আল কুরআন


সূরা সাবা (আয়াত: 32)

সূরা সাবা (আয়াত: 32)



হরকত ছাড়া:

قال الذين استكبروا للذين استضعفوا أنحن صددناكم عن الهدى بعد إذ جاءكم بل كنتم مجرمين ﴿٣٢﴾




হরকত সহ:

قَالَ الَّذِیْنَ اسْتَکْبَرُوْا لِلَّذِیْنَ اسْتُضْعِفُوْۤا اَنَحْنُ صَدَدْنٰکُمْ عَنِ الْهُدٰی بَعْدَ اِذْ جَآءَکُمْ بَلْ کُنْتُمْ مُّجْرِمِیْنَ ﴿۳۲﴾




উচ্চারণ: কা-লাল্লাযীনাছতাকবারূলিল্লাযীনাছতুদ‘ইফূ আনাহনুসাদাদ না-কুম ‘আনিল হুদা-বা‘দা ইযজাআকুম বাল কুনতুম মুজরিমীন।




আল বায়ান: যারা অহঙ্কারী ছিল তারা, তাদেরকে বলবে, যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল, ‘তোমাদের কাছে হিদায়াত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে বাধা দিয়েছিলাম? বরং তোমরাই ছিলে অপরাধী’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩২. যারা অহংকারী ছিল তারা, যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তাদেরকে বলবে, তোমাদের কাছে সৎপথের দিশা আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে নিবৃত্ত করেছিলাম? বরং তোমরাই ছিলে অপরাধী।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যাদেরকে দুর্বল ক’রে রাখা হয়েছিল দাম্ভিকরা তাদেরকে বলবে- তোমাদের কাছে সত্য পথের দিশা আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তাত্থেকে বাধা দিয়েছিলাম? বরং তোমরা নিজেরাই ছিলে অপরাধী।




আহসানুল বায়ান: (৩২) যারা দাম্ভিক (অনুসৃত) ছিল, তারা দুর্বল (অনুসারী)দেরকে বলবে, ‘আমরা কি তোমাদের কাছে সৎপথের উপদেশ আসার পর তা গ্রহণ করতে তোমাদেরকে বাধা দিয়েছিলাম? বরং তোমরাই তো অপরাধী ছিলে।’ [1]



মুজিবুর রহমান: যারা ক্ষমতাদর্পী ছিল তারা যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত তাদেরকে বলবেঃ তোমাদের নিকট সৎ পথের দিশা আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে ওটা হতে নিবৃত্ত করেছিলাম? বস্তুতঃ তোমরাইতো ছিলে অপরাধী।



ফযলুর রহমান: অহংকারীরা দুর্বলদেরকে বলবে, “তোমাদের কাছে হেদায়েত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা গ্রহণ করতে বাধা দিয়েছিলাম? তোমরাই বরং পাপী ছিলে।”



মুহিউদ্দিন খান: অহংকারীরা দুর্বলকে বলবে, তোমাদের কাছে হেদায়েত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে বাধা দিয়েছিলাম? বরং তোমরাই তো ছিলে অপরাধী।



জহুরুল হক: যারা মাতব্বরি করেছিল তারা বলবে তাদের যাদের দুর্বল করা হয়েছিল -- "আমরা কি তোমাদের বাধা দিয়েছিলাম পথনির্দেশ থেকে এটি তোমাদের কাছে আসার পরে? বরং তোমারই তো ছিলে অপরাধী?"



Sahih International: Those who were arrogant will say to those who were oppressed, "Did we avert you from guidance after it had come to you? Rather, you were criminals."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩২. যারা অহংকারী ছিল তারা, যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তাদেরকে বলবে, তোমাদের কাছে সৎপথের দিশা আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে নিবৃত্ত করেছিলাম? বরং তোমরাই ছিলে অপরাধী।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩২) যারা দাম্ভিক (অনুসৃত) ছিল, তারা দুর্বল (অনুসারী)দেরকে বলবে, ‘আমরা কি তোমাদের কাছে সৎপথের উপদেশ আসার পর তা গ্রহণ করতে তোমাদেরকে বাধা দিয়েছিলাম? বরং তোমরাই তো অপরাধী ছিলে।” [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, আমাদের নিকট এমন কি ক্ষমতা ছিল যে, আমরা তোমাদেরকে হিদায়াতের পথ থেকে বিরত রাখতাম। তোমরা নিজেরাই তার উপর চিন্তা-ভাবনা করনি বরং নিজেদের প্রবৃত্তি-পূজার কারণে তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকেছ এবং এখন আমাদেরকে দোষী বানাচ্ছ? অথচ সব কিছু নিজেরাই নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী করেছ। অতএব অপরাধী তোমরা নিজেরাই; আমরা নই।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩১-৩৩ নং আয়াতের তাফসীর:



