সূরা সাবা (আয়াত: 33)
হরকত ছাড়া:
وقال الذين استضعفوا للذين استكبروا بل مكر الليل والنهار إذ تأمروننا أن نكفر بالله ونجعل له أندادا وأسروا الندامة لما رأوا العذاب وجعلنا الأغلال في أعناق الذين كفروا هل يجزون إلا ما كانوا يعملون ﴿٣٣﴾
হরকত সহ:
وَ قَالَ الَّذِیْنَ اسْتُضْعِفُوْا لِلَّذِیْنَ اسْتَکْبَرُوْا بَلْ مَکْرُ الَّیْلِ وَ النَّهَارِ اِذْ تَاْمُرُوْنَنَاۤ اَنْ نَّکْفُرَ بِاللّٰهِ وَ نَجْعَلَ لَهٗۤ اَنْدَادًا ؕ وَ اَسَرُّوا النَّدَامَۃَ لَمَّا رَاَوُا الْعَذَابَ ؕ وَ جَعَلْنَا الْاَغْلٰلَ فِیْۤ اَعْنَاقِ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا ؕ هَلْ یُجْزَوْنَ اِلَّا مَا کَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ﴿۳۳﴾
উচ্চারণ: ওয়াকা-লাল্লাযীনাছতুদ‘ইফূলিল্লাযীনাছতাকবারূবাল মাকরুল লাইলি ওয়ান্নাহা-রি ইয তা’মুরূনানাআন নাকফুরা বিল্লা-হি ওয়ানাজ‘আলা লাহূআনদা-দাওঁ ওয়া আছাররুন্নাদামাতা লাম্মা-রাআউল ‘আযা-বা ওয়াজা‘আলনাল আগলা-লা ফীআ‘নাকিল্লাযীনা কাফারূ হাল ইউজযাওনা ইল্লা-মা-কা-নূইয়া‘মালূন।
আল বায়ান: আর যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তারা, যারা অহঙ্কারী ছিল তাদেরকে বলবে, ‘বরং এ ছিল তোমাদের দিন-রাতের চক্রান্ত, যখন তোমরা আমাদেরকে আদেশ দিয়েছিলে যেন আমরা আল্লাহকে অস্বীকার করি এবং তাঁর সমকক্ষ স্থির করি’। আর তারা যখন আযাব দেখবে তখন তারা অনুতাপ গোপন করবে। আর আমি কাফিরদের গলায় শৃঙ্খল পরিয়ে দেব। তারা যা করত কেবল তারই প্রতিফল তাদেরকে দেয়া হবে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৩. আর যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তারা, যারা অহংকার করেছিল তাদেরকে বলবে, প্রকৃতপক্ষে তোমরাই তো দিনরাত চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে, যখন তোমরা আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলে যেন আমরা আল্লাহর সাথে কুফরী করি এবং তাঁর জন্য সমকক্ষ (শির্ক) স্থাপন করি।(১) আর যখন তারা শাস্তি দেখতে পাবে, তখন তারা অনুতাপ গোপন রাখবে এবং যারা কুফরী করেছে আমরা তাদের গলায় শৃঙ্খল পরাব। তারা যা করত তাদেরকে কেবল তারই প্ৰতিফল দেয়া হবে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যাদেরকে দুর্বল ক’রে রাখা হয়েছিল তারা দাম্ভিকদের বলবে- তোমরাই তো বরং দিন-রাত চক্রান্ত করতে। তোমরা আমাদেরকে নির্দেশ দিতে যাতে আমরা আল্লাহকে অস্বীকার করি আর তাঁর সমকক্ষ স্থির করি। যখন তারা শাস্তি দেখবে তখন মনের অনুতাপ মনেই লুকিয়ে রাখবে, আর আমি কাফিরদের গলায় শৃঙ্খল পরিয়ে দেব। তারা যা (দুনিয়াতে) করত তার প্রতিফলই তাদেরকে দেয়া হবে।
