আল কুরআন


সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 114)

সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 114)



হরকত ছাড়া:

ومن أظلم ممن منع مساجد الله أن يذكر فيها اسمه وسعى في خرابها أولئك ما كان لهم أن يدخلوها إلا خائفين لهم في الدنيا خزي ولهم في الآخرة عذاب عظيم ﴿١١٤﴾




হরকত সহ:

وَ مَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ مَّنَعَ مَسٰجِدَ اللّٰهِ اَنْ یُّذْکَرَ فِیْهَا اسْمُهٗ وَ سَعٰی فِیْ خَرَابِهَا ؕ اُولٰٓئِکَ مَا کَانَ لَهُمْ اَنْ یَّدْخُلُوْهَاۤ اِلَّا خَآئِفِیْنَ ۬ؕ لَهُمْ فِی الدُّنْیَا خِزْیٌ وَّ لَهُمْ فِی الْاٰخِرَۃِ عَذَابٌ عَظِیْمٌ ﴿۱۱۴﴾




উচ্চারণ: ওয়ামান আজলামু মিম্মাম মানা‘আ মাছা-জিদাল্লা-হি আইঁ ইউযকারা ফীহাছমুহূওয়া ছা‘আ-ফী খারা-বিহা- উলাইকা মা-কা-না লাহুম আইঁ উয়াদখুলূহাইল্লা-খাইফীন লাহুম ফিদ্দুনইয়া-খিযয়ুউঁ ওয়া লাহুম ফিল আ-খিরাতি ‘আযা-বুন ‘আজীম।




আল বায়ান: আর তার চেয়ে অধিক যালেম কে, যে আল্লাহর মাসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বাধা প্রদান করে এবং তা বিরাণ করতে চেষ্টা করে? তাদের তো উচিৎ ছিল ভীত হয়ে তাতে প্রবেশ করা। তাদের জন্য দুনিয়ায় রয়েছে লাঞ্ছনা আর আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে মহাআযাব।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১৪. আর তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদগুলোতে তার নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং এগুলো বিরাণ করার চেষ্টা করে? অথচ ভীত-সন্ত্রস্ত না হয়ে তাদের জন্য সেগুলোতে প্রবেশ করা সঙ্গত ছিল না। দুনিয়াতে তাদের জন্য লাঞ্ছনা ও আখেরাতে রয়েছে মহাশাস্তি।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তার চেয়ে বড় যালেম কে, যে ব্যক্তি আল্লাহর মাসজিদগুলোতে আল্লাহর নাম নিতে বাধা দেয় এবং ওগুলোর ধ্বংস সাধনের চেষ্টা করে? অথচ ভয়ে ভীত না হয়ে তাদের জন্য মাসজিদে প্রবেশ সঙ্গত ছিল না, এদের জন্য দুনিয়াতে আছে লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।




আহসানুল বায়ান: ১১৪। যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয়[1] ও তার ধ্বংস-সাধনে প্রয়াসী হয়, [2] তার থেকে বড় সীমালংঘনকারী আর কে হতে পারে? অথচ ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছাড়া তাদের জন্য মসজিদে প্রবেশ করা সঙ্গত নয়।[3] তাদের জন্য ইহকালে লাঞ্ছনা ভোগ ও পরকালে মহা শাস্তি রয়েছে।



মুজিবুর রহমান: এবং যে আল্লাহর মাসজিদসমূহের মধ্যে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে নিষেধ করছে এবং তা উজাড় করতে চেষ্টা করছে সে অপেক্ষা কে অধিক অত্যাচারী? তাদের পক্ষে উপযুক্ত নয় যে, তারা শংকিত হওয়া ব্যতীত তন্মধ্যে প্রবেশ করে; তাদের জন্য ইহলোকে দুর্গতি এবং পরলোকে কঠোর শাস্তি রয়েছে।



ফযলুর রহমান: যে ব্যক্তি আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং তা ধ্বংসের পাঁয়তারা করে তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে? এ ধরনের লোকদের তো সেখানে নির্ভয়ে প্রবেশ করারই কথা নয়। তাদের জন্য দুনিয়াতে লাঞ্ছনা আর আখেরাতে বড় রকমের শাস্তি নির্ধারিত আছে।



মুহিউদ্দিন খান: যে ব্যাক্তি আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে, তার চাইতে বড় যালেম আর কে? এদের পক্ষে মসজিদসমূহে প্রবেশ করা বিধেয় নয়, অবশ্য ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায়। ওদের জন্য ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে।



