আল কুরআন


সূরা আস-সাজদাহ (আয়াত: 1)

সূরা আস-সাজদাহ (আয়াত: 1)



হরকত ছাড়া:

الم ﴿١﴾




হরকত সহ:

الٓـمّٓ ۚ﴿۱﴾




উচ্চারণ: আলিফ লাম মীম।




আল বায়ান: আলিফ-লাম-মীম।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১. আলিফ-লাম-মীম,




তাইসীরুল ক্বুরআন: আলিফ-লাম-মীম,




আহসানুল বায়ান: (১) আলিফ, লাম, মীম;



মুজিবুর রহমান: আলিফ লাম মীম।



ফযলুর রহমান: আলিফ লাম মীম [পবিত্র কোরআনে কোন কোন সূরার শুরুতে শব্দসংক্ষেপের আদলে সন্নিবেশিত এ জাতীয় বিচ্ছিন্ন হরফমালার প্রকৃত তাৎপর্য আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না]।



মুহিউদ্দিন খান: আলিফ-লাম-মীম।



জহুরুল হক: আলিফ, লাম, মীম।



Sahih International: Alif, Lam, Meem.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১. আলিফ-লাম-মীম,


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১) আলিফ, লাম, মীম;


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: নামকরণ:



এ সূরা সাজদাহ নামে নামকরণের অন্যতম একটি দিক হল সূরার ১৫ নং আয়াতে মু’মিনদের একটি অন্যতম গুণ বর্ণনা করা হয়েছে, তা হল তাদের সামনে যখন আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনাবলী স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। মূলত উক্ত আয়াতটি করলে বা শুনলে তেলাওয়াত সিজদার বিধান রয়েছে।



ফযীলত:



আবূ হুরাইরাহ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমু‘আর দিন ফজরের সালাতে আলিফ-লাম-মীম তানযীল, আস-সাজদাহ এবং হাল আতা আলাল ইনসান পাঠ করতেন। অর্থাৎ সূরা সাজদাহ এবং দাহর পাঠ করতেন। (সহীহ বুখারী হা: ৮৯৭, সহীহ মুসলিম হা: ৮৮০)



অন্য এক বর্ণনাতে আছে, জাবের হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরা সাজদাহ এবং সূরা মুলক পাঠ না করে রাতে ঘুমাতেন না। (তিরমিযী হা: ২৮১২, মিশকাত হা: ২১৫৫, সহীহ)



১-৩ নং আয়াতের তাফসীর:



الٓمّ (আলিফ-লাম-মীম) এ জাতীয় “হুরূফুল মুক্বাত্বআত” বা বিচ্ছিন্ন অক্ষর সম্পর্কে সূরা বাকারার শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন।



কাফির-মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এবং তাঁর প্রতি অবতারিত কিতাব কুরআনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করত, সে কথার জবাব দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: এ কুরআন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রচনা করেনি বরং এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকেই অবতারিত কিতাব, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(تَبٰرَكَ الَّذِيْ نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلٰي عَبْدِه۪ لِيَكُوْنَ لِلْعٰلَمِيْنَ نَذِيْرَا)



“কত বরকতময় তিনি যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে!” (সূরা ফুরকান ২৫:১) আর এ কুরআন নাযিল করার কারণ হল যে, যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারেন যাদের নিকট ইতোপূর্বে কোন নাবী-রাসূল আগমন করেনি। যাতে তারা সত্যের অনুসরণ করে পরিত্রাণ লাভ করতে পারে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা কোন জাতির কাছে রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত সে জাতিকে তাদের অবাধ্যতার কারণে শাস্তি দেন না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِيْنَ حَتّٰي نَبْعَثَ رَسُوْلًا)



“আমি রাসূল না পাঠান পর্যন্ত‎ কাউকেও শাস্তি‎ দেই না।” (সূরা ইসরা ১৭:১৫)



সুতরাং কুরআন কারো তৈরি করা কিতাব নয়, বরং তা সারা বিশ্বের মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত একটি আসমানী কিতাব। এটি নাযিল করা হয়েছে মানুষকে পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে হিদায়াতের পথে বের করে আনার জন্য।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কুরআন আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কিতাব, এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই। আর এটা রচনা করা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

২. কুরআন নাযিল করার উদ্দেশ্য হল মানুষকে সতর্ক করে ভ্রান্ত পথ থেকে সঠিক পথে নিয়ে আসা।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) জুমআর দিন ফজরের নামাযে ‘আলিফ-লাম-মীম-তানযীল আস্-সাজদাহ' এবং ‘হাল আতা আলাল ইনসানে’ পাঠ করতেন। (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) কিতাবুল জুমআ'র মধ্যে বর্ণনা করেছেন)

হযরত জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) আলিফ-লামমীম-তানযীল আস্-সাজদাহ’ এবং তাবারাকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুক’ এ দু’টি সূরা (রাত্রে) তিলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না। (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

১-৩ নং আয়াতের তাফসীর

সূরাসমূহের শুরুতে যে হুরূফে মুকাত্তাআ'ত রয়েছে ওগুলোর পূর্ণ আলোচনা আমরা সূরায়ে বাকারার তাফসীরের শুরুতে করে এসেছি। সুতরাং এখানে পুনরাবৃত্তির কোন প্রয়োজন নেই। এটা নিঃসন্দেহে সত্য যে, এই কিতাব আল -কুরআন আল্লাহ রাব্বল আলামীনের নিকট হতে অবতীর্ণ হয়েছে। মুশরিকদের এ কথা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এটা স্বয়ং রচনা করেছেন। না, না, এটা তো চরম সত্য কথা যে, এ কিতাব স্বয়ং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে অবতীর্ণ করা হয়েছে। এটা এজন্যেই অবতীর্ণ করা হয়েছে যেন রাসূলুল্লাহ (সঃ) এমন কওমকে ভয় প্রদর্শন করেন যাদের কাছে তার পূর্বে কোন নবী আগমন করেননি। যাতে তারা সত্যের অনুসরণ করে পরিত্রাণ লাভ করতে পারে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।