আল কুরআন


সূরা আল-আনকাবূত (আয়াত: 53)

সূরা আল-আনকাবূত (আয়াত: 53)



হরকত ছাড়া:

ويستعجلونك بالعذاب ولولا أجل مسمى لجاءهم العذاب وليأتينهم بغتة وهم لا يشعرون ﴿٥٣﴾




হরকত সহ:

وَ یَسْتَعْجِلُوْنَکَ بِالْعَذَابِ ؕ وَ لَوْ لَاۤ اَجَلٌ مُّسَمًّی لَّجَآءَهُمُ الْعَذَابُ ؕ وَ لَیَاْتِیَنَّهُمْ بَغْتَۃً وَّ هُمْ لَا یَشْعُرُوْنَ ﴿۵۳﴾




উচ্চারণ: ওয়া ইয়াছতা‘জিলূনাকা বিল ‘আযা-বি ওয়া লাওলাআজালুম মুছাম্মাল লাজাআহুমুল ‘আযা-বু ওয়ালাইয়া’তিইয়ান্নাহুম বাগতাতাওঁ ওয়া হুম লা-ইয়াশ‘উরূন।




আল বায়ান: আর তারা তোমাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে। যদি নির্ধারিত সময় না থাকত, তবে তাদের উপর অবশ্যই আযাব আসত এবং তা আকস্মিকভাবে তাদের উপর আসবেই। অথচ তারা টেরও পাবে না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৩. আর তারা আপনাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে। আর যদি নির্ধারিত কাল না থাকত তবে শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর আসত। আর নিশ্চয় তাদের উপর শাস্তি আসবে আকস্মিকভাবে, অথচ তারা উপলব্ধিও করবে না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা তোমাকে তাড়াতাড়ি শাস্তি আনতে বলে। (‘আযাবের) সময়কাল যদি না নির্ধারিত থাকত তবে তাদের উপর শাস্তি অবশ্যই এসে পড়ত। তা তাদের উপর অবশ্য অবশ্যই আসবে আকস্মিকভাবে, তারা (আগেভাগে) টেরও পাবে না।




আহসানুল বায়ান: (৫৩) ওরা তোমাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে।[1] যদি শাস্তির কাল নির্ধারিত না থাকত, তাহলে ওদের ওপর শাস্তি এসেই পড়ত।[2] আর নিশ্চয়ই ওদের ওপর আকস্মিকভাবে ওদের অজ্ঞাতসারে তা এসে পড়বে। [3]



মুজিবুর রহমান: তারা তোমাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে; যদি নির্ধারিত সময় না থাকত তাহলে শাস্তি তাদের উপর এসে যেত। নিশ্চয়ই তাদের উপর শাস্তি আসবে আকস্মিকভাবে, তাদের অজ্ঞাতসারে।



ফযলুর রহমান: তারা তোমাকে (তাদের জন্য) দ্রুত শাস্তি নিয়ে আসতে বলে। যদি একটি সময় নির্ধারিত না থাকত তাহলে শাস্তি তাদের ওপর এসেই যেত। নিশ্চয়ই তা তাদের ওপর হঠাৎ নেমে আসবে, যা তারা জানতেই পারবে না।



মুহিউদ্দিন খান: তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে। যদি আযাবের সময় নির্ধারিত না থাকত, তবে আযাব তাদের উপর এসে যেত। নিশ্চয়ই আকস্মিকভাবে তাদের কাছে আযাব এসে যাবে, তাদের খবরও থাকবে না।



জহুরুল হক: আর তারা তোমার কাছে শাস্তির জন্যে তাড়াহুড়ো করে। আর যদি না একটি নির্ধারিত কাল সাব্যস্ত থাকতো তাহলে তাদের প্রতি শাস্তি এসেই পড়তো। আর তাদের উপরে এটি অতর্কিতে এসেই পড়বে, আর তারা টেরও পাবে না!



Sahih International: And they urge you to hasten the punishment. And if not for [the decree of] a specified term, punishment would have reached them. But it will surely come to them suddenly while they perceive not.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৩. আর তারা আপনাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে। আর যদি নির্ধারিত কাল না থাকত তবে শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর আসত। আর নিশ্চয় তাদের উপর শাস্তি আসবে আকস্মিকভাবে, অথচ তারা উপলব্ধিও করবে না।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৩) ওরা তোমাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে।[1] যদি শাস্তির কাল নির্ধারিত না থাকত, তাহলে ওদের ওপর শাস্তি এসেই পড়ত।[2] আর নিশ্চয়ই ওদের ওপর আকস্মিকভাবে ওদের অজ্ঞাতসারে তা এসে পড়বে। [3]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, পয়গম্বরের কথা না মেনে তারা বলে যে, ‘যদি তুমি সত্য হও, তাহলে আমাদের উপর আল্লাহর আযাব অবতীর্ণ করাও!’