জহুরুল হক: আর তার চাইতে কে বেশী অন্যায়কারী যে আল্লাহ্‌র মসজিদসমূহে বাধা দেয় এইজন্য যে সে-সবে তাঁর নাম স্মরণ করা হবে, আর চেষ্টা করে সে-সবের অনিষ্ট সাধনে? এদের ক্ষেত্রে, তাদের জন্য নয় যে তারা এ-সবে দাখিল হয় ভয়াতুর না হয়ে। তাদের জন্য এই দুনিয়াতে আছে অপমান, আর পরকালে তাদের জন্য কঠোর শাস্তি।



Sahih International: And who are more unjust than those who prevent the name of Allah from being mentioned in His mosques and strive toward their destruction. It is not for them to enter them except in fear. For them in this world is disgrace, and they will have in the Hereafter a great punishment.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১১৪. আর তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদগুলোতে তার নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং এগুলো বিরাণ করার চেষ্টা করে? অথচ ভীত-সন্ত্রস্ত না হয়ে তাদের জন্য সেগুলোতে প্রবেশ করা সঙ্গত ছিল না। দুনিয়াতে তাদের জন্য লাঞ্ছনা ও আখেরাতে রয়েছে মহাশাস্তি।(১)


তাফসীর:

(১) ইসলাম-পূর্বকালে ইয়াহুদীরা ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম-কে হত্যা করলে নাসারারা তার প্রতিশোধ গ্রহণে বদ্ধপরিকর হয়। তারা ইরাকের একজন অগ্নি-উপাসক সম্রাটের সাথে মিলিত হয়ে ইয়াহুদীদের উপর আক্রমণ চালায় - তাদের হত্যা ও লুন্ঠন করে, তাওরাতের কপিসমূহ জ্বলিয়ে ফেলে, বায়তুল মুকাদ্দাসে আবর্জনা ও শুকর নিক্ষেপ দেয়। এতে ইয়াহুদীদের শক্তি পদদলিত ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল পর্যন্ত বায়তুল মুকাদ্দাস এমনিভাবে পরিত্যক্ত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় ছিল। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর খেলাফত আমলে যখন সিরিয়া ও ইরাক বিজিত হয়, তখন তারই নির্দেশক্রমে বায়তুল মুকাদ্দাস পুনঃনির্মিত হয়। এরপর দীর্ঘকাল পর্যন্ত সমস্ত সিরিয়া ও বায়তুল-মুকাদ্দাস মুসলিমদের অধিকারে ছিল। অতঃপর বায়তুল-মুকাদ্দাস মুসলিমদের হস্তচ্যুত হয় এবং প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল পর্যন্ত ইউরোপীয় নাসারাদের অধিকারে থাকে। অবশেষে হিজরী ষষ্ট শতকে সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বায়তুল-মুকাদ্দাস পুনরুদ্ধার করেন। এ আয়াত থেকে কতিপয় প্রয়োজনীয় মাসআলা ও বিধানও প্রমাণিত হয়।

প্রথমতঃ শিষ্টতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিশ্বের সকল মসজিদ একই পর্যায়ভুক্ত। বায়তুল-মুকাদ্দাস, মসজিদে হারাম ও মসজিদে-নববীর অবমাননা, যেমনি বড় যুলুম, তেমনি অন্যান্য মসজিদের বেলায়ও তা সমভাবে প্রযোজ্য। তবে এই তিনটি মসজিদের বিশেষ মাহাত্ম্য ও সম্মান স্বতন্ত্রভাবে স্বীকৃত। এক সালাতের সওয়াব মসজিদে হারামে একলক্ষ সালাতের সমান এবং মসজিদে নববীতে এক হাজার সালাতের সমান। আর বায়তুল-মুকাদ্দাস মসজিদে পাঁচশত সালাতের সমান। এই তিন মসজিদে সালাত আদায় করার উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে সেখানে পৌছা বিরাট সওয়াব ও বরকতের বিষয়। কিন্তু অন্য কোন মসজিদে নেই।

দ্বিতীয়তঃ মসজিদে যিকর ও সালাতে বাধা দেয়ার যত পন্থা হতে পারে সে সবগুলোই হারাম। তন্মধ্যে একটি প্রকাশ্য পন্থা এই যে, মসজিদে গমন করতে অথবা সেখানে সালাত আদায় ও তিলাওয়াত করতে পরিস্কার ভাষায় নিষেধাজ্ঞা প্রদান। দ্বিতীয় পন্থা এই যে, মসজিদে হট্টগোল করে অথবা আশে-পাশে গানবাজনা করে মুসল্লীদের সালাত আদায় ও যিকরে বিঘ্ন সৃষ্টি করা।

