আল কুরআন


সূরা লুকমান (আয়াত: 26)

সূরা লুকমান (আয়াত: 26)



হরকত ছাড়া:

لله ما في السماوات والأرض إن الله هو الغني الحميد ﴿٢٦﴾




হরকত সহ:

لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ هُوَ الْغَنِیُّ الْحَمِیْدُ ﴿۲۶﴾




উচ্চারণ: লিল্লা-হি মা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ইন্নাল্লা-হা হুওয়াল গানিইয়ুল হামীদ।




আল বায়ান: আসমানসমূহ ও যমীনে যা আছে তা আল্লাহর; নিশ্চয় আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, প্রশংসিত।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৬. আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তা আল্লাহরই; নিশ্চয় আল্লাহ, তিনি তো অভাবমুক্ত, চির প্রশংসিত।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: আকাশমন্ডলী আর যমীনে যা আছে সব আল্লাহরই, নিশ্চয়ই আল্লাহ, তিনি সকল অভাব-মুক্ত, সকল প্রশংসার অধিকারী।




আহসানুল বায়ান: (২৬) আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, তা আল্লাহরই।[1] নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত,[2] প্রশংসার্হ। [3]



মুজিবুর রহমান: আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা আল্লাহরই। আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসা।



ফযলুর রহমান: আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।



মুহিউদ্দিন খান: নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই আল্লাহর। আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।



জহুরুল হক: মহাকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে তা আল্লাহ্‌রই। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্‌, -- তিনিই স্বয়ং-সমৃদ্ধ, পরম প্রশংসার্হ।



Sahih International: To Allah belongs whatever is in the heavens and earth. Indeed, Allah is the Free of need, the Praiseworthy.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৬. আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তা আল্লাহরই; নিশ্চয় আল্লাহ, তিনি তো অভাবমুক্ত, চির প্রশংসিত।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ কেবল এতটুকুই সত্য নয় যে, পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলীর স্রষ্টা আল্লাহ বরং পৃথিবী ও আকাশের মধ্যে যেসব জিনিস পাওয়া যায় তিনিই এসবের মালিক। [মুয়াস্‌সার]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৬) আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, তা আল্লাহরই।[1] নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত,[2] প্রশংসার্হ। [3]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, সে সবের সৃষ্টিকর্তাও তিনি, মালিকও তিনি এবং বিশ্ব-জগতের পরিচালকও তিনি।

[2] সকল কিছু হতে অমুখাপেক্ষী। অর্থাৎ, সকল সৃষ্টি তাঁর মুখাপেক্ষী এবং তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন।

[3] তাঁর সকল প্রকার সৃষ্ট বস্তুতে। সুতরাং তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং যে আহ্কাম অবতীর্ণ করেছেন, তার উপর আকাশ ও পৃথিবীর সকল প্রশংসার অধিকারী একমাত্র তিনিই।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৫-২৬ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলাই একমাত্র রব, তিনি ব্যতীত আর কোন রব নেই, তিনিই সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা ও সব কিছুর মালিকন এ আয়াতগুলো সে কথাই প্রমাণ করে। এমনকি এ কথা মক্কার কাফির-মুশরিকরাও স্বীকার করত যে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কোন মালিক নেই। আকাশমণ্ডলী, জমিন সকল কিছুর স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। এ কথা স্বীকার করার পর আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্যের ইবাদত করা মুর্খতা ব্যতীত আর কিছুই নয়। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার রুবুবিয়্যাহ স্বীকার করলেই কেউ মু’মিন হবে না যতক্ষণ না সকল প্রকার ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য সম্পাদন করবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কোন মালিক নেই।

২. সর্বাবস্থায় সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য নিবেদন করতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৫-২৬ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ মুশরিকরা এটা স্বীকার করতো যে, সব কিছুরই সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ। তা সত্ত্বেও তারা অন্যদের ইবাদত করতো। অথচ তারা ভালরূপেই জানতো যে, সব কিছুরই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউই নয়। সবই তার অধীনস্থ। ‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছে? এ প্রশ্ন তাদেরকে করলে তারা সাথে সাথেই উত্তর দিতো যে, এসবের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহই বটে। তাই আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলছেনঃ তুমি তাদেরকে বলে দাও প্রশংসা যে আল্লাহরই তা তো তোমরা স্বীকারই করছো। প্রকৃত ব্যাপার তো এই যে, মুশরিকদের অধিকাংশই অজ্ঞ।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে ছোট, বড়, প্রকাশ্য, গোপনীয় যা কিছু আছে সবই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এবং সব তারই মালিকানাধীন। তিনি সবকিছু হতেই অভাবমুক্ত এবং সবই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনিই একমাত্র প্রশংসার যোগ্য। শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী তিনিই। সৃষ্টিকার্যে ও আহকাম ধার্য করার ব্যাপারে তিনিই প্রশংসার যোগ্য।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।