আল কুরআন


সূরা আল-কাসাস (আয়াত: 75)

সূরা আল-কাসাস (আয়াত: 75)



হরকত ছাড়া:

ونزعنا من كل أمة شهيدا فقلنا هاتوا برهانكم فعلموا أن الحق لله وضل عنهم ما كانوا يفترون ﴿٧٥﴾




হরকত সহ:

وَ نَزَعْنَا مِنْ کُلِّ اُمَّۃٍ شَهِیْدًا فَقُلْنَا هَاتُوْا بُرْهَانَکُمْ فَعَلِمُوْۤا اَنَّ الْحَقَّ لِلّٰهِ وَ ضَلَّ عَنْهُمْ مَّا کَانُوْا یَفْتَرُوْنَ ﴿۷۵﴾




উচ্চারণ: ওয়ানাযা‘না-মিন কুল্লি উম্মাতিন শাহীদান ফাকুলনা-হা-তূবুরহা-নাকুম ফা‘আলিমূআন্নাল হাক্কা লিল্লা-হি ওয়া দাল্লা ‘আনহুম মা-কা-নূইয়াফতারূন।




আল বায়ান: আর আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী বের করে নেব। অতঃপর আমি বলব, ‘তোমাদের প্রমাণ নিয়ে আস’। তখন তারা জানতে পারবে যে, নিশ্চয় সত্য আল্লাহর কাছেই এবং তারা যে সব মিথ্যা উদ্ভাবন করত তা তাদের থেকে হারিয়ে যাবে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৫. আর আমরা প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী বের করে আনব(১) এবং বলব, তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর। তখন তারা জানতে পারবে যে(২), ইলাহ হওয়ার অধিকার আল্লাহরই এবং তারা যা মিথ্যা রটনা করত তা তাদের কাছ থেকে হারিয়ে যাবে।(৩)




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে একজন সাক্ষী বের করে আনব, অতঃপর বলব- ‘তোমাদের (নির্দোষিতার পক্ষে) প্রমাণ হাজির কর। তখন তারা জানতে পারবে যে, ইলাহ হওয়ার অধিকার আল্লাহরই আর তারা যা উদ্ভাবন করত তা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে যাবে।




আহসানুল বায়ান: (৭৫) প্রত্যেক জাতি হতে আমি একজন সাক্ষী বের করব [1] এবং বলব, ‘তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।’[2] তখন ওরা জানতে পারবে (উপাস্য হওয়ার) অধিকার আল্লাহরই [3] এবং তারা যা উদ্ভাবন করেছিল তা তাদের নিকট হতে উধাও হয়ে যাবে। [4]



মুজিবুর রহমান: প্রত্যেক সম্প্রদায় হতে আমি একজন সাক্ষী আলাদা করব এবং বলবঃ তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর। তখন তারা জানতে পারবে, মা‘বূদ হবার অধিকার আল্লাহরই এবং তারা যা উদ্ভাবন করত তা তাদের নিকট হতে অন্তর্হিত হবে।



ফযলুর রহমান: আমি প্রত্যেক সমপ্রদায় থেকে একজন সাক্ষী বের করব এবং বলব, “তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এস।” তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য (একমাত্র) আল্লাহর পক্ষে, এবং তারা (উপাস্য বলে) যা কিছু উদ্ভাবন করত তা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে যাবে।



মুহিউদ্দিন খান: প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে আমি একজন সাক্ষী আলাদা করব; অতঃপর বলব, তোমাদের প্রমাণ আন। তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য আল্লাহর এবং তারা যা গড়ত, তা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে যাবে।



জহুরুল হক: আর আমরা প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে বের করব একজন সাক্ষী, তখন আমরা বলব -- "তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এস।" তখন তারা জানতে পারবে যে সত্য আল্লাহ্‌রই, আর তারা যা কিছু উদ্ভাবন করত তা তাদের থেকে বিদায় নেবে।



Sahih International: And We will extract from every nation a witness and say, "Produce your proof," and they will know that the truth belongs to Allah, and lost from them is that which they used to invent.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭৫. আর আমরা প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী বের করে আনব(১) এবং বলব, তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর। তখন তারা জানতে পারবে যে(২), ইলাহ হওয়ার অধিকার আল্লাহরই এবং তারা যা মিথ্যা রটনা করত তা তাদের কাছ থেকে হারিয়ে যাবে।(৩)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ নবী ও যিনি সংশ্লিষ্ট উম্মতকে সতর্ক করেছিলেন। অথবা নবীদের অনুসারীদের মধ্য থেকে এমন কোন হিদায়াত প্ৰাপ্ত ব্যক্তি যিনি সংশ্লিষ্ট উম্মতের মধ্যে সত্য প্রচারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিংবা কোন প্রচার মাধ্যম যার সাহায্যে সংশ্লিষ্ট উম্মতের কাছে সত্যের পয়গাম পৌছেছিল।


