আল কুরআন


সূরা আল-আনকাবূত (আয়াত: 1)

সূরা আল-আনকাবূত (আয়াত: 1)



হরকত ছাড়া:

الم ﴿١﴾




হরকত সহ:

الٓـمّٓ ۚ﴿۱﴾




উচ্চারণ: আলিফ লাম মীম।




আল বায়ান: আলিফ-লাম-মীম।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১. আলিফ-লাম-মীম;




তাইসীরুল ক্বুরআন: আলিফ-লাম-মীম




আহসানুল বায়ান: (১) আলিফ-লাম-মীম;



মুজিবুর রহমান: আলিফ লাম মীম,



ফযলুর রহমান: আলিফ লাম মীম [পবিত্র কোরআনে কোন কোন সূরার শুরুতে শব্দসংক্ষেপের আদলে সন্নিবেশিত এ জাতীয় বিচ্ছিন্ন হরফমালার প্রকৃত তাৎপর্য আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না]।



মুহিউদ্দিন খান: আলিফ-লাম-মীম।



জহুরুল হক: আলিফ, লাম, মীম।



Sahih International: Alif, Lam, Meem



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১. আলিফ-লাম-মীম;


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১) আলিফ-লাম-মীম;


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: সূরার নামকরণ:



الْعَنْكَبُوْتِ (আনকাবূত) শব্দের অর্থ মাকড়সা। উক্ত সূরাতে ‘মাকড়সা’ সংক্রান্ত একটি ঘটনা বিবৃত হয়েছে বিধায় এ সূরাকে আনকাবূত নামে নামকরণ করা হয়েছে। এ সূরাতে বিভিন্ন নাবী ও তাঁদের সম্প্রদায়ের বর্ণনা, মুশরিকদের উপমা, আহলে কিতাবসহ সকল অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দেয়ার পথ, পদ্ধতি ও বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সবশেষে আল্লাহ তা‘আলার ওপর প্রকৃত ভরসাকারী এবং তাঁর পথে জিহাদকারীদের মর্যাদা ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।



১-৪ নং আয়াতের তাফসীর:



ال۬مّ۬ - (আলিফ-লাম-মীম) এ জাতীয় “হুরূফুল মুক্বাত্বআত” বা বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহ সম্পর্কে সূরা বাকারার শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে। এগুলোর সঠিক উদ্দেশ্য ও অর্থ একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন।



(أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُّتْرَكُوْآ....) শানে নুযূল:



ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: প্রথম যাদের ইসলাম গ্রহণ প্রকাশ পেয়েছিল তারা ছিলেন সাতজন। তারা হলেনন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বাকর, সুমাইয়া, আম্মার, সুহাইব, বেলাল এবং মিকদাদ (رضي الله عنهم)। যখন তাদের ইসলাম গ্রহণ প্রকাশ হয়ে পড়ল তখন সকলকে মুশরিকরা ইসলাম গ্রহণ করার কারণে শাস্তি প্রদান করে শুধুমাত্র রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ বকর (رضي الله عنه) ব্যতীত। তাদের এ শাস্তির ব্যাপারে এ আয়াতটি নাযিল হয়। (মুসানাদ আহমাদ ১/৪০৪, ইবনু মাজাহ হা: ১৫০, হাসান)



