আল কুরআন


সূরা আল-কাসাস (আয়াত: 46)

সূরা আল-কাসাস (আয়াত: 46)



হরকত ছাড়া:

وما كنت بجانب الطور إذ نادينا ولكن رحمة من ربك لتنذر قوما ما أتاهم من نذير من قبلك لعلهم يتذكرون ﴿٤٦﴾




হরকত সহ:

وَ مَا کُنْتَ بِجَانِبِ الطُّوْرِ اِذْ نَادَیْنَا وَ لٰکِنْ رَّحْمَۃً مِّنْ رَّبِّکَ لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَّاۤ اَتٰىهُمْ مِّنْ نَّذِیْرٍ مِّنْ قَبْلِکَ لَعَلَّهُمْ یَتَذَکَّرُوْنَ ﴿۴۶﴾




উচ্চারণ: ওয়ামা-কুনতা বিজা-নিবিততূরি ইয না-দাইনা-ওয়ালা-কির রাহমাতাম মির রাব্বিকা লিতুনযিরা কাওমাম মাআতা-হুম মিন নাযীরিম মিন কাবলিকা লা‘আল্লাহুম ইয়াতাযাক্কারূন।




আল বায়ান: আর যখন আমি (মূসাকে) ডেকেছিলাম তখন তুমি তূর পর্বতের পাশে উপস্থিত ছিলে না। কিন্তু তোমার রবের পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ জানানো হয়েছে, যাতে তুমি এমন কওমকে সতর্ক করতে পার, যাদের কাছে তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসেনি। সম্ভবত তারা উপদেশ গ্রহণ করবে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৬. আর মূসাকে যুখন আমরা ডেকেছিলাম তখনও আপনি তুর পর্বতের পাশে উপস্থিত ছিলেন না।(১) বস্তুত এটা আপনার রব-এর কাছ থেকে দয়াস্বরূপ, যাতে আপনি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারেন, যাদের কাছে আপনার আগে কোন সতর্ককারী আসেনি(২), যেন তারা উপদেশ গ্ৰহণ করে;




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি যখন (মূসাকে) ডাক দিয়েছিলাম তখন তুমি তূর পর্বতের পাশে ছিলে না। কিন্তু (তোমাকে পাঠানো হয়েছে) তোমার প্রতিপালকের রহমতস্বরূপ যাতে তুমি এমন একটি সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার যাদের কাছে তোমার পূর্বে সতর্ককারী পাঠানো হয়নি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।




আহসানুল বায়ান: (৪৬) মূসাকে যখন আমি আহবান করেছিলাম, তখন তুমি ত্বুর পর্বত-পার্শ্বে উপস্থিত ছিলে না।[1] বস্তুতঃ এ সংবাদ তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে করুণাস্বরূপ,[2] যাতে তুমি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার, যাদের নিকট তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসেনি;[3] যেন ওরা উপদেশ গ্রহণ করে।



মুজিবুর রহমান: মূসাকে যখন আমি আহবান করেছিলাম তখন তুমি তূর পর্বত-পার্শ্বে উপস্থিত ছিলেনা। বস্তুতঃ এটা তোমার রবের নিকট হতে দয়া স্বরূপ যাতে তুমি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার যাদের নিকট তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসেনি, যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করে।



ফযলুর রহমান: আমি যখন (মূসাকে) সম্বোধন করেছিলাম তখন তুমি তূর পাহাড়ের পাশে ছিলে না। কিন্তু (তোমাকে পাঠানো হয়েছে) তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ, যাতে তুমি এমন এক সমপ্রদায়কে সতর্ক করতে পার যাদের কাছে তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসেনি, যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করে।



মুহিউদ্দিন খান: আমি যখন মূসাকে আওয়াজ দিয়েছিলাম, তখন আপনি তুর পর্বতের পার্শ্বে ছিলেন না। কিন্তু এটা আপনার পালনকর্তার রহমত স্বরূপ, যাতে আপনি এমন এক সম্প্রদায়কে ভীতি প্রদর্শন করেন, যাদের কাছে আপনার পূর্বে প্রদর্শনকারী আগমন করেনি, যাতে তারা স্মরণ রাখে।



