আল কুরআন


সূরা আস-সাফফাত (আয়াত: 178)

সূরা আস-সাফফাত (আয়াত: 178)



হরকত ছাড়া:

وتول عنهم حتى حين ﴿١٧٨﴾




হরকত সহ:

وَ تَوَلَّ عَنْهُمْ حَتّٰی حِیْنٍ ﴿۱۷۸﴾ۙ




উচ্চারণ: ওয়া তাওয়াল্লা ‘আনহুম হাত্তা-হীন।




আল বায়ান: আরো কিছু কাল পর্যন্ত তুমি তাদের থেকে ফিরে থাক।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৭৮. আর কিছু কালের জন্য আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকুন।




তাইসীরুল ক্বুরআন: কাজেই কিছু সময়ের জন্য তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর।




আহসানুল বায়ান: (১৭৮) অতএব কিছু কালের জন্য তুমি ওদের উপেক্ষা কর।



মুজিবুর রহমান: অতএব কিছুকালের জন্য তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর।



ফযলুর রহমান: কিছুকালের জন্য তাদের থেকে ফিরে থাক;



মুহিউদ্দিন খান: আপনি কিছুকালের জন্যে তাদেরকে উপেক্ষা করুন।



জহুরুল হক: আর তুমি তাদের থেকে ফিরে থেকো কিছুকালের জন্য,



Sahih International: And leave them for a time.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৭৮. আর কিছু কালের জন্য আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকুন।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৭৮) অতএব কিছু কালের জন্য তুমি ওদের উপেক্ষা কর।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৭১-১৮২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসসমূহ যুক্তি-প্রমাণ দ্বারা প্রমাণ করার পর ১৬৭-১৭৯ আয়াতসমূহে কাফিরদের হঠকারিতা বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের পূর্বে বাসনা প্রকাশ করত যে, কোন নাবী আগমন করলে তারা ঈমান আনবে। কিন্তু যখন নাবীর আগমন হল আর তা তাদের মনপুত হল না তখন তারা জেদ ও হঠকারিতার পথ অবলম্বন করল।



অতঃপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে যে, আপনি তাদের উৎপীড়ন ও নির্যাতনে মনঃক্ষুণœ হবেন না। সেদিন দূরে নয়, যখন আপনি বিজয়ী ও কৃতকার্য হবেন এবং তারা হবে পরাভূত ও আযাবের লক্ষ্যবস্তু। এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা সে দিকেই ইঙ্গিত করে বলছেন : যারা তাঁর অনুসারী, যারা তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, একমাত্র তাঁরাই ‘ইবাদত করে, তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক করে না তারাই আল্লাহ তা‘আলার সাহায্যপ্রাপ্ত হবে এবং তারাই বিজয়ী হবে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী :



(كَتَبَ اللّٰهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِيْ ط إِنَّ اللّٰهَ قَوِيٌّ عَزِيْزٌ)‏



“আল্লাহ লিখে রেখেছেনঃ আমি এবং আমার রাসূলগণ নিশ্চয়ই জয় লাভ করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিশালী, মহাপ্রতাপশালী।” (সূরা মুজা-দালাহ্ ৫৮ : ২১)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,



(إِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا فِي الْحَيٰوةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُوْمُ الْأَشْهَادُ)



“নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদের ও মু’মিনদেরকে সাহায্য করব পার্থিব জীবনে ও যেদিন সাক্ষীগণ দন্ডায়মান হবে।” (সূরা মু’মিন ৪০ : ৫১) সুতরাং রাসূল ও তাদের অনুসারীরা দুনিয়াতে সর্বদা শত্র“দের বিরুদ্ধে দলীল-প্রমাণ দ্বারা বিজয়ী হবেন এবং যাদেরকে যুদ্ধ জিহাদের অনুমোদন দেয়া হয়েছে তারাও আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে সাহায্য প্রাপ্ত হবেন এবং বিজয়ী হবেন যেমন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবীরা হয়েছিলেন। আল্লাহ তা‘আলার এ প্রতিশ্রুতি কিয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে সে-সকল মু’মিনদের জন্য যারা সঠিক ঈমান ও আমলের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।



(فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ)



আরবি বাক-পদ্ধতিতে আঙিনায় নেমে আসার অর্থ কোন বিপদ একেবারে সামনে এসে উপস্থিত হওয়া বুঝায়। সকাল বলার কারণ হল- আরবরা শত্র“দের ওপর রাতের বেলা হামলা করত না, যদিও রাতে তাদের এলাকায় চলে যেত তবুও সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করত। হাদীসে এসেছে যখন মুসলিমরা খায়বার আক্রমন করে তখন তাদেরকে দেখে ইয়াহূদীরা ঘাবড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহু আকবার বলে এ বাক্যাবলী উচ্চারণ করলেন :



خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ {فَسَاءَ صَبَاحُ المُنْذَرِينَ}



খায়বার বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের আঙিনায় অবতরণ করি, যাদেরকে পূর্ব-সতর্ক করা হয়েছিল, তখন তাদের সকাল খুবই মন্দ হয়। (সহীহ বুখারী হা. ৩৭১)



এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবীকে বলেন : তুমি কিছু সময়ের জন্য তাদেরকে উপেক্ষা করে চলো এবং তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করে যাও। অচিরেই তারা তাদের কর্মের প্রতিফল বুঝতে পারবে। তারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে যা কিছু শরীক করে তিনি সেগুলো হতে পবিত্র ও মহান।



(سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ)



অর্থাৎ আল্লাহ এ সংক্ষিপ্ত তিনটি আয়াতের মধ্যে সূরার সমস্ত বিষয়বস্তু ভরে দিয়েছেন। তাওহীদের বর্ণনা দ্বারা সূরার সূচনা হয়েছিল, যার সারমর্ম ছিল মুশরিকরা আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে যেসব বিষয় বর্ণনা করে, আল্লাহ তা থেকে পবিত্র। আলোচ্য সূরার প্রথম দিকে সে বিষয়বস্তু নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছে। এরপর সূরায় নাবীদের ঘটনাবলী বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর মুশরিকদের বিশ্বাস, সন্দেহ ও আপত্তিসমূহ যুক্তি ও উক্তির মাধ্যমে খণ্ডন করে বলা হয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত বিজয় সত্যপন্থীদেরই অর্জিত হবে। এ আয়াতগুলোর প্রথমে মুশরিকদের কল্পকাহিনীর চিন্তা-চেতনা ও বাতিল মা‘বূদ থেকে আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করা হয়েছে। রাসূলদের প্রতি সালাম প্রেরণ করা হয়েছে, কারণ তাঁরাই পৃথিবীবাসির প্রতি আল্লাহর তাওহীদের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা নিজের প্রশংসা করে বান্দাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছেন- আল্লাহ নাবী-রাসূল ও কিতাব দিয়ে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, অতএব তোমরা আল্লাহ তা‘আলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. যারা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠভাবে বিশ্বাস স্থাপন করে সৎ আমল করবে তারাই সর্বদা বিজয়ী হবে।

২. যারা ইসলামের দা‘ওয়াত পাওয়ার পরও তা কবূল করে না তাদেরকে এড়িয়ে চলতে হবে।

৩. শাস্তি তার নির্ধারিত সময়ে আসবেই, কেউ তখন তা ঠেকাতে পারবে না।

৪. প্রশংসা মাত্রই আল্লাহ তা‘আলার, যাঁর কোনই শরীক নেই। যিনি সমস্ত পৃথিবীর প্রতিপালক।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৭১-১৭৯ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ আমি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেও লিপিবদ্ধ করেছি এবং পূর্ববর্তী নবীদের (আঃ) মাধ্যমেও দুনিয়াবাসীকে শুনিয়ে দিয়েছি যে, দুনিয়া ও আখিরাতে আমার রাসূল ও তাদের অনুসারীদের পরিণামই হবে উত্তম। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহ্ লিপিবদ্ধ করে রেখেছেনঃ অবশ্যই আমি ও আমার রাসূলরাই জয়যুক্ত থাকবো, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ শক্তিশালী ও মহা পরাক্রমশালী ।”(৫৮:২১) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে ও মুমিনদেরকে সাহায্য করবো পার্থিব জীবনে এবং যেদিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে।” (৪০:৫১) এখানেও মহান আল্লাহ্ ঐ কথাই বলেনঃ আমার রাসূলদের সাথে আমার এই ওয়াদা হয়ে গেছে যে, অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আমি নিজেই তাদেরকে সাহায্য করবো। তুমি তো জান যে, কিভাবে তাদের শত্রুদেরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। তুমি মনে রেখো যে, আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী। তুমি একটা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে তাদের ব্যাপারটা দেখতে থাকো। তাদের দেয়া কষ্ট সহ্য করে যাও। তুমি তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকো যে, কিভাবে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করবেন এবং কিভাবে তারা হবে অপমানিত ও লাঞ্ছিত! তারা নিজেরাও শীঘ্রই তা প্রত্যক্ষ করবে।

বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার যে, তারা বিভিন্ন প্রকারের ছোট ছোট আযাবের শিকার হওয়া সত্ত্বেও এখনো বড় আযাবকে অসম্ভব মনে করতে রয়েছে! আর বলছে যে, ঐ আযাব কখন আসবে? তাই তাদেরকে জবাবে বলা হচ্ছেঃ তাদের আঙিনায় যখন শাস্তি নেমে আসবে ওটা তাদের জন্যে খুবই কঠিন দিন হবে। তাদেরকে সেদিন সমূলে ধ্বংস করে দেয়া হবে।

সহীহ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমে হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) অতি প্রত্যুষে খায়বারের মাঠে উপস্থিত হন। জনগণ অভ্যাসমত চাষের যন্ত্রপাতি নিয়ে শহর হতে বের হয়েছে। হঠাৎ তারা আল্লাহর সেনাবাহিনী দেখে পালিয়ে যায় এবং শহরবাসীকে খবর দেয়। ঐ সময় রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলে ওঠেনঃ “আল্লাহ্ বড়ই মহান। খায়বারবাসীর জন্যে বড়ই বিপদ। যখন আমরা কোন কওমের ময়দানে অবতরণ করি তখন ঐ সতর্কিকৃতদের বড়ই দুর্গতি হয়ে থাকে।”

পুনরায় মহান আল্লাহ্ স্বীয় নবী (সঃ)-কে জোর দিয়ে বলেনঃ হে নবী (সাঃ)! কিছুকালের জন্যে তুমি তাদেরকে উপেক্ষা করতে থাকো এবং তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করে যাও। শীঘ্রই তারা নিজেরাও (তাদের দুর্গতি) প্রত্যক্ষ করবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।