আল কুরআন


সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 44)

সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 44)



হরকত ছাড়া:

أتأمرون الناس بالبر وتنسون أنفسكم وأنتم تتلون الكتاب أفلا تعقلون ﴿٤٤﴾




হরকত সহ:

اَتَاْمُرُوْنَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَ تَنْسَوْنَ اَنْفُسَکُمْ وَ اَنْتُمْ تَتْلُوْنَ الْکِتٰبَ ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ ﴿۴۴﴾




উচ্চারণ: আতা’মুরূনান্না-ছা বিলবিরবিওয়া তানছাওনা আনফুছাকুম ওয়া আনতুম তাতলূনাল কিতা-বা আফালা-তা‘কিলূন।




আল বায়ান: তোমরা কি মানুষকে ভাল কাজের আদেশ দিচ্ছ আর নিজদেরকে ভুলে যাচ্ছ? অথচ তোমরা কিতাব তিলাওয়াত কর। তোমরা কি বুঝ না?




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৪. তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও, আর নিজেদের কথা ভুলে যাও(১)! অথচ তোমরা কিতাব অধ্যয়ন কর। তবে কি তোমরা বুঝ না?




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দিবে এবং নিজেদের কথা ভুলে যাবে, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর, তবে কি তোমরা বুঝ না?




আহসানুল বায়ান: ৪৪। কি আশ্চর্য! তোমরা নিজেদের বিস্মৃত হয়ে মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও, অথচ তোমরা কিতাব (গ্রন্থ) অধ্যয়ন কর, তবে কি তোমরা বুঝ না?



মুজিবুর রহমান: তোমরা কি লোকদেরকে সৎ কাজে আদেশ করছ এবং তোমাদের নিজেদের সম্বন্ধে বিস্মৃত হচ্ছ? অথচ তোমরা গ্রন্থ পাঠ কর; তাহলে কি তোমরা হৃদয়ঙ্গম করছনা?



ফযলুর রহমান: তোমরা কি মানুষকে সৎকাজ করতে বল আর নিজেদের কথা (নিজেরা তা করতে) ভুলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর। তাহলে কি তোমরা বুদ্ধি খাটাও না?



মুহিউদ্দিন খান: তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভূলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না?



জহুরুল হক: তোমরা কি লোকজনকে ধার্মিকতা করতে আদেশ কর আর নিজের বেলায় স্রেফ ভুলে যাও, অথচ তোমরা ধর্মগ্রন্থ পড়ে থাক? তোমাদের কি কান্ডজ্ঞান নেই?



Sahih International: Do you order righteousness of the people and forget yourselves while you recite the Scripture? Then will you not reason?



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৪. তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও, আর নিজেদের কথা ভুলে যাও(১)! অথচ তোমরা কিতাব অধ্যয়ন কর। তবে কি তোমরা বুঝ না?


তাফসীর:

১. এ আয়াতে ইয়াহুদী আলেমদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। এতে তাদেরকে ভৎসনা করা হচ্ছে যে, তারা তো নিজেদের বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদেরকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করতে এবং ইসলামের উপর স্থির থাকতে নির্দেশ দেয়। এতে বুঝা যায় ইয়াহুদী আলেমগণ দ্বীন ইসলামকে নিশ্চিতভাবে সত্য বলে মনে করতো। কিন্তু নিজেরা প্রবৃত্তির কামনার দ্বারা এমনভাবে প্রভাবিত ছিল যে, ইসলাম গ্রহণ করতে কখনো প্রস্তুত ছিল না। মূলত: তারাই অপরকে পুণ্য ও মংগলের প্রেরণা দেয়, অথচ নিজের ক্ষেত্রে তা কার্যে পরিণত করে না, প্রকৃত প্রস্তাবে তারা সবাই ভৎসনা ও নিন্দাবাদের অন্তর্ভুক্ত।

এ শ্রেণীর লোকদের সম্পর্কে হাদীসে করুণ পরিণতি ও ভয়ংকর শাস্তির প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, মি'রাজের রাতে আমি এমন কিছুসংখ্যক লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, যাদের জিহ্বা ও ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছিল। আমি জিবরীল আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞাসা করলাম, এরা কারা? জিবরীল বললেন, এরা আপনার উম্মতের পার্থিব স্বার্থপূজার উপদেশদানকারী - যারা অপরকে তো সৎকাজের নির্দেশ দিত, কিন্তু নিজের খবর রাখতো না। [মুসনাদে আহমাদ ৩/১২০, সহীহ ইবনে হিব্বান: ৫৩]

অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, কিছুসংখ্যক জান্নাতবাসী অপর কিছুসংখ্যক জাহান্নামবাসীদেরকে অগ্নিদগ্ধ হতে দেখে জিজ্ঞেস করবেন যে, তোমরা কিভাবে জাহান্নামে প্রবেশ করলে, অথচ আল্লাহর কসম, আমরা তো সেসব সৎকাজের দৌলতেই জান্নাত লাভ করেছি, যা তোমাদেরই কাছে শিখেছিলাম? জাহান্নামবাসীরা বলবে, আমরা মুখে অবশ্য বলতাম কিন্তু নিজে তা কাজে পরিণত করতাম না। [বুখারীঃ ৩২৬৭, মুসলিমঃ ২৯৮৯]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: ৪৪। কি আশ্চর্য! তোমরা নিজেদের বিস্মৃত হয়ে মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও, অথচ তোমরা কিতাব (গ্রন্থ) অধ্যয়ন কর, তবে কি তোমরা বুঝ না?


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৪ নং আয়াতের তাফসীর:



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আহলে কিতাবদের একটি ঘৃণিত আচরণের কথা তিরস্কারের সাথে বলেন: তোমরা নিজেরা মানুষদেরকে সৎ (ঈমান ও কল্যাণকর) কাজ করার নির্দেশ দাও অথচ নিজেদের ক্ষেত্রে তা ছেড়ে দাও, তোমরা কি তা বুঝ না? এখানে মানুষের বোধশক্তিকে ‘আকল’বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিকে তার আকল বা বিবেক প্রথমেই তাকে ভাল কাজ করার প্রতি উৎসাহিত করে এবং খারাপ কাজের প্রতি নিরুৎসাহিত করে।



অতএব যে ব্যক্তি অপরকে ভাল কাজের নির্দেশ দেয় কিন্তু নিজে করে না অথবা অপরকে খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করে কিন্তু সে বিরত থাকে না সে ব্যক্তি বিবেকবান নয়।



আয়াতটি যদিও বানী ইসরাঈলের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে কিন্তু তার বিধান সকলের জন্য প্রযোজ্য। (তাফসীরের সা‘দী, পৃ. ২৯)



যারা মানুষদেরকে ভাল কাজের নির্দেশ দেয় কিন্তু নিজেরা জেনেশুনে তার বিপরীত করে তাদের ব্যাপারে কুরআন ও সহীহ হাদীসে তিরস্কার ও শাস্তির কথা এসেছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(یٰٓاَیُّھَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لِمَ تَقُوْلُوْنَ مَا لَا تَفْعَلُوْنَﭑ کَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللہِ اَنْ تَقُوْلُوْا مَا لَا تَفْعَلُوْنَﭒ)



“হে মু’মিনগণ! তোমরা যা কর না তা তোমরা কেন বল? তোমরা যা কর না তোমাদের তা বলা আল্লাহর নিকট অতিশয় অসন্তোষজনক।”(সূরা সফ ৬১:২)



আনাস বিন মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: মি‘রাজের রাতে আমি দেখেছি যে, কতকগুলো লোকের ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে। [রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এরা কারা? বল হল, এরা আপনার উম্মাতের বক্তা যারা মানুষদেরকে সৎ কাজের আদেশ করত এবং নিজেরা করত না। তারা কিতাব পাঠ করত, কিন্তু তারা বুঝত না। (মুসনাদ আহমাদ হা: ১২৮৭৯ হাসান)



অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছে যে, কিয়ামাতের দিন একটি লোককে আনা হবে। যার নাড়ীভুঁড়ি বেরিয়ে আসবে এবং তার চারদিকে ঘুরতে থাকবে। অন্যান্য জাহান্নামীরা তাকে বলবে, জনাব আপনিতো আমাদেরকে ভাল কাজের আদেশ করতেন এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করতেন, আপনার এ অবস্থা কেন? সে বলবে, আফসোস! আমি তোমাদেরকে ভাল কথা বলতাম কিন্তু নিজে আমল করতাম না। আমি তোমাদেরকে খারাপ হতে বিরত রাখতাম কিন্তু নিজে বিরত থাকতাম না। (সহীহ বুখারী হা: ৩২৬৭, সহীহ মুসলিম হা: ২২৯০, ২২৯১)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. অন্যকে ভাল কাজের দিকনির্দেশনা দিয়ে নিজে তা না করা একটি ভয়াবহ অপরাধ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: উপদেশঃ অর্থাৎ কিতাবীদেরকে লক্ষ্য করে বলা হচ্ছে যে, যারা অন্যকে ভাল কাজের আদেশ করে থাকে-অথচ নিজেরা তা পালন করে না। তাদের জন্যে কঠিন শাস্তি রয়েছে-এটা জানা সত্ত্বেও যে কিতাবীরা এ কাজ করছে এটা বড়ই বিস্ময়জনক ব্যাপারই বটে। তাই তাদেরকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে যে, তারা অপরকে যেমন খোদাভীতি ও পবিত্রতার কথা শিক্ষা দিচ্ছে, তাদের নিজেদেরও তার উপর আমল করা উচিত। অপরকে নামায রোযার নির্দেশ দেয়া আর নিজে পালন না করা বড়ই লজ্জার কথা। জনগণকে বলার পূর্বে মানুষের উচিত নিজে আমলকারী হওয়া। অর্থ এও হচ্ছে যে, তারা অন্যদেরকে তো তাদের কিতাবকে অস্বীকার করতে নিষেধ করছে অথচ আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (সঃ) কে অস্বীকার করে নিজেরাই তাদের কিতাবকে অস্বীকার করছে। ভাবার্থ এও হতে পারে যে, তারা অন্যদেরকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বলছে, অথচ ইহলৌকিক ভয়ের কারণে তারা নিজেরাই ইসলাম কবুল করছে না।

