আল কুরআন


সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 61)

সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 61)



হরকত ছাড়া:

وأن اعبدوني هذا صراط مستقيم ﴿٦١﴾




হরকত সহ:

وَّ اَنِ اعْبُدُوْنِیْ ؕؔ هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌ ﴿۶۱﴾




উচ্চারণ: ওয়া আনি‘বুদূ নী হা-যা-সিরা-তুম মুছতাকীম।




আল বায়ান: আর আমারই ইবাদাত কর। এটিই সরল পথ।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬১. আর আমারই ইবাদাত কর, এটাই সরল পথ।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর আমারই ‘ইবাদাত কর, এটাই সরল সঠিক পথ।




আহসানুল বায়ান: (৬১) এবং আমারই দাসত্ব কর।[1] এটিই সরল পথ। [2]



মুজিবুর রহমান: আর আমার ইবাদাত কর, এটাই সরল পথ?



ফযলুর রহমান: আর (বলে দেইনি যে,) আমারই ইবাদত করবে? এটাই তো সরল পথ।



মুহিউদ্দিন খান: এবং আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ।



জহুরুল হক: "বরং তোমরা আমারই উপাসনা করো? এটিই তো শুদ্ধ-সঠিক পথ।



Sahih International: And that you worship [only] Me? This is a straight path.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬১. আর আমারই ইবাদাত কর, এটাই সরল পথ।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৬১) এবং আমারই দাসত্ব কর।[1] এটিই সরল পথ। [2]


তাফসীর:

[1] এখানে উদ্দেশ্য হল ঐ অঙ্গীকার যা আদম (আঃ)-এর পিঠ থেকে বের করার পর তাঁর সন্তানদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল। (সূরা আ’রাফ ১৭২ আয়াত দ্রঃ) অথবা ঐ অসিয়ত যা পয়গম্বরদের মুখে মানুষকে করা হয়েছে। অনেকের নিকট সেই সকল জ্ঞান ও বিবেকভিত্তিক প্রমাণপুঞ্জ যা আকাশ ও পৃথিবীতে মহান আল্লাহ ছড়িয়ে রেখেছেন। (ফাতহুল ক্বাদীর)

[2] অর্থাৎ, তোমাদেরকে শয়তানের ইবাদত এবং তার কুমন্ত্রণা গ্রহণ করা থেকে এই জন্য নিষেধ করা হয়েছে যে, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু এবং সে তোমাদেরকে সব রকমভাবে পথভ্রষ্ট করার শপথ করে রেখেছে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৯-৬৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



পূর্বের আয়াতগুলোতে জান্নাতীদের আরাম-আয়েশের বর্ণনা দেয়ার পর এ আয়াতগুলোতে কিয়ামতের মাঠে জাহান্নামীদের কিরূপ অবস্থা হবে তা বর্ণনা করেছেন। কিয়ামতের মাঠে জাহান্নামীদেরকে বলা হবে- হে আদম সন্তান! আমি কি তোমাদের সতর্ক করিনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করবে না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্র“, তোমরা একমাত্র আমার ইবাদত করবে? কিন্তু তোমরা তা মাননি, নিষেধ করার পরও তোমরা আমার সাথে শয়তানের ইবাদত করেছ। সুতরাং আজ তোমরা সৎ লোকদের থেকে পৃথক হয়ে যাও। আল্লাহ তা‘আলার বাণী :



(وَيَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ يَّتَفَرَّقُوْنَ)‏



“আর যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন মানুষ আলাদা আলাদা হয়ে যাবে।” (সূরা রূম ৩০ : ১৪)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন :



(وَيَوْمَ نَحْشُرُهُمْ جَمِيْعًا ثُمَّ نَقُوْلُ لِلَّذِيْنَ أَشْرَكُوْا مَكَانَكُمْ أَنْتُمْ وَشُرَكَآؤُكُمْ ج فَزَيَّلْنَا بَيْنَهُمْ وَقَالَ شُرَكَآؤُهُمْ مَّا كُنْتُمْ إِيَّانَا تَعْبُدُوْنَ)



“এবং সেদিন আমি তাদের সকলকে একত্র করে যারা মুশরিক তাদেরকে বলব, ‘তোমরা এবং তোমরা যাদেরকে শরীক করেছিলে তারা স্ব স্ব স্থানে অবস্থান কর‎’; আমি তাদেরকে পরস্পর হতে পৃথক করে দিব এবং তারা যাদেরকে শরীক করেছিল তারা বলবে, ‘তোমরা তো আমাদের ‘ইবাদত করতে না।” (সূরা ইউনুস ১০ : ২৮)



আর তাদেরকে বলা হবে, তোমরা জাহান্নামে প্রবেশ করো যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল এবং তোমরা যার প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিলে। ফেরেশতাদেরকে বলা হবে, তাদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আল্লাহ তা‘আলার বাণী :



(اُحْشُرُوا الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا وَأَزْوَاجَهُمْ وَمَا كَانُوْا يَعْبُدُوْنَ لا - مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ فَاهْدُوْهُمْ إِلٰي صِرَاطِ الْجَحِيْمِ )



“(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে : ) একত্র কর যালিমদেরকে এবং তাদের সাথীদেরকে আর তাদেরকে যাদের তারা ‘ইবাদত করত আল্লাহ ব্যতীত। অতএব তাদেরকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাও জাহান্নামের পথে।” (সূরা সফফাত ৩৭ : ২২-২৩)



