সূরা সাবা (আয়াত: 44)
হরকত ছাড়া:
وما آتيناهم من كتب يدرسونها وما أرسلنا إليهم قبلك من نذير ﴿٤٤﴾
হরকত সহ:
وَ مَاۤ اٰتَیْنٰهُمْ مِّنْ کُتُبٍ یَّدْرُسُوْنَهَا وَ مَاۤ اَرْسَلْنَاۤ اِلَیْهِمْ قَبْلَکَ مِنْ نَّذِیْرٍ ﴿ؕ۴۴﴾
উচ্চারণ: ওয়ামাআ-তাইনা-হুম মিন কুতুবিইঁ ইয়াদরুছূনাহা-ওয়ামাআরছালনাইলাইহিম কাবলাকা মিন নাযীর।
আল বায়ান: আর আমি তাদেরকে কোন কিতাব দেইনি যা তারা অধ্যয়ন করত, এবং তোমার পূর্বে তাদের প্রতি আর কোন সতর্ককারীও প্রেরণ করিনি।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৪. আর আমরা তাদেরকে আগে কোন কিতাব দেইনি। যা তারা অধ্যয়ন করত। এবং আপনার আগে এদের কাছে কোন সতর্ককারীও প্রেরণা করিনি।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি তাদেরকে (অর্থাৎ মক্কার কুরায়শদের) কোন কিতাব দেইনি যা তারা পাঠ করত আর আমি তোমার পূর্বে তাদের কাছে কোন সতর্ককারীও পাঠাইনি।
আহসানুল বায়ান: (৪৪) আমি পূর্বে এ (মক্কাবাসী)দেরকে কোন গ্রন্থ দিইনি, যা এরা অধ্যয়ন করতে পারে এবং তোমার পূর্বে এদের নিকট কোন সতর্ককারীও প্রেরণ করিনি। [1]
মুজিবুর রহমান: আমি তাদেরকে পূর্বে কোন কিতাব দিইনি যা তারা অধ্যয়ন করত এবং তোমার পূর্বে তাদের নিকট কোন সতর্ককারীও প্রেরণ করিনি।
ফযলুর রহমান: তাদেরকে কোন কিতাব দেইনি যা তারা পড়বে এবং তোমার পূর্বে তাদের কাছে কোন সতর্ককারীও পাঠাইনি।
মুহিউদ্দিন খান: আমি তাদেরকে কোন কিতাব দেইনি, যা তারা অধ্যয়ন করবে এবং আপনার পূর্বে তাদের কাছে কোন সতর্ককারী প্রেরণ করিনি।
জহুরুল হক: আর আমরা গ্রন্থাবলীর কোনো-কিছু তাদের দিই নি যেটি তারা পড়তে পাবে, আর তোমার পূর্বে তাদের কাছে আমরা সতর্ককারীদের কাউকেও পাঠাই নি।
Sahih International: And We had not given them any scriptures which they could study, and We had not sent to them before you, [O Muhammad], any warner.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৪. আর আমরা তাদেরকে আগে কোন কিতাব দেইনি। যা তারা অধ্যয়ন করত। এবং আপনার আগে এদের কাছে কোন সতর্ককারীও প্রেরণা করিনি।(১)
তাফসীর:
(১) কাতাদাহ বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা আরব জাতির কাছে কুরআনের আগে কোন কিতাব পাঠান নি এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগে (দূর অতীতে) কোন নবীও পাঠান নি। [তাবারী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৪) আমি পূর্বে এ (মক্কাবাসী)দেরকে কোন গ্রন্থ দিইনি, যা এরা অধ্যয়ন করতে পারে এবং তোমার পূর্বে এদের নিকট কোন সতর্ককারীও প্রেরণ করিনি। [1]
তাফসীর:
[1] এই জন্য তারা আকাঙ্ক্ষা পোষণ করত, যেন তাদের নিকটেও কোন পয়গম্বর আসেন এবং আসমানী কোন গ্রন্থ অবতীর্ণ হয়। কিন্তু যখন তা এসে গেল, তখন তারা অস্বীকার করে বসল।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৩-৪৫ নং আয়াতের তাফসীর:
পূর্ব যুগের কাফির-মুশরিকরদের মত মক্কার কাফিররাও নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আল্লাহ তা‘আলা প্রেরিত রাসূল হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করে। যখন তিনি তাদের কাছে আল্লাহ তা‘আলার আয়াত তথা কুরআন তেলাওয়াত করেন তখন তারা বলে: মুহাম্মাদ তো একজন মানুষ, সে আমাদের বাপ-দাদার মা‘বূদদের ইবাদত করা থেকে বিরত রাখতে চায়। পূর্ব যুগের কাফির-মুশরিকরাও এরূপ কথা বলতো, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُّؤْمِنُوْآ إِذْ جَا۬ءَهُمُ الْهُدٰٓي إِلَّآ أَنْ قَالُوْآ أَبَعَثَ اللّٰهُ بَشَرًا رَّسُوْلًا)
