সূরা আল-কাসাস (আয়াত: 69)
হরকত ছাড়া:
وربك يعلم ما تكن صدورهم وما يعلنون ﴿٦٩﴾
হরকত সহ:
وَ رَبُّکَ یَعْلَمُ مَا تُکِنُّ صُدُوْرُهُمْ وَ مَا یُعْلِنُوْنَ ﴿۶۹﴾
উচ্চারণ: ওয়া রাব্বুকা ইয়া‘লামুমা-তুকিন্নুসুদূরুহুম ওয়ামা-ইউ‘লিমূন।
আল বায়ান: আর তোমার রব জানেন, তাদের অন্তর যা গোপন করে আর তারা যা প্রকাশ করে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬৯. আর আপনার রব জানেন এদের অন্তর যা গোপন করে এবং এরা যা ব্যক্ত করে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমার প্রতিপালক জানেন তাদের অন্তর যা গোপন করে আর যা প্রকাশ করে।
আহসানুল বায়ান: (৬৯) ওদের অন্তর যা গোপন করে এবং ওরা যা ব্যক্ত করে, তোমার প্রতিপালক তা জানেন।
মুজিবুর রহমান: আর তোমার রাব্ব জানেন তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং তারা যা ব্যক্ত করে।
ফযলুর রহমান: আর তাদের অন্তর যা লুকিয়ে রাখে এবং তারা যা প্রকাশ করে তোমার প্রভু তা (সব) জানেন।
মুহিউদ্দিন খান: তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে, আপনার পালনকর্তা তা জানেন।
জহুরুল হক: আর তোমার প্রভু ভাল জানেন যা তাদের অন্তর লুকিয়ে রাখে আর যা তারা প্রকাশ করে।
Sahih International: And your Lord knows what their breasts conceal and what they declare.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৬৯. আর আপনার রব জানেন এদের অন্তর যা গোপন করে এবং এরা যা ব্যক্ত করে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৬৯) ওদের অন্তর যা গোপন করে এবং ওরা যা ব্যক্ত করে, তোমার প্রতিপালক তা জানেন।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৬৮-৭০ নং আয়াতের তাফসীর:
প্রথম আয়াতে বর্ণনা করা হচ্ছে, একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই সৃষ্টিকর্তা। তিনি ব্যতীত অন্য আর কেউ সৃষ্টিকর্তা নেই এবং সমস্ত আধিপত্যও তাঁরই। কারো কোন অধিকার নেই। তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সুতরাং তিনি যা সৃষ্টি করার ইচ্ছা করেন তাই সৃষ্টি করে থাকেন, তিনি যাকে ইচ্ছা নবুওয়াতের জন্য মনোনীত করেন। মক্কার মুশরিকরা বলে, মুহাম্মাদ ছাড়া অন্য কাউকে রিসালাত দেয়া হল না কেন? আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَقَالُوْا لَوْلَا نُزِّلَ هٰذَا الْقُرْاٰنُ عَلٰي رَجُلٍ مِّنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيْمٍ)
“এবং তারা বলে: এই কুরআন কেন অবতীর্ণ করা হল না দুই জনপদের কোন প্রভাবশীল ব্যক্তির ওপর?” (সূরা যুখরূফ ৪৩:৩১)
অতএব আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা তাকেই নবুওয়াত দিয়ে থাকেন, এখানে কারো কোন হাত নেই।
(وَرَبُّكَ يَعْلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُوْرُهُمْ وَمَا يُعْلِنُوْنَ)
আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সকল বিষয় সম্পর্কে অবগত আছেন। এমনকি তারা যা কিছু গোপন করে তাও। এ সম্পর্কে সূরা নামলের ৭৪-৭৫ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করেছেন, তিনিই একমাত্র মা‘বূদ, তিনি ব্যতীত সত্যিকার কোন মা‘বূদ নেই। তাই একমাত্র তাঁরই ইবাদত করতে হবে। আর দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বাবস্থায় প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার এবং বিধানও চলবে একমাত্র তাঁর। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلّٰهِ)