জহুরুল হক: আর তুমি পাহাড়ের নিকটে ছিলে না যখন আমরা আহ্বান করেছিলাম, কিন্তু এটি তোমার প্রভু থেকে এক করুণা, যাতে তুমি সতর্ক করতে পার এমন এক বংশকে যাদের কাছে তোমার আগে সতর্ককারীদের কেউ আসেন নি, যেন তারা মনোযোগ দিতে পারে।



Sahih International: And you were not at the side of the mount when We called [Moses] but [were sent] as a mercy from your Lord to warn a people to whom no warner had come before you that they might be reminded.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৬. আর মূসাকে যুখন আমরা ডেকেছিলাম তখনও আপনি তুর পর্বতের পাশে উপস্থিত ছিলেন না।(১) বস্তুত এটা আপনার রব-এর কাছ থেকে দয়াস্বরূপ, যাতে আপনি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারেন, যাদের কাছে আপনার আগে কোন সতর্ককারী আসেনি(২), যেন তারা উপদেশ গ্ৰহণ করে;


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ বনী ইসরাঈলের সত্তর জন প্রতিনিধি যাদেরকে শরীয়াতের বিধান মেনে চলার অংগীকার করার জন্য মূসার সাথে ডাকা হয়েছিল। [ফাতহুল কাদীর]


(২) এখানে কাওম বলে ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বংশধর মক্কার আরবদেরকে বোঝানো হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর] ইসমাঈল আলাইহিস সালামের পর থেকে শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত তাদের মধ্যে কোন নবী প্রেরিত হয়নি। সূরা ইয়াসীনের প্রথমেও এটা এসেছে। কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে, (وَإِن مِّنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ) অর্থাৎ এমন কোন উম্মত নেই, যাদের কাছে আল্লাহর কোন নবী আসেনি। মক্কার আরবদের নিকটও নবী-রাসূলগণের আগমন ঘটেছিল। তাই এখানে বা এ জাতীয় যেখানেই বলা হয়েছে যে, তাদের কাছে নবী-রাসূল আসেনি তার অর্থ, অদূর অতীতে আগমন না করা।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৬) মূসাকে যখন আমি আহবান করেছিলাম, তখন তুমি ত্বুর পর্বত-পার্শ্বে উপস্থিত ছিলে না।[1] বস্তুতঃ এ সংবাদ তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে করুণাস্বরূপ,[2] যাতে তুমি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার, যাদের নিকট তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসেনি;[3] যেন ওরা উপদেশ গ্রহণ করে।


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, যদি তুমি সত্য রসূল না হতে, তাহলে মূসার এই ঘটনা তোমার জানার কথা নয়।

[2] অর্থাৎ, তোমার এই জ্ঞান সরাসরি প্রত্যক্ষ ও পরিদর্শন করার ফল নয়; বরং তা তোমার প্রতিপালকের কৃপা যে, তিনি তোমাকে নবী করে প্রেরণ করেছেন এবং অহী দ্বারা সম্মানিত করেছেন।

