আল কুরআন


সূরা আল-আহযাব (আয়াত: 70)

সূরা আল-আহযাব (আয়াত: 70)



হরকত ছাড়া:

يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولا سديدا ﴿٧٠﴾




হরকত সহ:

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَ قُوْلُوْا قَوْلًا سَدِیْدًا ﴿ۙ۷۰﴾




উচ্চারণ: ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুত্তাকুল্লা-হা ওয়াকূলূকাওলান ছাদীদা-।




আল বায়ান: হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭০. হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সঠিক কথা বল(১);




তাইসীরুল ক্বুরআন: হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সরল সঠিক কথা বল।




আহসানুল বায়ান: (৭০) হে বিশ্বাসীগণ ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।[1]



মুজিবুর রহমান: হে মু’মিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।



ফযলুর রহমান: হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বল;



মুহিউদ্দিন খান: হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।



জহুরুল হক: ওহে যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহ্‌কে ভয়-ভক্তি করো, আর সরল-সঠিক কথা বলো,



Sahih International: O you who have believed, fear Allah and speak words of appropriate justice.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭০. হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সঠিক কথা বল(১);


তাফসীর:

(১) এর তাফসীর সত্য কথা, সরল কথা, সঠিক কথা করা হয়েছে। ইবন কাসীর সবগুলো উদ্ধৃত করে বলেন, সবই ঠিক। [ইবন কাসীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭০) হে বিশ্বাসীগণ ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।[1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, এমন কথা বল, যাতে কোন টেরামি বা বক্রতা নেই, ধোঁকা ও ধাপ্পা নেই। سَدِيدٌ تَسْدِيْدُ السَّهَمِ থেকে গৃহীত। অর্থাৎ, যেমন তীরকে সোজা করা হয় যাতে সঠিক নিশানার উপর লাগে, অনুরূপ তোমাদের মুখ থেকে বের হওয়া কথা ও তোমাদের কাজ-কারবারও সোজা ও সরল হবে। সঠিকতা ও সত্যতা থেকে এক চুল বরাবর তা যেন বিচ্যুত না হয়।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭০-৭১ নং আয়াতের তাফসীর:



পূর্বে কাফির-মুশরিকদের কথা বর্ণনা করার পর অত্র আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা ঈমানদারদের কথা বর্ণনা করেছেন। তাদেরকে নির্দেশ প্রদান করছেন তারা যেন আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে এবং সঠিক কথা বলে। অর্থাৎ এমন কথা বলে যাতে কোন প্রকার বক্রতা নেই, ধোঁকা নেই। এরূপ কথাবার্তা বললে ও সঠিক কার্যকলাপ করলে আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতিদানস্বরূপ তাদের কর্মকে ত্র“টিমুক্ত করবেন এবং পাপ ক্ষমা করে দেবেন। আর তারাই সফলতা লাভ করবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করতে হবে এবং সত্য কথা বলতে হবে। কোন প্রতারণা মূলক ক্রিয়া কলাপ বা কথাবার্তা বলা যাবে না।

২. আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করতে হবে।

৩. আল্লাহ তা‘আলা চাইলে বান্দার সকল অপরাধ ক্ষমা করতে পারেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭০-৭১ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদেরকে তাঁকে ভয় করার হিদায়াত করছেন। তিনি তাদেরকে বলছেন যে, তারা যেন তার ইবাদত এমনভাবে করে যেন তারা তাকে দেখছে এবং তারা সত্য ও সঠিক কথা বলে। তাদের কথায় কোন বক্রতা ও পাঁচ না থাকে। যখন তারা অন্তরে তাকওয়া পোষণ করে এবং মুখে সত্য কথা বলে তখন এর বদৌলতে আল্লাহ তাদেরকে ভাল কাজ করার তাওফীক দান করেন। তাদের সমস্ত গুনাহ তিনি মাফ করে দেন। আর ভবিষ্যতেও ক্ষমার সুযোগ দান করেন, যেন গুনাহ বাকী রয়ে না যায়। আল্লাহ ও রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্যই হলো সত্যিকারের সফলতা। এর মাধ্যমেই মানুষ জাহান্নাম হতে দূরে থাকে এবং জান্নাতের নিকটবর্তী হয়।

হযরত আবু মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “আমাদেরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ) যোহরের নামায পড়েন। সালাম ফিরানোর পর তিনি আমাদের প্রতি বসার ইঙ্গিত করেন। সুতরাং আমরা বসে পড়ি। অতঃপর তিনি বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা আমাকে হুকুম করেছেন যে, আমি যেন তোমাদেরকে আল্লাহকে ভয় করার ও সঠিক কথা বলার নির্দেশ দিই।` তারপর তিনি মহিলাদের নিকট আসেন এবং তাদেরকে সম্বোধন করে বলেনঃ “আল্লাহ আমাকে হুকুম করেছেন যে, আমি যেন তোমাদেরকে আল্লাহকে ভয় করার এবং সত্য ও সঠিক কথা বলার নির্দেশ দিই।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) মিম্বরে দাঁড়ালেই আমি তাঁকে বলতে শুনতামঃ “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।` (এ হাদীসটি ইবনে আবিদ দুনিয়া (রঃ) কিতাবুত তাকওয়ায় বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটা খুবই গারীব বা দুর্বল হাদীস)

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ যে এতে আনন্দ পায় যে, লোকে তার সম্মান করুক সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।”

হযরত ইকরামা (রঃ) বলেন যে, (আরবি) হলো (আরবি) বা সঠিক কথা। অন্য কেউ বলেন যে, (আরবি)-এর অর্থ হলো সত্যবাদিতা। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, (আরবি) হলো সোজা ও সঠিক কথা। এ সবই (আরবি) এর অন্তর্ভুক্ত।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।