তৃতীয়তঃ মসজিদ জনশূন্য করার জন্য সম্ভবপর যত পন্থা হতে পারে সবই হারাম। খোলাখুলিভাবে মসজিদকে বিধ্বস্ত করা ও জনশূন্য করা যেমনি এর অন্তর্ভুক্ত তেমনিভাবে এমন কারণ সৃষ্টি করাও এর অন্তর্ভুক্ত, যার ফলে মসজিদ জনশূন্য হয়ে পড়ে। মসজিদ জনশূন্য হওয়ার অর্থ এই যে, সেখানে সালাত আদায় করার জন্য কেউ আসে না কিংবা সালাত আদায়কারীর সংখ্যা হ্রাস পায়।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: ১১৪। যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয়[1] ও তার ধ্বংস-সাধনে প্রয়াসী হয়, [2] তার থেকে বড় সীমালংঘনকারী আর কে হতে পারে? অথচ ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছাড়া তাদের জন্য মসজিদে প্রবেশ করা সঙ্গত নয়।[3] তাদের জন্য ইহকালে লাঞ্ছনা ভোগ ও পরকালে মহা শাস্তি রয়েছে।


তাফসীর:

[1] যারা মসজিদে আল্লাহর যিকর করতে বাধা দান করেছিল, তারা কারা? তাদের ব্যাপারে মুফাসসিরদের দু'টি মত রয়েছে। একটি মত হল, এ থেকে খ্রিষ্টানদেরকে বুঝানো হয়েছে। যারা রোমসম্রাটের সাথে সাথ দিয়ে ইয়াহুদীদেরকে বায়তুল মুক্বাদ্দাসে নামায পড়তে বাধা দিয়েছিল এবং তার বিনাশ সাধনে অংশ নিয়েছিল। ইবনে জারীর ত্বাবারী এই মতকেই পছন্দ করেছেন। কিন্তু হাফেয ইবনে কাসীর এই মতের বিরোধিতা করে বলেন, এ থেকে মক্কার মুশরিকদের বুঝানো হয়েছে। তারা নবী করীম (সাঃ) ও তাঁর সাহাবাদেরকে মক্কা থেকে বের হতে বাধ্য করেছিল এবং কাবা শরীফে মুসলিমদেরকে ইবাদত করতে বাধা দিয়েছিল। আবার হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় একই আচরণের পুনরাবৃত্তি করে বলেছিল যে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের হত্যাকারীদেরকে মক্কায় প্রবেশ করতে দেবো না, অথচ কাবা শরীফে ইবাদত করতে বাধা দেওয়ার অনুমতি ও তার প্রচলন ছিল না।

[2] বিনাশ ও ধ্বংস সাধনের অর্থ শুধু এই নয় যে, তা ভেঙ্গে দেওয়া হোক বা ইমারতের অনিষ্ট করা হোক, বরং সেখানে আল্লাহর ইবাদত ও যিকর করতে না দেওয়া, শরীয়ত প্রতিষ্ঠা করতে এবং শিরকীয় কার্যকলাপ থেকে পবিত্র করতে না দেওয়াও আল্লাহর ঘরের বিনাশ ও ধ্বংস সাধন করার শামিল।

[3] এখানে শব্দগুলো ঘোষণামূলক হলেও এর অর্থ হবে বাঞ্ছনার। অর্থাৎ, যখন মহান আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিষ্ঠা ও বিজয় দান করবেন, তখন তোমরা মুশরিকদেরকে সেখানে সন্ধি ও জিযিয়াকর ব্যতীত সেখানে (প্রবেশ বা) অবস্থান করার অনুমতি না দেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। তাই যখন ৮ম হিজরীতে মক্কা বিজয় হল, তখন নবী করীম (সাঃ) ঘোষণা করলেন যে, আগামী বছর কোন মুশরিক কাবায় এসে হজ্জ করার এবং উলঙ্গ তওয়াফ করার অনুমতি পাবে না এবং যার সাথে যে চুক্তি আছে, সে চুক্তির (নির্ধারিত) সময় পর্যন্ত সে এখানে থাকার অনুমতি পাবে। কেউ বলেছেন, এটা একটা সুসংবাদ ও ভবিষ্যদ্বাণী যে, অতি সত্বর মুসলিমরা জয়লাভ করবে এবং মুশরিকরা এই ভেবে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে প্রবেশ করবে যে, আমরা মুসলিমদের উপর যে যুলুম-অত্যাচার করেছি তার বদলায় হয়তো আমাদেরকে শাস্তি ও হত্যারও শিকার হতে হবে। বলা বাহুল্য, অতি সত্বর এই সুসংবাদ বাস্তবে রূপান্তরিত হয়।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১১৩ ও ১১৪ নং আয়াতের তাফসীর:



শানে নুযূল:



ইবনু আবি হাতিম ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যখন নাজরানের খ্রিস্টান প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আগমন করল তখন ইয়াহূদী পণ্ডিতগণ এসে তাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়ে গেল। তখন রাফে বিন হুরাইমালা বলল- তোমরা কোন ধর্মের ওপরই নও। কেননা তোমরা ঈসা ও ইঞ্জিলের সাথে কুফরী করেছ। তখন একজন নাজরানবাসী ইয়াহূদীদেরকে বলল- তোমরাও কোন ধর্মের ওপরই নও। কেননা তোমরা মূসা (আঃ)-এর নবুওয়াত ও তাওরাতকে অস্বীকার করেছ। তখন এ আয়াত নাযিল হয়। (তাফসীর ইবনে কাসীর ১/৩৩৮, লুবাবন নুকূল ফি আসবাবে নুযূল, পৃঃ ২৭)



অর্থাৎ ইয়াহূদীরা তাওরাত পড়ত। তাতে মূসা (আঃ)-এর জবানে ঈসা (আঃ)-এর সত্যায়ন বিদ্যমান, তা সত্ত্বেও ইয়াহূদীরা ঈসা (আঃ) কে অস্বীকার করে। খ্রিস্টানদের কাছে ইনজিল বিদ্যমান, তাতে মূসা (আঃ) এবং তাওরাত যে আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে আগত সে কথার সত্যায়ন রয়েছে, তা সত্ত্বেও এরা ইয়াহূদীদেরকে কাফির মনে করে। এ হল ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানদের পরস্পরের প্রতি হিংসার বহিঃপ্রকাশ, যার কারণে তারা একে অপরকে পথভ্রষ্ট ও কাফির বলে।



(كَذٰلِكَ قَالَ الَّذِيْنَ لَا يَعْلَمُوْنَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ)



‘এভাবে যারা জানে না, তারাও ওদের কথার মত কথা বলে থাকে’অর্থাৎ আহলে কিতাবদের মোকাবেলায় আরবের মুশরিকরা নিরক্ষর (অশিক্ষিত) ছিল। আর এ জন্যই তাদেরকে ‘অজ্ঞ’বলা হয়েছে। কিন্তু তারা মুশরিক হওয়া সত্ত্বেও ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানদের মত এ মিথ্যা ধারণায় মত্ত ছিল যে, তারাই নাকি হক্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর এ জন্যই তারা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সাবেয়ী বা বেদীন বলত।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন: কারা সঠিক দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত আর কারা প্রতিষ্ঠিত নয় তা নিয়ে নিজেদের মাঝে ঝগড়া করার প্রয়োজন নেই বরং তিনি কিয়ামতের দিন এ বিষয়ে ফায়সালা করে দেবেন। যেমন অন্যত্র বলেন:



(اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَالَّذِیْنَ ھَادُوْا وَالصَّابِئِیْنَ وَالنَّصٰرٰی وَالْمَجُوْسَ وَالَّذِیْنَ اَشْرَکُوْٓاﺣ اِنَّ اللہَ یَفْصِلُ بَیْنَھُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِﺚ اِنَّ اللہَ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ شَھِیْدٌ)



“যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইয়াহূদী হয়েছে, যারা সাবিয়ী, খৃষ্টান ও অগ্নিপূজক এবং যারা মুশরিক হয়েছে ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেবেন। আল্লাহ সমস্ত‎ কিছুর সম্যক প্রত্যক্ষকারী।”(সূরা হজ্জ ২২:১৭)



(وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ)



‘‘আর তার চেয়ে বড় জালিম আর কে আছে’’আয়াতের শানে নুযূল: এর শানে নুযূলের ব্যাপারে দু’টি মত পাওয়া যায়। যথা:



