আল কুরআন


সূরা আর-রুম (আয়াত: 46)

সূরা আর-রুম (আয়াত: 46)



হরকত ছাড়া:

ومن آياته أن يرسل الرياح مبشرات وليذيقكم من رحمته ولتجري الفلك بأمره ولتبتغوا من فضله ولعلكم تشكرون ﴿٤٦﴾




হরকত সহ:

وَ مِنْ اٰیٰتِهٖۤ اَنْ یُّرْسِلَ الرِّیَاحَ مُبَشِّرٰتٍ وَّ لِیُذِیْقَکُمْ مِّنْ رَّحْمَتِهٖ وَ لِتَجْرِیَ الْفُلْکُ بِاَمْرِهٖ وَ لِتَبْتَغُوْا مِنْ فَضْلِهٖ وَ لَعَلَّکُمْ تَشْکُرُوْنَ ﴿۴۶﴾




উচ্চারণ: ওয়া মিন আ-য়া-তিহীআইঁ ইউরছিলার রিয়া-হামুবাশশিরা-তিওঁ ওয়া লিইউযীকাকুম মিররাহমাতিহী ওয়া লিতাজরিয়াল ফুলকুবিআমরিহী ওয়া লিতাবতাগূমিন ফাদলিহী ওয়া লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।




আল বায়ান: আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি বাতাস প্রেরণ করেন [বৃষ্টির] সুসংবাদ বহনকারী হিসেবে এবং যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর রহমত আস্বাদন করাতে পারেন এবং যাতে তাঁর নির্দেশে নৌযানগুলো চলাচল করে, আর যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ থেকে কিছু সন্ধান করতে পার। আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৬. আর তার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি বায়ু পাঠান সুসংবাদ দেয়ার জন্য(১) এবং তোমাদেরকে তাঁর কিছু রহমত আস্বাদন করাবার জন্য; আর যাতে তার নির্দেশে নৌযানগুলো বিচরণ করে এবং যাতে তোমরা তার অনুগ্রহের কিছু সন্ধান করতে পার, আর যেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও।(২)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল এই যে, তিনি বায়ু প্রেরণ করেন সুসংবাদ দানের জন্য ও তোমাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ আস্বাদন করানোর জন্য। তাঁর নির্দেশে নৌযান চলে যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পার আর তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।




আহসানুল বায়ান: (৪৬) আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি এই যে, তিনি সুসংবাদবাহীরূপে[1] বায়ু প্রেরণ করেন; যাতে তিনি তোমাদেরকে নিজ অনুগ্রহ আস্বাদন করান[2] এবং যাতে তাঁর নির্দেশে জলযানগুলি বিচরণ করে,[3] আর যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার[4] এবং তাঁর কৃতজ্ঞ হতে পার।[5]



মুজিবুর রহমান: তাঁর নিদর্শনাবলীর একটি এই যে, তিনি বায়ু প্রেরণ করেন সুসংবাদ দেয়ার জন্য ও তোমাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ আস্বাদন করানোর জন্য, এবং যেন তাঁর বিধানে নৌযানগুলি বিচরণ করে, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও।



ফযলুর রহমান: তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে আরেকটি এই যে, তিনি সুসংবাদবাহী বাতাস পাঠান; যাতে তোমাদেরকে তাঁর দয়া আস্বাদন করাতে পারেন, যাতে তাঁর আদেশে জাহাজ চলে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করো ও (তাঁর প্রতি) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।



মুহিউদ্দিন খান: তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি এই যে, তিনি সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন, যাতে তিনি তাঁর অনুগ্রহ তোমাদের আস্বাদন করান এবং যাতে তাঁর নির্দেশে জাহাজসমূহ বিচরণ করে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ কর এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও।



জহুরুল হক: আর তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে হচ্ছে যে তিনি বায়ুপ্রবাহ পাঠান সুসংবাদদাতারূপে, যেন তিনি তোমাদের আস্বাদন করাতে পারেন তাঁর অনুগ্রহ থেকে, আর যেন জাহাজগুলি বিচরণ করতে পারে তাঁর বিধানে, আর যেন তোমরা অন্বেষণ করতে পার তাঁর করুণাভান্ডার থেকে, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে পার।



Sahih International: And of His signs is that He sends the winds as bringers of good tidings and to let you taste His mercy and so the ships may sail at His command and so you may seek of His bounty, and perhaps you will be grateful.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৬. আর তার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি বায়ু পাঠান সুসংবাদ দেয়ার জন্য(১) এবং তোমাদেরকে তাঁর কিছু রহমত আস্বাদন করাবার জন্য; আর যাতে তার নির্দেশে নৌযানগুলো বিচরণ করে এবং যাতে তোমরা তার অনুগ্রহের কিছু সন্ধান করতে পার, আর যেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও।(২)


তাফসীর:

(১) মুজাহিদ বলেন, এর অর্থ বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বাতাস। [আত-তাফসীরুস সহীহ]


(২) এ আয়াতের সমার্থে আরও দেখুন, সূরা আল-বাকারাহ: ১৬৪; সূরা আল-মুমিনুন: ২২।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৬) আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি এই যে, তিনি সুসংবাদবাহীরূপে[1] বায়ু প্রেরণ করেন; যাতে তিনি তোমাদেরকে নিজ অনুগ্রহ আস্বাদন করান[2] এবং যাতে তাঁর নির্দেশে জলযানগুলি বিচরণ করে,[3] আর যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার[4] এবং তাঁর কৃতজ্ঞ হতে পার।[5]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, বৃষ্টির সুসংবাদবাহীরূপে।