“যখন তাদের নিকট আসে পথনির্দেশ তখন লোকদেরকে ঈমান আনা হতে বিরত রাখে তাদের এ উক্তি, ‘আল্লাহ কি মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন?’’ (সূরা ইসরা ১৭:৯৪)
তারা কুরআনের ব্যাপারে আরো বলতন এ কুরআন মিথ্যা ও মুহাম্মাদ তা তৈরি করেছে।
(وَمَآ اٰتَيْنٰهُمْ مِّنْ كُتُبٍ يَّدْرُسُوْنَهَا)
‘আর আমি এদেরকে আগে কখনও কোন গ্রন্থ দেইনি যা তারা পাঠ করত’ অর্থাৎ তারা যে কুরআনকে মিথ্যা ও মুহাম্মাদ তা তৈরি করেছে বলে দাবী করে তার প্রমাণ কোথায়? ইতোপূর্বে তো এমন কোন কিতাব দেইনি যা অধ্যয়ন করে তারা জেনেছে যে, কুরআন মিথ্যা ও বানোয়াট। আর এমন কোন রাসূলও প্রেরণ করিনি যে, তিনি বলেছেন কুরআন মিথ্যা ও বানোয়াট। সুতরাং তারা কিসের ভিত্তিতে এসব কথা বলছে। তাদের কথার কোন প্রমাণ নেই।
(وَمَا بَلَغُوْا مِعْشَارَ مَآ اٰتَيْنٰهُمْ)
‘তাদেরকে আমি যা দিয়েছিলাম এরা তার দশ ভাগের এক ভাগও পায়নি’ কারো মতে مِعْشَارَ শব্দের অর্থ عشر অর্থাৎ দশ ভাগের একভাগ। কারো মতে عشر العشر অর্থাৎ একশ ভাগের এক ভাগ। কারো মতে عشر العشير অর্থাৎ এক হাজার ভাগের একভাগ। সুতরাং আয়াতের অর্থ হবেন পূর্ববর্তী উম্মতের পার্থিব ধনৈশ্বর্য, শাসনক্ষমতা, সুদীর্ঘ বয়স, স্বাস্থ্য ও শক্তি-সামর্থ্য ইত্যাদি যে পরিমাণ দান করা হয়েছিল, মক্কাবাসীরা তার দশ ভাগের এক বরং একহাজার ভাগের এক ভাগও পায়নি। তাই পূর্ববর্তীদের অবস্থা ও অশুভ পরিণাম থেকে তাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। তারা নাবীদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে আযাবে পতিত হয়েছিল এবং সে আযাব যখন এসে যায়, তখন তাদের শক্তি-সামর্থ্য, বীরত্ব, ধনৈশ্বর্য ও সুরক্ষিত দূর্গ কোনই কাজে আসেনি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَلَقَدْ مَكَّنّٰهُمْ فِيْمَآ إِنْ مَّكَّنّٰكُمْ فِيْهِ وَجَعَلْنَا لَهُمْ سَمْعًا وَّأَبْصَارًا وَّأَفْئِدَةً ﺘ فَمَآ أَغْنٰي عَنْهُمْ سَمْعُهُمْ وَلَآ أَبْصَارُهُمْ وَلَآ أَفْئِدَتُهُمْ مِّنْ شَيْءٍ إِذْ كَانُوْا يَجْحَدُوْنَ بِاٰيٰتِ اللّٰهِ وَحَاقَ بِهِمْ مَّا كَانُوْا بِه۪ يَسْتَهْزِئُوْنَ)
“আমি তাদেরকে এমন সব কিছু দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দিইনি। আমি তাদেরকে কান, চোখ ও হৃদয় দিয়েছিলাম; কিন্তু তাদের কান, চোখ ও হৃদয় তাদের কোনো কাজে আসল না। কারণ, তারা আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করেছিল। যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করত তা-ই তাদেরকে ঘিরে ফেলল।” (সূরা আহকাফ ৪৬:২৬)
এখানে পূর্ববর্তী লোকদের কথা উল্লেখ করে বুঝাতে চেয়েছেন যে, পূর্ববর্তী লোকদেরকে নাবীদের অস্বীকার করার কারণে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। সুতরাং এদের চিন্তা করে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর। তারা ছিল সর্বদিক দিয়ে শক্তিশালী, তারপরেও তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। সুতরাং তোমাদেরকে ধ্বংস করাটা কোন ব্যাপারই নয়।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কাউকে সৎ পথের অনুসরণ করা থেকে বাধা প্রদান করা যাবে না।