হযরত আবু দারদা (রাঃ) বলেন যে, মানুষ পূর্ণ জ্ঞানী হতে পারে না যে পর্যন্ত না সে ঐসব লোকের শত্রু হয়ে যায় যারা আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে থাকে এবং যে পর্যন্ত না সে স্বীয় নাফসের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে যায়। ঐসব ইয়াহুদী ঘুষ পেলে অসত্যকেও সত্য বলে দিতো, কিন্তু নিজেরা ওর উপর আমল করতো না। এ কারণেই আল্লাহ তাদের নিন্দে করেছেন।

একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য

এখানে এটা স্মরণ রাখতে হবে যে, ভাল কাজের নির্দেশ দেয়ার জন্যে তাদেরকে তিরস্কার করা হয়নি, বরং তারা নিজেরা পালন না করার জন্যে তিরস্কৃত হয়েছে। ভাল কথা বলা তো ভালই, বরং এটা তো ওয়াজিব, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে মানুষের নিজেরও তার প্রতি আমল করা উচিত। যেমন হযরত শুআইব (আঃ) বলেছেনঃ ‘আমি এরূপ নই যে, তোমাদেরকে বিরত রাখি আর নিজে করি, আমার উদ্দেশ্য তো হচ্ছে সাধ্যানুসারে সংস্কার সাধন, এবং আমার শক্তি তো আল্লাহর সাহায্যের উপর নির্ভরশীল, আমি তার উপরই ভরসা করি এবং তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি।' সুতরাং ভাল কাজ করতে বলা ওয়াজিব এবং নিজে করাও ওয়াজিব। একটি না করলে অন্যটিও ব্যর্থ হয়ে যাবে তা নয়। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের মত এটাই। যদিও কতকগুলো লোকের মত এই যে, যারা নিজেরা খারাপ কাজ করে তারা যেন অপরকে ভাল কাজের কথা না বলে। কিন্তু এটা সঠিক কথা নয়। আবার এসব লোকের এ আয়াতকে দলীল রূপে পেশ করা মোটেই ঠিক নয়। বরং সঠিক কথা এটাই যে, ভাল কাজের নির্দেশ দেবে এবং মন্দ কাজ হতে বিরত রাখবে এবং নিজেও পালন করবে ও বিরত থাকবে। যদি দু'টোই ছেড়ে দেয় তবে দ্বিগুণ পাপী হবে এবং একটি ছাড়লে একগুণ পাপী হবে।

আমলহীন উপদেশ দাতার শাস্তি

তিরানী (রঃ)-এর মু'জিম কাবীর’-এ আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ ‘যে আলেম জনগণকে ভাল কথা শিক্ষা দেয় কিন্তু নিজে আমল করে না তার দৃষ্টান্ত ঐ প্রদীপের মত যে লোক তার আলো দ্বারা উপকার লাভ করে কিন্তু তা নিজে পুড়ে থাকে। এ হাদীসটি গরীব বা দুর্বল।

মুসনাদ-ই-আহমাদের হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ মিরাজের রাত্রে আমি দেখেছি যে, কতকগুলো লোকের ওষ্ঠ আগুনের কাঁচি দ্বারা কাটা হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম যে, এরা কারা? তখন আমাকে বলা হলো যে, এরা আপনার উম্মতের বক্তা, উপদেশ দাতা ও আলেম। এরা মানুষকে ভাল কথা শিক্ষা দিতো কিন্তু নিজে আমল করতো না, জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও বুঝতো না। অন্য হাদীসে আছে যে, তাদের জিহ্বা ও ওষ্ঠ উভয়ই কাটা হচ্ছিল। হাদীসটি বিশুদ্ধ।

