আল কুরআন


সূরা সাবা (আয়াত: 43)

সূরা সাবা (আয়াত: 43)



হরকত ছাড়া:

وإذا تتلى عليهم آياتنا بينات قالوا ما هذا إلا رجل يريد أن يصدكم عما كان يعبد آباؤكم وقالوا ما هذا إلا إفك مفترى وقال الذين كفروا للحق لما جاءهم إن هذا إلا سحر مبين ﴿٤٣﴾




হরকত সহ:

وَ اِذَا تُتْلٰی عَلَیْهِمْ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ قَالُوْا مَا هٰذَاۤ اِلَّا رَجُلٌ یُّرِیْدُ اَنْ یَّصُدَّکُمْ عَمَّا کَانَ یَعْبُدُ اٰبَآؤُکُمْ ۚ وَ قَالُوْا مَا هٰذَاۤ اِلَّاۤ اِفْکٌ مُّفْتَرًی ؕ وَ قَالَ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا لِلْحَقِّ لَمَّا جَآءَهُمْ ۙ اِنْ هٰذَاۤ اِلَّا سِحْرٌ مُّبِیْنٌ ﴿۴۳﴾




উচ্চারণ: ওয়া ইযা-তুতলা-‘আলাইহিম আ-য়া-তুনা-বাইয়িনা-তিন কা-লূ মা-হা-যাইল্লা-রাজূলুইঁ ইউরীদুআইঁ ইয়াসুদ্দাকুম ‘আম্মা-কা-না ইয়া‘বুদুআ-বাউকুম ওয়াকা-লূমা-হাযাইল্লাইফকুম মুফতারাওঁ- ওয়া কা-লাল্লাযীনা কাফারূলিল হাক্কিলাম্মাজাআহুম ইন হা-যাইল্লা-ছিহরুম মুবীন।




আল বায়ান: আর যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হত তখন তারা বলত, ‘এতো এমন এক ব্যক্তি যে তোমাদের বাধা দিতে চায় তা থেকে যার ইবাদাত তোমাদের পিতৃপুরুষগণ করত’। তারা আরও বলে, ‘এটি বানোয়াট মিথ্যা বৈ কিছু নয়।’ আর কাফিরদের নিকট যখনই সত্য আসে তখন তারা বলে, ‘এতো কেবল এক সুস্পষ্ট যাদু।’




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৩. আর তাদের কাছে যখন আমাদের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন তারা বলে, তোমাদের পূর্বপুরুষ যার ইবাদাত করত এ ব্যক্তিই তো তার ইবাদাতে বাধা দিতে চায়। তারা আরও বলে, এটা তো মিথ্যা উদ্ভাবন ছাড়া আর কিছুই নয়। আর কাফিরদের কাছে যখন সত্য আসে তখন তারা বলে, এ তো এক সুস্পষ্ট জাদু।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তাদের সম্মুখে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন তারা বলে- এটা তো এমন একজন মানুষ, যে তোমাদেরকে তোমাদের পূর্বপুরুষ যার ‘ইবাদাত করত তাত্থেকে বাধা দিতে চায়। তারা আরো বলে যে, এটা মনগড়া মিথ্যে ছাড়া আর কিছুই নয়। সত্য যখন কাফিরদের নিকট আসে তখন তারা বলে- এটা তো সুস্পষ্ট যাদু।




আহসানুল বায়ান: (৪৩) এদের নিকট যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হয়, তখন এরা বলে, ‘এ তো সেই ব্যক্তিই,[1] যে তোমাদের পূর্বপুরুষ যার উপাসনা করত, তার উপাসনায় বাধা দিতে চায়।’ এরা আরও বলে, ‘এ (কুরআন) তো মিথ্যা উদ্ভাবন ব্যতীত কিছু নয়।’[2] আর সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের নিকট যখন সত্য আসে, তখন তারা বলে, ‘এ তো এক সুস্পষ্ট যাদু।’ [3]



মুজিবুর রহমান: তাদের নিকট যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হয় তখন তারা বলেঃ তোমাদের পূর্ব-পুরুষ যার ইবাদাত করত এই ব্যক্তিইতো তার ইবাদাতে তোমাদেরকে বাঁধা দিতে চায়। তারা আরও বলেঃ এটাতো মিথ্যা উদ্ভাবন ব্যতীত কিছু নয়। এবং কাফিরদের নিকট যখন সত্য আসে তখন তারা বলেঃ এটাতো এক সুস্পষ্ট যাদু!



