আল কুরআন


সূরা আর-রুম (আয়াত: 24)

সূরা আর-রুম (আয়াত: 24)



হরকত ছাড়া:

ومن آياته يريكم البرق خوفا وطمعا وينزل من السماء ماء فيحيي به الأرض بعد موتها إن في ذلك لآيات لقوم يعقلون ﴿٢٤﴾




হরকত সহ:

وَ مِنْ اٰیٰتِهٖ یُرِیْکُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَّ طَمَعًا وَّ یُنَزِّلُ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَیُحْیٖ بِهِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّعْقِلُوْنَ ﴿۲۴﴾




উচ্চারণ: ওয়া মিন আ-য়া-তিহী ইউরীকুমুল বারকা খাওফাওঁ ওয়া তামা‘আওঁ ওয়া ইউনাযযিলু মিনাছছামাই মাআন ফাইউহয়ী বিহিল আরদা বা‘দা মাওতিহা ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইয়া‘কিলূন।




আল বায়ান: আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে তিনি তোমাদেরকে ভয় ও ভরসাস্বরূপ বিদ্যুৎ দেখান, আর আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দ্বারা যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য যারা অনুধাবন করে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৪. আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদেরকে প্রদর্শন করান বিদ্যুৎ ভয় ও আশার সঞ্চারকরূপে এবং আসমান থেকে পানি নাযিল করেন। অতঃপর তা দিয়ে যমীনকে পুনর্জীবিত করেন সেটার মৃত্যুর পর; নিশ্চয় এতে বহু নিদর্শন রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য, যারা অনুধাবন করে।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল এই যে, তিনি তোমাদেরকে দেখান বিদ্যুৎ ভীতি ও ভরসা সঞ্চারীরূপে, আর তিনি আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেন যা দিয়ে যমীনকে তার মৃত্যুর পর আবার জীবিত করেন, জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের জন্য অবশ্যই এতে বহু নিদর্শন আছে।




আহসানুল বায়ান: (২৪) এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি নিদর্শনঃ তিনি তোমাদেরকে আশঙ্কা ও আশা স্বরূপ বিদ্যুৎ দেখান[1] এবং আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন ও তা দিয়ে ভূমিকে ওর মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন; এতে অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে ।



মুজিবুর রহমান: এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদেরকে প্রদর্শন করেন বিদ্যুৎ, ভয় ও ভরসা সঞ্চারক রূপে এবং তিনি আকাশ হতে বারি বর্ষণ করেন এবং তদ্বারা ভূমিকে ওর মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন, এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য।



ফযলুর রহমান: তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে আরেকটি এই যে, তিনি তোমাদেরকে বিদ্যুতের ঝলক দেখান ভয় ও আশার বস্তু হিসেবে এবং আসমান থেকে পানি বর্ষণ করে তার সাহায্যে মৃত (শুষ্ক) ভূমিকে জীবিত (সজীব) করেন। এর মধ্যে বুদ্ধিমান মানুষের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।



মুহিউদ্দিন খান: তাঁর আরও নিদর্শনঃ তিনি তোমাদেরকে দেখান বিদ্যুৎ, ভয় ও ভরসার জন্যে এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তদ্দ্বারা ভূমির মৃত্যুর পর তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমান লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।



জহুরুল হক: আর তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে হচ্ছে -- তিনি তোমাদের বিদ্যুৎ দেখান ভয় ও আশারূপে, আর তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, তারপর তা দিয়ে পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পরে সঞ্জীবিত করেন। নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা বুদ্ধিশুদ্ধি রাখে।



Sahih International: And of His signs is [that] He shows you the lightning [causing] fear and aspiration, and He sends down rain from the sky by which He brings to life the earth after its lifelessness. Indeed in that are signs for a people who use reason.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৪. আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদেরকে প্রদর্শন করান বিদ্যুৎ ভয় ও আশার সঞ্চারকরূপে এবং আসমান থেকে পানি নাযিল করেন। অতঃপর তা দিয়ে যমীনকে পুনর্জীবিত করেন সেটার মৃত্যুর পর; নিশ্চয় এতে বহু নিদর্শন রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য, যারা অনুধাবন করে।(১)