ইবনে হিব্বান (রঃ), ইবনে আবি হাতিম, ইবনে মিরদুওয়াই প্রভৃতি মনীষীদের লিখিত কিতাবের মধ্যে এটা বিদ্যমান আছে। আবু অল (রঃ) বলেন যে, একদা হযরত উসামা (রাঃ) কে বলা হয়ঃ আপনি হযরত উসমান (রাঃ) কে কিছু বলেন না? তিনি উত্তরে বলেনঃ “আপনাদেরকে শুনিয়ে বললেই কি শুধু বলা হবে? আমি তো গোপনে তাকে সব সময়েই বলে আসছি। কিন্তু আমি কোন কাজ ছড়াতে চাইনে। আল্লাহর শপথ! আমি কোন লোককে সর্বোত্তম বলবো না। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন একটি লোককে আনা হবে এবং তাকে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে। তার নাড়ীভূড়ি বেরিয়ে আসবে এবং সে তার চারদিকে ঘুরতে থাকবে। অন্যান্য দোযখবাসীরা তাকে জিজ্ঞেস করবেঃ জনাব আপনি তো আমাদেরকে ভাল কাজের আদেশ করতেন এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করতেন, আপনার এ অবস্থা কেন?' সে বলবেঃ ‘আফসোস! আমি তোমাদেরকে বলতাম কিন্তু নিজে আমল করতাম না। আমি তোমাদেরকে বিরত রাখতাম কিন্তু নিজে বিরত থাকতাম না। (মুসনাদ-ই-আহমাদ)। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যেও এ বর্ণনাটি আছে।

মুসনাদের আরো একটি হাদীসে আছে যে, আল্লাহ তা'আলা অশিক্ষিতদেরকে যত ক্ষমা করবেন তত ক্ষমা তিনি শিক্ষিতদেরকে করবেন না। কোন কোন হাদীসে এটাও আছে যে, আলেমকে যদি একবার ক্ষমা করা হয় তবে সাধারণ লোককে সত্তর বার ক্ষমা করা হবে। বিদ্ধান ও মূর্খ এক হতে পারে না। কুরআন মাজীদে আছেঃ যারা জানে ও যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? উপদেশ তো জ্ঞানীরাই গ্রহণ করে থাকে। ইবনে আসাকীরের কিতাবের মধ্যে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ জান্নাতবাসীরা জাহান্নামবাসীরদেরকে দেখে বলবে-“আপনাদের উপদেশ শুনেই তো আমরা জান্নাতবাসী হয়েছি, আপনারা জাহান্নামে এসে পড়েছেন কেন? তারা বলবে-আফসোস! আমরা তোমাদেরকে বলতাম বটে, কিন্তু নিজেরা আমল করতাম না।

একটি ঘটনা

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে এক ব্যক্তি বলেনঃ জনাব! আমি ভাল কাজের হুকুম করতে ও মন্দ কাজ হতে জনগণকে বিরত রাখতে চাই।' তিনি বললেনঃ তুমি কি এ ধাপ পর্যন্ত পৌছে গেছো?' লোকটি বলেঃ ‘হ হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ ‘এক স্থানে তো আল্লাহ পাক বলেছেন-'তোমরা জনগণকে ভাল কাজের আদেশ করছো আর নিজেদের সম্বন্ধে বেখবর রয়েছে।' অন্যত্র বলেছেন- তোমরা কেন বলছো যা নিজেরা কর না? আল্লাহর নিকট এটা খুব অসন্তুষ্টির কারণ যে, তোমরা বলবে যা নিজেরা করবে না। অন্য আয়াতে হযরত শুআইব (আঃ)-এর কথাঃ যে কাজ হতে আমি তোমাদেরকে বিরত রাখি তাতে আমি তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করতে চাইনে, আমার উদ্দেশ্য শুধু সাধ্যানুসারে সংস্কার সাধন। আচ্ছা বলতো-তুমি কি এই তিনটি আয়াত হতে নির্ভয়ে রয়েছে?' সে বলেঃ না।' তিনি বলেনঃ তুমি স্বীয় না হতেই আরম্ভ কর (তাফসীর-ই-ইবনে মিরদুওয়াই)। তিবরানীর একটি দুর্বল হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন :“যে জনগণকে কোন কথা বা কাজের দিকে আহ্বান করে এবং নিজে করে না, সে আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির মধ্যে অবস্থান করে যে পর্যন্ত না সে নিজে তার আমলে লেগে যায়। হযরত ইবরাহীম নাখঈ (রঃ) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনাকৃত তিনটি আয়াতকে সামনে রেখে বলেনঃ “এরই কারণে আমি গল্প বলা পছন্দ করি না।'





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।