আল কুরআন


সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 75)

সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 75)



হরকত ছাড়া:

لا يستطيعون نصرهم وهم لهم جند محضرون ﴿٧٥﴾




হরকত সহ:

لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ نَصْرَهُمْ ۙ وَ هُمْ لَهُمْ جُنْدٌ مُّحْضَرُوْنَ ﴿۷۵﴾




উচ্চারণ: লা-ইয়াছতাতী‘ঊনা নাসরাহুম ওয়াহুম লাহুম জুনদুম মুহদারূন।




আল বায়ান: এরা তাদের কোন সাহায্য করতে সক্ষম হবে না, বরং এগুলোকে তাদের বিরুদ্ধে বাহিনীরূপে হাযির করা হবে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৫. কিন্তু তারা (এ সব ইলাহ) তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম নয়; আর তারা তাদের বাহিনীরূপে উপস্থিতকৃত হবে।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: ঐ সব ইলাহ তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম নয়, বরং (উল্টো) এ লোকেরাই (ঐ সব ইলাহকে সাহায্য করার জন্য) সদা প্রস্তুত সেনাবাহিনীর মত হাযির হয়ে আছে।




আহসানুল বায়ান: (৭৫) কিন্তু এরা ওদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম নয়; অথচ ওরা এদের জন্য উপস্থিত বাহিনী। [1]



মুজিবুর রহমান: কিন্তু এসব ইলাহ তাদের সাহায্য করতে সক্ষম নয়, তাদেরকে তাদের বাহিনীরূপে উপস্থিত করা হবে।



ফযলুর রহমান: (আসলে) তারা তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম হবে না; বরং তারা হবে তাদের (বিরোধী) বাহিনী, যাদেরকে (হিসাবের সময়) উপস্থিত করা হবে।



মুহিউদ্দিন খান: অথচ এসব উপাস্য তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম হবে না এবং এগুলো তাদের বাহিনী রূপে ধৃত হয়ে আসবে।



জহুরুল হক: ওরা কোনো ক্ষমতা রাখে না তাদের সাহায্য করার, বরং তারা হবে এদের জন্য এক বাহিনী যাদের হাজির করা হবে।



Sahih International: They are not able to help them, and they [themselves] are for them soldiers in attendance.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭৫. কিন্তু তারা (এ সব ইলাহ) তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম নয়; আর তারা তাদের বাহিনীরূপে উপস্থিতকৃত হবে।(১)


তাফসীর:

(১) এখানে جند এর অর্থ প্রতিপক্ষ নেয়া হলে আয়াতের উদ্দেশ্য হবে এই যে, তারা দুনিয়াতে যাদেরকে উপাস্য স্থির করেছে, তারাই কেয়ামতের দিন তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে। তবে হাসান ও কাতাদাহ রাহেমাহুমাল্লাহ থেকে বর্ণিত এ আয়াতের তাফসীর এই যে, কাফেররা সাহায্য পাওয়ার আশায় মূর্তিদেরকে উপাস্য স্থির করেছিল, কিন্তু অবস্থা হচ্ছে এই যে, স্বয়ং তারাই মূর্তিদের সেবাদাস ও সিপাহী হয়ে গেছে। তারা মূর্তিদের হেফাযত করে। কেউ বিরুদ্ধে গেলে তারা ওদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করে। অথচ তাদেরকে সাহায্য করার যোগ্যতা মূর্তিদের নেই। অথবা আয়াতের অর্থ, তারাও জাহান্নামে হাযির হবে, যেমন তাদের এ মূর্তিগুলোও জাহান্নামে তাদের সাথে উপস্থিত থাকবে। [দেখুন: ইবন কাসীর, ফাতহুল কাদীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭৫) কিন্তু এরা ওদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম নয়; অথচ ওরা এদের জন্য উপস্থিত বাহিনী। [1]


তাফসীর:

[1] جُنْدٌ (বাহিনী)এর অর্থ হল, দেবতাদের সাহায্যকারী এবং তাদের জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনী। مُحْضَرُوْنَ পৃথিবীতে তাদের নিকট উপস্থিত। উদ্দেশ্য এই যে, তারা যে সকল মূর্তিকে দেবতা মনে করে, তারা তাদের সাহায্য আর কি করবে? তারা তো নিজেদেরই সাহায্য করতে অক্ষম। যদি তাদেরকে কেউ গালাগালি করে বা তাদের নিন্দা করে, তাহলে এ (উপাসক)রাই উপস্থিত বাহিনীর মত তাদের সাহায্য ও তাদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করতে তৎপর হয়; তাদের সেই দেবতারা নিজে নয়।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭১-৭৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



(اَوَ لَمْ یَرَ الْاِنْسَانُ....)



-এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা সওয়ারের বাহন দিয়ে মানুষের প্রতি অনুগ্রহের বর্ণনা দিচ্ছেন। আল্লাহ তা‘আলা চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন এবং ওগুলোকে মানুষের অধীন করে দিয়েছেন। সুতরাং এসব নিয়ামত পেয়ে মানুষের শুকরিয়া আদায় করা উচিত। এগুলোর কিছু মানুষ ভক্ষণ করে এবং কিছু বাহন হিসেবে ব্যবহার করে। এ সম্পর্কে সূরা নাহ্ল-এর প্রথম দিকে আলোচনা করা হয়েছে।



(لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ نَصْرَھُمْ.....)



এখানে মক্কার কাফির-মুশরিকরা আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত যে সকল মূর্তির পূজা করত তা মূলত বাতিল ও ভ্রান্ত, এসব মূর্তি তাদের কোন উপকার বা ক্ষতি করার সামর্থ্য রাখে না, তারা কোন প্রকার সাহায্য করতেও সক্ষম নয় সে কথাই আলোচনা করা হয়েছে এবং সাথে সাথে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনাও প্রদান করছেন যে, তিনি যেন এ সকল বাতিল পন্থীদের কথায় মন খারাপ না করেন। এ সকল বিষয় সম্পর্কে পূর্বে একাধিক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. আল্লাহ তা‘আলার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা প্রত্যেকের জন্য জরুরী।

২. সর্বপ্রকার সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের একমাত্র মালিক আল্লাহ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭৪-৭৬ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের ঐ বাতিল আকীদাকে খণ্ডন করছেন যা তারা তাদের বাতিল মাবুদদের উপর রাখতো। তারা এই আকীদা বা বিশ্বাস রাখতো যে, আল্লাহ ছাড়া যাদের তারা ইবাদত করছে তারা তাদের সাহায্য করবে। তারা তাদের তকদীরে বরকত আনয়ন করবে এবং তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন যে, তাদের এসব মা’রূদ তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম নয়। তাদেরকে সাহায্য করা তো দূরের কথা, তারা নিজেদেরই কোন সাহায্য করতে পারে না। এমন কি এই প্রতিমাগুলো তাদের শত্রুদের আক্রমণ হতে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারে না। কেউ এসে যদি তাদেরকে ভেঙ্গে চুরে ফেলে দেয় তবুও তারা তার কোনই ক্ষতি করতে সক্ষম নয়। তারা তো কথা বলতেও পারে না। কোন বোধ শক্তিও তাদের নেই। এই প্রতিমাগুলো কিয়ামতের দিন একত্রিত জনগণের হিসাব গ্রহণের সময় নিজেদের উপাসকদের সামনে অত্যন্ত অসহায় ও নিরুপায় অবস্থায় বিদ্যমান থাকবে যাতে মুশরিকদের পুরোপুরি লাঞ্ছনা ও অপমান প্রকাশ পায়। আর তাদের উপর হুজ্জত পুরো হয়।

হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ প্রতিমাগুলো তো তাদের কোন প্রকারেরই সাহায্য করতে পারে না, তবুও এই নির্বোধ মুশরিকরা তাদের সামনে এমনভাবে বিদ্যমান থাকছে যে, যেন তারা কোন জীবন্ত সেনাবাহিনী! অথচ এগুলো তাদের কোন উপকারও করতে পারে না এবং কোন বিপদাপদ দূর করতে সক্ষম নয়। কিন্তু এতদসত্ত্বেও এই মুশরিকরা তাদের নামে জীবন দিচ্ছে। তারা এগুলোর বিরুদ্ধে কোন কথা শুনতেও চায় না বরং ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠছে।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তাদের কথা তোমাকে যেন দুঃখ না দেয়। আমি তো জানি যা তারা গোপন করে এবং যা তারা ব্যক্ত করে। সময় আসছে। খুঁটিনাটিভাবে আমি তাদেরকে প্রতিফল প্রদান করবো।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।