“বিধান দেয়ার কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহরই।” (সূরা আন‘আম ৬:৫৭)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কোন সৃষ্টিকর্তা ও উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য, অন্য কেউ নয়।
২. আল্লাহ তা‘আলা মানুষের গোপন ও প্রকাশ্য সকল বিষয় সম্পর্কে অবগত আছেন।
৩. সর্বাবস্থায় কেবল আল্লাহ তা‘আলারই প্রশংসা করতে হবে।
৪. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত কারো কোন বিধান চলবে না। আর পরিশেষে মানুষকে তাঁর দিকেই ফিরে যেতে হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৬৮-৭০ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, একমাত্র তিনিই সৃষ্টিকর্তা এবং সমস্ত আধিপত্য তাঁরই। না তার সাথে কেউ বিতর্কে লিপ্ত হতে পারে, না কেউ তাঁর শরীক হতে পারে। তিনি যা চান তাই সৃষ্টি করে থাকেন এবং যাকে চান নিজের বিশিষ্ট বান্দা বানিয়ে নেন। তিনি যা চান তা হয় এবং যা চান না তা হয় না। ভাল ও মন্দ সবই তাঁরই হাতে। সবকেই তারই নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। কারো কোন অধিকার নেই। শব্দের অর্থ এটাই। যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) কোন বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিনা নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না।” (৩৩:৩৬)
সঠিক দু’টি উক্তিতেই (আরবি) শব্দটি (আরবি) বা নেতিবাচক রূপে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে ইবনে জারীর (রঃ) বলেছেন যে, (আরবি) এখানে ব্যবহৃত হয়েছে (আরবি) অর্থে। অর্থাৎ আল্লাহ ওটাই পছন্দ করেন যাতে তাদের মঙ্গল রয়েছে। কিন্তু সঠিক কথা এটাই যে, এখানে (আরবি) ব্যবহৃত হয়েছে (আরবি) অর্থে। যেমন এটা হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) প্রমুখ গুরুজন হতে বর্ণিত হয়েছে। এ আয়াতটি এই বর্ণনাতেই রয়েছে যে, মাখলুককে সৃষ্টি করা, তকদীর নির্ধারণ করা ইত্যাদি সবকিছুর অধিকার একমাত্র আল্লাহর। তিনি অতুলনীয়। এজন্যেই এ আয়াতের শেষে মহান আল্লাহ বলেছেনঃ তারা যাকে শরীক করে তা হতে তিনি ঊর্ধ্বে।
এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তোমার প্রতিপালক জানেন তাদের অন্তরে যা গোপন রয়েছে এবং তারা যা প্রকাশ করে। হে মানুষ! তোমরা যা গোপন কর বা প্রকাশ কর, সবকিছুই তাঁর কাছে প্রকাশমান, তিনি সবই জানেন। দিবসে ও রজনীতে যা কিছু ঘটছে, কিছুই তার কাছে গোপন থাকে না। মা'বুদ হওয়ার ব্যাপারেও তিনি একক। দুনিয়া ও আখিরাতে প্রশংসা তাঁরই, বিধান তাঁরই, তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। তার হুকুম কেউই রদ করতে পারে না। তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই করতে পারেন। এমন কেউ নেই যে তার ইচ্ছা থেকে তাঁকে ফিরাতে পারে। হিকমত ও রহমত তারই পবিত্র সত্তায় রয়েছে। কিয়ামতের দিন তোমরা তারই নিকট ফিরে যাবে। তিনি। তোমাদের সকলকেই তোমাদের আমলের প্রতিদান প্রদান করবেন। তার কাছে তোমাদের কোন কাজই গোপন নেই। তিনি সেই দিন সৎ লোকদেরকে পুরস্কার ও অসৎ লোলেদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন। ঐ দিন তিনি স্বীয় বান্দাদের মধ্যে পূর্ণ ফায়সালা করে দিবেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।