আল কুরআন


সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 48)

সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 48)



হরকত ছাড়া:

ويقولون متى هذا الوعد إن كنتم صادقين ﴿٤٨﴾




হরকত সহ:

وَ یَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ کُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ﴿۴۸﴾




উচ্চারণ: ওয়া ইয়াকূলূনা মাতা-হা-যাল ওয়া‘দুইন কনতুম সা-দিকীন।




আল বায়ান: আর তারা বলে, ‘এ ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে’? (তা বল) ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৮. আর তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, এ প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে?




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর তারা বলে, ‘‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে বল, (ক্বিয়ামতের) এ ও‘য়াদা কখন পূর্ণ হবে?’’




আহসানুল বায়ান: (৪৮) ওরা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহলে বল, এ প্রতিজ্ঞা কখন পূর্ণ হবে?’



মুজিবুর রহমান: তারা বলেঃ তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে বলঃ এই প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে?



ফযলুর রহমান: তারা বলে, “তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে (বল) এই প্রতিশ্রুতি কবে পূর্ণ হবে?”



মুহিউদ্দিন খান: তারা বলে, তোমরা সত্যবাদী হলে বল এই ওয়াদা কবে পূর্ণ হবে?



জহুরুল হক: আর তারা বলে -- "সেই ওয়াদা কখন পূর্ণ হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?"



Sahih International: And they say, "When is this promise, if you should be truthful?"



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৮. আর তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, এ প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে?


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৮) ওরা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহলে বল, এ প্রতিজ্ঞা কখন পূর্ণ হবে?”


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৫-৫৪ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



পূর্বের আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তা’আলা কয়েকটি নির্দশন বর্ণনা করার পর এখানে তিনি বলছেন : তাওহীদ ও রিসালতের সত্যতা প্রমাণে যে কোন নির্দশন তাদের কাছে এসেছে তারা সকল নির্দশন নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।



(مَا بَيْنَ أَيْدِيْكُمْ وَمَا خَلْفَكُمْ)



‘যা তোমাদের সামনে রয়েছে এবং যা তোমাদের পিছনে আছে’ অর্থাৎ যে আমলগুলো তোমরা অতীতে করেছ এবং তোমাদের সামনে যে কবর, জাহান্নাম রয়েছে সে জন্য ভয় কর।



(وَإِذَا قِيْلَ لَهُمْ أَنْفِقُوْا)



অর্থাৎ তাদেরকে যখন বলা হয়- অভাবী গরীব মিসকীনদেরকে দান কর এবং আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় ব্যয় করো ঐ সকল জীবিকা হতে যা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে দান করেছেন। তখন তারা বলে যে, আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা হলে তিনি নিজেই তো তাদেরকে খেতে দিতে পারতেন? সুতরাং তিনি যেহেতু তাদেরকে খাওয়াননি তাহলে আমরা কেন তাদেরকে খাওয়াব? অতএব তোমরা আমাদের এ গরীব-মিসকিনদেরকে খাওয়ানোর কথা বলে অন্যায় কাজ করছ। আমরা তাদের পিছনে অর্থ-সম্পদ খরচ করব না।



(مَتٰي هٰذَا الْوَعْدُ)



‘এ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কখন হবে?’ অর্থাৎ কাফির-মুশরিকরা কিয়ামত সংঘঠিত হওয়াকে অসম্ভব মনে করে জিজ্ঞাসা করে কিয়ামত কখন হবে? আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, মূলত তারা একটি মহা গর্জনের অপেক্ষা করছে।



অর্থাৎ মানুষ বাজারে কেনা-বেচা এবং স্বাভাবিক অভ্যাস অনুযায়ী কথাবার্তা ও বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত থাকবে, এমন সময় হঠাৎ শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে এবং কিয়ামত সংঘঠিত হয়ে যাবে। এটা হবে প্রথম ফুঁৎকার, যাকে نفخة الفزع বলা হয়। বলা হয়েছে যে, এর পরে দ্বিতীয় ফুঁৎকার হবে, যাকে نفخة الصعق বলা হয়। যাতে আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া সমস্ত জীব মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে।



وَنُفِخَ فِي الصُّوْر



অর্থাৎ প্রথম মত অনুযায়ী এটা দ্বিতীয় ফুঁৎকার এবং দ্বিতীয় মত অনুযায়ী এটা তৃতীয় ফুৎকার হবে, যাকে



نفخة البعث و النشور



বলা হয়। এতে মানুষকে কবর থেকে জীবিত করা হবে। (ইবনু কাসীর)



