আল কুরআন


সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 46)

সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 46)



হরকত ছাড়া:

الذين يظنون أنهم ملاقو ربهم وأنهم إليه راجعون ﴿٤٦﴾




হরকত সহ:

الَّذِیْنَ یَظُنُّوْنَ اَنَّهُمْ مُّلٰقُوْا رَبِّهِمْ وَ اَنَّهُمْ اِلَیْهِ رٰجِعُوْنَ ﴿۴۶﴾




উচ্চারণ: আল্লাযীনা ইয়াজুন্নূনা আন্নাহুম মুলা-কূরাব্বিহিম ওয়াআন্নাহুম ইলাইহি রা-জি‘উন।




আল বায়ান: যারা বিশ্বাস করে যে, তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং তারা তাঁর দিকে ফিরে যাবে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৬. যারা বিশ্বাস করে যে, নিশ্চয় তাদের রব-এর সাথে তাদের সাক্ষাত ঘটবে এবং নিশ্চয় তারা তারই দিকে ফিরে যাবে।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা নিশ্চিত বিশ্বাস করে যে, তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ ঘটবেই এবং তাঁরই দিকে তারা ফিরে যাবে।




আহসানুল বায়ান: ৪৬। (তারাই বিনীত), যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, তাদের প্রতিপালকের সাথে তাদের সাক্ষাৎকার ঘটবে এবং তারই দিকে তারা ফিরে যাবে।



মুজিবুর রহমান: যারা ধারণা করে যে, নিশ্চয়ই তারা তাদের রবের সাথে সম্মিলিত হবে এবং তারা তাঁরই দিকে প্রতিগমন করবে।



ফযলুর রহমান: যারা বিশ্বাস করে যে, তাদের প্রভুর সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হবে এবং তারা তাঁরই কাছে ফিরে যাবে।



মুহিউদ্দিন খান: যারা একথা খেয়াল করে যে, তাদেরকে সম্মুখীন হতে হবে স্বীয় পরওয়ারদেগারের এবং তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে।



জহুরুল হক: যারা স্মরণ রাখে যে তারা নিশ্চয়ই তাদের প্রভুর সাথে মোলাকাত করতে যাচ্ছে, আর তারা অবশ্যই তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তনকারী।



Sahih International: Who are certain that they will meet their Lord and that they will return to Him.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৬. যারা বিশ্বাস করে যে, নিশ্চয় তাদের রব-এর সাথে তাদের সাক্ষাত ঘটবে এবং নিশ্চয় তারা তারই দিকে ফিরে যাবে।(১)


তাফসীর:

১. আয়াতে বর্ণিত ظَنٌّ শব্দটির অর্থ, মনে করা বা ধারনা করা। কিন্তু মুজাহিদ বলেন, কুরআনে যেখানে ظَنٌّ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে সেখানেই নিশ্চিত জ্ঞানের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। [তাবারী, ইবনে কাসীর] তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ظَنٌّ শব্দটি يَقِيْنٌ এর অর্থে ব্যবহৃত হলেও সবস্থানেই যে এই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ব্যাপারটি এমন নয়, যেমন, সূরা আল-জাসিয়াহ ২৪, সূরা আল-বাকারাহ: ৭৮, সূরা আন-নিসা ১৫৭, সূরা আল আন’আম: ১১৬ [আত-তাফসীরুস সহীহ] তবে এখানে সমস্ত মুফাসসিরের মতেই ظَنٌّ শব্দটি يَقِيْنٌ বা নিশ্চিত বিশ্বাসের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। [আদওয়াউল বায়ান]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: ৪৬। (তারাই বিনীত), যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, তাদের প্রতিপালকের সাথে তাদের সাক্ষাৎকার ঘটবে এবং তারই দিকে তারা ফিরে যাবে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৫ হতে ৪৮ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে সালাত ও ধৈর্যের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কাজে সাহায্য প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনার ফলাফল কী সে সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:



(إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهٰي عَنِ الْفَحْشَا۬ءِ وَالْمُنْكَرِ)



“নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।”(সূরা আনকাবুত ২৯:৪৫)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوٰي)



“এবং তোমার পরিবারবর্গকে সালাতের আদেশ দাও ও তাতে অবিচলিত থাকো, আমি তোমার নিকট কোন জীবনোপকরণ চাই না; আমিই তোমাকে জীবনোপকরণ দেই এবং শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য।”(সূরা ত্বা-হা- ২০:১৩২)



তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন বিপদের সম্মুখীন হলে দ্রুত সালাতে মগ্ন হতেন।