আহসানুল বায়ান: (৩৩) আর যারা দুর্বল (অনুসারী) ছিল, তারা দাম্ভিক (অনুসৃত)দেরকে বলবে, ‘প্রকৃতপক্ষে তোমরাই তো দিন-রাত আমাদের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে, আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলে যেন আমরা আল্লাহকে অমান্য করি এবং তাঁর অংশী স্থাপন করি।’ [1] যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন মনে মনে অনুতপ্ত হবে।[2] আমি অবিশ্বাসীদের গলদেশে বেড়ি পরাব।[3] ওরা যা করত তারই প্রতিফল ওদেরকে দেওয়া হবে। [4]
মুজিবুর রহমান: যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত তারা ক্ষমতাদর্পীদেরকে বলবেঃ প্রকৃত পক্ষে তোমরাইতো দিন-রাত চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে, আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলে যেন আমরা আল্লাহকে অমান্য করি এবং তাঁর শরীক স্থাপন করি। যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন তারা অনুতাপ গোপন রাখবে এবং আমি কাফিরদের গলদেশে শৃংখল পরিয়ে দিব। তারা যা করত তারই প্রতিফল তাদেরকে দেয়া হবে।
ফযলুর রহমান: দুর্বলরা অহংকারীদেরকে বলবে, “বরং (এটা তো তোমাদেরই) রাতের ও দিনের চক্রান্ত (ছিল), যখন আমাদেরকে আদেশ দিতে, যেন আমরা আল্লাহকে অস্বীকার করি এবং তাঁর শরীক সাব্যস্ত করি।” তারা যখন শাস্তি দেখতে পাবে তখন অনুতাপ গোপন রাখবে। আর আমি কাফেরদের গলায় বেড়ি পরাব। তাদেরকে তাদের কর্মেরই প্রতিফল দেওয়া হবে।
মুহিউদ্দিন খান: দুর্বলরা অহংকারীদেরকে বলবে, বরং তোমরাই তো দিবারাত্রি চক্রান্ত করে আমাদেরকে নির্দেশ দিতে যেন আমরা আল্লাহকে না মানি এবং তাঁর অংশীদার সাব্যস্ত করি তারা যখন শাস্তি দেখবে, তখন মনের অনুতাপ মনেই রাখবে। বস্তুতঃ আমি কাফেরদের গলায় বেড়ী পরাব। তারা সে প্রতিফলই পেয়ে থাকে যা তারা করত।
জহুরুল হক: আর যাদের দুর্বল করা হয়েছিল তারা বলবে তাদের যারা গর্ব করছিল -- "বস্তুত রাত ও দিনের চক্রান্ত, যখন তোমরা আমাদের হুকুম করতে যেন আমরা আল্লাহ্কে অবিশ্বাস করি এবং তাঁর সঙ্গে অংশী স্থাপন করি।" আর তারা যখন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন তারা আফসোসে আকুল হবে। আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করত তাদের গলায় আমরা শিকল পরাব। তাদের কি প্রতিদান দেওয়া হচ্ছে তারা যা করে চলেছিল তা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে।
Sahih International: Those who were oppressed will say to those who were arrogant, "Rather, [it was your] conspiracy of night and day when you were ordering us to disbelieve in Allah and attribute to Him equals." But they will [all] confide regret when they see the punishment; and We will put shackles on the necks of those who disbelieved. Will they be recompensed except for what they used to do?
