সূরা আল-আহযাব (আয়াত: 60)
হরকত ছাড়া:
لئن لم ينته المنافقون والذين في قلوبهم مرض والمرجفون في المدينة لنغرينك بهم ثم لا يجاورونك فيها إلا قليلا ﴿٦٠﴾
হরকত সহ:
لَئِنْ لَّمْ یَنْتَهِ الْمُنٰفِقُوْنَ وَ الَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ وَّ الْمُرْجِفُوْنَ فِی الْمَدِیْنَۃِ لَنُغْرِیَنَّکَ بِهِمْ ثُمَّ لَا یُجَاوِرُوْنَکَ فِیْهَاۤ اِلَّا قَلِیْلًا ﴿ۖۛۚ۶۰﴾
উচ্চারণ: লাইল্লাম ইয়ানতাহিল মুনা-ফিকূনা ওয়াল্লাযীনা ফী কুলূবিহমি মারাদুওঁ ওয়াল মুরজিফূনা ফিল মাদীনাতি লানুগরিয়ান্নাকা বিহিম ছুম্মা লা-ইউজা-বিরূনাকা ফীহাইল্লা-কালীলা-।
আল বায়ান: যদি মুনাফিকগণ এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা ও শহরে মিথ্যা সংবাদ প্রচারকারীরা বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে ক্ষমতাবান করে দেব। অতঃপর তারা সেখানে তোমার প্রতিবেশী হয়ে অল্প সময়ই থাকবে,
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬০. মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে আর যারা নগরে গুজব রটনা করে, তারা বিরত না হলে আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আপনাকে প্ৰবল করব; এরপর এ নগরীতে আপনার প্রতিবেশীরূপে তারা স্বল্প সময়ই থাকবে—
তাইসীরুল ক্বুরআন: মুনাফিকরা আর যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা আর শহরে গুজব রটনাকারীরা যদি বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্য অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে তেজোদীপ্ত করব, অতঃপর তারা তোমার প্রতিবেশী হিসেবে এ শহরে থাকতে পারবে না। তবে অল্পদিনের জন্য থাকবে
আহসানুল বায়ান: (৬০) মুনাফিক (কপটাচারি)গণ এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এবং যারা নগরে গুজব রটনা করে[1] তারা বিরত না হলে আমি নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে প্রবল করব, এরপর তারা এ নগরীতে অল্প দিনই তোমার প্রতিবেশীরূপে থাকবে।
মুজিবুর রহমান: মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এবং যারা নগরে গুজব রটনা করে, তারা বিরত না হলে আমি নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে প্রবল করব; এরপর এই নগরীতে তোমার প্রতিবেশী রূপে তারা স্বল্প সময়ই থাকবে –
ফযলুর রহমান: মোনাফেকরা, অন্তরে ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ও মদীনায় গুজব রটনাকারীরা যদি (তাদের অপকর্ম থেকে) বিরত না হয় তাহলে অবশ্যই আমি তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে জাগিয়ে তুলব। অতঃপর তারা সেখানে (মদীনায়) তোমার প্রতিবেশি হিসেবে কমই থাকতে পারবে।
মুহিউদ্দিন খান: মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে রোগ আছে এবং মদীনায় গুজব রটনাকারীরা যদি বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আপনাকে উত্তেজিত করব। অতঃপর এই শহরে আপনার প্রতিবেশী অল্পই থাকবে।
জহুরুল হক: যদি মুনাফিকরা ও যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা, আর শহরে গুজব রটনাকারীরা না থামে তাহলে আমরা নিশ্চয়ই তোমাকে তাদের উপরে ক্ষমতা দেব, তখন তারা সেখানে তোমার প্রতিবেশী হয়ে থাকবে না অল্পকাল ছাড়া --