ফযলুর রহমান: যখন তাদের কাছে আমার স্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তারা (পাঠকারী রসূল সম্পর্কে) বলে, “এ তো এমনই এক লোক যে তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার উপাস্যদের (উপাসনা) থেকে ফেরাতে চায়।” তারা আরো বলে, “এ তো বানানো মিথ্যা ছাড়া কিছু নয়।” কাফেরদের কাছে যখন সত্য এল তখন তারা সে সম্পর্কে বলল, “এ তো এক স্পষ্ট যাদু”।



মুহিউদ্দিন খান: যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন তারা বলে, তোমাদের বাপ-দাদারা যার এবাদত করত এ লোকটি যে তা থেকে তোমাদেরকে বাধা দিতে চায়। তারা আরও বলে, এটা মনগড়া মিথ্যা বৈ নয়। আর কাফেরদের কাছে যখন সত্য আগমন করে, তখন তারা বলে, এতো এক সুস্পষ্ট যাদু।



জহুরুল হক: আর যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী আবৃত্তি করা হয় তখন তারা বলে -- "এ তো একজন মানুষ ছাড়া আর কেউ নয় যে তোমাদের ফিরিয়ে রাখতে চায় তা থেকে যার উপাসনা করত তোমাদের পিতৃপুরুষরা।" আর তারা বলে -- "এ একটি বানানো মিথ্যা ব্যতীত আর কিছু নয়।" আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা সত্য-সন্বন্ধে, এটি যখন তাদের কাছে আসে তখন, বলে -- "এ স্পষ্ট জাদু বৈ তো নয়।"



Sahih International: And when our verses are recited to them as clear evidences, they say, "This is not but a man who wishes to avert you from that which your fathers were worshipping." And they say, "This is not except a lie invented." And those who disbelieve say of the truth when it has come to them, "This is not but obvious magic."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৩. আর তাদের কাছে যখন আমাদের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন তারা বলে, তোমাদের পূর্বপুরুষ যার ইবাদাত করত এ ব্যক্তিই তো তার ইবাদাতে বাধা দিতে চায়। তারা আরও বলে, এটা তো মিথ্যা উদ্ভাবন ছাড়া আর কিছুই নয়। আর কাফিরদের কাছে যখন সত্য আসে তখন তারা বলে, এ তো এক সুস্পষ্ট জাদু।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৩) এদের নিকট যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হয়, তখন এরা বলে, ‘এ তো সেই ব্যক্তিই,[1] যে তোমাদের পূর্বপুরুষ যার উপাসনা করত, তার উপাসনায় বাধা দিতে চায়।” এরা আরও বলে, ‘এ (কুরআন) তো মিথ্যা উদ্ভাবন ব্যতীত কিছু নয়।”[2] আর সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের নিকট যখন সত্য আসে, তখন তারা বলে, ‘এ তো এক সুস্পষ্ট যাদু।” [3]


তাফসীর:

[1] ‘ব্যক্তি’ থেকে উদ্দেশ্য হল নবী করীম (সাঃ)। বাপ-দাদার ধর্ম তাদের নিকট সঠিক ধর্ম ছিল। যার ফলে তারা নবী (সাঃ)-এর এই অপরাধ বর্ণনা করেছে যে, এ তোমাদেরকে সেই সকল উপাস্য থেকে বিরত রাখতে চায়, যাদের ইবাদত তোমাদের বাপ-দাদারা করত।

[2] দ্বিতীয় ‘هذا’ (এ)র উদ্দেশ্য হল কুরআন কারীম। কুরআনকে তারা তৈরী করা (স্বরচিত) বা মনগড়া এবং (আল্লাহর প্রতি) মিথ্যা অপবাদ বলে আখ্যায়িত করেছে।

[3] কাফেররা কুরআনকে প্রথমে মনগড়া মিথ্যা বলেছে এবং এখানে স্পষ্ট যাদু বলেছে। প্রথম কথার সম্পর্ক কুরআনের অর্থ ও তাৎপর্যের সাথে আর দ্বিতীয় কথা কুরআনের অলৌকিক ছন্দ ও বর্ণনাভঙ্গি এবং সাহিত্য-শৈলী ও শব্দস্বাচ্ছন্দ্যের সাথে সম্পৃক্ত।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৩-৪৫ নং আয়াতের তাফসীর:



পূর্ব যুগের কাফির-মুশরিকরদের মত মক্কার কাফিররাও নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আল্লাহ তা‘আলা প্রেরিত রাসূল হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করে। যখন তিনি তাদের কাছে আল্লাহ তা‘আলার আয়াত তথা কুরআন তেলাওয়াত করেন তখন তারা বলে: মুহাম্মাদ তো একজন মানুষ, সে আমাদের বাপ-দাদার মা‘বূদদের ইবাদত করা থেকে বিরত রাখতে চায়। পূর্ব যুগের কাফির-মুশরিকরাও এরূপ কথা বলতো, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُّؤْمِنُوْآ إِذْ جَا۬ءَهُمُ الْهُدٰٓي إِلَّآ أَنْ قَالُوْآ أَبَعَثَ اللّٰهُ بَشَرًا رَّسُوْلًا)‏



“যখন তাদের নিকট আসে পথনির্দেশ তখন লোকদেরকে ঈমান আনা হতে বিরত রাখে তাদের এ উক্তি, ‘আল্লাহ কি মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন?’’ (সূরা ইসরা ১৭:৯৪)



তারা কুরআনের ব্যাপারে আরো বলতন এ কুরআন মিথ্যা ও মুহাম্মাদ তা তৈরি করেছে।



(وَمَآ اٰتَيْنٰهُمْ مِّنْ كُتُبٍ يَّدْرُسُوْنَهَا)



‘আর আমি এদেরকে আগে কখনও কোন গ্রন্থ দেইনি যা তারা পাঠ করত’ অর্থাৎ তারা যে কুরআনকে মিথ্যা ও মুহাম্মাদ তা তৈরি করেছে বলে দাবী করে তার প্রমাণ কোথায়? ইতোপূর্বে তো এমন কোন কিতাব দেইনি যা অধ্যয়ন করে তারা জেনেছে যে, কুরআন মিথ্যা ও বানোয়াট। আর এমন কোন রাসূলও প্রেরণ করিনি যে, তিনি বলেছেন কুরআন মিথ্যা ও বানোয়াট। সুতরাং তারা কিসের ভিত্তিতে এসব কথা বলছে। তাদের কথার কোন প্রমাণ নেই।



(وَمَا بَلَغُوْا مِعْشَارَ مَآ اٰتَيْنٰهُمْ)



‘তাদেরকে আমি যা দিয়েছিলাম এরা তার দশ ভাগের এক ভাগও পায়নি’ কারো মতে مِعْشَارَ শব্দের অর্থ عشر অর্থাৎ দশ ভাগের একভাগ। কারো মতে عشر العشر অর্থাৎ একশ ভাগের এক ভাগ। কারো মতে عشر العشير অর্থাৎ এক হাজার ভাগের একভাগ। সুতরাং আয়াতের অর্থ হবেন পূর্ববর্তী উম্মতের পার্থিব ধনৈশ্বর্য, শাসনক্ষমতা, সুদীর্ঘ বয়স, স্বাস্থ্য ও শক্তি-সামর্থ্য ইত্যাদি যে পরিমাণ দান করা হয়েছিল, মক্কাবাসীরা তার দশ ভাগের এক বরং একহাজার ভাগের এক ভাগও পায়নি। তাই পূর্ববর্তীদের অবস্থা ও অশুভ পরিণাম থেকে তাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। তারা নাবীদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে আযাবে পতিত হয়েছিল এবং সে আযাব যখন এসে যায়, তখন তাদের শক্তি-সামর্থ্য, বীরত্ব, ধনৈশ্বর্য ও সুরক্ষিত দূর্গ কোনই কাজে আসেনি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَلَقَدْ مَكَّنّٰهُمْ فِيْمَآ إِنْ مَّكَّنّٰكُمْ فِيْهِ وَجَعَلْنَا لَهُمْ سَمْعًا وَّأَبْصَارًا وَّأَفْئِدَةً ﺘ فَمَآ أَغْنٰي عَنْهُمْ سَمْعُهُمْ وَلَآ أَبْصَارُهُمْ وَلَآ أَفْئِدَتُهُمْ مِّنْ شَيْءٍ إِذْ كَانُوْا يَجْحَدُوْنَ بِاٰيٰتِ اللّٰهِ وَحَاقَ بِهِمْ مَّا كَانُوْا بِه۪ يَسْتَهْزِئُوْنَ‏)‏



“আমি তাদেরকে এমন সব কিছু দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দিইনি। আমি তাদেরকে কান, চোখ ও হৃদয় দিয়েছিলাম; কিন্তু তাদের কান, চোখ ও হৃদয় তাদের কোনো কাজে আসল না। কারণ, তারা আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করেছিল। যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করত তা-ই তাদেরকে ঘিরে ফেলল।” (সূরা আহকাফ ৪৬:২৬)