(২) অর্থাৎ আল্লাহই একমাত্র হক ইলাহ। [জালালাইন] আর তখন তারা জানতে পারবে যে, তারা যে সমস্ত কথা বলেছিল, যাদেরকে ইলাহ বা উপাস্য বানিয়েছিল সবই ছিল মিথ্যা, অসার ও অলীক। আর তখন তাদের কাছে স্পষ্ট হবে যে, ইলাহ হওয়ার ব্যাপারে সঠিক তথ্য তো শুধু আল্লাহরই। তাদের উপস্থাপিত দলীল-প্রমাণাদি ভেস্তে গেছে। আর আল্লাহর পক্ষে যে সমস্ত প্রমাণাদি পেশ করা হয়েছিল তা-ই শুধু বাকী আছে। [সা’দী]


(৩) অর্থাৎ দুনিয়াতে তারা যে সমস্ত মিথ্যাচার করত যে, আল্লাহর সাথে শরীক আছে, সে সমস্ত কথা সবই তখন হারিয়ে যাবে। [ফাতহুল কাদীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭৫) প্রত্যেক জাতি হতে আমি একজন সাক্ষী বের করব [1] এবং বলব, ‘তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।”[2] তখন ওরা জানতে পারবে (উপাস্য হওয়ার) অধিকার আল্লাহরই [3] এবং তারা যা উদ্ভাবন করেছিল তা তাদের নিকট হতে উধাও হয়ে যাবে। [4]


তাফসীর:

[1] এখানে সাক্ষী বলতে নবীদেরকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, প্রত্যেক নবীকে তার জাতি হতে আলাদা করে দাঁড় করানো হবে।

[2] অর্থাৎ, পৃথিবীতে আমার নবীদের তওহীদের বাণী পৌঁছে দেওয়ার পরও তোমরা আমার শরীক স্থাপন করতে এবং আমার ইবাদতের সাথে তাদেরও ইবাদত করতে। তার প্রমাণ পেশ কর।

[3] অর্থাৎ, তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবে, কোন প্রমাণ তারা দিতে পারবে না।

[4] অর্থাৎ, তাদের কোন কাজে আসবে না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭৪-৭৫ নং আয়াতের তাফসীর:



দুনিয়াতে যারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে অংশীদার স্থাপন করতঃ অন্যান্য মাবুদের কাছে সাহায্য কামনা করে প্রার্থনা করত, ইবাদত করতন তাদেরকে আখিরাতে আল্লাহ তা‘আলা ডেকে বলবেন, তোমরা যাদের ইবাদত করতে, যাদের কাছে সাহায্য চাইতে তারা আজ কোথায়? অর্থাৎ সেদিন তারা উধাও হয়ে যাবে, ক্ষতি ছাড়া কোন উপকার করতে পারবে না।



অর্থাৎ যখন সকল যুগের মুশরিক ও তাদের মা‘বূদ উপস্থিত হবে তখন প্রত্যেক মিথ্যুক ও মুশরিক জাতি থেকে তাদের একজন একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা ডেকে নিয়ে আসবেন। দুনিয়াতে তারা যে শির্ক ও ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণ করত সে সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে। আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: শির্কী কাজ করা সঠিক তোমাদের এ কথার স্বপক্ষে দলীল নিয়ে এসো, আমি কি তোমাদেরকে এরূপ নির্দেশ দিয়েছিলাম? রাসূলগণ কি তোমাদেরকে এরূপ নির্দেশ দিয়েছিল? আমার নাযিল করা কোন কিতাবে তা পেয়েছো? তখন তারা বুঝতে পারবে তাদের কাজকর্ম সব বাতিল ছিল, আল্লাহ তা‘আলা যা বলেছিলেন, তাই সত্য। সুতরাং সেদিন তাদের থেকে তাদের বানানো মা‘বূদেরা উধাও হয়ে যাবে। কোন উপকার করতে পারবে না। এ সম্পর্কে অত্র সূরার ৬২-৬৪নং আয়াতসহ পূর্বে অন্যান্য সূরাতেও আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা মুশরিকদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন, কোন্ প্রমাণের ভিত্তিতে তারা শির্ক করেছে।

২. আল্লাহ তা‘আলা, নাবী-রাসূলগণ ও কোন আসমানী কিতাব মানুষ জাতিকে শির্কের নির্দেশ দেয়নি। বরং সবাই এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতের কথা বলেছেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭৪-৭৫ নং আয়াতের তাফসীর

মুশরিকদেরকে দ্বিতীয়বার ধমক দিয়ে বলা হবেঃ দুনিয়ায় যাদেরকে তোমরা আমার শরীক বলে গণ্য করতে তারা আজ কোথায়? প্রত্যেক উম্মতের মধ্য হতে একজন সাক্ষী অর্থাৎ ঐ উম্মতের পয়গম্বর মনোনীত করা হবে এবং মুশরিকদেরকে বলা হবেঃ তোমাদের শিক্মকের কোন দলীল তোমরা পেশ কর এবং ঐ সময় তাদের দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে যাবে যে, প্রকৃতপক্ষেই ইবাদতের যোগ্য আল্লাহ ছাড়া আর কেউই নয়। সুতরাং তারা কোন জবাব দিতে পারবে না। তাই তারা খুবই বিচলিত হয়ে পড়বে এবং তারা আল্লাহ তা'আলার উপর যা কিছু মিথ্যা আরোপ করেছিল সবই ভুলে যাবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।