Sahih International: If the hypocrites and those in whose hearts is disease and those who spread rumors in al-Madinah do not cease, We will surely incite you against them; then they will not remain your neighbors therein except for a little.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৬০. মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে আর যারা নগরে গুজব রটনা করে, তারা বিরত না হলে আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আপনাকে প্ৰবল করব; এরপর এ নগরীতে আপনার প্রতিবেশীরূপে তারা স্বল্প সময়ই থাকবে—
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৬০) মুনাফিক (কপটাচারি)গণ এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এবং যারা নগরে গুজব রটনা করে[1] তারা বিরত না হলে আমি নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে প্রবল করব, এরপর তারা এ নগরীতে অল্প দিনই তোমার প্রতিবেশীরূপে থাকবে।
তাফসীর:
[1] মুসলমানদেরকে নিরুৎসাহ করার জন্য মুনাফিকরা বিভিন্ন গুজব রটাতো যে, অমুক এলাকায় মুসলমানরা পরাজিত হয়েছে বা বড় শক্র দল হামলা করার জন্য আসছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫৯-৬২ নং আয়াতের তাফসীর:
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নির্দেশ প্রদান করছেন, তিনি যেন তাঁর স্ত্রী, কন্যা এবং দুনিয়ার সকল মু’মিন মহিলাদেরকে বলে দেনন তারা যখন বাইরে যাবে তখন যেন সারা শরীর চাদর দিয়ে ঢেকে নেয়। এ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত হল প্রত্যেক পরিবারের কর্তা বা দায়িত্বশীল। এ পর্দার বিধান সম্পর্কে সূরা নূরে আলোচনা করা হয়েছে।
يُدْنِيْنَ শব্দটি ادناء থেকে উদ্ভূত। এর শাব্দিক অর্থ নিকটে আনা। جَلَابِيْبِ শব্দটি جلباب এর বহুবচন। এমন বড় চাদরকে বলা হয়, যাতে পুরো শরীর ঢেকে যায়। ইবনু মাসউদ (রাঃ) এ চাদরের ধরণ সম্পর্কে বলেন: এ চাদর ওড়নার ওপর পরিধান করা হয়। (ইবনু কাসীর)
বিশিষ্ট তাবেয়ী মুহাম্মাদ বিন সিরীন বলেন: আমি ওবায়দা সালমানী -কে এ আয়াতের উদ্দেশ্য এবং জিলবাবের আকার-আকৃতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি মস্তকের ওপর দিক থেকে চাদরকে মুখমন্ডলের ওপর লটকিয়ে মুখমন্ডল ঢেকে ফেললেন এবং কেবল বামচক্ষু খোলা রেখে ادناء ও جَلَابِيْبِ এর তাফসীর ব্যবহারিক দেখিয়ে দিলেন।
মস্তকের ওপরদিক থেকে মুখমন্ডলের ওপর চাদর লটকানো হচ্ছে عَلَيْهِنَّ শব্দের তাফসীর। অর্থাৎ নিজের ওপর চাদরকে নিকটবর্তী করার অর্থ চাদরকে মস্তকের ওপর দিক থেকে লটকানো।
সুতরাং এ আয়াত থেকে পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে মুখমন্ডল আবৃত করা আবশ্যক। কারণ মুখমন্ডল হল সৌন্দর্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
যে সকল মহিলারা নিজেদেরকে আবৃত না করে অশালিন পোশাক পরিধান করে বাইরে গমনাগমন করে থাকে তাদের ব্যাপারে কঠিন ভাষায় কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: কিছু কিছু মহিলা রয়েছে যারা কাপড় পরিধান করার পরেও উলঙ্গ, পুরুষদেরকে তাদের দিকে আকৃষ্ট করে, তাদের মাথার চুলের খোপা উটের গজের মত উঁচু করে রাখে, তারা জান্নাতে যাবে না, এমনকি জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না। (সহীহ মুসলিম হা: ২১২৮)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
