আল কুরআন


সূরা আর-রুম (আয়াত: 45)

সূরা আর-রুম (আয়াত: 45)



হরকত ছাড়া:

ليجزي الذين آمنوا وعملوا الصالحات من فضله إنه لا يحب الكافرين ﴿٤٥﴾




হরকত সহ:

لِیَجْزِیَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ مِنْ فَضْلِهٖ ؕ اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الْکٰفِرِیْنَ ﴿۴۵﴾




উচ্চারণ: লিয়াজযিইয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি মিন ফাদলিহী ইন্নাহূলাইউহিব্বুল কা-ফিরীন।




আল বায়ান: যেন তিনি স্বীয় অনুগ্রহে প্রতিদান দেন, যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে তাদেরকে। নিশ্চয় তিনি কাফিরদের ভালবাসেন না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৫. যাতে করে আল্লাহ যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে পুরস্কৃত করেন। নিশ্চয় তিনি কাফিরদেরকে পছন্দ করেন না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যাতে তিনি স্বীয় অনুগ্রহভান্ডার থেকে তাদেরকে পুরস্কৃত করতে পারেন যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে। তিনি কাফিরদেরকে ভালবাসেন না।




আহসানুল বায়ান: (৪৫) কারণ, যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে পুরস্কৃত করেন।[1] নিশ্চয় তিনি অবিশ্বাসীদেরকে ভালবাসেন না।



মুজিবুর রহমান: কারণ যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে, তিনি (আল্লাহ) তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে পুরস্কৃত করেন। তিনি কাফিরদেরকে পছন্দ করেননা।



ফযলুর রহমান: যাতে তিনি (আল্লাহ) ঈমানদার ও সৎকর্মশীলদেরকে স্বীয় অনুগ্রহ থেকে পুরস্কার দিতে পারেন। তিনি কাফেরদেরকে পছন্দ করেন না।



মুহিউদ্দিন খান: যারা বিশ্বাস করেছে ও সৎকর্ম করেছে যাতে, আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে প্রতিদান দেন। নিশ্চয় তিনি কাফেরদের ভালবাসেন না।



জহুরুল হক: যেন তিনি তাঁর করুণাভান্ডার থেকে পুরস্কৃত করতে পারেন তাদের যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করছে। তিনি অবিশ্বাসীদের নিশ্চয়ই ভালবাসেন না।



Sahih International: That He may reward those who have believed and done righteous deeds out of His bounty. Indeed, He does not like the disbelievers.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৫. যাতে করে আল্লাহ যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে পুরস্কৃত করেন। নিশ্চয় তিনি কাফিরদেরকে পছন্দ করেন না।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৫) কারণ, যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে পুরস্কৃত করেন।[1] নিশ্চয় তিনি অবিশ্বাসীদেরকে ভালবাসেন না।


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, জান্নাত অর্জনের জন্য শুধু নেকীই ততক্ষণ পর্যন্ত যথেষ্ট নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না তার সাথে আল্লাহর অনুগ্রহ শামিল হবে। সুতরাং তিনি স্বীয় অনুগ্রহে এক এক নেকীর বিনিময় দশ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেবেন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৩-৪৫ নং আয়াতের তাফসীর:



অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নির্দেশ প্রদান করছেন: তোমার অন্তর, চেহারা ও শরীর সব কিছু দিয়ে মজবুত দীন তথা ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রতি অভিমুখী হও। ইসলামের নির্দেশাবলী পালন কর, নিষেধাজ্ঞাসম্বলিত বিষয় থেকে বিরত থাক। সেদিন আসার পূর্বে যেদিন আল্লাহ তা‘আলার কাছ থেকে পালাবার কোন পথ থাকবে না, কোথাও আশ্রয় নেয়া যাবে না এবং দুনিয়াতে ফেরত আসা যাবে না। এখানে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে সকল মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। সুতরাং আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত যে, আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচার পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন তারপরেও কি আমরা তা গ্রহণ করব না? এ সম্পর্কে এ সূরার ৩০ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