তাফসীর:

(১) আল্লাহর কুদরতের পঞ্চম নিদর্শনঃ পঞ্চম নিদর্শন এই যে, আল্লাহ তাআলা মানুষকে বিদ্যুতের চমক দেখান। এতে উহার পতিত হওয়ার এবং ক্ষতি করারও আশংকা থাকে এবং এর পশ্চাতে বৃষ্টির আশাবাদও সঞ্চয় হয়। তিনি এই বৃষ্টির দ্বারা শুষ্ক এবং মৃত মৃত্তিকাকে জীবিত ও সতেজ করে তাতে রকমারি প্রকারের বৃক্ষ ও ফল-ফুল উৎপন্ন করেন। [ইবন কাসীর, ফাতহুল কাদীর] কাতাদাহ বলেন, এখানে যে ভয়ের কথা বলা হয়েছে তা সাধারণত মুসাফিরদের মনে উদ্রেক হয়। আর যে আশার কথা বলা হয়েছে সেটা সাধারণত: মুকীম বা স্থায়ী অবস্থানকারীদের মনে উদ্রেক হয়। [তাবারী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৪) এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি নিদর্শনঃ তিনি তোমাদেরকে আশঙ্কা ও আশা স্বরূপ বিদ্যুৎ দেখান[1] এবং আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন ও তা দিয়ে ভূমিকে ওর মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন; এতে অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে ।


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, আসমানে বিদ্যুৎ চমকায় এবং মেঘের গর্জন শোনা যায়, তখন তোমরা বজ্রপাত হওয়ার এবং অতিবৃষ্টির ফলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করে থাক। আর আশাও করে থাক যে, বৃষ্টি হলে ফসল ভাল হবে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২১-২৫ নং আয়াতের তাফসীর:



এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলার আটটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের বিষদ বর্ণনা দেয়া হয়েছে।



প্রথম নিদর্শন হল:



আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর মানবাকৃতিতে পৃথিবীতে তাদেরকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আদম (عليه السلام)-কে একমুষ্টি মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন যা সমস্ত জমিন থেকে নিয়েছেন। ফলে আদম সন্তান সে মাটি অনুপাতেই। কেউ ফর্সা, কেউ লাল, কেউ কাল এবং কেউ উভয়ের মিশ্রিত বর্ণে। কেউ ভাল স্বভাবের, কেউ মন্দ স্বভাবের আবার কেউ উভয়ের মাঝামাঝি স্বভাবের। (তিরমিযী হা: ২৯৫৫, সহীহ)



এ সৃষ্টি সম্পর্কে সূরা হাজ্জের ৫ নং আয়াতে, সূরা ত্বহার ৫৫ নং এবং সূরা মু’মিনের ১২-১৪ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



দ্বিতীয় নিদর্শন:



আল্লাহ তা‘আলা পুরুষদের মধ্য থেকেই তাদের জীবনসঙ্গিণী স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন। আরবিতে زوج এর অর্থ হলো সঙ্গী বা জোড়া। অতএব পুরুষ নারীর ও নারী পুরুষের সঙ্গী বা জোড়া। নারীদেরকে পুরুষদের মধ্য হতেই সৃষ্টি করার অর্থ হলো পৃথিবীর প্রথম নারী মা হাওয়াকে আদম (عليه السلام)-এর বাম পার্শ্বের (পাঁজরের) হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। অতঃপর তাদের দুজন হতে মানুষের জন্মের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন। তারপর আল্লাহ তা‘আলা স্ত্রীর মাঝে এমন একটি উপকরণ রেখে দিয়েছেন যখন স্বামী তার স্ত্রীর কাছে গমন করে তখন তার কাছে শান্তি পায়। আর উভয়ের মাঝে এমন ভালবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন যা পৃথিবীর অন্য কোন দুই ব্যক্তির মাঝে লক্ষ্য করা যায় না। বলা বাহুল্য, মানুষ এ শান্তি ও অগাধ প্রেম ভালবাসা সে দাম্পত্যের মাঝে লাভ করতে পারে যার সম্পর্কের ভিত্তি শরীয়তসম্মত বিবাহের ওপর প্রতিষ্ঠিত। পরন্তু ইসলাম একমাত্র বিবাহসূত্রের মাধ্যমেই আবদ্ধ দম্পতিকেই জোড়া বলে স্বীকার করে। অন্যথায় শরীয়ত বিরোধী দাম্পত্যের (লিভ টুগেদার) সম্পর্ককে ইসলাম জোড়া বলে স্বীকার করে না। বরং তাদেরকে ব্যভিচারী আখ্যায়িত করে এবং তাদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান প্রদান করেছে।



তৃতীয় নিদর্শন:



আল্লাহ তা‘আলা আকাশমণ্ডলী ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। আকাশকে তারকারাজি দ্বারা সুসজ্জিত করেছেন। চন্দ্র-সূর্য সৃষ্টি করেছেন। এগুলো পৃথিবীতে আলো প্রদান করে থাকে। পক্ষান্তরে পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পাহাড়-পর্বত, প্রশস্ত মাঠ, বন-জঙ্গল, নদী-নালা, সাগর-উপসাগর। উঁচু উঁচু টিলা, পাথর, বড় বড় গাছ ইত্যাদি সৃষ্টি করেছেন যা আল্লাহ তা‘আলার পূর্ণ ক্ষমতার নিদর্শন।



চতুর্থ নিদর্শন:



আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে মাত্র দুজন মানুষ আদম ও হাওয়া (عليه السلام) থেকে সৃষ্টি করার পরও তাদের মধ্যে ভাষার ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। কেউ কথা বলে বাংলায়, কেউ আরবি, কেউ উর্দু-ফারসি, হিন্দি, ইংরেজি ইত্যাদি ভাষায়। এমনকি একই মানব থেকে সৃষ্টি হওয়ার পরও তাদের আকৃতি ও বর্ণ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কেউ কাল, কেউ শ্যামলা বর্ণের আবার কেউ সাদা বর্ণের। কারো সাথে কারো কোন প্রকারের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনকি কখনো কখনো সহোদর ভাইয়ের সাথেও কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। এগুলো স্পষ্টভাবে আল্লাহ তা‘আলার ক্ষমতার ওপর প্রমাণ বহন করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللّٰهَ أَنْزَلَ مِنَ السَّمَا۬ءِ مَا۬ءً ج فَأَخْرَجْنَا بِه۪ ثَمَرٰتٍ مُّخْتَلِفًا أَلْوَانُهَا ط وَمِنَ الْجِبَالِ جُدَدٌۭبِيْضٌ وَّحُمْرٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهَا وَغَرَابِيْبُ سُوْدٌ)



“তুমি কি লক্ষ্য করনি? আল্লাহ আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন। তারপর আমি তা দিয়ে নানা বর্ণের ফলমূল উৎপন্ন করি। আর পর্বতমালারও রয়েছে বিভিন্ন বর্ণের গিরিপথন সাদা, লাল ও ঘোর কাল।” (সূরা ফাতির ৩৫:২৭)



পঞ্চম নিদর্শন:



আল্লাহ তা‘আলা মানুষের নিদ্রা ও জীবিকা অন্বেষণ করার জন্য রাত ও দিন সৃষ্টি করেছেন এবং এসব অন্বেষণ করার মাধ্যমে যেন আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ বা দয়া কামনা করে। এ সম্পর্কে সূরা বানী ইসরাঈলের ১২ নং আয়াতসহ অন্যান্য আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



ষষ্ঠ নিদর্শন:



আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে বিজলী দ্বারা বিদ্যুৎ প্রদর্শন করেন ভয় ও আশা সঞ্চারকরূপে। এ সম্পর্কে সূরা রা‘দের ১২ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



সপ্তম নিদর্শন:



সপ্তম নিদর্শন হল, আল্লাহ তা‘আলা আকাশ হতে পানি বর্ষণ করে মৃত ভূমিকে জীবিত করেন।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَاٰیَةٌ لَّھُمُ الْاَرْضُ الْمَیْتَةُﺊ اَحْیَیْنٰھَا وَاَخْرَجْنَا مِنْھَا حَبًّا فَمِنْھُ یَاْکُلُوْنَﭰ وَجَعَلْنَا فِیْھَا جَنّٰتٍ مِّنْ نَّخِیْلٍ وَّاَعْنَابٍ وَّفَجَّرْنَا فِیْھَا مِنَ الْعُیُوْنِﭱﺫ)



“আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন মৃত জমিন। আমি তাকে সজীব করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, ফলে তা থেকে তারা খেয়ে থাকে। আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং প্রবাহিত করি তাতে ঝরণাধারা।” (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৩৩-৩৪) এখানে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন হল-মৃত জমিনকে বৃষ্টির পানি দ্বারা যেমন জীবিত করা হয় তেমনি আল্লাহ তা‘আলা মানুষের কর্মের হিসাব নেয়ার জন্য পুনরুত্থিত করবেন।



অষ্টম নিদর্শন:



ল্লাহ তা‘আলার নির্দেশে আকাশ ও জমিন স্থিতিশীল রয়েছে। আমরা জানি প্রথমে জমিন কম্পিত হচ্ছিল, তারপর আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীতে পাহাড় বদ্ধমূল করে দিলেন। ফলে জমিন স্থিতিশীল হয়েছে । আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللّٰهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَّا فِي الْأَرْضِ وَالْفُلْكَ تَجْرِيْ فِي الْبَحْرِ بِأَمْرِه۪ ط وَيُمْسِكُ السَّمَا۬ءَ أَنْ تَقَعَ عَلَي الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِه۪ ط إِنَّ اللّٰهَ بِالنَّاسِ لَرَؤُوْفٌ رَّحِيْمٌ)‏



“তুমি কি লক্ষ্য কর‎ না যে, আল্লাহ তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন পৃথিবীতে যা কিছু আছে তৎসমুদয়কে এবং তাঁর নির্দেশে সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানসমূহকে? আর তিনিই আকাশকে স্থির রাখেন যাতে তা পতিত না হয় পৃথিবীর ওপর তাঁর অনুমতি ব্যতীত। আল্লাহ নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।” (সূরা হাজ্জ ২২:৬৫) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(إِنَّ اللّٰهَ يُمْسِكُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ أَنْ تَزُوْلَا ﹰ وَلَئِنْ زَالَتَآ إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّنْۭ بَعْدِه۪ط إِنَّه۫ كَانَ حَلِيْمًا غَفُوْرًا)‏



“নিশ্চয়ই আল্লাহই আসমান ও জমিনকে স্থির রাখেন, যাতে তা টলে না যায়। যদি এরা টলে যায় তবে তিনি ছাড়া কে এদেরকে স্থির রাখবে? তিনি অতিশয় সহনশীল, পরম ক্ষমাশীল।” (সূরা ফাতির ৩৫:৪১)



(ثُمَّ إِذَا دَعَاكُمْ دَعْوَةً)



অর্থাৎ যখন তিনি তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে উঠানোর জন্য একবার আহ্বান করবেন তথা শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে তখন সকলেই সেখান থেকে উঠে আল্লাহ তা‘আলার দিকে ছুটে আসবে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(يَوْمَ يَدْعُوْكُمْ فَتَسْتَجِيْبُوْنَ بِحَمْدِه۪ وَتَظُنُّوْنَ إِنْ لَّبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيْلًا)‏