(أَيُّمَا امْرَأَةٍ اسْتَعْطَرَتْ فَمَرَّتْ عَلَي قَوْمٍ لِيَجِدُوا مِنْ رِيحِهَا فَهِيَ زَانِيَةٌ)
-যে মহিলা আতর ব্যবহার করে কোন জাতির পাশ দিয়ে অতিক্রম করল যাতে তারা তার সুগন্ধি পায়, সে মহিলা ব্যভিচারিণী। (নাসায়ী হা: ৫১২৬, হাসান)
أَدْنٰيٓ أَنْ يُّعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ) (ذٰلِكَ
-‘এতে সহজেই তাদের পরিচয় পাওয়া যাবে, ফলে তারা লাঞ্ছিতা হবে না’ এখানে পরিচয় পাওয়ার অর্থ হল যে, কে সতী-সাধ্বী, ভাল, লজ্জাশীল তা বুঝা যায়।
এ আয়াতের শানে নুযূলে বলা হয় মদীনার মহিলারা প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্য রাতের বেলা বাড়ির বাইরে যেত। মদীনায় কতক পাপিষ্ট লোক ছিল যারা দাসী নারীদেরকে উত্যক্ত করত, কিন্তু স্বাধীন নারীদেরকে তা করত না। কতক স্বাধীন মহিলা এমন পোশাক পরিধান করে বাইরে যেত যার দরুণ দাসীদেরদে তাদের থেকে আলাদা বুঝা যেত না। ফলে সে পাপিষ্ট লোকেরা দাসী মনে করে তাদেরকে উত্যক্ত করত। এ জন্য আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নির্দেশ দিলেন: তারা যখন বাড়ির বাইরে যাবে তখন যেন এমন পোশাক পরিধান করে যা মুখমন্ডল ঢেকে নেয় যাতে বুঝা যায় এরা দাসী নয়, এরা স্বাধীন নারী। এখানে কয়েকটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে: ১. একজন স্বাধীন সতী-সাধবী, লজ্জাশীল ও ভদ্র মহিলা কখনো বেপর্দায় বাড়ির বাইরে যেতে পারে না।
২. যারা বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় পর্দা করে যায় তারা কখনো দুশ্চরিত্র খারাপ লোক দ্বারা উত্যক্ত হয় না, তাদের সম্মান রক্ষিত থাকে ফলে তারা লাঞ্ছিত হয় না। উত্যক্ত কেবল তারাই হয় যারা অশালিন পোশাক পরিধান করে বাইরে যায়।
৩. অনেকে শানে নুযূল পড়ে এটা বুঝতে পারে যে, ইসলাম স্বাধীন নারীদেরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে, প্রকৃতপক্ষে তা নয়, বরং স্বাধীন নারীদের অনুরূপ দাসীদেরকেও সতীত্ব রক্ষা করা ফরয করে দিয়েছে।
(لَئِنْ لَّمْ يَنْتَهِ الْمُنَافِقُوْنَ)
‘যদি বিরত না হয় মুনাফিকরা’ আয়াতের উল্লিখিত
(وَالَّذِيْنَ فِيْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ)
যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা
(وَّالْمُرْجِفُوْنَ فِي الْمَدِيْنَةِ)
এবং মদীনায় গুজব রটনাকারীরা এসবগুলোই মুনাফিকদের খারাপ বৈশিষ্ট্য, তাদেরকে অধিক নিন্দাকরণার্থে ও তাদের এ সমস্যাগুলো তুলে ধরার জন্য আলাদা আলাদাভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। مَّرَضٌ বা ইসলাম সম্পর্কে সংশয় বা কৃপ্রবৃত্তির ব্যাধি, আর الْمُرْجِفُوْنَ অর্থ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: ফিতনা সৃষ্টি করা, মিথ্যা ও বাতিল কথা রটিয়ে বেড়ানো। অর্থাৎ এসব মুনাফিকরা যদি মু’মিনদেরকে কষ্ট দেয়া ও ওপরোল্লিখিত কাজসহ তাদের থেকে যে সব ঘৃণিত চরিত্র প্রকাশ পেয়েছে তা থেকে বিরত না হয় তাহলে তাদেরকে শাস্তি দেয়া ও হত্যা করার জন্য তোমাকে নির্দেশ দেব।
