আল কুরআন


সূরা আল-কাসাস (আয়াত: 79)

সূরা আল-কাসাস (আয়াত: 79)



হরকত ছাড়া:

فخرج على قومه في زينته قال الذين يريدون الحياة الدنيا يا ليت لنا مثل ما أوتي قارون إنه لذو حظ عظيم ﴿٧٩﴾




হরকত সহ:

فَخَرَجَ عَلٰی قَوْمِهٖ فِیْ زِیْنَتِهٖ ؕ قَالَ الَّذِیْنَ یُرِیْدُوْنَ الْحَیٰوۃَ الدُّنْیَا یٰلَیْتَ لَنَا مِثْلَ مَاۤ اُوْتِیَ قَارُوْنُ ۙ اِنَّهٗ لَذُوْ حَظٍّ عَظِیْمٍ ﴿۷۹﴾




উচ্চারণ: ফাখারাজা ‘আলা-কাওমিহী ফী যীনাতিহী কা-লাল্লাযীনা ইউরীদূ নাল হায়া-তাদ দুনইয়া-ইয়া-লাইতা লানা-মিছলা মাঊতিয়া কা-রূনু ইন্নাহূলাযূহাজ্জিন ‘আজীম।




আল বায়ান: অতঃপর সে তার কওমের সামনে জাঁকজমকের সাথে বের হল। যারা দুনিয়ার জীবন চাইত তারা বলল, ‘আহা! কারূনকে যেমন দেয়া হয়েছে আমাদেরও যদি তেমন থাকত! নিশ্চয় সে বিরাট সম্পদশালী।’




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৯. অত:পর কারূন তার সম্প্রদায়ের সামনে বের হয়েছিল জাকজমকের সাথে। যারা দুনিয়ার জীবন কামনা করত তারা বলল, আহা, কারূনকে যেরূপ দেয়া হয়েছে আমাদেরকেও যদি সেরূপ দেয়া হত! প্রকৃতই সে মহাভাগ্যবান।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: কারূন শান-শওকাতের সাথে তার সম্প্রদায়ের সামনে হাজির হল। যারা পার্থিব জীবন কামনা করে তারা বলে উঠল- ‘হায়! কারূনকে যা দেয়া হয়েছে আমাদের জন্যও যদি তা হত! সত্যই সে মহা ভাগ্যবান ব্যক্তি।’




আহসানুল বায়ান: (৭৯) কারূন তার সম্প্রদায়ের সম্মুখে জাঁকজমক সহকারে বের হল। [1] যারা পার্থিব জীবন কামনা করত তারা বলল,[2] ‘আহা! কারূনকে যা দেওয়া হয়েছে সেরূপ যদি আমাদেরও থাকত; প্রকৃতই সে মহা ভাগ্যবান।’



মুজিবুর রহমান: কারূন তার সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থিত হয়েছিল জাকজমক সহকারে। যারা পার্থিব জীবন কামনা করত তারা বললঃ আহা! কারূনকে যেরূপ দেয়া হয়েছে আমাদেরকে যদি তা দেয়া হত! প্রকৃতই সে মহা ভাগ্যবান!



ফযলুর রহমান: অতঃপর সে (কারূন) তার বেশভূষা নিয়ে তার সমপ্রদায়ের লোকদের সামনে বের হল। যারা পার্থিব জীবন (জীবনের ভোগ-বিলাস) কামনা করত তারা বলল, “আহা, কারূনকে যেমন (ঐশ্বর্য) দেওয়া হয়েছে আমাদের যদি তেমনটি থাকত! নিশ্চয়ই সে বড় ভাগ্যবান।”



মুহিউদ্দিন খান: অতঃপর কারুন জাঁকজমক সহকারে তার সম্প্রদায়ের সামনে বের হল। যারা পার্থিব জীবন কামনা করত, তারা বলল, হায়, কারুন যা প্রাপ্ত হয়েছে, আমাদেরকে যদি তা দেয়া হত! নিশ্চয় সে বড় ভাগ্যবান।



জহুরুল হক: কাজেকাজেই সে তার স্বজাতির সামনে তার জাঁকজমকের সাথে বাহির হয়েছিল। যারা এই দুনিয়ার জীবন কামনা করেছিল তারা বলত -- "হায়! ক্কারূনকে যা দেওয়া হয়েছে তার মতো যদি আমাদেরও থাকতো! নিঃসন্দেহ সে বিরাট সৌভাগ্যের অধিকারী!"



