সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 122)
হরকত ছাড়া:
يا بني إسرائيل اذكروا نعمتي التي أنعمت عليكم وأني فضلتكم على العالمين ﴿١٢٢﴾
হরকত সহ:
یٰبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ اذْکُرُوْا نِعْمَتِیَ الَّتِیْۤ اَنْعَمْتُ عَلَیْکُمْ وَ اَنِّیْ فَضَّلْتُکُمْ عَلَی الْعٰلَمِیْنَ ﴿۱۲۲﴾
উচ্চারণ: ইয়া-বানী ইছরাঈলাযকুরূ নি‘মাতিইয়াল্লাতী আন‘আমতু ‘আলাইকুম ওয়া আন্নী ফাদ্দালতুকুম ‘আলাল ‘আ-লামীন।
আল বায়ান: হে বনী ইসরাঈল, তোমরা আমার নিআমতকে স্মরণ কর, যা আমি তোমাদেরকে দিয়েছি। আর নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি সৃষ্টিকুলের উপর।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১২২. হে ইসরাঈল-বংশধররা! আমার সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আমি তোমাদেরকে দিয়েছি। আর নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি (তৎকালীন) সৃষ্টিকুলের সবার উপর।
তাইসীরুল ক্বুরআন: হে বানী ইসরাঈল! আমার সেই অনুগ্রহ স্মরণ কর, যা আমি তোমাদের প্রতি করেছি এবং আমি তোমাদেরকে বিশ্বজগতের সকলের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।
আহসানুল বায়ান: ১২২। হে ইস্রাঈল-সন্তানগণ! আমার সেই অনুগ্রহকে স্মরণ কর, যা দিয়ে আমি তোমাদেরকে অনুগৃহীত করেছি এবং (তৎকালে) বিশ্বে সকলের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
মুজিবুর রহমান: হে বানী ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে যে সুখ সম্পদ দান করেছি এবং আমি পৃথিবীর উপর তোমাদেরকে যে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি - তোমরা তা স্মরণ কর।
ফযলুর রহমান: হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে যে নেয়ামত দিয়েছি তা স্মরণ করো, আর এটাও স্মরণ করো যে, (অতীতে) আমি তোমাদেরকে সারা বিশ্ববাসীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম।
মুহিউদ্দিন খান: হে বনী-ইসরাঈল! আমার অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা আমি তোমাদের দিয়েছি। আমি তোমাদেরকে বিশ্বাবাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
জহুরুল হক: হে ইসরাইলের বংশধরগণ! আমার নিয়ামত স্মরণ করো যা আমি তোমাদের প্রদান করেছিলাম ও কিভাবে মানবগোষ্ঠীর উপরে তোমাদের মর্যাদা দিয়েছিলাম।
Sahih International: O Children of Israel, remember My favor which I have bestowed upon you and that I preferred you over the worlds.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১২২. হে ইসরাঈল-বংশধররা! আমার সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আমি তোমাদেরকে দিয়েছি। আর নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি (তৎকালীন) সৃষ্টিকুলের সবার উপর।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: ১২২। হে ইস্রাঈল-সন্তানগণ! আমার সেই অনুগ্রহকে স্মরণ কর, যা দিয়ে আমি তোমাদেরকে অনুগৃহীত করেছি এবং (তৎকালে) বিশ্বে সকলের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১২২-১২৪ নং আয়াতের তাফসীর:
১২২ ও ১২৩ নং আয়াতের তাফসীর ৪৯ নং আয়াতে করা হয়েছে।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর খলিল ইবরাহীম (রাঃ) সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি ইবরাহীমকে কিছু “কালিমা” দ্বারা পরীক্ষা করেছেন। এ আয়াত “كلمات” বা বাক্য দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে সে সম্পর্কে মুফাসসিরদের কয়েকটি মত পাওয়া যায়। যেমন:
১. ইবনু আব্বাস (রাঃ)-সহ কয়েকজন সাহাবী বলেন: বাক্যগুলো হল- “الطهارة” বা পবিত্রতা। ৫টি শরীরের সাথে সম্পৃক্ত আর ৫টি মাথার সাথে সম্পৃক্ত।
মাথার সাথে সম্পৃক্তগুলো হচ্ছে: ১. গোঁফ খাট করা, ২. কুলি করা, ৩. নাক পরিস্কার করা ৪. মিসওয়াক করা এবং ৫. মাথা সিঁথি করা।