ইবনু আব্বাস (رضي الله عنه) বলেন: তারা যদি মু’মিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত না থাকে তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দেবেন। ফলে তারা মদীনাতে তোমার প্রতিবেশী হিসেবে কয়েকদিন ছাড়া থাকতে পারবে না। হয় তাদেরকে হত্যা করে ফেলবে অথবা তাদেরকে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেবে। এখান থেকে বুঝা যাচ্ছে যারা মুসলিমদের মাঝে অনিষ্ট সৃষ্টি করে তাদেরকে হত্যা করা অথবা এলাকা থেকে বের করে দেয়া যাবে। (তাফসীর সাদী)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন: এ বিধি-বিধান শুধু বর্তমানেই নয়। বরং অতীতে যারা ছিল সকলের জন্যই আল্লাহ তা‘আলার একই বিধান কার্যকর ছিল। আল্লাহ তা‘আলার বিধানে কোন প্রকার পরিবর্তন নেই। যারা অপরাধ করবে তাদেরকেই তিনি এভাবে শাস্তি প্রদান করে থাকেন। কাউকে কোন প্রকার ছাড় দেন না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. নারীরা প্রয়োজনবশত গৃহ হতে বের হলে লম্বা চাদরে সর্বাঙ্গ আবৃত করে বের হবে এবং চাদরটি মাথার ওপরদিক থেকে ঝুলিয়ে মুখমন্ডলও আবৃত করবে, এতে সতী-সাধ্বী রমণীদের সতীত্ব রক্ষা পায় এবং সম্মান বহাল থাকে।
২. যারা বেপর্দায় বাইরে চলাফেরা করে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে।
৩. মু’মিনদেরকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা যারা মু’মিনদেরকে কষ্ট দেয় তারা অভিশপ্ত।
৪. প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তির উচিত তার অধিনস্ত মহিলাদেরকে পর্দার ব্যবস্থা করা।
৪. মুসলিম সমাজে যারা বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে তাদেরকে হত্যা করা বা দেশান্তর করে দেয়া বৈধ।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫৯-৬২ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে নির্দেশ দিচ্ছেনঃ তুমি মুমিন নারীদেরকে বলে দাও, বিশেষ করে তোমার পত্নীদেরকে ও তোমার কন্যাদেরকে, কারণ তারা সারা দুনিয়ার স্ত্রীলোকদের জন্যে আদর্শ স্থানীয়া, উত্তম মর্যাদার অধিকারিণী, যে তারা যেন চাদর দিয়ে নিজেদের সারা দেহ আচ্ছাদিত করে নেয়। যাতে মুমিন স্ত্রীলোক এবং অমুসলিম স্ত্রীলোকদের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়ে যায়। এভাবেই যেন আযাদ মহিলা ও দাসীদের মধ্যে পার্থক্য করতে কোন অসুবিধা না হয়।
‘জালবাব’ ঐ চাদরকে বলা হয় যা স্ত্রীলোকেরা তাদের দো-পাট্টার উপর পরে থাকে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলা মুসলিম নারীদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেনঃ তারা যখন কোন কাজে বাড়ীর বাইরে যাবে তখন যেন তারা তাদের দো-পাট্টা মুখের নীচে টেনে দিয়ে মুখ ঢেকে নেয়। শুধুমাত্র চোখ দুটি ভোলা রাখবে।
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রঃ)-এর প্রশ্নের উত্তরে হযরত উবাইদাহ সালমানী (রঃ) স্বীয় চেহারা এবং মাথা ঢেকে ও চক্ষু খুলে রেখে বলেন যে, মহামহিমান্বিত আল্লাহর (আরবি) উক্তির ভাবার্থ এটাই।”
