণ দ্বারা বিজয়ী হবেন এবং যাদেরকে যুদ্ধ জিহাদের অনুমোদন দেয়া হয়েছে তারাও আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে সাহায্য প্রাপ্ত হবেন এবং বিজয়ী হবেন যেমন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবীরা হয়েছিলেন। আল্লাহ তা‘আলার এ প্রতিশ্রুতি কিয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে সে-সকল মু’মিনদের জন্য যারা সঠিক ঈমান ও আমলের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
(فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ)
আরবি বাক-পদ্ধতিতে আঙিনায় নেমে আসার অর্থ কোন বিপদ একেবারে সামনে এসে উপস্থিত হওয়া বুঝায়। সকাল বলার কারণ হল- আরবরা শত্র“দের ওপর রাতের বেলা হামলা করত না, যদিও রাতে তাদের এলাকায় চলে যেত তবুও সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করত। হাদীসে এসেছে যখন মুসলিমরা খায়বার আক্রমন করে তখন তাদেরকে দেখে ইয়াহূদীরা ঘাবড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহু আকবার বলে এ বাক্যাবলী উচ্চারণ করলেন :
خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ {فَسَاءَ صَبَاحُ المُنْذَرِينَ}
খায়বার বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের আঙিনায় অবতরণ করি, যাদেরকে পূর্ব-সতর্ক করা হয়েছিল, তখন তাদের সকাল খুবই মন্দ হয়। (সহীহ বুখারী হা. ৩৭১)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবীকে বলেন : তুমি কিছু সময়ের জন্য তাদেরকে উপেক্ষা করে চলো এবং তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করে যাও। অচিরেই তারা তাদের কর্মের প্রতিফল বুঝতে পারবে। তারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে যা কিছু শরীক করে তিনি সেগুলো হতে পবিত্র ও মহান।
(سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ)
অর্থাৎ আল্লাহ এ সংক্ষিপ্ত তিনটি আয়াতের মধ্যে সূরার সমস্ত বিষয়বস্তু ভরে দিয়েছেন। তাওহীদের বর্ণনা দ্বারা সূরার সূচনা হয়েছিল, যার সারমর্ম ছিল মুশরিকরা আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে যেসব বিষয় বর্ণনা করে, আল্লাহ তা থেকে পবিত্র। আলোচ্য সূরার প্রথম দিকে সে বিষয়বস্তু নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছে। এরপর সূরায় নাবীদের ঘটনাবলী বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর মুশরিকদের বিশ্বাস, সন্দেহ ও আপত্তিসমূহ যুক্তি ও উক্তির মাধ্যমে খণ্ডন করে বলা হয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত বিজয় সত্যপন্থীদেরই অর্জিত হবে। এ আয়াতগুলোর প্রথমে মুশরিকদের কল্পকাহিনীর চিন্তা-চেতনা ও বাতিল মা‘বূদ থেকে আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করা হয়েছে। রাসূলদের প্রতি সালাম প্রেরণ করা হয়েছে, কারণ তাঁরাই পৃথিবীবাসির প্রতি আল্লাহর তাওহীদের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা নিজের প্রশংসা করে বান্দাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছেন- আল্লাহ নাবী-রাসূল ও কিতাব দিয়ে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, অতএব তোমরা আল্লাহ তা‘আলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. যারা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠভাবে বিশ্বাস স্থাপন করে সৎ আমল করবে তারাই সর্বদা বিজয়ী হবে।
২. যারা ইসলামের দা‘ওয়াত পাওয়ার পরও তা কবূল করে না তাদেরকে এড়িয়ে চলতে হবে।
৩. শাস্তি তার নির্ধারিত সময়ে আসবেই, কেউ তখন তা ঠেকাতে পারবে না।
৪. প্রশংসা মাত্রই আল্লাহ তা‘আলার, যাঁর কোনই শরীক নেই। যিনি সমস্ত পৃথিবীর প্রতিপালক।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৮০-১৮২ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ্ তা'আলা সেই সমুদয় বিষয় হতে নিজের পবিত্রতা বর্ণনা করছেন যেগুলো যালিম ও মিথ্যাবাদী মুশরিকরা তাঁর প্রতি আরোপ করে থাকে। যেমন তারা বলে যে, আল্লাহর সন্তান আছে ইত্যাদি। আল্লাহ্ তা'আলা অতি মহান এবং এমন মর্যাদার অধিকারী যা কখনো নষ্ট হবার নয়। ঐ মিথ্যাবাদী ও মিথ্যারোপকারী মুশরিকদের অপবাদ হতে তিনি সম্পূর্ণরূপে মুক্ত ও পবিত্র।
আল্লাহর রাসূলদের (আঃ) প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। কেননা, তাঁদের কথাগুলো ঐসব দোষ হতে মুক্ত যেসব দোষ মুশরিকদের কথাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। নবীরা যেসব কথা বলেন এবং তারা মহান আল্লাহর সত্তার যে শাবলী বর্ণনা করে থাকেন সেগুলো সবই সঠিক ও সত্য। তাঁর সত্তার জন্যেই প্রশংসা শোভনীয়। দুনিয়া ও আখিরাতে শুরুতে ও শেষে প্রশংসা একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য। সর্বাবস্থায়ই প্রশংসা প্রাপ্তির যোগ্য শুধুমাত্র তিনিই। তাঁর মহিমা ঘোষণা দ্বারা সর্ব প্রকারের ক্ষতি তাঁর পবিত্র সত্তা হতে দূর প্রমাণিত হয়। তাহলে এটা অতি আবশ্যকীয় যে, সর্বপ্রকারের পূর্ণতা তাঁর একক সত্তার মধ্যে থাকবে। এটাকেই পরিষ্কার ভাষায় হামদ বা প্রশংসা দ্বারা সাব্যস্ত করা হয়েছে, যাতে ক্ষতিসমূহ না সূচক হয় এবং পূর্ণতা হ্যা সূচক হয়। কুরআন কারীমের বহু আয়াতে তাসবীহ্ ও হামদের একই সাথে বর্ণনা দেয়া হয়েছে।
হযরত কাতাদা (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তোমরা আমার উপর সালাম পাঠাবে তখন অন্যান্য নবীদের উপরও সালাম পাঠাবে। কেননা, তাঁদেরই মধ্যে আমিও একজন নবী।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। মুসনাদে আহমাদেও এটা বর্ণিত আছে)
হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) যখন সালামের ইচ্ছা করতেন তখন এই আয়াত তিনটি পড়ে সালাম করতেন। (এ হাদীসটি হাফিয আবু ইয়ালা (রঃ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এর ইসনাদ দুর্বল)
হযরত শা’বী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন পরিমাপ যন্ত্র ভর্তি পুণ্য লাভ করতে চায় সে যেন কোন মজলিস হতে উঠে যাওয়ার সময় এই আয়াত তিনটি পাঠ করে।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। মুসনাদে আহমাদে এ রিওয়াইয়াতটি হযরত আলী (রাঃ) হতে মাওকুফরূপে বর্ণিত হয়েছে)
ইমাম তিবরানী (রঃ)-এর হাদীস গ্রন্থে হযরত আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পরে এ আয়াত তিনটি তিনবার পাঠ করবে সে পরিমাপ যন্ত্র ভরে ভরে পুণ্য লাভ করবে।”
মজলিসের কাফফারার ব্যাপারে বহু হাদীসে নিম্নোক্ত কালেমাটি পাঠ করার কথা এসেছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। আপনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। আপনার নিকট আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও আপনার নিকট তাওবা করছি।” এই মাসআলার উপর আমি একটি স্বতন্ত্র কিতাব লিখেছি।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।