১. ৬ষ্ঠ হিজরীতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন উমরা করতে যান তখন মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যে বাধা প্রদান করেছিল, সে ব্যাপারে নাযিল হয়। এর প্রমাণ বহন করে এ বাণী:



(هُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ)



“এরাই তো ঐ লোক, যারা কুফরী করেছে ও তোমাদেরকে মাসজিদুল হারাম থেকে ফিরিয়ে রেখেছে”(সূরা ফাতহ ৪৮:২৫)



এ অর্থে মাসজিদ ধ্বংস করার অর্থ হলো: মাসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া।



২. বখতে নসর ও অন্যান্যরা যে বাইতুল মাকদাসকে নষ্ট ও জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছিল সে ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। এর প্রমাণ বহন করে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(فَاِذَا جَا۬ئَ وَعْدُ الْاٰخِرَةِ لِیَسُوْ۬ءۭا وُجُوْھَکُمْ وَلِیَدْخُلُوا الْمَسْجِدَ کَمَا دَخَلُوْھُ اَوَّلَ مَرَّةٍ وَّلِیُتَبِّرُوْا مَا عَلَوْا تَتْبِیْرًا)



“অতঃপর পরবর্তী নির্ধারিত কাল উপস্থিত হলে আমি আমার বান্দাদেরকে প্রেরণ করলাম তোমাদের মুখমণ্ডল কালিমাচ্ছন্ন করার জন্য, প্রথমবার তারা যেভাবে মাসজিদে প্রবেশ করেছিল পুনরায় সেভাবেই তাতে প্রবেশ করার জন্য এবং তারা যা অধিকার করেছিল তা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার জন্য।”(সূরা ইসরা ১৭:৭) (আযওয়াউল বায়ান ১/৮৯)



প্রথম বর্ণনাটি অধিক গ্রহণযোগ্য। আর এটাই অধিকাংশ মুফাসসিরগণ বর্ণনা করেছেন। ইবনু কাসীরেও এ বর্ণনা আছে। (তাফসীর ইবনে কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)



যারা মাসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয় ও মাসজিদ ধ্বংস করে তারা কারা? এ সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়: তবে সঠিক হল তারা আরবের মুশরিকগণ। (তাফসীর ইবনে কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)



তারা যারাই হোক তাদের জন্য দুনিয়াতে রয়েছে অপমান আর আখিরাতে রয়েছে মহা শাস্তি।



(أُولٰ۬ئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَنْ يَّدْخُلُوْهَآ إِلَّا خَا۬ ئِفِيْنَ)



এ ধরণের ব্যক্তিদেরকে ভীত অবস্থায়ই তাতে প্রবেশ করা উচিত” এখানে শব্দগুলো সংবাদমূলক হলেও উদ্দেশ্য হল আদেশ। অর্থাৎ যখন আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে প্রতিষ্ঠা ও বিজয় দান করবেন তখন তোমরা মুশরিকদেরকে সেখানে সন্ধি ও জিযিয়া-কর ছাড়া প্রবেশ বা অবস্থান করার অনুমতি দেবে না।



তাই ৮ম হিজরীতে মক্কা বিজয়ের পর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোষণা দিলেন, আগামী বছর থেকে কোন মুশরিক কাবায় হজ্জ ও উলঙ্গ অবস্থায় তাওয়াফ করতে পারবে না। (সহীহ বুখারী হা: ৩৭৯) তবে যার সাথে চুক্তি আছে সে চুক্তির সময় পর্যন্ত এখানে থাকার অনুমতি পাবে।



কেউ বলেছেন: এটা একটা সুসংবাদ ও ভবিষ্যদ্বাণী যে, অতি সত্বর মুসলিমরা জয়লাভ করবে এবং মুশরিকরা এ ভেবে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে প্রবেশ করবে যে, আমরা মুসলিমদের ওপর জুলুম-অত্যাচার করেছি তার বদলায় হয়তো তারা আমাদেরকে শাস্তি দিতে ও হত্যাও করতে পারে। বলা বাহুল্য অতি সত্বর এ সুসংবাদ বাস্তবে রূপান্তরিত হয়।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. দীন তিন স্তরের (ঈমান, ইসলাম ও ইহসান) ওপর প্রতিষ্ঠিত, এটাই জাহান্নাম হতে নাজাত ও জান্নাত লাভের একমাত্র মাধ্যম।