শরীরের সাথে সম্পৃক্তগুলো হচ্ছে: ১. নখ কাটা, ২. নাভীর নিচের লোম পরিস্কার করা, ৩. খাৎনা করা, ৪. বগলের পশম তোলা এবং ৫. শৌচকার্য করা।
এ কথা সহীহ মুসলিমের হাদীসের সাথে সামঞ্জস্যশীল। (সহীহ মুসলিম হা: ২৬১)
হাসান বসরী বলেন: তাঁকে পরীক্ষা করেছেন কতগুলো নির্দেশ দ্বারা; তিনি তাতে ধৈর্য ধারণ করেছেন। যেমন, নক্ষত্র, সূর্য, চন্দ্র ইত্যাদি। (তাফসীর ইবনে কাসীর, ১ম খণ্ড, ৩৬০)
কেউ বলেছেন, বাক্যগুলো হল কতগুলো আদেশ ও নিষেধ। (তাফসীরে সা‘দী, পৃঃ ৪৫, তাফসীরে মুয়াসসমার: ১৯)
সঠিক কথা হল- বাক্যসমূহ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, শরীয়তের বিধি-বিধান। যেমন হজ্জ ও হিজরতের বিধান এবং নমরুদের আগুনে নিক্ষেপ ইত্যাদি।
তবে হাফিয ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন: আমার কাছে গ্রহণযোগ্য কথা হল আল্লাহ তা‘আলা যেসকল বাক্য দ্বারা ইবরাহীমকে পরীক্ষা করেছেন তা পরেই উল্লেখ করে দিয়েছেন অর্থাৎ ইবরাহীমকে আল্লাহ তা‘আলা বললেন- “আমি তোমাকে সমগ্র মানব জাতির জন্য ইমাম বা নেতা বানাবো।
ইবরাহীম (আঃ) নিজ বংশধরের জন্য দু‘আ করলেন। আল্লাহ তা‘আলা জবাবে বললেন, কোন যালিমকে আমি ‘মিল্লাতে ইবরাহীমের ইমামতের দায়িত্বে নিয়োগ করব না।”
“আমার অঙ্গীকার অত্যাচারীদের প্রতি প্রযোজ্য হবে না” অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম (আঃ)-এর দু‘আ কবূল করে তাঁর বংশে নবুওয়াত ও কিতাব দান করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَجَعَلْنَا فِيْ ذُرِّيَّتِهِ النُّبُوَّةَ وَالْكِتٰبَ)
“তার বংশধরদের দিলাম নবূওয়াত ও কিতাব।”(সূরা আনকাবুত ২৯:২৭)
তাই আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম (আঃ)-এর পরবর্তীতে যত নাবী ও কিতাব প্রেরণ করেছেন সবই তাঁর বংশধরের মাঝেই প্রেরণ করেছেন। কিন্তু ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহ তা‘আলার কাছে এত মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বংশে যারা জালিম ও মুশরিক হবে তাদের কেউ আল্লাহ তা‘আলার এ প্রতিশ্র“তি পাবে না। যদি ঈমান ও সৎ আমল না থাকে তাহলে বাপ-দাদা যত বড় নাবী বা ওলী হোক আল্লাহ তা‘আলার নিকট তার কোন মূল্য নেই। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: যার আমল তাকে পিছিয়ে দিয়েছে তার বংশ মর্যাদা তাকে এগিয়ে দিতে পারবে না। (সহীহ মুসলিম হা: ২৬৯৯)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. ঈমানের দিক দিয়ে মানুষ যত বড় তার পরীক্ষাও তত বড় হয়ে থাকে।
২. কোন যালিম ও মুশরিক ইসলামী খেলাফতের উপযুক্ত নয়।
৩. যারা ঈমান, আমল, ইলম ও ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত তাদের নিকট থেকে খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের প্রতিশ্র“তি নেয়া যাবে।
৪. নিজের ঈমান ও আমল না থাকলে বংশ মর্যাদা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: এরূপ আয়াত পূর্বেও বর্ণিত হয়েছে এবং এর বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে। এখানে শুধুমাত্র গুরুত্ব আরোপের জন্যেই বর্ণিত হয়েছে। তাদেরকে সেই নিরক্ষর নবীর (সঃ) আনুগত্যের উৎসাহ দেয়া হয়েছে, যার গুণাবলীর বিবরণ তারা তাদের কিতাবে পেয়েছে। তার নাম ও কার্যাবলীর বর্ণনাও তাতে রয়েছে। এমনকি তাঁর উম্মতের বর্ণনাও তাতে বিদ্যমান আছে। সুতরাং তাদেরকে তা গোপন করা হতে এবং অন্যান্য নিয়ামতের কথা ভুলে যাওয়া হতে ভয় প্রদর্শন করা হচ্ছে। তাদেরকে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক নিয়ামতসমূহ বর্ণনা করতে বলা হচ্ছে এবং আরবের বংশ পরম্পরায় যিনি তাদের চাচাতো ভাই হচ্ছেন, তাঁকে যে শেষ নবী করে পাঠান হয়েছে, এজন্যে তারা যেন তাঁর প্রতি হিংসা পোষণ করতঃ তাকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন না করে এবং তাঁর বিরোধিতা না করে তাদেরকে এরই উপদেশ দেয়া হচ্ছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।