সূরার শুরুতেই আল্লাহ তা‘আলা মানুষের একটি ভুল ধারণা দূর করছেন। অনেকে মনে করতে পারে ঈমান এনেছি, ফলে জান্নাতে যেতে বাধা কোথায়? হ্যাঁ, জান্নাতে যেতে ঈমানের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা বিভিন্নভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন কে সত্যিকার ঈমানদার আর কে ঈমানদার নামে মুনাফিক। কখনো শারীরিক কষ্ট ও আর্থিক অভাব, কখনো আসমানী বালা, কখনো কাফিরদের দ্বারা কষ্ট আবার কখনো কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে গিয়ে তাদেরকে হত্যা করা ও নিজের শহীদ হওয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন। সুতরাং যারা এসব বিপদাপদে ঈমানের ওপর অটল থাকবে, দীন ইসলামকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে তারাই জান্নাতে যাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “তোমরা কি ধারণা করেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্ববর্তীদের মত সঙ্কটময় অবস্থা এখনো তোমাদের ওপর আসেনি। তাদেরকে বিপদ ও দুঃখ স্পর্শ করেছিল এবং তাদেরকে কাঁপিয়ে তোলা হয়েছিল। এমনকি রাসূলুল্লাহ ও তাঁর সাথে ঈমান আনয়নকারীরা শেষ পর্যন্ত বলেছিলেন, কখন আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য আসবে? জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।” (সূরা বাকারাহ ২:২১৪)



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتّٰي نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِيْنَ مِنْكُمْ وَالصّٰبِرِيْنَ لا وَنَبْلُوَاْ أَخْبَارَكُمْ)‏



“আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব, যাতে তোমাদের অবস্থা যাচাই করে নিতে পারি এবং দেখে নিতে পারি যে, তোমাদের মধ্যে কারা মুজাহিদ ও ধৈর্যশীল।” (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:৩১)



যার ঈমান যত বেশি, তাকে তত বেশি কষ্ট ও বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করা হবে। হাদীসে এসেছে:



মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার সম্মুখীন হন নাবী-রাসূলগণ অতঃপর সৎ ব্যক্তিগণ। এরপর তাদের মত যারা ঈমানদার তারা। এভাবে মানুষকে তাদের দীনের অনুপাতে পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। যদি সে তার দীনের ওপর দৃঢ় হয় তবে তার পরীক্ষাও কঠিন হয় এবং বিপদ-আপদ তার ওপর নাযিল হয়ে থাকে। (তিরমিযী হা: ২৩৯৮, ইবনু মাযাহ হা: ৪০২৩, সহীহ) যে ব্যক্তি যত কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে তার প্রতিদান তত বেশি হবে। আল্লাহ তা‘আলা যে জাতিকে ভালবাসেন তাদেরকে পরীক্ষা করেন, যে ব্যক্তি সে পরীক্ষায় ধৈর্যশীল ও সন্তুষ্ট থাকবে আল্লাহ তা‘আলাও তার ওপর সন্তুষ্ট থাকবেন আর অসন্তুষ্ট হলে আল্লাহ তা‘আলাও অসন্তুষ্ট হবেন। (তিরমিযী, ইবনু মাযাহ হা: ৪০৩১, হাসান)



সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে জেনে নেনন কে প্রকৃত ঈমানদার, আর কে মিথ্যা ঈমানের দাবীদার। পূর্ববর্তী জাতির ঈমানদারদেরকে আল্লাহ তা‘আলা পরীক্ষা করেছিলেন। যারা প্রকৃত ঈমানদার ছিল তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে আর যারা শুধু মুখে ঈমানের কথা বলত অন্তরে ঈমান ছিল না তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। খাব্বাব বিন আরাত্ত (রাঃ) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাদর মুড়ি দিয়ে কাবার ছায়াতলে বসে ছিলেন। এমন সময় আমরা অভিযোগ করলাম, আপনি যদি আমাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলার কাছে সাহায্য চাইতেন, দু‘আ করতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তোমাদের পূর্ববর্তী যারা ঈমানদার ছিল তাদের কাউকে নিয়ে এসে কাফিররা মাথার ওপর করাত দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করে ফেলত, লোহার চিরুনী নিয়ে আসা হতো এবং তা দিয়ে শরীরের গোসত হাড় থেকে আলাদা করে ফেলা হত। এর পরেও তাদেরকে দীন থেকে সরাতে পারত না। (সহীহ বুখারী হা: ৩৮৫২)



(أَمْ حَسِبَ الَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ السَّيِّئٰتِ)