২. নাবী রাসূলগণকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যাবে না।
৩. নাবী-রাসূলগণ যে সকল মু‘জিযা দেখিয়েছেন এগুলো সত্য, এগুলো কোন জাদুবিদ্যা নয়। কারণ জাদুবিদ্যা হারাম। আর নাবী-রাসূলগণ কখনো হারাম কাজ করতে পারেন না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৩-৪৫ নং আয়াতের তাফসীর:
কাফিরদের ঐ দুষ্টুমি ও দুষ্কর্মের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যার কারণে তারা আল্লাহর কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির হকদার হয়েছে। তারা আল্লাহ তা'আলার তাজা ও টাকা কথা তার শ্রেষ্ঠ রাসূল (সঃ)-এর মুখে শুনে থাকে। তা মেনে নেয়া ও ওর উপর আমল করা তো দূরের কথা, তারা পরস্পর বলাবলি করেঃ দেখো, তোমাদের পূর্বপুরুষ যার ইবাদত করতো এই ব্যক্তিই তো তার ইবাদতে তোমাদেরকে বাধা দিতে চায় এবং তার বাতিল চিন্তাধারার দিকে তোমাদেরকে আহ্বান করছে। এই কুরআন তার নিজের মনগড়া কিতাব, যা সে নিজেই তৈরী করে নিয়েছে। আর এটা তো যাদু এবং এটা যাদু হওয়া কোন গোপনীয় ব্যাপার নয়, বরং সম্পূর্ণরূপে প্রকাশমান।
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমি এদেরকে পূর্বে কোন কিতাব দিইনি যা এরা অধ্যয়ন করতো এবং তোমার পূর্বে এদের নিকট কোন সতর্ককারীও প্রেরণ করিনি। এজন্যে বহু দিন থেকে তারা আকাঙ্ক্ষা করে আসছিল যে, যদি আল্লাহর কোন রাসূল তাদের কাছে আসতেন এবং যদি আল্লাহর কিতাব তাদের উপর নাযিল করা হতো তবে তারা সবচেয়ে বেশী অনুগত এবং মান্যকারী হতো। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা যখন তাদের মনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করলেন তখন তারা। অবিশ্বাস ও অস্বীকার করে বসলো। তাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের পরিণাম তাদের সামনে রয়েছে, যারা পার্থিব শক্তি এবং ধন-সম্পদে তাদের উপরে ছিল। এরা তো তাদের দশ ভাগের এক ভাগও লাভ করেনি। কিন্তু আল্লাহর আযাব এসে যাওয়ার পর তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসেনি। তাদের দৈহিক শক্তিও তাদের কোন উপকার করেনি। তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি তোমাদেরকে যে শক্তি সামর্থ্য দিয়েছি এর চেয়ে বেশী শক্তি সামর্থ্য তাদেরকে দিয়েছিলাম। তাদেরকে আমি কর্ণ, চক্ষু এবং হৃদয়ও দান করেছিলাম, কিন্তু আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করার কারণে তাদের উপর যে আযাব এসেছিল, সে সময় তাদের কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় তাদের কোনই উপকারে আসেনি। তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছিল তাই তাদেরকে পরিবেষ্টন করে ফেলে। এ লোকগুলো কি ভূ-পৃষ্ঠে ভ্রমণ করে তাদের পূর্ববর্তী লোকদের পরিণতি দেখে না যারা সংখ্যায় ও শক্তিতে তাদের ঊর্ধ্বে ছিল?”(৪৬:২৬)
ভাবার্থ এই যে, পূর্ববর্তী লোকদেরকে নবীদেরকে অবিশ্বাস করার কারণে জড়সহ উপড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। সুতরাং এদের চিন্তা করে দেখা উচিত যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদেরকে কিভাবে সাহায্য করেছিলেন এবং কিভাবে মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদেরকে তিনি স্বীয় আযাব দ্বারা ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।