এখানে পূর্ববর্তী লোকদের কথা উল্লেখ করে বুঝাতে চেয়েছেন যে, পূর্ববর্তী লোকদেরকে নাবীদের অস্বীকার করার কারণে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। সুতরাং এদের চিন্তা করে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর। তারা ছিল সর্বদিক দিয়ে শক্তিশালী, তারপরেও তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। সুতরাং তোমাদেরকে ধ্বংস করাটা কোন ব্যাপারই নয়।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কাউকে সৎ পথের অনুসরণ করা থেকে বাধা প্রদান করা যাবে না।

২. নাবী রাসূলগণকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যাবে না।

৩. নাবী-রাসূলগণ যে সকল মু‘জিযা দেখিয়েছেন এগুলো সত্য, এগুলো কোন জাদুবিদ্যা নয়। কারণ জাদুবিদ্যা হারাম। আর নাবী-রাসূলগণ কখনো হারাম কাজ করতে পারেন না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪৩-৪৫ নং আয়াতের তাফসীর:

কাফিরদের ঐ দুষ্টুমি ও দুষ্কর্মের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যার কারণে তারা আল্লাহর কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির হকদার হয়েছে। তারা আল্লাহ তা'আলার তাজা ও টাকা কথা তার শ্রেষ্ঠ রাসূল (সঃ)-এর মুখে শুনে থাকে। তা মেনে নেয়া ও ওর উপর আমল করা তো দূরের কথা, তারা পরস্পর বলাবলি করেঃ দেখো, তোমাদের পূর্বপুরুষ যার ইবাদত করতো এই ব্যক্তিই তো তার ইবাদতে তোমাদেরকে বাধা দিতে চায় এবং তার বাতিল চিন্তাধারার দিকে তোমাদেরকে আহ্বান করছে। এই কুরআন তার নিজের মনগড়া কিতাব, যা সে নিজেই তৈরী করে নিয়েছে। আর এটা তো যাদু এবং এটা যাদু হওয়া কোন গোপনীয় ব্যাপার নয়, বরং সম্পূর্ণরূপে প্রকাশমান।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমি এদেরকে পূর্বে কোন কিতাব দিইনি যা এরা অধ্যয়ন করতো এবং তোমার পূর্বে এদের নিকট কোন সতর্ককারীও প্রেরণ করিনি। এজন্যে বহু দিন থেকে তারা আকাঙ্ক্ষা করে আসছিল যে, যদি আল্লাহর কোন রাসূল তাদের কাছে আসতেন এবং যদি আল্লাহর কিতাব তাদের উপর নাযিল করা হতো তবে তারা সবচেয়ে বেশী অনুগত এবং মান্যকারী হতো। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা যখন তাদের মনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করলেন তখন তারা। অবিশ্বাস ও অস্বীকার করে বসলো। তাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের পরিণাম তাদের সামনে রয়েছে, যারা পার্থিব শক্তি এবং ধন-সম্পদে তাদের উপরে ছিল। এরা তো তাদের দশ ভাগের এক ভাগও লাভ করেনি। কিন্তু আল্লাহর আযাব এসে যাওয়ার পর তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসেনি। তাদের দৈহিক শক্তিও তাদের কোন উপকার করেনি। তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি তোমাদেরকে যে শক্তি সামর্থ্য দিয়েছি এর চেয়ে বেশী শক্তি সামর্থ্য তাদেরকে দিয়েছিলাম। তাদেরকে আমি কর্ণ, চক্ষু এবং হৃদয়ও দান করেছিলাম, কিন্তু আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করার কারণে তাদের উপর যে আযাব এসেছিল, সে সময় তাদের কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় তাদের কোনই উপকারে আসেনি। তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছিল তাই তাদেরকে পরিবেষ্টন করে ফেলে। এ লোকগুলো কি ভূ-পৃষ্ঠে ভ্রমণ করে তাদের পূর্ববর্তী লোকদের পরিণতি দেখে না যারা সংখ্যায় ও শক্তিতে তাদের ঊর্ধ্বে ছিল?”(৪৬:২৬)

ভাবার্থ এই যে, পূর্ববর্তী লোকদেরকে নবীদেরকে অবিশ্বাস করার কারণে জড়সহ উপড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। সুতরাং এদের চিন্তা করে দেখা উচিত যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদেরকে কিভাবে সাহায্য করেছিলেন এবং কিভাবে মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদেরকে তিনি স্বীয় আযাব দ্বারা ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।