এ অঙ্গীকার হলো সে অঙ্গীকার যা আদম (আঃ)-এর পিঠ থেকে সন্তানদেরকে বের করার পর নেওয়া হয়েছিল। অথবা ঐ অসিয়ত যা নাবীদের মুখে মানুষকে করা হয়েছে।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন : হাশরের হিসাব-নিকাশের জন্য উপস্থিতির সময় প্রথমে প্রত্যেকে ওযর পেশ করতে থাকবে। মুশরিকরা কসম করে বলবে, আমরা শির্ক করিনি। আল্লাহ তা‘আলা মুশরিকদের সম্পর্কে বলেন :



(وَاللّٰهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ)



“আল্লাহর শপথ! হে আমাদের রব, আমরা মুশরিক ছিলাম না।” কেউ বলবে, আমাদের আমলনামায় ফেরেশতারা যা কিছু লিখেছে তা থেকে আমরা মুক্ত। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদের মুখে মোহর মেরে দেবেন। তাদের হাত, পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দিবে। এ সম্পর্কে সূরা নূর-এর ২৪ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন : আমি যদি ইচ্ছা করতাম তাহলে তাদের চক্ষুগুলোকে নষ্ট করে দিতে পারতাম। তখন তারা সৎ পথে চলতে চাইলে কি করে দেখতে পেত? আর যদি ইচ্ছা করতাম তাহলে তাদেরকে তাদের নিজেদের স্থানে বিকৃত করে দিতে পারতাম। তাদের চেহারা পরিবর্তন করে দিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করে দিতাম। ফলে তারা চলতে পারত না। অর্থাৎ তারা সামনেও যেতে পারত না এবং পেছনেও ফিরে আসতে পারত না। বরং মূর্তির মতো একই জায়গায় বসে থাকত।



অতত্রব সকল প্রকার শয়তানী কর্মকান্ড ছেড়ে দিয়ে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করে আখেরাতের সফলতা অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. শয়তানের অনুসরণ করা যাবে না, কারণ সে ভ্রান্ত পথের নির্দেশ দেয়।

২. কিয়ামতের মাঠে অপরাধীদের মুখে মোহর মেরে দেয়া হবে এবং তাদের হাত, পা, কর্ণ তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৯-৬২ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, সৎ লোকদেরকে অসৎ লোকদের থেকে পৃথক করে দেয়া হবে। কাফিরদেরকে বলা হবেঃ তোমরা মুমিনদের থেকে দূর হয়ে যাও। মহান আল্লাহ বলেনঃ অতঃপর আমি কাফিরদেরকে মুমিনদের হতে পৃথক করে দিবো। আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যেই দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেই দিন তারা পৃথক পৃথক হয়ে যাবে।`(৩০:১৪) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে) একত্রিত কর যালিম ও তাদের সহচরদেরকে এবং তাদেরকে যাদের ইবাদত করতো তারা আল্লাহর পরিবর্তে এবং তাদেরকে পরিচালিত কর জাহান্নামের পথে।”(৩৭:২২-২৩)

জান্নাতীদের উপর যেমনভাবে নানা প্রকারের দয়া-দাক্ষিণ্য করা হবে তেমনই কাফিরদের উপর নানা প্রকারের কঠোরতা করা হবে। ধমক ও শাসন গর্জনের সুরে তাদেরকে বলা হবেঃ আমি কি তোমাদেরকে নির্দেশ দিইনি যে, তোমরা শয়তানের দাসত্ব করো না, কারণ সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? কিন্তু এতদসত্ত্বেও তোমরা পরম দয়ালু আল্লাহর অবাধ্যাচরণ করেছে এবং শয়তানের আনুগত্য করেছে। সৃষ্টিকর্তা, অধিকর্তা এবং আহার্যদাতা হলাম আমি, আর আনুগত্য করা হবে আমার দরবার হতে বিতাড়িত শয়তানের? আমি তো বলে দিয়েছিলাম যে, তোমরা শুধু আমাকেই মানবে এবং শুধুমাত্র আমারই ইবাদত করবে। আমার কাছে পৌঁছবার সঠিক, সরল ও সোজা পথ এটাই। কিন্তু তোমরা চলেছে উল্টো পথে। সুতরাং এখানেও উল্টোভাবেই থাকো। সৎ লোকদের ও তোমাদের পথ পৃথক হয়ে গেল। তারা জান্নাতী এবং তোমরা জাহান্নামী।

(আরবী) দ্বারা বহু সৃষ্টিকে বুঝানো হয়েছে। অভিধানে (আরবী) এবং (আরবী)-এই। উভয়রূপেই বলা হয়ে থাকে।

অর্থাৎ শয়তান তোমাদের বহু লোককে বিভ্রান্ত করেছে ও সঠিক পথ হতে সরিয়ে দিয়েছে। তোমাদের কি এটুকু জ্ঞান ছিল না যে, তোমরা এর ফায়সালা করতে পারতে যে, পরম দয়ালু আল্লাহকে মানবে, না শয়তানকে মানবে? সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করবে, না সৃষ্টের উপাসনা করবে?

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলার নির্দেশক্রমে জাহান্নাম তার ঘাড় বের করবে, যা হবে অন্ধকারময়ও প্রকাশমান। সে বলবেঃ “হে আদম সন্তান! আল্লাহ তা'আলা কি তোমাদেরকে নির্দেশ দেননি যে, তোমরা শয়তানের দাসত্ব করবে না, কারণ সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? আর শুধু তাঁরই ইবাদত করবে, এটাই সরল পথ? শয়তান তো তোমাদের বহু দলকে বিভ্রান্ত করেছিল, তবুও কি তোমরা বুঝনি? হে পাপী ও অপরাধীরা! আজ তোমরা পৃথক হয়ে যাও।` প্রত্যেকেই তখন হাঁটুর ভরে পড়ে যাবে। প্রত্যেককেই তার আমলনামার দিকে ডাকা হবে। মহান আল্লাহ বলবেনঃ “আজ তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হবে যা তোমরা করতে। (এটা ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।