আল কুরআন


সূরা লুকমান (আয়াত: 9)

সূরা লুকমান (আয়াত: 9)



হরকত ছাড়া:

خالدين فيها وعد الله حقا وهو العزيز الحكيم ﴿٩﴾




হরকত সহ:

خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ وَعْدَ اللّٰهِ حَقًّا ؕ وَ هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَکِیْمُ ﴿۹﴾




উচ্চারণ: খা-লিদীনা ফীহা- ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কাওঁ ওয়া হুওয়াল ‘আযীযুল হাকীম।




আল বায়ান: সেখানে তারা স্থায়ী হবে, আল্লাহর ওয়াদা যথার্থ। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯. সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আল্লাহ্‌র প্রতিশ্রুতি সত্য (অকাট্য)। আর তিনি প্রবল পরাক্রমশালী, হিকমতওয়ালা।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তাতে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহর ও‘য়াদা সত্য আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।




আহসানুল বায়ান: (৯) সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য।[1] আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।



মুজিবুর রহমান: সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।



ফযলুর রহমান: সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তিনি পরাক্রমশালী, পরম প্রাজ্ঞ।



মুহিউদ্দিন খান: সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহর ওয়াদা যথার্থ। তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।



জহুরুল হক: সেখানে তারা স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। এ আল্লাহ্‌র একান্ত সত্য ওয়াদা। আর তিনিই হচ্ছেন মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।



Sahih International: Wherein they abide eternally; [it is] the promise of Allah [which is] truth. And He is the Exalted in Might, the Wise.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৯. সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আল্লাহ্–র প্রতিশ্রুতি সত্য (অকাট্য)। আর তিনি প্রবল পরাক্রমশালী, হিকমতওয়ালা।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ নিজের প্রতিশ্রুতি পালন থেকে কোন জিনিসই তাঁকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে না এবং তিনি যা কিছু করেন ঠিকমতো জ্ঞান ও ন্যায়পরায়ণতার দাবী অনুযায়ীই করেন। [ইবন কাসীর, ফাতহুল কাদীর; সা'দী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৯) সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য।[1] আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, তা নিঃসন্দেহে পূর্ণ হবে। কারণ এটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতি। আর আল্লাহ নিজ ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮-৯ নং আয়াতের তাফসীর:



মন্দ লোকদের পরিণতির কথা বর্ণনা করার পর আল্লাহ তা‘আলা আবার সৎ লোকেদের কথা নিয়ে এসেছেন। যারা সৎ আমল করবে ও ঈমান আনবে তারা চিরস্থায়ীভাবে জান্নাতে বসবাস করবে। এ সম্পর্কে সূরা কাহফের ১০৭ ও ১০৮ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ঈমান আনার সাথে সাথে সৎ কাজ করতে হবে।

২. আল্লাহ তা‘আলা যা ওয়াদা করেন তা সত্য, তিনি কখানো ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮-৯ নং আয়াতের তাফসীর

এখানে ভাল লোকদের শেষ পরিণতির কথা বর্ণনা করা হচ্ছে যে, যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে ও রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে মেনে নিয়েছে, শরীয়ত মুতাবেক কাজ করেছে তাদের জন্যে জান্নাত নির্ধারিত আছে, যার মধ্যে নানা প্রকারের নিয়ামত থাকবে। বিভিন্ন প্রকারের সুস্বাদু খাদ্য, সুন্দর ঝকঝকে তকতকে পোশাক, সুন্দর সুন্দর গাড়ী-ঘোড়া, পবিত্র ডাগর চোখা পরমা সুন্দরী হরীরা বিদ্যমান থাকবে। সেখানে এসব নিয়ামত কখনো নিঃশেষ হবে না। না এগুলো নষ্ট হবে, না ধ্বংস হবে, না কমে যাবে। এসব নিয়ামত অবশ্যই দেয়া হবে। কেননা, এটা আল্লাহর ওয়াদা এবং তিনি তাঁর ওয়াদা কখনো ভঙ্গ করেন না। তিনি দয়ালু, অনুগ্রহশীল ও পরম করুণাময়। তিনি যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন। তিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী। সার্বভৌম ক্ষমতা তারই। সবকিছুই তাঁর অয়িত্তের মধ্যে রয়েছে। তিনি প্রজ্ঞাময়। তাঁর কোন কথা, কোন কাজ জ্ঞান-বিবেক বহির্ভূত নয়। তিনি কুরআন কারীমকে মুমিনদের জন্যে পথপ্রদর্শক। ও শিক্ষাদানকারী করেছেন। আর বেঈমানদের জন্যে এটা বোঝা স্বরূপ ও চোখের কাঁটার ন্যায়। মহান আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “আমি অবতীর্ণ করি কুরআন যা মুমিনদের জন্যে আরোগ্য ও রহমত। আর এটা যালিমদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।” (১৭:৮২)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।