এ সালাত তাদের জন্য সহজ-সাধ্য কাজ যারা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে এবং পরকালে আল্লাহ তা‘আলার সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশী। আর যারা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে না সালাত তাদের জন্য সহজ নয়।



আবার আল্লাহ তা‘আলা বানী ইসরাঈলকে তাঁর প্রদত্ত নেয়ামতরাজির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এমন দিবসের ভয় করার আদেশ দিচ্ছেন যে দিবসে একে অপরের উপকার করতে পারবে না, কারো কোন সুপারিশ চলবে না এবং কোন মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না।



উক্ত আয়াত দ্বারা বুঝা যায় কিয়ামত দিবসে কোন প্রকার শাফাআত কবূল করা হবে না। আবার অন্য আয়াত থেকে বুঝা যায় শাফাআত থাকবে, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَه۫ إِلَّا بِإِذْنِه۪)



“কে সে যে তাঁর (আল্লাহর) নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া।”(সূরা বাকারাহ ২:৫৫২)



অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি সাপেক্ষে শাফাআত চালু থাকবে।



সুতরাং শাফাআত দু’প্রকার:



১. বাতিল শাফাআত: الشفاعة المنفية ২. গ্রহণযোগ্য শাফাআত: الفشاعة الثابتة



বাতিল শাফাআত:



যা কাফির মুশরিকদের সাথে সম্পৃক্ত। যে শাফায়াতের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলার কোন অনুমতি নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَیَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللہِ مَا لَا یَضُرُّھُمْ وَلَا یَنْفَعُھُمْ وَیَقُوْلُوْنَ ھٰٓؤُلَا۬ئِ شُفَعَا۬ؤُنَا عِنْدَ اللہِ)



“তারা আল্লাহ ব্যতীত যার ‘ইবাদত করে তা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। তারা বলে, ‘এগুলো আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী।”(সূরা ইউসুফ ১০:১৮)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَي اللّٰهِ زُلْفٰي)



“আমরা তো এদের উপাসনা এজন্য করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছিয়ে দেয়।”(সূরা যুমার ৩৯:৩)



এ সকল শাফাআত বাতিল, তাই আল্লাহ তা‘আলা কবূল করবেন না। তিনি বলেন:



فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِيْنَ



“ফলে (সে সময়) শাফাআতকারীদের শাফাআত তাদের (অমুসলিমদের) কোন কাজে আসবে না।”(সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৪৮)



গ্রহণযোগ্য শাফাআত: এর জন্য তিনটি শর্ত। যথা:



১. শাফাআতকারীর ওপর আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(یَوْمَئِذٍ لَّا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ اِلَّا مَنْ اَذِنَ لَھُ الرَّحْمٰنُ وَرَضِیَ لَھ۫ قَوْلًا)



“দয়াময় যাকে অনুমতি দেবেন ও যার কথা তিনি পছন্দ করবেন সে ব্যতীত কারও সুপারিশ সেদিন কোন কাজে আসবে না।”(সূরা ত্বা-হা- ২০:১০৯)



২. যার জন্য শাফাআত করা হবে তার ওপর আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



وَکَمْ مِّنْ مَّلَکٍ فِی السَّمٰوٰتِ لَا تُغْنِیْ شَفَاعَتُھُمْ شَیْئًا اِلَّا مِنْۭ بَعْدِ اَنْ یَّاْذَنَ اللہُ لِمَنْ یَّشَا۬ئُ وَیَرْضٰی



“আকাশসমূহে কত ফেরেশতা রয়েছে! তাদের কোন সুপারিশ কাজে আসবে না যতক্ষণ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা এবং যার প্রতি সন্তুষ্ট তাকে অনুমতি না দেন।”(সূরা নাজম ৫৩:২৬)



৩. শাফাআত করার অনুমতি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَه۫ إِلَّا بِإِذْنِه۪



“কে সে যে তাঁর (আল্লাহর) নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া।”(সূরা বাকারাহ ২:২৫৫)



এসব শর্তসাপেক্ষে শাফাআত করা যাবে এবং পাওয়া যাবে। সুতরাং যে সব নামধারী মুসলিম শাফাআত করার ও পাওয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, সেটা তাদের বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘন ছাড়া কিছুই নয়।



আলোচ্য আয়াতে যে শাফাআত নিষিদ্ধের কথা বলা হয়েছে তা বাতিল শাফাআত যা কাফির-মুশরিকদের জন্য প্রযোজ্য।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. বিপদাপদে ও কঠিন মুহূর্তে সালাত ও ধৈর্যের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত।