[3] এ সম্প্রদায় বলতে মক্কা ও আরববাসীদেরকে বুঝানো হয়েছে। যাদের নিকট নবী (সাঃ)-এর পূর্বে কোন নবীর আগমন ঘটেনি। কারণ, ইবরাহীম (আঃ)-এর পর নবুঅতের ধারা তাঁরই বংশেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং তাঁদেরকে বানী ইস্রাইলের দিকেই প্রেরণ করা হয়। ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশে অর্থাৎ, আরবের জন্য নবী (সাঃ) ছিলেন প্রথম নবী ও নবীদের সর্বশেষ নবী ছিলেন। এদের নিকট নবী প্রেরণের প্রয়োজন এই জন্যই বোধ করা হয়নি, যেহেতু অন্যান্য নবীদের আহবান ও তাঁদের বাণী তাদের নিকট পৌঁছেছিল। নচেৎ তাদের কুফর ও শিরকের উপর অব্যাহত থাকার ওজর থাকত। অথচ আল্লাহ তাআলা এ রকম ওজর কারোও জন্য অবশিষ্ট রাখেননি।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৪-৪৭ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত ও রিসালাতের সত্যতার প্রমাণ বহন করে এমন একটি দিক বর্ণনা করা হয়েছে। الْغَرْبِيِ অর্থাৎ পশ্চিম, অর্থাৎ যখন মূসা (عليه السلام) এর সাথে আমি আল্লাহ তা‘আলা কথা বলি এবং তাঁকে নবুওয়াত প্রদান করি তখন তুমি তূর পাহাড়ের পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলে না। শু‘আইব (عليه السلام)-এর এলাকা মাদইয়ান, যা মূসা (عليه السلام)-এর শশুর বাড়ি, সেখানেও তুমি উপস্থিত ছিলে না, এতদসত্ত্বেও তুমি মূসা (عليه السلام)-এর জীবন বৃত্তান্তসহ পূর্ববর্তীদের জীবন কাহিনী কিভাবে জানলে? নিশ্চয়ই এটা তোমার প্রতি তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ যে, তিনি ওয়াহীর মাধ্যমে তোমাকে সব জানিয়েছেন। তোমার কাছে যদি ওয়াহী না করা হত, তুমি যদি রাসূল না হতে তাহলে কখনো তা জানতে পারতে না। এতো পুরনো ঘটনা সঠিকভাবে সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(تِلْكَ مِنْ أَنْۭبَا۬ءِ الْغَيْبِ نُوْحِيْهَآ إِلَيْكَ ج مَا كُنْتَ تَعْلَمُهَآ أَنْتَ وَلَا قَوْمُكَ مِنْ قَبْلِ هٰذَا ط فَاصْبِرْ ط إِنَّ الْعَاقِبَةَ لِلْمُتَّقِيْنَ)‏



“এ সমস্ত‎ অদৃশ্যের সংবাদন আমি তোমাকে ওয়াহী দ্বারা অবহিত করছি, যা এর পূর্বে তুমি জানতে না এবং তোমার সম্প্রদায়ও জানত না। সুতরাং ধৈর্য ধারণ কর‎, শুভ পরিণাম মুত্তাকীদেরই জন্য।’’ (সূরা হূদ ১১:৪৯) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(كَذٰلِكَ نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْۭبَا۬ءِ مَا قَدْ سَبَقَ ج وَقَدْ اٰتَيْنٰكَ مِنْ لَّدُنَّا ذِكْرًا)



“পূর্বে যা ঘটেছে তার সংবাদ আমি এভাবে তোমার নিকট বিবৃত করি এবং আমি আমার পক্ষ থেকে তোমাকে দান করেছি উপদেশ।” (সূরা ত্বা-হা- ২০:৯৯)



সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতের সত্যতায় কোন সংশয় নেই। যারা সংশয় করবে তারা কাফির হয়ে যাবে।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলছেনন তিনি কোন জাতিকে সতর্ক করার জন্য রাসূল না পাঠিয়ে ধ্বংস করেন না বা শাস্তি প্রদান করেন না। কারণ যদি এভাবে শাস্তি প্রদান করা হত তাহলে তারা বলত, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের নিকট কোন সতর্ককারী প্রেরণ করা হল না কেন? তাহলে আমরা তার অনুসরণ করতাম।



এ কথা যেন বলতে না পারে তাই তাদের নিকট তোমাকে সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



‏(اَنْ تَقُوْلُوْٓا اِنَّمَآ اُنْزِلَ الْکِتٰبُ عَلٰی طَا۬ئِفَتَیْنِ مِنْ قَبْلِنَاﺕ وَاِنْ کُنَّا عَنْ دِرَاسَتِھِمْ لَغٰفِلِیْنَﯫاَوْ تَقُوْلُوْا لَوْ اَنَّآ اُنْزِلَ عَلَیْنَا الْکِتٰبُ لَکُنَّآ اَھْدٰی مِنْھُمْﺆ فَقَدْ جَا۬ءَکُمْ بَیِّنَةٌ مِّنْ رَّبِّکُمْ وَھُدًی وَّرَحْمَةٌﺆ فَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ کَذَّبَ بِاٰیٰتِ اللہِ وَصَدَفَ عَنْھَاﺚ سَنَجْزِی الَّذِیْنَ یَصْدِفُوْنَ عَنْ اٰیٰتِنَا سُوْ۬ئَ الْعَذَابِ بِمَا کَانُوْا یَصْدِفُوْنَ)