[2] অর্থাৎ, ওদের কর্ম ও কথা অবশ্যই এর উপযুক্ত যে, তাদেরকে অবিলম্বে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হোক। কিন্তু আমার নিয়ম এই যে, আমি প্রত্যেক জাতিকে এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ঢিল দিয়ে থাকি। অতঃপর যখন সেই ঢিল দেওয়া সময় শেষ হয়ে যায়, তখন আমার আযাব এসে পড়ে।

[3] অর্থাৎ, যখন আযাবের নির্ধারিত সময় এসে যাবে তখন হঠাৎ এমনভাবে আযাব এসে যাবে যে, তারা বুঝতেও পারবে না। সেই নির্ধারিত সময় হল যা মক্কাবাসীদের জন্য লিখে রেখেছিলেন। অর্থাৎ বদরের যুদ্ধে বন্দী ও হত্যা হওয়া। অথবা কিয়ামত কায়েম হওয়া, যার পরে কাফেরদের জন্য থাকবে শাস্তি আর শাস্তি।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৩-৫৫ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাফির-মুশরিকদেরকে যে আযাবের ভয় দেখাতেন তা তারা বিশ্বাস করত না। তারা মনে করত এটা একটা অনর্থক মিথ্যা ভয় দেখানো ছাড়া কিছুই নয়।



তাই তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আবেদন করত তিনি যে আযাবের ভয় তাদেরকে দেখাচ্ছেন তা দ্রুত আসুক। যেমন তারা বলত:



(وَإِذْ قَالُوا اللّٰهُمَّ إِنْ كَانَ هٰذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْ عِنْدِكَ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِّنَ السَّمَا۬ءِ أَوِ ائْتِنَا بِعَذَابٍ أَلِيْمِ)



“স্মরণ কর! যখন তারা বলছিল, ‘হে আল্লাহ! এটা যদি তোমার পক্ষ হতে সত্য হয়, তবে আমাদের ওপর আকাশ হতে প্রস্তর বর্ষণ কর কিংবা আমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দাও।” (সূরা আনফাল ৮:৩২)



তাদের উত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যদি এ শাস্তির সময়কাল নির্ধারিত না থাকত তাহলে তাদেরকে তাদের প্রার্থনা অনুসারে শাস্তি প্রদান করা হত। তবে যেদিন নির্ধারিত কাল এসে যাবে সেদিন শাস্তি তাদেরকে ওপর থেকে, নীচ থেকে, অর্থাৎ চতুরদিক থেকে পরিবেষ্টন করে নিবে। সে শাস্তি থেকে কেউ তাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لَهُمْ مِّنْ جَهَنَّمَ مِهَادٌ وَّمِنْ فَوْقِهِمْ غَوَاشٍ ط وَكَذٰلِكَ نَجْزِي الظّٰلِمِيْنَ)‏



“তাদের শয্যা হবে জাহান্নামের এবং তাদের ওপরে আচ্ছাদনও, এভাবেই আমি জালিমদেরকে প্রতিফল দেব।” (সূরা আ‘রাফ ৭:৪১)



কিয়ামতের দিন ফেরেশতারা তাদেরকে বলবে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের স্বাদ গ্রহণ কর।



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(يَوْمَ يُدَعُّوْنَ إِلٰي نَارِ جَهَنَّمَ دَعًّا ط -‏ هٰذِهِ النَّارُ الَّتِيْ كُنْتُمْ بِهَا تُكَذِّبُوْنَ)



“সেদিন তাদেরকে চরমভাবে ধাক্কা মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের অগ্নির দিকে, এতো সেই অগ্নি যাকে তোমরা মিথ্যা মনে করতে।” (সূরা তূর ৫২:১৩-১৬)



অতএব নির্ধারিত সময় এসে গেলে শাস্তি থেকে আর রেহাই পাওয়া যাবে না। তাই আমাদের উচিত নির্ধারিত সময় অর্থাৎ শাস্তির সময় আসার পূর্বেই মন্দ আমল বাদ দিয়ে সৎ আমল করা নতুবা কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কিয়ামতের একটি নির্ধারিত সময় রয়েছে, ঐ নির্ধারিত সময়েই সংঘটিত হবে।

২. কাফিরদেরকে জাহান্নামে চতুরদিক থেকে শাস্তি দেয়া হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৩-৫৫ নং আয়াতের তাফসীর

মুশরিকরা যে অজ্ঞতার কারণে আল্লাহর আযাব চাচ্ছিল তারই বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, এই মুশরিকরা নবী (সঃ)-কে আল্লাহর শাস্তি আনয়নের কথা বলেছিল এবং স্বয়ং আল্লাহর নিকটও প্রার্থনা করেছিল। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “(স্মরণ কর) যখন তারা বলেছিল- হে আল্লাহ! এটা যদি তোমার নিকট হতে সত্য হয় তবে আকাশ হতে আমাদের উপর প্রস্তর বর্ষণ কর অথবা আমাদের কাছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আনয়ন কর।” (৮:৩২)