২. ঈমান ও সৎ আমলের মাধ্যমে জাহান্নামের শাস্তি থেকে নিজেকে রক্ষা করা ওয়াজিব।

৩. কাফির-মুশরিকদের জন্য কিয়ামতের দিন কোন সুপারিশকারী থাকবে না এবং সেদিন কোন বিনিময় চলবে না। অপরপক্ষে ঈমানদারদের জন্য সুপারিশের ব্যবস্থা থাকবে, তবে আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ও সন্তুষ্টি সাপেক্ষে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪৫-৪৬ নং আয়াতের তাফসীর

এ আয়াতে মানুষকে দুনিয়া ও আখেরাতের কাজে ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে।

কর্তব্য পালন করতে এবং নামায পড়তে বলা হয়েছে। রোযা রাখাও হচ্ছে ধৈর্য ধারণ করা। এ জন্যেই রমযান মাসকে ধৈর্যের মাস বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “রোযা অর্ধেক ধৈর্য। ধৈর্যের ভাবার্থ পাপের কাজ হতে বিরত থাকাও বটে। এ আয়াতে যদি ধৈর্যের ভাবার্থ এটাই হয়ে থাকে তবে মন্দ কাজ হতে বিরত থাকাও পুণ্যের কাজ করা এ দুটোরই বর্ণনা হয়ে গেছে। পুণ্যের কার্যসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে নামায। হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ ধৈর্য দু'প্রকার। (১) বিপদের সময় ধৈর্য, (২) পাপের কাজ হতে বিরত থাকার ব্যাপারে ধৈর্য। দ্বিতীয় ধৈর্য প্রথম ধৈর্য হতে উত্তম।' হযরত সাঈদ বিন যুবাইর (রঃ) বলেনঃ প্রত্যেক জিনিস আল্লাহর পক্ষ হতে হয়ে থাকে মানুষের এটা স্বীকার করা, পুণ্য প্রার্থনা করা এবং বিপদের প্রতিদানের ভাণ্ডার আল্লাহর নিকটে আছে এ মনে করার নাম ধৈর্য।' আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ধৈর্যধারণ করলেও আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করা হয়। পুণ্যের কাজে নামায দ্বারা বিশেষ সাহায্য পাওয়া যায়।

স্বয়ং কুরআন মাজীদে ঘোষিত হয়েছেঃ “তোমরা নামায প্রতিষ্ঠিত কর, নিশ্চয় এ নামায সমুদয় নির্লজ্জ ও অশোভনীয় কাজ হতে বিরত রাখে, আর আল্লাহর স্মরণই হচ্ছে শ্রেষ্ঠতম বস্তু।' হযরত হুযাইফা (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখনই কোন কঠিন ও চিন্তাযুক্ত কাজের সম্মুখীন হতেন তখনই তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন।

খন্দকের যুদ্ধে রাতের বেলায় হযরত হুযাইফা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর খেদমতে হাজির হলে তাকে নামাযে দেখতে পান। হযরত আলী (রাঃ) বলেনঃ বদর যুদ্ধের রাত্রে আমরা সবাই শুয়ে গেছি, আর দেখি যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) সারা রাত নামাযে রয়েছেন। সকাল পর্যন্ত তিনি নামায ও প্রার্থনায় লেগে রয়েছেন। তাফসীর-ই-ইবনে জারীরে আছে যে, নবী করীম (সঃ) হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ)-কে দেখতে পান যে, তিনি ক্ষুধার জ্বালায় পেটের ব্যাথায় ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন। তিনি ফারসী ভাষায় তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ (আরবি) অর্থাৎ ‘তোমার পেটে কি ব্যথা আছে?' তিনি বলেনঃ হাঁ।' রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ ‘উঠো, নামায আরম্ভ কর, এতে রোগমুক্তি রয়েছে।

হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) সফরে তার ভাই কাসামের (রাঃ) মৃত্যু সংবাদ পেয়ে (আরবি) (২:১৫৬) পাঠ করতঃ পথের এক ধারে সরে গিয়ে উটকে বসিয়ে দেন এবং নামায শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ নামায পড়ার পর সাওয়ারীর নিকট আসেন এবং এই আয়াত দু’টি পড়তে থাকেন। মোটকথা ধৈর্য ও নামায এ দু'টো দ্বারা আল্লাহর করুণা লাভ করা যায়।