এ সব বিধি-বিধান সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেয়ার পর আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে সতর্ক করে বলছেন যে, এরপরেও যারা কুফরী করবে, তাদের কুফরীর খারাপ পরিণতি তাদের ওপরই বর্তাবে আর যারা ভাল আমল করবে তার প্রতিদান তারাই পাবে। এতে আল্লাহ তা‘আলার কোনই লাভ বা ক্ষতি হবে না। তাতে শুধু তাদের নিজেদেরই লাভ বা ক্ষতি নিহীত। হাদীসে এসেছে:



আবূ যার (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



يَا عِبَادِي إِنَّكُمْ لَنْ تَبْلُغُوا ضَرِّي فَتَضُرُّونِي وَلَنْ تَبْلُغُوا نَفْعِي، فَتَنْفَعُونِي، يَا عِبَادِي لَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنَّكُمْ كَانُوا عَلَي أَتْقَي قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ مِنْكُمْ، مَا زَادَ ذَلِكَ فِي مُلْكِي شَيْئًا، يَا عِبَادِي لَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنَّكُمْ كَانُوا عَلَي أَفْجَرِ قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ، مَا نَقَصَ ذَلِكَ مِنْ مُلْكِي شَيْئًا



হে আমার বান্দা! আমার ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ পর্যন্ত তোমরা পৌঁছতে পারবে না, ফলে আমার ক্ষতি হবে। আমার উপকার হয় এমন কোন কাজ পর্যন্ত তোমরা পৌঁছতে পারবে না, ফলে আমার উপকার হবে। তোমাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন যদি একজন আল্লাহ তা‘আলাভীরু বান্দার অন্তরে পরিণত হয়ে যায় তাহলে আমার রাজত্বের কোন কিছু বৃদ্ধি পাবে না। আর যদি তোমাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন একজন খারাপ মানুষের অন্তরে পরিণত হয়ে যায় তাহলেও আমার রাজত্বের কোন কমতি হবে না। (সহীহ মুসলিম হা: ২৫৭৭)



সুতরাং আমরা ইবাদত করে আল্লাহ তা‘আলার কোন উপকার করছি কি? না; বরং ইবাদত করে আমি আমার নিজের উপকার করছি। এতে আল্লাহর কোন উপকার নেই। আমরা ইবাদত করলেও আল্লাহ তা‘আলার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে না, আর ইবাদত না করলেও আল্লাহ তা‘আলার মর্যাদা কমবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পর আর কোন আমল করার সুযোগ থাকবে না।

২. কিয়ামত দিবসে সৎ ও অসৎ মানুষ আলাদা আলাদা হয়ে যাবে।

৩. প্রত্যেকে যা আমল করে তা সেই পাবে, তাতে কারো প্রতি কোন জুলুম করা হবে না।

৪. কেউ ভাল আমল করলে নিজের উপকার হবে আর অসৎ আমল করলে নিজেরই ক্ষতি হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪৩-৪৫ নং আয়াতের তাফসীর

এখানে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদেরকে সরল সঠিক দ্বীনের উপর দৃঢ় থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর ইবাদত করার হিদায়াত করছেন। তিনি বলেনঃ জান-মাল দিয়ে দৃঢ়ভাবে আল্লাহর ইবাদতের দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড় কিয়ামত আসার পূর্বে। যখন কিয়ামত সংঘটনের আদেশ হয়ে যাবে তখন ঐ সময়কে কেউই বন্ধ করতে পারবে না। সেদিন ভাল ও মন্দ পৃথক হয়ে যাবে। একদল তো যাবে এবং আর একদল জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে। কাফির তার কুফরীর বোঝার নীচে চাপা পড়ে যাবে। সৎলোকেরা তাদের কৃত সক্কর্মের কারণে উত্তম ও সুখময় স্থানে অবস্থান করবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের পুণ্য। অনেকগুণে বাড়িয়ে দিবেন এবং এভাবে তাদেরকে উত্তম বিনিময় প্রদান করবেন। তাদের এক একটি পুণ্য দশগুণ হতে বাড়াতে বাড়াতে সাতশ গুণ পর্যন্ত পৌছিয়ে দেয়া হবে। এভাবে আল্লাহ পাক তাদেরকে পুরস্কৃত করবেন। কাফিরদেরকে আল্লাহ তা'আলা ভালবাসেন না। তা সত্ত্বেও তাদের উপর কোন যুলুম করা হবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।