‘যেদিন তিনি তোমাদেরকে আহ্বান করবেন, এবং তোমরা তাঁর প্রশংসার সাথে তাঁর আহ্বানে সাড়া দেবে এবং তোমরা মনে করবে, তোমরা অল্প সময়ই (দুনিয়াতে) অবস্থান করেছিলে।’ (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭:৫২)



অতএব মানুষ আল্লাহ তা‘আলার এ সকল নিদর্শন বিশ্বাস করুক আর না-ই করুক সর্বশেষে তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা সম্মুখেই উপস্থিত হতে হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।

২. মানুষ সৃষ্টির মূল উপাদান হল মাটি, অতঃপর পিতা-মাতার মিলনে সৃষ্টির পরম্পরা বহাল রয়েছে।

৩. জীবন ও মৃত্যু সকল কিছুর ক্ষমতা আল্লাহ তা‘আলারই হাতে।

৪. ইসলাম বিবাহের মাধ্যমে নারী-পুরুষের বন্ধনকে স্বীকার করে কিন্তু লিভ-টুগেদারকে স্বীকার করে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৪-২৫ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলার বিরাট সত্তার দলীল স্বরূপ এখানে আর একটি নিদর্শন বর্ণনা করা হয়েছে। আকাশে তাঁরই আদেশে বিদ্যুৎ চমকায়। তা দেখে মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হয় যে, না জানি হয়তো বিদ্যুতের ঝটকা তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলবে। তাই তারা কামনা করে যে, বিদ্যুৎ যেন তাদের উপর পতিত না হয়। আবার মানুষ কখনো আশান্বিত হয় যে, ভালই হয়েছে, এখন বৃষ্টি হবে এবং পানি থৈ থৈ করবে, চারদিকে পানি বয়ে চলবে ইত্যাদি ধরনের আশায় আশান্বিত হয়ে থাকে।

আল্লাহ তা'আলা আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, এর ফলে যে ভূমি শুষ্ক হয়ে পড়েছিল, যাতে মোটেই রস ছিল না, ওকে তিনি পুনর্জীবিত করে তোলেন। কচি ঘাস জমিতে ঢেউ খেলে যায়। জমিতে নানাবিধ ফসল উৎপন্ন হতে শুরু করে। এতে অবশ্যই বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্যে আল্লাহর অসীম শক্তির নিদর্শন রয়েছে।

তাঁর আর একটি নিদর্শন এই যে, যমীন ও আসমান তাঁরই হুকুমে স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি আকাশকে পৃথিবীর উপর ভেঙ্গে পড়তে দেন না। আসমান যমীনকে ধরে আছে এবং ওকে ধ্বংস হতে রক্ষা করছে।

হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) যখন কোন কিছু বিশ্বাস করানোর জন্যে শপথ করতেন তখন বলতেনঃ “সেই আল্লাহর কসম, যিনি আসমান ও যমীনকে ধারণ করে আছেন। অতঃপর কিয়ামতের দিন যমীন ও আসমানকে পরিবর্তন করে দিবেন। এ জন্যেই আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “অতঃপর যখন তিনি তোমাদেরকে মৃত্তিকা হতে উঠবার জন্যে একবার আহ্বান করবেন তখন তোমরা উঠে আসবে।” যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “যেই দিন তিনি তোমাদেরকে আহ্বান করবেন, অতঃপর তাঁর প্রশংসা করতঃ তোমরা সাড়া দেবে এবং তোমরা ধারণা করবে যে, অতি অল্প সময়ই তোমরা অবস্থান করেছিলে।” (১৭:৫২) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “এটা তো শুধু এক বিকট শব্দ, তখনই ময়দানে তাদের অবির্ভাব হবে।” (৭৯:১৩-১৪) আরো এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “এটা তো শুধু একটা মহানাদ, তখনই তাদের সবকে হাযির করা হবে আমার সামনে।” (৩৬:৫৩)।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।