হযরত ইকরামা (রঃ) বলেন যে, নিজের চাদর দিয়ে গলা ঢেকে নিবে। হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) বলেনঃ “এই আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার পর আনসারদের মহিলারা যখন বাইরে বের হতেন তখন এতো গোপনীয়ভাবে চলতেন যে, যেন তাদের মাথার উপর পাখী বসে আছে। নিজেদের দেহের উপর তারা কালো চাদর ফেলে দিতেন। (এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
ইউনুস ইবনে ইয়াযীদ (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত যুহরী (রঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো: “দাসীরা বিবাহিতা বা অবিবাহিতা হালে, তাদেরকেও কি চাদর গায়ে দিতে হবে?” উত্তরে তিনি বললেনঃ “দো-পাট্টা তারা অবশ্যই পরবে, তবে তারা চাদর পরবে না, যাতে তাদের মধ্যে ও স্বাধীন মহিলাদের মধ্যে স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকে। (এটাও ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
হযরত সুফিয়ান সাওরী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, যিম্মী নারীদের সৌন্দর্য দর্শন করা শুধু ব্যভিচারের ভয়ে নিষিদ্ধ, তাদের সম্মান ও মর্যাদার কারণে নয়। কেননা আয়াতে মুমিনা নারীদের বর্ণনা রয়েছে।
চাদর লটকানো হচ্ছে আযাদ সতী-সাধ্বী মহিলাদের লক্ষণ, কাজেই চাদর লটকানো দ্বারা এটা জানা যাবে যে, এরা বাজে স্ত্রী লোকও নয় এবং নাবালিকা মেয়েও নয়।
সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, ফাসেক লোকেরা অন্ধকার মদীনার পথে বের হতো এবং নারীদেরকে অনুসন্ধান করতো। মদীনাবাসী ছিলেন দরিদ্র শ্রেণীর লোক। কাজেই রাত্রে যখন অন্ধকার ঘনিয়ে আসতো তখন মহিলারা প্রাকৃতিক প্রয়োজন পুরো করার উদ্দেশ্যে পথে বের হতেন। আর দুষ্ট শ্রেণীর লোকেরা এই সুযোগের সন্ধানেই থাকতো। অতঃপর যখন তারা চাদর পরিধানকারিণী মহিলাদেরকে দেখতো তখন বলতো যে, এঁরা আযাদ মহিলা। সুতরাং তারা দুষ্কর্ম থেকে বিরত থাকতো। আর যখন ঐ সব মহিলাকে দেখতে যাদের দেহে চাদর থাকতো না তখন তারা বলতো যে, এরা দাসী। তখন তারা তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়তো।
মহান আল্লাহ বলেনঃ অজ্ঞতার যুগে বেপর্দাভাবে চলার যে প্রচলন ছিল, যখন তোমরা আল্লাহ তা'আলার এই নির্দেশের উপর আমলকারী হয়ে যাবে তখন আল্লাহ তা'আলা তোমাদের পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন। যেহেতু তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ যদি মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে ও যারা নগরে গুজব রটনা করে বেড়ায়, তারা বিরত না হয় তবে আমি নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে প্রবল করবো এবং তাদের উপর তোমার আধিপত্য বিস্তার করবো। এরপর তারা খুব কম সময়ই মদীনায় অবস্থান করতে পারবে। অতি সত্বরই তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যে কয়েক দিন তারা মদীনায় অবস্থান করবে সে কয়েকদিনও তারা কাটাবে অভিশপ্ত অবস্থায়। চারদিক থেকে তাদেরকে ধিক্কার দেয়া হবে। তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই ধরা হবে এবং নির্দয়ভাবে হত্যা করা হবে।
আল্লাহ তা'আলা এরপর বলেনঃ পূর্বে যারা গত হয়ে গেছে তাদের ব্যাপারে এটাই ছিল আল্লাহর বিধান। হে নবী (সঃ)! তুমি কখনো আল্লাহর বিধানে কোন পরিবর্তন পাবে না।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।