২. মাসজিদ ধ্বংস করা অথবা ইবাদতে বাধা দেয়া বড় ধরণের অপরাধ।

৩. কাফির-মুশরিকদের থেকে মাসজিদ রক্ষা করা ওয়াজিব।

৪. মুসলিমদের অন্যান্য জাতির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জানলাম।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: এ আয়াতের তাফসীরে দু'টি উক্তি রয়েছে। প্রথম উক্তি এই যে, এর দ্বারা খ্রীষ্টানকে বুঝানো হয়েছে। দ্বিতীয় উক্তিতে ভাবার্থ হচ্ছে মুশরিক। খ্রীষ্টানেরাও বায়তুল মুকাদ্দাসের মসজিদে অপবিত্র জিনিস নিক্ষেপ করতো এবং জনগণকে তার ভিতরে নামায পড়তে বাধা প্রদান করতো। বাখতে নসর যখন বায়তুল মুকাদ্দাস ধ্বংস করার জন্য আক্রমণ চালায় তখন খ্রীষ্টানেরা তার সঙ্গে যোগ দিয়েছিল এবং তাকে সর্বপ্রকার সাহায্য করেছিল।

বাখতে নসরের ইতিহাস এবং বায়তুল মুকাদ্দাসের উপর তার ভয়াবহ আক্রমণ

বাখতে নসর ছিল বাবেলের অধিবাসী এবং জাতিতে সে মাজুস ছিল। বানী ইসরাঈলের প্রতি হিংসা বশতঃ এবং তারা হযরত ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়াকে (আঃ) হত্যা করেছিল বলে খ্রীষ্টানেরাও তার সাথে যোগ দিয়েছিল। হুদাইবিয়ার সন্ধির বছর মুশরিকরাও রাসূলুল্লাহ (সঃ)কে কা'বা শরীফে যেতে বাধা দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে যি তাওয়া নামক স্থানে কুরবানী করতে হয়েছিল। মুশরিকদের সঙ্গে সন্ধি করে রাসূলুল্লাহ (সঃ) সেখান হতে ফিরে এসেছিলেন। অথচ ওটা একটা নিরাপদ স্থান ছিল। পিতা-ভ্রাতার হত্যাকারীকেও কেউ তথায় স্পর্শ করতো না। তাদেরও এক মাত্র উদ্দেশ্য ছিল ওটাকে ধ্বংস করা এবং আল্লাহর যিকর হতে ও হজ্জ এবং উমরাব্রত পালনকারী মুসলিম দলকে বাধা দেয়া। হযরত ইবনে আব্বাসের (রাঃ) এটাই উক্তি।

ইবনে জারীর (রাঃ) প্রথম উক্তিকেই সঠিক বলেছেন এবং যুক্তি দেখিয়েছেন যে, মুশরিকরা (রঃ) কা'বা শরীফ ধ্বংস করার চেষ্টা করতো না, বরং খ্রীষ্টানেরাই বাইতুল মুকাদ্দাস ধ্বংস করার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দ্বিতীয় উক্তিটিই সঠিক। ইবনে যায়েদ (রঃ) ও হযরত আব্বাসেরও (রাঃ) এটাই উক্তি।

এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, যখন খ্রীষ্টানেরা ইয়াহুদীদেরকে বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করতে বাধা দেয় তখন ইয়াহুদীরাও বে-দ্বীন হয়ে পড়ছিল। তাদের উপর তো হযরত দাউদ (আঃ) এবং হযরত ঈসার (আঃ) বদ-দু'আ ছিল। তারা অবাধ্য ও সীমা অতিক্রমকারী হয়ে গিয়েছিল। বরং খ্রীষ্টানেরাই হযরত ঈসার (আঃ) ধর্মের উপর ছিল।

এর দ্বারা জানা যাচ্ছে যে, এ আয়াত দ্বারা মক্কার মুশরিকদেরকেই বুঝানো হয়েছে। তা ছাড়া এ ভাবার্থ নেওয়ার এটাও একটা কারণ যে, উপরে ইয়াহুদী ও খ্রষ্টানদের নিন্দের কথা বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এখানে আরবের মুশকিরদের বদ অভ্যাসের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)কে এবং তার সহচরবৃন্দকে (রাঃ) মক্কা থেকে বের করে দেয় এবং হজব্রত ও উমরাব্রত পালন। করতে বাধা দেয়।