Sahih International: So he came out before his people in his adornment. Those who desired the worldly life said, "Oh, would that we had like what was given to Qarun. Indeed, he is one of great fortune."



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭৯. অত:পর কারূন তার সম্প্রদায়ের সামনে বের হয়েছিল জাকজমকের সাথে। যারা দুনিয়ার জীবন কামনা করত তারা বলল, আহা, কারূনকে যেরূপ দেয়া হয়েছে আমাদেরকেও যদি সেরূপ দেয়া হত! প্রকৃতই সে মহাভাগ্যবান।(১)


তাফসীর:

(১) হ্যাঁ সত্যিই সে মহা ভাগ্যবান, তবে সেটা তাদের দৃষ্টিতে, যাদের কাছে মানুষের ভাগ্য শুধু দুনিয়ার প্রাচুর্যের উপর নির্ভরশীল। যারা মৃত্যুর পরের জগত সম্পর্কে মোটেও চিন্তা করে না, সেখানকার অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা করে না। তারা তো এটা বলবেই [সা’দী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭৯) কারূন তার সম্প্রদায়ের সম্মুখে জাঁকজমক সহকারে বের হল। [1] যারা পার্থিব জীবন কামনা করত তারা বলল,[2] ‘আহা! কারূনকে যা দেওয়া হয়েছে সেরূপ যদি আমাদেরও থাকত; প্রকৃতই সে মহা ভাগ্যবান।”


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, শোভা-সৌন্দর্য, সাজ-সজ্জা ও চাকর-বাকরসহ।

[2] এ কথা কারা বলেছিল? কেউ কেউ বলেন, ঈমানদার লোকেরাই কারূনের আধিপত্য ও ধন-সম্পদে প্রভাবিত হয়ে এ কথা বলেছিল। আবার কেউ বলেন, এ কথা বলেছিল কাফেররা।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭৬-৮২ নং আয়াতের তাফসীর:



আলোচ্য আয়াতগুলোতে কারূনের গর্ব অহঙ্কার ও তার শেষ পরিণতির কথা বলা হয়েছে।



সূরার শুরু থেকে এ পর্যন্ত মূসা (عليه السلام), ফির‘আউন ও ফির‘আউনের বংশধরদের সাথে মূসা (عليه السلام)-এর একক ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এখানে তাঁরই সম্প্রদায়ভুক্ত বিশিষ্ট সম্পদশালী কারূনের অর্থ সম্পদের অহঙ্কার ও তার শেষ পরিণতি সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। পূর্ববর্তী আয়াতসমূহের সাথে এর সম্পর্ক হলন পূর্ববর্তী আয়াতে বলা হয়েছিল দুনিয়ার ধন-সম্পদ ক্ষণস্থায়ী। সুতরাং দুনিয়ার সম্পদের মোহে পড়ে আখিরাতের কথা ভুলে যাওয়া যাবে না। কারূন এমনই করেছিল। দুনিয়ার সম্পদ পেয়ে আল্লাহ তা‘আলাকে ভুলে গিয়েছিল, সম্পদের অহঙ্কার করত। ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ধ্বংস করে দেন। তাছাড়া আরো একটি সম্পর্ক হলন মুশরিকদেরকে লক্ষ্য করে বলা হচ্ছে যে, হে মুশরিকরা! তোমরা কারূন ও ফির‘আউনের চেয়ে অধিক সম্পদশালী ও ক্ষমতাবান নও, তাদের অনেক সম্পদ ও ক্ষমতা ছিল কিন্তু আল্লাহ তা‘আলার সাথে নাফরমানী করার কারণে তাদের এসব সম্পদ ও ক্ষমতা কোন কাজে আসেনি। সুতরাং তোমাদেরকে হুশিয়ার করছি, তোমরাও যদি তাদের মত আচরণ কর তাহলে তোমাদের পরিণতি তাদের মতই হবে।



কারূন ছিল মূসা (عليه السلام)-এর সম্প্রদায়ভুক্ত। কাতাদাহ বলেন: সে ছিল মূসা (عليه السلام)-এর চাচাত ভাই। এছাড়াও আরো অনেক উক্তি রয়েছে (কুরতুবী)।



(فَبَغٰي عَلَيْهِمْ) -بغي



কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। একটি অর্থ হল জুলুম করা, অত্যাচার করা। অর্থাৎ সে ধন-সম্পদের নেশায় মানুষের প্রতি জুলুম করত। সাঈদ বিন মুসাইয়্যেব বলেন: কারূন ছিল বিত্তশালী। ফির‘আউন তাকে বানী ইসরাঈলের দেখাশোনার কাজে নিযুক্ত করেছিল। এ পদে থাকা অবস্থায় সে বানী ইসরাঈলের ওপর জুলুম করত।