الْأَجْدَاثِ শব্দটি جدث এর বহুবচন, অর্থ কবর। يَنْسِلُوْنَ শব্দটি نسلان থেকে উদ্ভূত। অর্থ দ্রুত চলা। অর্থাৎ তারা দ্রুত কবর থেকে বের হবে। অন্য আয়াতে রয়েছে : হাশরের সময় মানুষ কবর থেকে উঠে দেখতে থাকবে। এ বক্তব্য পূর্ববর্তী বক্তব্যের পরিপন্থী নয়, কারণ প্রথমাবস্থায় বিস্মিত হয়ে দন্ডায়মান অবস্থায় দেখতে থাকবে এবং পরে দ্রুতগতিতে হাশরের দিকে দৌড়াতে থাকবে।



(مَنْۭ بَعَثَنَا مِنْ مَّرْقَدِنَا)



‘কে আমাদেরকে আমাদের কবর থেকে উঠাল?’ অর্থাৎ মু’মিনরা কবরে যে আরাম-আয়েশে ছিল কিয়ামত সংঘটিত হলে তা বর্জন করে উঠতে হবে আর কাফিররা কবরের আযাবের চেয়ে আরো কঠিন আযাবের সম্মুখিন হবে তাই তারা সবাই এ কথা বলবে। ফেরেশতারা তাদের কথার জবাবে বলবে :



(هٰذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمٰنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُوْنَ)



‘দয়াময় আল্লাহ তো এরই ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্যই বলেছিলেন।’



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, কিয়ামতের দিবসে কারো প্রতি কোন প্রকার জুলুম করা হবে না। প্রত্যেকে যা আমল করবে তাকে তারই প্রতিদান দেয়া হবে। সুতরাং যে যা আমল করবে কিয়ামতের দিন সে তা-ই পাবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. আল্লাহ তা‘আলার বিধানের প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা যাবে না।

২. আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় বেশি বেশি ব্যয় করা উচিত, এতে নেকীর পাল্লা ভারী হবে।

৩. কিয়ামত মানুষের নিকট হঠাৎ চলে আসবে। তারা বুঝতেও পারবে না। সুতরাং সর্বদা ভাল কাজ করতে হবে মন্দ কাজ করা যাবে না।

৪. বিচারের মাঠে কারো প্রতি কোন জুলুম করা হবে না, প্রত্যেকে আপন-আপন কর্মের ফল পাবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪৮-৫০ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেনঃ যেহেতু কাফিররা কিয়ামতকে বিশ্বাস করতো। সেহেতু তারা নবীদেরকে (আঃ) ও মুসলমানদেরকে বলতোঃ “কিয়ামত আনয়ন করছো না কেন? আচ্ছা বলতোঃ কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?” আল্লাহ তা'আলা উত্তরে বলেনঃ কিয়ামত সংঘটিত করার ব্যাপারে আমার কোন আসবাব পত্রের প্রয়োজন হবে না। শুধুমাত্র একবার শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, জনগণ প্রতিদিনের মত নিজ নিজ কাজে মগ্ন হয়ে পড়বে, এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলা হযরত ইসরাফীল (আঃ)-কে শিঙ্গায় ফুঙ্কার দেয়ার নির্দেশ দিবেন, তখন মানুষ এদিকে ওদিকে পড়তে শুরু করবে। ঐ আসমানী ভীষণ ও বিকট শব্দের ফলেই সবাই হাশরের মাঠে আল্লাহ তা'আলার সামনে একত্রিত হয়ে যাবে। ঐ শব্দের পরে কাউকেই এতোটুকুও সময় দেয়া হবে না যে, কারো সাথে কোন কথা বলে বা কারো কোন কথা শুনে অথবা কারো জন্যে কোন অসিয়ত করতে পারে। তাদের নিজেদের বাড়ীতে ফিরে যাবার ক্ষমতা থাকবে না। এ আয়াত সম্পর্কে বহু ‘আসার’ ও হাদীস রয়েছে, যেগুলো আমরা অন্য জায়গায় বর্ণনা করে। এসেছি। এই প্রথম ফুস্কারের পর দ্বিতীয় ফুঙ্কার দেয়া হবে, যার ফলে সবাই মরে যাবে। সারা জগত ধ্বংস হয়ে যাবে। একমাত্র সদা বিরাজমান আল্লাহ থাকবেন, যার ধ্বংস নেই। এরপর পুনরায় উত্থিত হবার ফুস্কার দেয়া হবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।