[2] অর্থাৎ, বৃষ্টিদানে তোমাদেরকে আনন্দিত করেন এবং ক্ষেতের ফসলও সবুজ হয়ে মেতে ওঠে।

[3] অর্থাৎ, সেই বায়ু দ্বারা নৌকা চলাচল করে; উদ্দেশ্য পাল-তোলা নৌকা। বর্তমানে মানুষ আল্লাহর দেওয়া বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রকার যন্ত্রচালিত জলজাহাজ, নৌকা ইত্যাদি তৈরি করেছে। তারপরেও তার জন্য অনুকূল বায়ুর প্রয়োজন। তাছাড়া আল্লাহ তাআলা তাকে তুফানী ঢেউ দ্বারা সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

[4] অর্থাৎ, তার সাহায্যে বিভিন্ন দেশে গিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য দ্বারা (তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার)।

[5] ঐ সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অগণিত অনুগ্রহ ও নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ হতে পার। অর্থাৎ, এই সকল অনুগ্রহ আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে এই জন্য প্রদান করে থাকেন, যাতে তোমরা নিজেদের জীবন-যাত্রায় তার দ্বারা উপকৃত হও এবং আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য কর।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৬-৪৭ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ক্ষমতা ও কয়েকটি নিদর্শনের বর্ণনা দিচ্ছেন। বৃষ্টির পূর্বে এর সুসংবাদ দিয়ে বাতাস প্রেরণ করেন। অতঃপর তাঁর রহমত তথা বৃষ্টি নাযিল করে মৃত জমিনকে জীবিত করেন এবং মানুষের মনে স্বস্তি নিয়ে আসেন। বৃষ্টি বর্ষণের পূর্বে মানুষ কত অস্বস্তি বোধ করছিল, সবুজ-শ্যামল ধানক্ষেত পানির জন্য হাহাকার করছিল। আল্লাহ তা‘আলা এ রহমত দিয়ে মানুষ, গাছ-পালা সব কিছুকে তাজা করে দিলেন।



আল্লাহ তা‘আলার অন্যতম আরেকটি নিদর্শন হলন হাজার-হাজার টনের ওজনের জাহাজ পানির ওপর ভাসমান রেখে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করান। অথচ সে পানির ওপর সামান্য একটু লোহা রাখা যায় না। এটা আল্লাহ তা‘আলার কুদরত, তাঁর নির্দেশেই চলে, আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করলে তা ডুবিয়ে দিতে পারেন। আল্লাহ তা‘আলা এ অনুগ্রহ দান করেছেন যাতে তোমরা জীবনোপকরণ অন্বেষণ করতে পার এবং আল্লাহ তা‘আলার এ নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় কর। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলছেন তোমার পূর্বে অনেক নাবী-রাসূল প্রেরণ করেছিলাম, যারা তাদের প্রতি ঈমান আনেনি, আমি সে সকল অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছিলাম। কিন্তু যারা মু’মিন ছিল তাদেরকে সহযোগিতা করেছিলাম। আর মু’মিনদেরকে সহযোগিতা করাই আমার দায়িত্ব।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. বৃষ্টি আল্লাহ তা‘আলার একটি বিশেষ নেয়ামত, যার দ্বারা মানুষসহ সব কিছুর নব জীবন সঞ্চার হয়।

২. যারা অন্যায় কাজ করে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন এবং মু’মিনদেরকে সদা-সর্বদা সাহায্য করেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪৬-৪৭ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করছেন যে, বৃষ্টি শুরু হবার পূর্বে ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত করে জনগণকে বৃষ্টির আশায় আশান্বিত করা তাঁরই কাজ। তারপর বৃষ্টি প্রদান করে থাকেন তিনিই, যাতে লোকবসতি আবাদ হয়, জীবজন্তু জীবিত থাকে এবং সাগরে জাহাজ চলতে পারে। জাহাজ চলাও আবার বায়ুর উপর নির্ভরশীল। তখন মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য ও রুজী-রোজগারের জন্যে. এখানে চলাফেরা করতে পারে। অতএব মানুষের উচিত আল্লাহর অসংখ্যা নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

এরপর মহান আল্লাহ প্রিয় নবী (সঃ)-কে সান্ত্বনা দিচ্ছেনঃ যদি তারা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে জানবে যে, এটা কোন নতুন ঘটনা নয়। তোমার পূর্ববর্তী নবীদেরকেও তাদের উম্মতরা বাঁকা বাঁকা কথা বলেছিল। তাদের কাছে তারাও উজ্জ্বল দলীল প্রমাণ আনয়ন করেছিল এবং মু'জিযা দেখিয়েছিল। অবশেষে মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের আল্লাহর আযাব দ্বারা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। মুমিনরা ঐ আযাব থেকে মুক্তি পেয়েছিল। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা নিজ ফযল ও করমে স্বীয় সৎ বান্দাদেরকে সাহায্য করা নিজের উপর অবশ্যকর্তব্য করে নিয়েছেন।

হযরত আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “যদি কোন মুসলমান অপর কোন মুসলমানের ইজ্জত রক্ষা করে তবে আল্লাহর উপর এটা হক যে, তিনি তাকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা করবেন।” অতঃপর তিনি (আরবি)-এ আয়াতাংশটি পাঠ
করেন। (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।