এর অপর একটি অর্থ অহঙ্কার করা। অনেকে এ অর্থ ধরে বলেছেন: কারূন ধন-দৌলতের নেশায় বিভোর হয়ে বানী ইসরাঈলদের কাছে অহঙ্কার করত। তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করত।



- (وَاٰتَيْنٰهُ مِنَ الْكُنُوْزِ) كنوز



শব্দটি كنز এর বহুবচন। এর অর্থ ভূগর্ভস্থ ধন-সম্পদ। শরীয়তের পরিভাষায় كنز বলা হল এমন সম্পদকে যার যাকাত দেয়া হয়নি।



(لَتَنُوْ۬ءُ بِالْعُصْبَةِ) ناء-



শব্দের অর্থ বোঝার ভারে ঝুঁকিয়ে দেয়া। عصبة শব্দের অর্থ দল, অর্থাৎ তার সম্পদ এত বেশি পরিমাণ ছিল যে, সম্পদের চাবি বহন করতে একটি শক্তিশালী দলের কষ্টসাধ্য হয়ে যেত



(لَا تَفْرَحْ) এর শাব্দির অর্থ আনন্দ, উল্লাস। কুরআনের অনেক আয়াত এ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এখানে অহঙ্কার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তার এ গর্ব অহঙ্কার দেখে তার সম্প্রদায়ের সৎ লোকেরা বলেছিল, অহঙ্কার কর না। আল্লাহ তা‘আলা অহঙ্কারীকে ভালবাসেন না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا ط إِنَّ اللّٰهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُوْرٍ)



“আর তুমি অহঙ্কারবশে মানুষকে অবহেলা কর‎ না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে বিচরণ কর‎ না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা কোন দাম্ভিক, অহঙ্কারীকে ভালোবাসেন না।” (সূরা লুকমান ৩১:১৮)



বরং এ সব গর্ব অহঙ্কার ভুলে গিয়ে আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে যা দান করেছেন তা দ্বারা আখিরাতের আবাস অনুসন্ধান কর। এর মানে এটি নয় যে, তুমি দুনিয়াকে ভুলে যাও, সব কিছু আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় ব্যয় করে দাও। বরং তুমি দুনিয়াতে ভাল নেয়ামত দ্বারা উপকৃত হও ও তোমার সম্পদ দ্বারা উপকৃত হও, তবে যেন তা দীনের ওপর প্রাধান্য না পায়। বরং দুনিয়া অর্জনের সাথে সাথে আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অন্বেষণ কর। আল্লাহ তা‘আলা যেমন তোমাকে ধন-সম্পদ দান করে তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন তেমনি তুমিও তার সৃষ্টি জীবের প্রতি অনুগ্রহ কর। আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি কর না। তাদের এ সকল উপদেশ বাণী শুনে কারূন বলল,



(إِنَّمَآ أُوْتِيْتُه۫ عَلٰي عِلْمٍ عِنْدِيْ)



আমি এ সম্পদ আমার জ্ঞান দ্বারা প্রাপ্ত হয়েছি। এটা মূলত আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামতকে অস্বীকার করা, সে স্বীকার করতে চায় না এগুলো আল্লাহ তা‘আলার দান, তার প্রতি অনুগ্রহ করা হয়েছে। বরং সে বলছে, আমার জ্ঞান দ্বারা তা উপার্জন করেছি। এরূপ বলা আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামতের সাথে কুফরী করা। সুতরাং বলতে হবে এসবই আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ, তিনি আমাকে দান করেছেন। তিনি ইচ্ছা করলে তা নিয়ে নিতে পারেন। তাই আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায়ার্থে তার হক আদায় করতে হবে এবং উপযুক্ত অংশ ব্যবহার করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَإِذَا مَسَّ الْإِنْسَانَ ضُرٌّ دَعَانَا ز ثُمَّ إِذَا خَوَّلْنٰهُ نِعْمَةً مِّنَّا لا قَالَ إِنَّمَآ أُوْتِيْتُه۫ عَلٰي عِلْمٍ)



“মানুষকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করলে সে আমাকে ডাকে, অতঃপর যখন আমি তার প্রতি অনুগ্রহ প্রদান করি আমার পক্ষ থেকে তখন সে বলে: আমাকে এটা দেয়া হয়েছে আমার জ্ঞানের বিনিময়ে।” (সূরা যুমার ৩৯:৪৯)