বায়তুল্লাহ শরীফের বিধ্বস্তির একটা নতুন বর্ণনাক্রমিক তালিকা

ইমাম ইবনে জারীরের (রঃ) মক্কার মুশরিকেরা বায়তুল্লাহর বিধ্বস্তির চেষ্টা করেনি' এই উক্তির উত্তর এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও তাঁর সহচরবৃন্দকে (রাঃ) মক্কা হতে বিতাড়িত করা এবং পবিত্র কা'বার মধ্যে মূর্তি স্থাপন করার চাইতে বড় ধ্বংস আর কি হতে পারে? স্বয়ং কুরআন পাকে ঘোষিত হচ্ছেঃ (আরবি) অর্থাৎ তারা মসজিদ-ই-হারাম হতে বাধা প্রদান করে।' (৮:৩৪) অন্য স্থানে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ‘এসব লোক মাসজিদ-ই-হারাম হতে বাধা দিয়ে থাকে। অন্যত্র বলেনঃ ‘মুশরিকদের দ্বারা আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ হতে পারে না, তারা নিজেরাই তাদের কুফরীর উপর সাক্ষী, তাদের সমস্ত আমল বিনষ্ট হয়ে গেছে, তারা চিরকালের জন্যে দোযখী। মসজিদসমূহের আবাদ ঐ সব লোকে দ্বারা হয়ে থাকে, যারা আল্লাহর উপর ও কিয়ামতের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, নামায প্রতিষ্ঠিত করে, যাকাত আদায় করে ও শুধুমাত্র আল্লাহকেই ভয় করে, এরাই সঠিক পথ প্রাপ্ত।'

আল্লাহ পাক আর এক জায়গায় বলেনঃ “ঐ সব লোক কুফরীও করেছে এবং তোমাদেরকে (মুসলমানদেরকে) মসজিদ-ই-হারাম হতে বাধাও দিয়েছে কুরবানীর পশুগুলোকে যবাহ হওয়ার স্থান পর্যন্ত পৌছুতেও দেয়নি, আমি ঐসব নর ও নারীর প্রতি যদি লক্ষ্য না করতাম যারা দুর্বলতা ও শক্তিহীনতার কারণে মক্কা হতে বের হতে পারে না, তবে আমি তোমাদেরকে নির্দেশ দিতাম যে, তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদেরকে ধ্বংস করে দেবে, কিন্তু এই নিস্পাপ মুসলমানেরা নিষ্পেষিত হয়ে যাবে বলে আমি সরাসরি এ হুকুম দেইনি; কিন্তু যদি এ কাফিরেরা তাদের দুষ্টামি থেকে বিরত না হয় তবে ঐ সময় দূরে নেই যখন আমার বেদনাদায়ক শাস্তি তাদের প্রতি নিপতিত হবে। সুতরাং ঐ সব মুসলমানকে যখন মসজিদসমূহে প্রবেশ হতে বিরত রাখা হয়েছে, যাদের দ্বারা মসজিদসমূহ আবাদ হয়ে থাকে, তখন মসজিদগুলো ধ্বংস করতে আর বাকি রাখলো কি? মসজিদের আবাদ শুধুমাত্র বাহ্যিক রং ও চাকচিক্যের দ্বারা হয় না; বরং ওর মধ্যে আল্লাহ তা'আলার যি হওয়া, শরীয়তের কার্যাবলী চালু থাকা, শিরূক ও বাহ্যিক ময়লা হতে পবিত্র রাখাই হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে মসজিদকে আবাদ করা।