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৩. আর যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তারা, যারা অহংকার করেছিল তাদেরকে বলবে, প্রকৃতপক্ষে তোমরাই তো দিনরাত চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে, যখন তোমরা আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলে যেন আমরা আল্লাহর সাথে কুফরী করি এবং তাঁর জন্য সমকক্ষ (শির্ক) স্থাপন করি।(১) আর যখন তারা শাস্তি দেখতে পাবে, তখন তারা অনুতাপ গোপন রাখবে এবং যারা কুফরী করেছে আমরা তাদের গলায় শৃঙ্খল পরাব। তারা যা করত তাদেরকে কেবল তারই প্ৰতিফল দেয়া হবে।
তাফসীর:
(১) অন্যকথায় এ জনতার জবাব হবে, তোমরা এ দায়িত্বের ক্ষেত্রে আমাদেরকে সমান অংশীদার করছ কেমন করে? তোমাদের কি মনে আছে, তোমরা চালবাজী, প্রতারণা ও মিথ্যা প্রচারণার কেমন মোহময় যাদু সৃষ্টি করে রেখেছিলে এবং রাতদিন আল্লাহর বান্দাদেরকে নিজেদের ফাঁদে আটকাবার জন্য কেমন সব পদক্ষেপ নিয়েছিলো? তোমরা আমাদের সামনে দুনিয়া পেশ করেছিলে এবং আমরা তার জন্য জান দিয়ে দিলাম, ব্যাপারতো মাত্র এতটুকুই ছিল না বরং তোমরা রাতদিনের প্রতারণা ও চালাকির মাধ্যমে আমাদেরকে বেকুব বানাচ্ছিলে এবং তোমাদের প্রত্যেক শিকারী প্রতিদিন একটি নতুন জাল তৈরী করে নানা ছলচাতুরী ও কলা-কৌশলের মাধ্যমে আল্লাহর বান্দাদেরকে তাতে ফাঁসিয়ে দিচ্ছিল, এটাও ছিল বাস্তব ঘটনা। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন পদ্ধতিতে নেতাদের এই বিবাদের উল্লেখ করা হয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য নিম্নোক্ত স্থানগুলো দেখুন: সূরা আল-আরাফ ৩৮–৩৯; সূরা ইবরাহীম ২১; আল কাসাস ৬৩; আল মুমিন ৪৭–৪৮ এবং হা মীম আস সাজদাহ ২৯ আয়াত।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৩) আর যারা দুর্বল (অনুসারী) ছিল, তারা দাম্ভিক (অনুসৃত)দেরকে বলবে, ‘প্রকৃতপক্ষে তোমরাই তো দিন-রাত আমাদের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে, আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলে যেন আমরা আল্লাহকে অমান্য করি এবং তাঁর অংশী স্থাপন করি।” [1] যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন মনে মনে অনুতপ্ত হবে।[2] আমি অবিশ্বাসীদের গলদেশে বেড়ি পরাব।[3] ওরা যা করত তারই প্রতিফল ওদেরকে দেওয়া হবে। [4]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, আমরা অপরাধী তখনই হতাম, যখন আপন ইচ্ছায় পয়গম্বরদেরকে মিথ্যা মনে করতাম। কিন্তু ঘটনা হল যে, তোমরাই দিবা-রাত্রি আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করার এবং আল্লাহর সাথে কুফুরী ও তাঁর সাথে শরীক স্থাপন করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত তোমাদের অনুসরণ করে আমরা ঈমান থেকে বঞ্চিত থেকেছি।
[2] অর্থাৎ, এক অপরকে দোষারোপ তো করবে, কিন্তু উভয় দলই মনে মনে নিজেদের কুফরীর কারণে লজ্জিত হবে। কিন্তু শত্রুর আনন্দ থেকে বাঁচার জন্য তা প্রকাশ করবে না।
[3] অর্থাৎ, এমন বেড়ি যার দ্বারা তাদের হাতকে গলার সাথে বেঁধে দেওয়া হবে।
[4] অর্থাৎ, দুই দলই তাদের নিজ নিজ কর্মের প্রতিফল পাবে। নেতারা তাদের কর্ম অনুসারে এবং তাদের অনুসারীরা নিজেদের কর্ম অনুসারে শাস্তি পাবে। যেমন অন্য স্থানে আল্লাহ বলেন, (لِكُلٍّ ضِعْفٌ وَلَكِنْ لا تَعْلَمُونَ) অর্থাৎ, প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে; কিন্তু তোমরা জান না। (সূরা আ’রাফ ৩৮ আয়াত)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩১-৩৩ নং আয়াতের তাফসীর:
পূর্বের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছেন যারা কিয়ামত সংঘটিত হওয়াকে অস্বীকার করে তারা চায় তা দ্রুত সংঘটিত হোক, যাতে তারা তা প্রত্যক্ষ করতে পারে। অত্র আয়াতে কাফিরদের ঔদ্ধত্যপনা ও হকের প্রতি জিদের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: এসব কাফিররা বলে যে, আমরা এ কুরআনের প্রতি কক্ষনো বিশ্বাস স্থাপন করব না এবং এর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের প্রতিও না। যদিও তারা এ ব্যাপারে বহু দলীল প্রমাণ প্রত্যক্ষ করে, তাও মেনে নিবে না। কিয়ামত অস্বীকার ও উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে কিয়ামতের মাঠে তাদের কিরূপ অবস্থা হবে তার বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেন: এসব কিয়ামত অস্বীকারকারী যালেমরা কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ তা‘আলার সামনে যখন দণ্ডায়মান হবে তখন তারা পরস্পর কথা কাটাকাটি করবে। সমাজে সাধারণত দু’ শ্রেণীর মানুষ থাকে, শাসক ও ক্ষমতাবান এবং শোষিত ও দুর্বল। দুর্বলরা সর্বদা নির্যাতিত হয়ে থাকে। কিয়ামতের দিন দুর্বলরা দোষারোপ করে সবলদেরকে বলবে, যদি আপনারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট না করতেন তাহলে আমরা মু’মিন হতাম। আপনারা আমাদেরকে ঈমান আনতে বাধা দিয়েছেন, ঈমান আনলে নির্যাতন করেছেন। ফলে আমরা ঈমান আনতে পারিনি। তাদের এ কথার জবাবে শাসক ও সবল ব্যক্তিরা বলবে: তোমাদের নিকট সৎ পথের নির্দেশ আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে শক্তি ও ভয় দেখিয়ে ওটা হতে নিবৃত্ত করেছিলাম? মূলত তোমরা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছ। তখন দুর্বলরা বলবে: প্রকৃতপক্ষে তোমরাই দিবা-রাত্রি চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে। তোমরা আমাদেরকে নির্দেশ দিতে যেন আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করি, তাঁর সাথে শিরক করি। এ দিকেই আমাদেরকে আহ্বান করতে। এটাই ছিল আমাদের ঈমান থেকে বিরত থাকার কারণ। এভাবে একদল অপরদলকে দোষারোপ করবে।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِيْنَ اتُّبِعُوْا مِنَ الَّذِيْنَ اتَّبَعُوْا وَرَأَوُا الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الْأَسْبَابُ -وَقَالَ الَّذِيْنَ اتَّبَعُوْا لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّأُوْا مِنَّا ط كَذٰلِكَ يُرِيْهِمُ اللّٰهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرٰتٍ عَلَيْهِمْ ط وَمَا هُمْ بِخٰرِجِيْنَ مِنَ النَّارِ )
“(কি করুণ অবস্থা হবে তখন) যখন অনুসরণীয় নেতারা অনুসারীদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে তখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে ও তাদের সকল সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আর অনুসরণকারীরা বলবে, যদি আমাদের জন্য (দুনিয়াতে) ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকত তাহলে তারা যেভাবে আমাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে আমরাও সেভাবে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করতাম। এভাবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ তাদের সামনে দুঃখজনকভাবে প্রদর্শন করবেন এবং তারা জাহান্নাম হতে বের হতে পারবে না।” (সূরা বাকারাহ ২:১৬৬-১৬৭)
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلٰي يَدَيْهِ يَقُوْلُ يٰلَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُوْلِ سَبِيْلًا -يٰوَيْلَتٰي لَيْتَنِيْ لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيْلًا لَقَدْ أَضَلَّنِيْ عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَا۬ءَنِيْ ط وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنْسَانِ خَذُوْلًا)
“যালিম ব্যক্তি সেদিন নিজ দু’হাত দংশন করতে করতে বলবে, ‘হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে সৎ পথ অবলম্বন করতাম! ‘হায়, দুর্ভোগ আমার! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! ‘আমাকে তো সে বিভ্রান্ত করেছিল কুরআন থেকে আমার নিকট তা পৌঁছার পর।’ শয়তান তো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক।” (সূরা ফুরকান ২৫:২৭)