(أَوَلَمْ يَعْلَمْ أَنَّ اللّٰهَ)



অর্থাৎ কারূন ভুলে গিয়েছে যে, তার পূর্বে আরো বহু শক্তিশালী জনগোষ্ঠিকে তাদের এ সকল গর্ব অহঙ্কারের কারণে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে । তাই পূর্ববর্তীদের অবস্থার মত তারও অশুভ পরিণতি হল।



অতঃপর সে একদা গর্ব অহঙ্কারবশত জাঁকজমক পোশাক পরিধান করে তার সম্প্রদায়ের লোকদের নিকট গিয়েছিল। তখন যারা দুনিয়া কামনা করত তারা বলল, যদি আমাদেরকে কারূনের মত ধন-সম্পদ দেয়া হত। আর যারা ছিল ঈমানদার তারা বলেছিল, তার নিকট যা আছে তা অপেক্ষা আল্লাহ তা‘আলার নিকট যা আছে তা অধিক উত্তম। আর তা প্রাপ্ত হবে যারা ঈমান আনে, সৎ আমল করে এবং ধৈর্য ধারণ করে তারাই। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমি আমার বান্দাদের জন্য এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছি যা কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শ্রবণ করেনি এবং কোন মানুষের অন্তর কল্পনাও করেনি। (সহীহ বুখারী হা: ৪৭৭৯)



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা কারূন ও তার প্রাসাদকে তার গর্ব অহঙ্কারের কারণে ভূগর্ভে প্রোথিত করে দিলেন। যা থেকে তাকে কেউ রক্ষা করতে পারেনি। তার এ অবস্থা দেখে গতকাল যারা তার মত হবার কামনা করেছিল তারা অনুতপ্ত হল।



সুতরাং আমাদের উচিত কারূনের মত না হয়ে আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা, তাঁর দেয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা এবং সম্পদের হক আদায় করা।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সম্পদ একটি নেয়ামত, আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা তাকেই তা দান করেন, তাই তার সদ্ব্যবহার করতে হবে।

২. কোন নেয়ামত পেয়ে গর্ব-অহঙ্কার করা যাবে না।

৩. পার্থিব সম্পদের প্রতি লোভ-লালসায় আখিরাত ভুলে যাওয়া যাবে না।

৪. মানুষের সাথে নম্র-ভদ্র ব্যবহার করতে হবে।

৫. ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করা যাবে না।

৬. শুধু আখিরাতের আশায় দুনিয়ার প্রাপ্য বা অংশ গ্রহণ করা শরীয়তসম্মত।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭৯-৮০ নং আয়াতের তাফসীর

একদা কারূন অতি মূল্যবান পোশাক পরিহিত হয়ে, অত্যন্ত জাঁকজমক সহকারে উত্তম সওয়ারীতে আরোহণ করে, স্বীয় গোলামদের মূল্যবান পোশাক পরিয়ে সামনে ও পিছনে নিয়ে দাম্ভিকতার সাথে বের হলো। তার এই জাকজমক ও শান-শওকত দেখে দুনিয়াদারদের মুখ পানিতে ভরে গেল এবং তারা বলতে লাগলো: আহা! কারূনকে যেরূপ দেয়া হয়েছে আমাদেরকে যদি তা দেয়া হতো! প্রকৃতই সে মহাভাগ্যবান। আলেমরা তাদের মুখে একথা শুনে তাদেরকে এই ধারণা হতে বিরত রাখতে চাইলেন এবং বুঝাতে লাগলেনঃ “দেখো, আল্লাহ। তা'আলা তাঁর সৎ ও মুমিন বান্দাদের জন্যে নিজের কাছে যা কিছু তৈরী করে রেখেছেন তা এর চেয়ে বহুগুণে শ্রেষ্ঠ এবং ধৈর্যশীলগণ ছাড়া কেউ এটা লাভ করতে পারে না।” ভাবার্থ এটাও যে, এরূপ পবিত্র কথা ধৈর্যশীলদের মুখ দিয়েই বের হয়। যারা দুনিয়ার আকর্ষণ হতে দূরে থাকে এবং পরকালের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এই অবস্থায় খুব সম্ভব এই কথা ঐ আলেমদের নয়, বরং তাদের প্রশংসায় এই পরবর্তী কথা আল্লাহর পক্ষ হতেই এসে থাকবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।