এখানে তাদেরকে জবাব দেয়া হচ্ছে- যদি বিশ্বপ্রতিপালকের পক্ষ হতে এটা নির্ধারিত না থাকতো যে, এই কাফিরদেরকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে তবে তাদের শাস্তি চাওয়া মাত্রই তাদের উপর অবশ্যই শাস্তি নেমে আসতো। এখন তাদের এর প্রতিও বিশ্বাস রাখা উচিত যে, তাদের অজ্ঞাতসারে তাদের উপর শাস্তি আকস্মিকভাবে এসে পড়বে। তারা শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলছে, তাদের জেনে রাখা উচিত যে, জাহান্নাম তো তাদেরকে পরিবেষ্টন করবেই। অর্থাৎ এটা নিশ্চিত কথা যে, শাস্তি তাদের উপর আসবেই।

হযরত শা'বী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “এই বাহূরে আখ্যরই (সবুজ সাগর) সবুজ সাগর বলতে আরবগণ আরব উপকূল হতে ভারতের মধ্যবর্তী জলরাশিকে বুঝে। হবে ঐ জাহান্নাম যাতে তারকারাজি ঝরে পড়বে এবং সূর্য ও চন্দ্র আলোশূন্য হয়ে এতে নিক্ষিপ্ত হবে। এটা জ্বলে উঠবে এবং জাহান্নামে পরিণত হবে।” (এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

সাফওয়ান ইবনে ইয়া’লা (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “সমুদ্রই জাহান্নাম। তখন হাদীসের বর্ণনাকারী হযরত ইয়ালা (রাঃ)-কে জনগণ জিজ্ঞেস করে- আপনারা দেখেন না যে, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “অগ্নি, যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে থাকবে।” (১৮:২৯) উত্তরে ইয়া’লা (রাঃ) বলেনঃ “যার হাতে ইয়া’লার প্রাণ রয়েছে তার শপথ! আমি তাতে কখনো প্রবেশ করবো না যে পর্যন্ত না আমাকে আল্লাহর সামনে পেশ করা। হবে এবং এর এক ফোটাও আমার কাছে পৌঁছবে না যে পর্যন্ত না আমাকে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হাযির করা হবে।” এটা মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে। এ তাফসীরও খুবই গরীব এবং এ হাদীসও অত্যন্ত গারীব বা দুর্বল। এসব ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

মহান আল্লাহ বলেনঃ সেই দিন শাস্তি তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে ঊর্ধ্ব ও অধঃদেশ হতে। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ তাদের জন্যে জাহান্নামের (অগ্নির) বিছানা হবে এবং তাদের উপরে (আগুনেরই) ওড়না হবে।” (৭:৪১ আর একটি আয়াতে আছেঃ(আরবি)

অর্থাৎ “তাদের উপরে হবে আগুনের সামিয়ানা এবং নীচে হবে আগুনেরই বিছানা।” (৩৯:১৬) অন্য এক আয়াতে রয়েছেঃ অর্থাৎ “যদি কাফিররা ঐ সময়ের কথা জানতো যখন তারা তাদের সামনে হতে ও পিছন হতে আগুন সরাতে পারবে না।” (২১:৩৯) এসব আয়াত দ্বারা জানা যাচ্ছে যে, এই কাফিরদেরকে চতুর্দিক হতে আগুন পরিবেষ্টন করবে। তাদের সামনে হতে, পিছন হতে, উপর হতে, নীচ হতে, ডান দিক হতে এবং বাম দিক হতে আগুন তাদেরকে ঘিরে ফেলবে। একদিক হতে তো তাদের উপর মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহর শাসন, গর্জন ও ধমক আসতে থাকবে, অপরদিক হতে সদা তাদেরকে বলা হবেঃ তোমরা যা করতে তার স্বাদ গ্রহণ কর। সুতরাং এক তো এই বাহ্যিক ও দৈহিক শাস্তি, দ্বিতীয়তঃ এই মানসিক শাস্তি। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “যেদিন তাদেরকে উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের দিকে, সেই দিন বলা হবে- জাহান্নামের যন্ত্রণা আস্বাদন কর। আমি প্রত্যেক কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে।” (৫৪:৪৮-৪৯) অন্য এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “যেদিন তাদেরকে ধাক্কা মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের অগ্নির দিকে, (বলা হবে) এই সেই আগুন যাকে তোমরা মিথ্যা মনে করতে। এটা কি যাদু? না কি তোমরা দেখছো না? তোমরা এতে প্রবেশ কর, অতঃপর তোমরা ধৈর্যধারণ কর অথবা না কর উভয়ই তোমাদের জন্যে সমান। তোমরা যা করতে তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হচ্ছে।” (৫২:১৩-১৬)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।