পূর্বের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছেন যারা কিয়ামত সংঘটিত হওয়াকে অস্বীকার করে তারা চায় তা দ্রুত সংঘটিত হোক, যাতে তারা তা প্রত্যক্ষ করতে পারে। অত্র আয়াতে কাফিরদের ঔদ্ধত্যপনা ও হকের প্রতি জিদের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: এসব কাফিররা বলে যে, আমরা এ কুরআনের প্রতি কক্ষনো বিশ্বাস স্থাপন করব না এবং এর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের প্রতিও না। যদিও তারা এ ব্যাপারে বহু দলীল প্রমাণ প্রত্যক্ষ করে, তাও মেনে নিবে না। কিয়ামত অস্বীকার ও উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে কিয়ামতের মাঠে তাদের কিরূপ অবস্থা হবে তার বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেন: এসব কিয়ামত অস্বীকারকারী যালেমরা কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ তা‘আলার সামনে যখন দণ্ডায়মান হবে তখন তারা পরস্পর কথা কাটাকাটি করবে। সমাজে সাধারণত দু’ শ্রেণীর মানুষ থাকে, শাসক ও ক্ষমতাবান এবং শোষিত ও দুর্বল। দুর্বলরা সর্বদা নির্যাতিত হয়ে থাকে। কিয়ামতের দিন দুর্বলরা দোষারোপ করে সবলদেরকে বলবে, যদি আপনারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট না করতেন তাহলে আমরা মু’মিন হতাম। আপনারা আমাদেরকে ঈমান আনতে বাধা দিয়েছেন, ঈমান আনলে নির্যাতন করেছেন। ফলে আমরা ঈমান আনতে পারিনি। তাদের এ কথার জবাবে শাসক ও সবল ব্যক্তিরা বলবে: তোমাদের নিকট সৎ পথের নির্দেশ আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে শক্তি ও ভয় দেখিয়ে ওটা হতে নিবৃত্ত করেছিলাম? মূলত তোমরা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছ। তখন দুর্বলরা বলবে: প্রকৃতপক্ষে তোমরাই দিবা-রাত্রি চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে। তোমরা আমাদেরকে নির্দেশ দিতে যেন আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করি, তাঁর সাথে শিরক করি। এ দিকেই আমাদেরকে আহ্বান করতে। এটাই ছিল আমাদের ঈমান থেকে বিরত থাকার কারণ। এভাবে একদল অপরদলকে দোষারোপ করবে।



আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِيْنَ اتُّبِعُوْا مِنَ الَّذِيْنَ اتَّبَعُوْا وَرَأَوُا الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الْأَسْبَابُ -وَقَالَ الَّذِيْنَ اتَّبَعُوْا لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّأُوْا مِنَّا ط كَذٰلِكَ يُرِيْهِمُ اللّٰهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرٰتٍ عَلَيْهِمْ ط وَمَا هُمْ بِخٰرِجِيْنَ مِنَ النَّارِ )



“(কি করুণ অবস্থা হবে তখন) যখন অনুসরণীয় নেতারা অনুসারীদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে তখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে ও তাদের সকল সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আর অনুসরণকারীরা বলবে, যদি আমাদের জন্য (দুনিয়াতে) ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকত তাহলে তারা যেভাবে আমাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে আমরাও সেভাবে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করতাম। এভাবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ তাদের সামনে দুঃখজনকভাবে প্রদর্শন করবেন এবং তারা জাহান্নাম হতে বের হতে পারবে না।” (সূরা বাকারাহ ২:১৬৬-১৬৭)



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلٰي يَدَيْهِ يَقُوْلُ يٰلَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُوْلِ سَبِيْلًا -يٰوَيْلَتٰي لَيْتَنِيْ لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيْلًا لَقَدْ أَضَلَّنِيْ عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَا۬ءَنِيْ ط وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنْسَانِ خَذُوْلًا‏)‏‏



“যালিম ব্যক্তি সেদিন নিজ দু’হাত‎ দংশন করতে করতে বলবে, ‘হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে সৎ পথ অবলম্বন করতাম! ‘হায়, দুর্ভোগ আমার! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! ‘আমাকে তো সে বিভ্রান্ত‎ করেছিল কুরআন থেকে আমার নিকট তা পৌঁছার পর।’ শয়তান তো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক।” (সূরা ফুরকান ২৫:২৭)



অবশেষে তাদেরকে গলদেশে শৃঙ্খল পরিয়ে তারা যা করত তারই প্রতিফল দেয়া হবে। যারা পথভ্রষ্ট করেছিল এবং যারা হয়েছিল উভয়দলই শাস্তিপ্রাপ্ত হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কোন কিছুর দলীল-প্রমাণ ছাড়া অন্ধ অনুসরণ করা যাবে না।