অতঃপর আল্লাহ পাক বলেন যে, মসজিদের মধ্যে নির্ভীকভাবে প্রবেশ করা মুশরিকদের জন্যে মোটেই শোভা পায় না। ভাবার্থ এই যে, হে মুসলমানগণ! তোমরা মুশরিকদেরকে নিউকি চিত্তে আল্লাহর ঘরে (কাবা শরীফে) প্রবেশ করতে দেবে না, আমি যখন তোমাদেরকে তাদের উপর জয়যুক্ত করবো তখন তোমাদেরকে এ কাজই করতে হবে।' অতঃপর মক্কা বিজয়ের পরবর্তী বছরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) ঘোষণা করেনঃ “এ বছরের পরে যেন কোনও মুশরিক হজ্জ করতে না আসে এবং কেউই যেন বায়তুল্লাহর তাওয়াফ উলঙ্গ হয়ে না করে। যে সব লোকের মধ্যে সন্ধির সময়কাল নির্ধারিত হয়েছে তা ঠিকই থাকবে।' প্রকৃতপক্ষে এই নির্দেশ নিম্নের এই আয়াতেরই সত্যতা প্রমাণ করছে ও তার উপর আমল করছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ হে মু'মিনগণ! নিশ্চয় মুশরিকরা অপবিত্র,সুতরাং তারা যেন এ বছরের পর হতে আর মাসজিদ-ই হারাম’-এর নিকটবর্তী না হয়।' (৯:২৮) অন্য অর্থও বর্ণনা করা হয়েছেঃ মুশরিকদের জন্যে তো এটাই উচিত ছিল যে, তারা আল্লাহর ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে মসজিদে প্রবেশ করে, কিন্তু এটা না করে তারা সম্পূর্ণ উল্টো করছে অর্থাৎ তারা মুসলমানদেরকে মসজিদে প্রবেশ করতে বাধা প্রদান করছে।' এর ভার্থ এও হতে পারেঃ এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরুকে সুসংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি অতি সত্বরই মমিনদেরকে মুশরিকদের উপর জয়যুক্ত করবেন এবং তার ফলে এই মুশরিকরা মসজিদের দিকে মুখ করতেও থর থর করে কাঁপতে থাকবে- আর হলোও তাই। রাসূলুল্লাহ (সঃ) মুসলমানুদেরকে উপদেশ দেন যে, আরব উপদ্বীপে দু’টি ধর্ম থাকতে পারে না এবং ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে তথা হতে বের করে দেয়া হবে। এই উম্মতের ঐ মহান ব্যক্তিগণ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ঐ উপদেশ কার্যে পরিণত করে দেখিয়ে দেন। এর দ্বারা মসজিদসমূহের মর্যাদাও সাব্যস্ত হলো। বিশেষ করে ঐ স্থানের মসজিদের মর্যাদা সাব্যস্ত হলো যেখানে দানব ও মানব সবারই জন্যে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) নবীরূপে প্রেরিত হয়েছিলেন।

ঐ কাফিরদের উপর দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও অপমানও এসে গেল এবং যেমন তারা মুসলমানদেরকে বাধা দিয়েছিল ও দেশ হতে বিতাড়িত করেছিল, ঠিক তেমনই তাদের উপর পূর্ণ প্রতিশোধ নেয়া হলো। তাদেরকেও বাধা দেয়া হলো, আর পরকালের শাস্তি তো অবশিষ্ট থাকলই। কেননা, তারা বায়তুল মুকাদ্দাসের মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছে, মহান আল্লাহকে ছেড়ে অন্যের নিকট প্রার্থনা করা শুরু করে দিয়েছে, উলঙ্গ হয়ে তারা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছে ইত্যাদি।

আর যদি এর ভাবার্থ খ্রীষ্টানদেৱকে নেয়া হয় তবে এটা স্পষ্ট কথা যে, তারাও বায়তুল মুকাদ্দাসের মসজিদে আতংক সৃষ্টিকারীরূপে এসেছে, বিশেষ করে ঐ পাথরের তারা অমর্যাদা করেছে যেই দিকে ইয়াহুদীরা নামায পড়তো। এভাবেই ইয়াহূদীরাও অমর্যাদা করেছে এবং খ্রীষ্টানদের অপেক্ষা অনেক বেশী করেছে। কাজেই অপমান ও লাঞ্ছনাও তাদের উপর খ্রীষ্টানদের অপেক্ষা বেশী এসেছে। দুনিয়ার অপমানের অর্থ হচ্ছে ইমাম মাহদী (আঃ)-এর যুগের অপমান এবং মুসলমানদেরকে জিযিয়া কর দিতে বাধ্য হওয়ার অপমানও বটে। হাদীসে একটি দু'আ এসেছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের সমস্ত কাজের পরিণাম ভাল করুন এবং আমাদেরকে দুনিয়ার অপমান ও আখেরাতের শাস্তি হতে মুক্তি দান করুন।' এ হাদীসটি হাসান। এটা মুসনাদ-ই-আহমাদের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। বিশুদ্ধ ছয়টি হাদীসের মধ্যে এটা নেই। এর একজন বর্ণনাকারী হযরত বাশার বিন ইরত একজন সাহাবী। এই সাহাবী (রাঃ) হতে এই একটি হাদীস বর্ণিত আছে। দ্বিতীয় ঐ হাদীসটি বর্ণিত আছে যার মধ্যে রয়েছে যে, যুদ্ধে হাত কাটা হয় না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।