“(এটা নাযিল করার কারণ এই যে,) যাতে তোমরা না বলতে পার, (ইয়াহূদী ও খ্রিস্টান) কিতাব তো শুধু আমাদের পূর্বে দুই সম্প্রদায়ের প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছিল; আমরা তাদের পঠন-পাঠন সম্বন্ধে তো গাফিল ছিলাম’, অথবা যাতে এ কথা বলতে না পার, ‘যদি কিতাব আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হত তবে আমরা তো তাদের অপেক্ষা অধিক হিদায়াতপ্রাপ্ত হতাম।’ এখন তো তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে স্পষ্ট প্রমাণ, হিদায়াত ও রহমত এসেছে, অতএব (এরপর আল্লাহ তা‘আলার) আয়াতকে যে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে এবং তা থেকে এড়িয়ে থাকবে তার চেয়ে বড় অত্যাচারী আর কে হতে পারে? যারা আমার আয়াতসমূহ এড়িয়ে চলবে তাদেরকে আমি এই এড়িয়ে চলার কারণে অতিসত্বর কঠিন শাস্তি দেব।” (সূরা আন‘আম ৬:১৫৬-১৫৭)



সুতরাং ঈমান না আনার পেছনে কোন ওযর আপত্তি পেশ করা যাবে না। আর তা গ্রহণও করা হবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা পূর্বেই ওযর পেশ করার সকল পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই ওযর গ্রহণযোগ্য হবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য রাসূল তাতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই।

২. সতর্ককারী প্রেরণ না করা পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা কোন জাতিকে ধ্বংস করেন না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪৪-৪৭ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় শেষ নবী (সঃ)-এর নবুওয়াতের দলীল দিচ্ছেন যে, তিনি এমন একজন লোক যার কোন আক্ষরিক জ্ঞান নেই, যিনি একটি অক্ষরও কারো কাছে শিক্ষা করেননি, পূর্ববর্তী কিতাবগুলো যাঁর কাছে সম্পূর্ণরূপে অপরিচিত, যার কওমের সবাই বিদ্যাচর্চা ও অতীতের ইতিহাস হতে সম্পূর্ণ বে-খবর, তিনি স্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবে এবং পূর্ণ বাকপটুতার সাথে ও সঠিকভাবে অতীতের ঘটনাবলী এমনভাবে বর্ণনা করছেন যে, যেন তিনি সেগুলো স্বচক্ষে দর্শন করেছেন এবং তিনি যেন সেগুলো সংঘটিত হওয়ার সময় তথায় বিদ্যমান ছিলেন। এটা কি একথার প্রমাণ নয় যে, তাঁকে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে শিক্ষাদান করা হয়েছে, স্বয়ং আল্লাহ অহীর মাধ্যমে ওগুলো তাকে জানিয়ে দিয়েছেন? হযরত মারইয়াম (আঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়েও এটা পেশ করেছেন এবং বলেছেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “হে নবী (সঃ)! মারইয়াম (আঃ)-এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব কে গ্রহণ করবে এর জন্যে যখন তারা তাদের কলম নিক্ষেপ করছিল তুমি তখন তাদের নিকট ছিলে না এবং তারা যখন বাদানুবাদ করছিল তখনও তুমি তাদের নিকট ছিলে না।” (৩:৪৪) সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সঃ) বিদ্যমান না থাকা এবং অবহিত থাকা সত্ত্বেও এ ঘটনাকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, যেন তিনি তথায় বিদ্যমান ছিলেন এবং তাঁর সামনেই ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল, এটা তাঁর নবুওয়াতের স্পষ্ট দলীল ও পরিষ্কার নিদর্শন যে, তিনি অহীর মাধ্যমে এগুলোর খবর দিয়েছেন। অনুরূপভাবে হযরত নূহ (আঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা করার পর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “এগুলো অদৃশ্যের সংবাদ যেগুলো আমি তোমাকে অহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি, ইতিপূর্বে এগুলো না তুমি জানতে, না তোমার কওম জানতো, সুতরাং তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং জেনে রেখো যে, শুভ পরিণাম আল্লাহভীরুদেরই।” (১১:৪৯) সূরায়ে ইউসুফেরও শেষে ইরশাদ হয়েছে (আরবি)