২. কেউ কারো পাপের জন্য শাস্তিপ্রাপ্ত হবে না। প্রত্যেকে নিজ নিজ পাপের শাস্তি প্রাপ্ত হবে।

৩. কাউকে দোষারোপ করে শাস্তি থেকে নাযাত পাওয়া যাবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৩১-৩৩ নং আয়াতের তাফসীর:

কাফিরদের ঔদ্ধত্যপনা ও বাতিলের জিদের বর্ণনা দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ্ বলেনঃ তারা ফায়সালা করে নিয়েছে যে, যদিও তারা কুরআন কারীমের সত্যতার হাজার দলীল দেখে নেয় তবুও ওর উপর ঈমান আনবে না। এমনকি ওর পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর উপরও না। তারা তাদের এই কথার স্বাদ ঐ সময় গ্রহণ করবে যখন আল্লাহর সামনে জাহান্নামের ধারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছছাটরা বড়দেরকে এবং বড়রা ছোটদেরকে দোষারোপ করবে। প্রত্যেকেই অপরকে দোষী বলবে। অনুসারীরা অনুসৃতদেরকে বলবেঃ তোমরা না থাকলে অবশ্যই আমরা মুমিন হতাম। অনুসৃতরা তখন অনুসারীদেরকে জবাবে বলবেঃ তোমাদের কাছে সৎ পথের দিশা আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে ওটা হতে নিবৃত্ত করেছিলাম? আমরা তোমাদেরকে যে কথা বলেছিলাম তোমরা জানতে যে, ওটার কোন দলীল নেই। অন্যদিক হতে দলীলসমূহের বর্ষিত বৃষ্টি তোমাদের চোখের সামনে বিদ্যমান ছিল। অতঃপর তোমরা ঐগুলোর অনুসরণ ছেড়ে দিয়ে আমাদের কথা কেন মেনেছিলে! সুতরাং তোমরাই তো ছিলে অপরাধী।

অনুসারীরা আবার অনুসৃতদেরকে জবাব দিবে! প্রকৃতপক্ষে তোমরাই তো দিবারাত্র চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে। তোমরা আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছিলে যে, তোমাদের আকীদা ও কাজ-কারবার ঠিক আছে। তোমরা বার বার আমাদেরকে নির্দেশ দিতে যে, আমরা যেন আল্লাহকে অমান্য করি এবং তাঁর শরীক স্থাপন করি। আমরা যেন আমাদের বাপ-দাদাদের রীতি-নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং কুফরী ও শিক পরিত্যাগ না করি। আমাদের ঈমান আনয়ন হতে বিরত থাকার এটাই কারণ। ইসলাম থেকে তোমরাই আমাদেরকে ফিরিয়ে রেখেছিলে।

এভাবে একদল অপর দলকে দোষারোপ করবে এবং প্রত্যেক দলই নিজেকে দোষমুক্ত বলে দাবী করবে। অতঃপর যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন তারা অনুতাপ গোপন রাখবে। আল্লাহ্ তা'আলা কাফিরদের গলদেশে শৃঙ্খল পরিয়ে দিবেন। তারা যা করতো তারই প্রতিফল তাদেরকে দেয়া হবে। যারা পথভ্রষ্ট করেছিল এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছিল উভয় দলই প্রতিফল প্রাপ্ত হবে।
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “জাহান্নামীদের যখন জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে তখন জাহান্নামের একটি মাত্র লেলিহান শিখায় তাদের দেহ ঝলসে যাবে। দেহ ঝলসানোর পর ঐ অগ্নিশিখা তাদের পায়ের উপর এসে পড়বে।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

হযরত হাসান ইবনে ইয়াহইয়া খুশানী (রঃ) বলেন যে, জাহান্নামের প্রত্যেক কয়েদখানায়, প্রত্যেক গর্তে, প্রত্যেক শিকলে জাহান্নামীদের নাম লিখিত থাকবে। হযরত সুলাইমান দারানী (রঃ)-এর সামনে এটা বর্ণিত হলে তিনি খুব ক্রন্দন করেন। অতঃপর বলেনঃ “হায়! হায়! ঐ ব্যক্তির অবস্থা কি হবে যার উপর সমস্ত শাস্তি একত্রিত হবে! পায়ে বেড়ি, হাতে হাতকড়ি ও গলায় তওক থাকবে। অতঃপর ধাক্কা দিয়ে জাহান্নামের গর্তে নিক্ষেপ করা হবে। হে আল্লাহ! আমাদেরকে নিরাপত্তা দান করুন!”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।