সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 74)
হরকত ছাড়া:
واتخذوا من دون الله آلهة لعلهم ينصرون ﴿٧٤﴾
হরকত সহ:
وَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اٰلِهَۃً لَّعَلَّهُمْ یُنْصَرُوْنَ ﴿ؕ۷۴﴾
উচ্চারণ: ওয়াত্তাখাযূমিন দূনিল্লা-হি আ-লিহাতাল লা‘আল্লাহুম ইউনসারূন।
আল বায়ান: অথচ তারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্য সব ইলাহ গ্রহণ করেছে, এই প্রত্যাশায় যে, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৪. আর তারা আল্লাহ্র পরিবর্তে অন্য ইলাহ গ্ৰহণ করেছে এ আশায় যে, তারা সাহায্যপ্ৰাপ্ত হবে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা আল্লাহর পরিবর্তে অনেক ইলাহ গ্রহণ করেছে এই আশায় যে, তারা (ঐ সব ইলাহ দ্বারা) সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
আহসানুল বায়ান: (৭৪) ওরা তো আল্লাহর পরিবর্তে অন্য উপাস্য গ্রহণ করেছে এ আশায় যে, ওরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।[1]
মুজিবুর রহমান: তারাতো আল্লাহর পরিবর্তে অন্য মা‘বূদ গ্রহণ করেছে এ আশায় যে, তারা সাহায্য প্রাপ্ত হবে।
ফযলুর রহমান: তারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যান্য উপাস্য গ্রহণ করেছে; এই আশায় যে, তারা (তাদের কাছ থেকে) সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
মুহিউদ্দিন খান: তারা আল্লাহর পরিবর্তে অনেক উপাস্য গ্রহণ করেছে যাতে তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হতে পারে।
জহুরুল হক: আর তারা আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে উপাস্যদের গ্রহণ করেছে যাতে তাদের সাহায্য করা হয়।
Sahih International: But they have taken besides Allah [false] deities that perhaps they would be helped.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭৪. আর তারা আল্লাহ্–র পরিবর্তে অন্য ইলাহ গ্ৰহণ করেছে এ আশায় যে, তারা সাহায্যপ্ৰাপ্ত হবে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭৪) ওরা তো আল্লাহর পরিবর্তে অন্য উপাস্য গ্রহণ করেছে এ আশায় যে, ওরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।[1]
তাফসীর:
[1] এটা তাদের আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ যে, উল্লিখিত যে সকল নিয়ামতসমূহ দ্বারা তারা উপকৃত হচ্ছে, তা সবই আল্লাহর সৃষ্টি। কিন্তু ঐ সকল নিয়ামতের উপর আল্লাহর (ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে) কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা বাদ দিয়ে তারা অন্যদের প্রতি আশা পোষণ করে ও তাদেরকে উপাস্য বানিয়ে নেয়।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭১-৭৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
(اَوَ لَمْ یَرَ الْاِنْسَانُ....)
-এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা সওয়ারের বাহন দিয়ে মানুষের প্রতি অনুগ্রহের বর্ণনা দিচ্ছেন। আল্লাহ তা‘আলা চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন এবং ওগুলোকে মানুষের অধীন করে দিয়েছেন। সুতরাং এসব নিয়ামত পেয়ে মানুষের শুকরিয়া আদায় করা উচিত। এগুলোর কিছু মানুষ ভক্ষণ করে এবং কিছু বাহন হিসেবে ব্যবহার করে। এ সম্পর্কে সূরা নাহ্ল-এর প্রথম দিকে আলোচনা করা হয়েছে।
(لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ نَصْرَھُمْ.....)
এখানে মক্কার কাফির-মুশরিকরা আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত যে সকল মূর্তির পূজা করত তা মূলত বাতিল ও ভ্রান্ত, এসব মূর্তি তাদের কোন উপকার বা ক্ষতি করার সামর্থ্য রাখে না, তারা কোন প্রকার সাহায্য করতেও সক্ষম নয় সে কথাই আলোচনা করা হয়েছে এবং সাথে সাথে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনাও প্রদান করছেন যে, তিনি যেন এ সকল বাতিল পন্থীদের কথায় মন খারাপ না করেন। এ সকল বিষয় সম্পর্কে পূর্বে একাধিক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. আল্লাহ তা‘আলার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা প্রত্যেকের জন্য জরুরী।
২. সর্বপ্রকার সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের একমাত্র মালিক আল্লাহ।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭৪-৭৬ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের ঐ বাতিল আকীদাকে খণ্ডন করছেন যা তারা তাদের বাতিল মাবুদদের উপর রাখতো। তারা এই আকীদা বা বিশ্বাস রাখতো যে, আল্লাহ ছাড়া যাদের তারা ইবাদত করছে তারা তাদের সাহায্য করবে। তারা তাদের তকদীরে বরকত আনয়ন করবে এবং তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন যে, তাদের এসব মা’রূদ তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম নয়। তাদেরকে সাহায্য করা তো দূরের কথা, তারা নিজেদেরই কোন সাহায্য করতে পারে না। এমন কি এই প্রতিমাগুলো তাদের শত্রুদের আক্রমণ হতে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারে না। কেউ এসে যদি তাদেরকে ভেঙ্গে চুরে ফেলে দেয় তবুও তারা তার কোনই ক্ষতি করতে সক্ষম নয়। তারা তো কথা বলতেও পারে না। কোন বোধ শক্তিও তাদের নেই। এই প্রতিমাগুলো কিয়ামতের দিন একত্রিত জনগণের হিসাব গ্রহণের সময় নিজেদের উপাসকদের সামনে অত্যন্ত অসহায় ও নিরুপায় অবস্থায় বিদ্যমান থাকবে যাতে মুশরিকদের পুরোপুরি লাঞ্ছনা ও অপমান প্রকাশ পায়। আর তাদের উপর হুজ্জত পুরো হয়।
হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ প্রতিমাগুলো তো তাদের কোন প্রকারেরই সাহায্য করতে পারে না, তবুও এই নির্বোধ মুশরিকরা তাদের সামনে এমনভাবে বিদ্যমান থাকছে যে, যেন তারা কোন জীবন্ত সেনাবাহিনী! অথচ এগুলো তাদের কোন উপকারও করতে পারে না এবং কোন বিপদাপদ দূর করতে সক্ষম নয়। কিন্তু এতদসত্ত্বেও এই মুশরিকরা তাদের নামে জীবন দিচ্ছে। তারা এগুলোর বিরুদ্ধে কোন কথা শুনতেও চায় না বরং ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠছে।
মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তাদের কথা তোমাকে যেন দুঃখ না দেয়। আমি তো জানি যা তারা গোপন করে এবং যা তারা ব্যক্ত করে। সময় আসছে। খুঁটিনাটিভাবে আমি তাদেরকে প্রতিফল প্রদান করবো।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।