(আরবি)-এর (আরবি) সর্বনামটি কেউ কেউ (আরবি)-এর দিকে ফিরিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলেন যে, এর (আরবি) হচ্ছে (আরবি) অর্থাৎ (আরবি) শব্দটি। যেমন কারূণের ঘটনায় (আরবি)-এর (আরবি) সর্বনামটি এবং মন্দের বিনিময়ে ভাল করার হুকুমে (আরবি) এর (আরবি) সর্বনামটি। ভাবার্থ এই যে, ধৈর্য ও নামায এ দু'টি প্রত্যেকের সাধ্যের মধ্যে নয়। এ অংশ হচ্ছে ঐ দলের জন্যে যারা আল্লাহকে ভয় করে থাকে। অর্থাৎ কুরআনকে মান্যকারী সত্য মুমিন, বিনয়ী, আনুগত্য স্বীকারকারী এবং জান্নাতের অঙ্গীকার ও জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শনের উপর বিশ্বাস স্থাপনকারীরগণই এ বিশেষণে বিশেষিত হবে। যেমন হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এক প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেনঃ ‘এটা খুব কঠিন কাজ। কিন্তু যার উপরে আল্লাহর অনুগ্রহ হয় তার জন্যে সহজ। ইবনে জারীর (রঃ) আয়াতটির অর্থ করতে গিয়ে বলেন যে, এটাও ইয়াহুদীদেরকে লক্ষ্য করেই বলা হয়েছে। কিন্তু স্পষ্ট কথা এই যে, বর্ণনাটি তাদের জন্যে হলেও। আদেশ হিসেবে সাধারণ। আল্লাহই সবচেয়ে বেশী জানেন।

বিনয়ীগণ

সামনে এগিয়ে (আরবি)-এর বিশেষণ বর্ণনা করা হয়েছে, এখানে ধারণা অর্থ বিশ্বাস, যদিও এটা সন্দেহের অর্থেও এসে থাকে। যেমন (আরবি) শব্দটি অন্ধকারের অর্থেও আসে এবং আলোর অর্থেও আসে। অনুরূপভাবে (আরবি) শব্দটি অভিযোগকারী ও অভিযোগের প্রতিকারকারী উভয়ের জন্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এরকম আরও বহু শব্দ আছে যেগুলো দু'টি বিভিন্ন জিনিসের উপর ব্যবহৃত হয়ে থাকে (আরবি) শব্দটি (আরবি) এ অর্থে ব্যবহার আরব কবিদের কবিতায়ও দেখা যায়। স্বয়ং কুরআন মাজীদেরই অন্য স্থানে আছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ ‘পাপীরা জাহান্নাম দেখে বিশ্বাস করে নেবে যে, নিশ্চয় তারা তার মধ্যে পতিত হয়ে যাবে।' (১৮:৫৩) এখানেও (আরবি) শব্দটি (আরবি) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এমন কি হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, কুরআন মাজীদের মধ্যে এরকম প্রত্যেক জায়গাতে শব্দটি (আরবি)-এর (আরবি) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

আবুল আলিয়াও (রঃ) এখানে (আরবি)-এর অর্থ (আরবি) করে থাকেন। হযরত মুজাহিদ (রঃ), সুদ্দী (রঃ), রাবী' বিন আনাস (রঃ) এবং কাতাদারও (রঃ) মত এটাই। ইবনে জুরাইযও (রঃ) এ কথাই বলেন। কুরআন মাজীদের অন্য জায়গায় আছেঃ (আরবি) অর্থাৎ আমার বিশ্বাস ছিল যে, আমাকে হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে (৬৯:২০)।

একটি সহীহ হাদীসে আছে যে, কিয়ামতের দিন এক পাপীকে আল্লাহ তা'আলা বলবেন-“আমি কি তোমাকে স্ত্রী ও সন্তানাদি দেইনি? তোমার প্রতি কি নানা প্রকারের অনুগ্রহ করিনি, ঘোড়া ও উটকে কি তোমার অধীনস্থ করিনি? তোমাকে কি শান্তি, আরাম, আহার্য ও পানীয় দেইনি? সে বলবে-হা', হে প্রভু! এ সব কিছুই ছিল, তখন আল্লাহ বলবেন-“তবে তোমার কি এই জ্ঞান ও বিশ্বাস ছিল না যে, তোমাকে আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে? সে বলবে-হাঁ, হে প্রভু! এর প্রতি আমার বিশ্বাস ছিল। আল্লাহ বলবেন-“তুমি যেমন আমাকে ভুলে গিয়েছিলে তেমনই আমিও তোমাকে ভুলে গেলাম। এ হাদীসেও (আরবি) এ শব্দটি এসেছে এবং (আরবি)-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর আরও বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা ইনশাআল্লাহ (আরবি) (৫৯:১৯)-এর তাফসীরে আসবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।