অবশেষে তাদেরকে গলদেশে শৃঙ্খল পরিয়ে তারা যা করত তারই প্রতিফল দেয়া হবে। যারা পথভ্রষ্ট করেছিল এবং যারা হয়েছিল উভয়দলই শাস্তিপ্রাপ্ত হবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কোন কিছুর দলীল-প্রমাণ ছাড়া অন্ধ অনুসরণ করা যাবে না।
২. কেউ কারো পাপের জন্য শাস্তিপ্রাপ্ত হবে না। প্রত্যেকে নিজ নিজ পাপের শাস্তি প্রাপ্ত হবে।
৩. কাউকে দোষারোপ করে শাস্তি থেকে নাযাত পাওয়া যাবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩১-৩৩ নং আয়াতের তাফসীর:
কাফিরদের ঔদ্ধত্যপনা ও বাতিলের জিদের বর্ণনা দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ্ বলেনঃ তারা ফায়সালা করে নিয়েছে যে, যদিও তারা কুরআন কারীমের সত্যতার হাজার দলীল দেখে নেয় তবুও ওর উপর ঈমান আনবে না। এমনকি ওর পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর উপরও না। তারা তাদের এই কথার স্বাদ ঐ সময় গ্রহণ করবে যখন আল্লাহর সামনে জাহান্নামের ধারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছছাটরা বড়দেরকে এবং বড়রা ছোটদেরকে দোষারোপ করবে। প্রত্যেকেই অপরকে দোষী বলবে। অনুসারীরা অনুসৃতদেরকে বলবেঃ তোমরা না থাকলে অবশ্যই আমরা মুমিন হতাম। অনুসৃতরা তখন অনুসারীদেরকে জবাবে বলবেঃ তোমাদের কাছে সৎ পথের দিশা আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে ওটা হতে নিবৃত্ত করেছিলাম? আমরা তোমাদেরকে যে কথা বলেছিলাম তোমরা জানতে যে, ওটার কোন দলীল নেই। অন্যদিক হতে দলীলসমূহের বর্ষিত বৃষ্টি তোমাদের চোখের সামনে বিদ্যমান ছিল। অতঃপর তোমরা ঐগুলোর অনুসরণ ছেড়ে দিয়ে আমাদের কথা কেন মেনেছিলে! সুতরাং তোমরাই তো ছিলে অপরাধী।
অনুসারীরা আবার অনুসৃতদেরকে জবাব দিবে! প্রকৃতপক্ষে তোমরাই তো দিবারাত্র চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে। তোমরা আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছিলে যে, তোমাদের আকীদা ও কাজ-কারবার ঠিক আছে। তোমরা বার বার আমাদেরকে নির্দেশ দিতে যে, আমরা যেন আল্লাহকে অমান্য করি এবং তাঁর শরীক স্থাপন করি। আমরা যেন আমাদের বাপ-দাদাদের রীতি-নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং কুফরী ও শিক পরিত্যাগ না করি। আমাদের ঈমান আনয়ন হতে বিরত থাকার এটাই কারণ। ইসলাম থেকে তোমরাই আমাদেরকে ফিরিয়ে রেখেছিলে।
এভাবে একদল অপর দলকে দোষারোপ করবে এবং প্রত্যেক দলই নিজেকে দোষমুক্ত বলে দাবী করবে। অতঃপর যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন তারা অনুতাপ গোপন রাখবে। আল্লাহ্ তা'আলা কাফিরদের গলদেশে শৃঙ্খল পরিয়ে দিবেন। তারা যা করতো তারই প্রতিফল তাদেরকে দেয়া হবে। যারা পথভ্রষ্ট করেছিল এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছিল উভয় দলই প্রতিফল প্রাপ্ত হবে।
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “জাহান্নামীদের যখন জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে তখন জাহান্নামের একটি মাত্র লেলিহান শিখায় তাদের দেহ ঝলসে যাবে। দেহ ঝলসানোর পর ঐ অগ্নিশিখা তাদের পায়ের উপর এসে পড়বে।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
হযরত হাসান ইবনে ইয়াহইয়া খুশানী (রঃ) বলেন যে, জাহান্নামের প্রত্যেক কয়েদখানায়, প্রত্যেক গর্তে, প্রত্যেক শিকলে জাহান্নামীদের নাম লিখিত থাকবে। হযরত সুলাইমান দারানী (রঃ)-এর সামনে এটা বর্ণিত হলে তিনি খুব ক্রন্দন করেন। অতঃপর বলেনঃ “হায়! হায়! ঐ ব্যক্তির অবস্থা কি হবে যার উপর সমস্ত শাস্তি একত্রিত হবে! পায়ে বেড়ি, হাতে হাতকড়ি ও গলায় তওক থাকবে। অতঃপর ধাক্কা দিয়ে জাহান্নামের গর্তে নিক্ষেপ করা হবে। হে আল্লাহ! আমাদেরকে নিরাপত্তা দান করুন!”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।