অর্থাৎ যারা ঈমান ও আমলের পরওয়া করে না, অসৎ আমল করেই যাচ্ছে তারা কি ধারণা করে যে, তারা আল্লাহ তা‘আলার ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে, আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পাকড়াও করতে পারবেন না! না, এরূপ ধারণা কতই না খারাপ, আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে যথোপযুক্ত শাস্তি দেবেন।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মানুষকে তার ঈমান অনুপাতে পরীক্ষা করা হয়। যার ঈমান যত মজবুত তার পরীক্ষা তত কঠিন।

২. সকল বস্তুই আল্লাহ তা‘আলার আয়ত্তাধীন, কেউ তার আয়ত্তের বাইরে নয়।

৩. কাফিররাও পরীক্ষার সম্মুখীন হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১-৪ নং আয়াতের তাফসীর

এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ মুমিনদেরকেও পরীক্ষা না করেই ছেড়ে দেয়া হবে- এটা অসম্ভব।

সহীহ হাদীসে এসেছেঃ “সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় মুমিনদের উপর, তারপর সৎ লোকদের উপর, এরপর তাদের চেয়ে নিম্ন মর্যাদার লোকদের উপর, এরপর তাদের চেয়েও নিম্ন মর্যাদার লোকদের উপর। পরীক্ষা তাদের দ্বীনের অনুপাতে হয়ে থাকে। যদি সে তার দ্বীনের উপর দৃঢ় হয় তবে তার পরীক্ষাও কঠিন হয় এবং বিপদ-আপদ তার উপর অবতীর্ণ হয়ে থাকে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে দাখিল হয়ে যাবে, যখন আল্লাহ তোমাদের মধ্যে কে জিহাদ করেছে এবং কে ধৈর্যশীল তা এখনও জানেন (৩:১৪২) অনুরূপ আয়াত সূরায়ে বারাআতেও রয়েছে। মহামহিমান্বিত আল্লাহ সূরায়ে বাকারায় বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, যদিও এখনও তোমাদের নিকট তোমাদের পূর্ববর্তীদের অবস্থা আসেনি? অর্থ-সংকট ও দুঃখ-ক্লেশ তাদেরকে স্পর্শ করেছিল এবং তারা ভীত ও কম্পিত হয়েছিল। এমনকি রাসূল ও তার সাথে ঈমান আনয়নকারীরা বলে উঠেছিল- আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে? হ্যা, হ্যাঁ, আল্লাহর সাহায্য নিকটেই।” (২:২১৪) এই জন্যেই এখানেও বলেনঃ আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদেরকেও পরীক্ষা করেছিলাম, আল্লাহ অবশ্যই প্রকাশ করে দিবেন কারা সত্যবাদী ও কারা মিথ্যাবাদী। এর দ্বারা এটা মনে করা চলবে না যে, আল্লাহ এটা জানতেন না। বরং যা হয়ে গেছে। এবং যা হবে সবই তিনি জানেন। এর উপর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সমস্ত ইমাম একমত। এখানে (আরবি) অর্থ (আরবি) বা দেখার অর্থে ব্যবহৃত। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) (আরবি)-এর অর্থ (আরবি) করেছেন। কেননা, দেখার সম্পর্ক বিদ্যমান জিনিসের সাথে হয়ে থাকে এবং (আরবি) এর (আরবি) থেকে বা সাধারণ।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ যারা মন্দ কর্ম করে তারা কি মনে করে যে, তারা আমার আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে? তাদের সিদ্ধান্ত কত মন্দ! অর্থাৎ যারা ঈমান আনয়ন করেনি তারাও যেন এ ধারণা না করে যে, তারা পরীক্ষা হতে বেঁচে যাবে। তাদের জন্যে বড় বড় শাস্তি অপেক্ষা করছে। তারা আল্লাহর আয়ত্তের বাইরে যেতে পারবে না। তাদের ধারণা খুবই মন্দ, যার ফল তারা সত্বরই জানতে পারবেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।