অর্থাৎ “এটা অদৃশ্যলোকের সংবাদ যা তোমাকে আমি অহীর দ্বারা অবহিত করছি; ষড়যন্ত্রকালে যখন তারা মতৈক্যে পৌছেছিল, তখন তুমি তাদের সাথে ছিলে না।” (১২:১০২) সূরায়ে তোয়াহা-তে রয়েছে (আরবি)

অর্থাৎ “পূর্বে যা ঘটেছে তার সংবাদ আমি এইভাবে তোমার নিকট বিবৃত করি।” (২০:৯৯) অনুরূপভাবে এখানেও হযরত মূসা (আঃ)-এর জন্ম, নবুওয়াতের সূচনা ইত্যাদি প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর বলেনঃ “(হে মুহাম্মদ সঃ!) যখন আমি মূসা (আঃ)-কে বিধান দিয়েছিলাম তখন তুমি পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলে না এবং তুমি প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলে না। বস্তুতঃ আমি অনেক মানবগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটিয়েছিলাম; অতঃপর তাদের বহু যুগ অতিবাহিত হয়েছে। তুমি তো মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে বিদ্যমান ছিলে না তাদের নিকট আমার আয়াত আবৃত্তি করবার জন্যে। আমিই ছিলাম রাসূল প্রেরণকারী। আর হে নবী (সঃ)! যখন আমি মূসা (আঃ)-কে আহ্বান করেছিলাম তখন তুমি তূর পর্বত পার্শ্বে হাযির ছিলে না।”

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আওয়ায দেয়া হয়ঃ “হে মুহাম্মদ (সঃ)-এর উম্মত! তোমাদের চাওয়ার পূর্বেই আমি তোমাদেরকে প্রদান করেছি এবং তোমরা দু'আ করবে তার পূর্বেই আমি ককূল করে নিয়েছি।” (এ হাদীসটি ইমাম আবদুর রহমান আন নাসাঈ (রঃ) তার সুনান গ্রন্থে এ আয়াতের তাফসীরে বর্ণনা করেছেন)

হযরত মুকাতিল (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ “হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তোমরা যখন তাদের বাপ-দাদাদের পৃষ্ঠদেশে ছিলে তখনই আমি তাদেরকে ডাক দিয়েছিলাম যে, আমি যখন তোমাকে নবী করে প্রেরণ করবো তখন তারা তোমার অনুসরণ করবে।”

কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হলো: “আমি মূসা (আঃ)-কে আহ্বান করেছিলাম। এটাই বেশী সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা, উপরেও এরই বর্ণনা রয়েছে। উপরে সাধারণভাবে বর্ণনা ছিল এবং এখানে বিশিষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “যখন তোমার প্রতিপালক মূসা (আঃ)-কে আহ্বান করলেন।” (২৬:১০) আর এক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তার প্রতিপালক যখন তাকে পবিত্র ভূর উপত্যকায় আহ্বান করেন।” (৭৯:১৬) মহামহিমান্বিত আল্লাহ আর একটি আয়াতে বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তাকে আমি আহ্বান করেছিলাম তূর পর্বতের দক্ষিণ দিক হতে এবং আমি অন্তরঙ্গ আলাপে তাকে নিকটবর্তী করেছিলাম।” (১৯:৫২)

মহান আল্লাহ বলেনঃ এগুলোর মধ্যে একটি ঘটনাও তোমার উপস্থিতকালে এবং তোমার চোখের সামনে সংঘটিত হয়নি, বরং তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে দয়া স্বরূপ, যাতে তুমি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার, যাদের নিকট তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসেনি, যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করে। এটা এ জন্যেও যে, তাদের কাছে যেন কোন দলীল বাকী না থাকে এবং ওর করারও কিছু না থাকে যে, তাদের কাছে কোন রাসূল আসেননি এবং তাদেরকে কেউ সুপথ প্রদর্শন করেননি, করলে অবশ্যই তারা আল্লাহর নিদর্শন মেনে চলতো এবং তারা মুমিন হতো।

যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় স্বীয় পবিত্র কিতাব কুরআনুল কারীম অবতীর্ণ করার পর বলেনঃ “এটা এই জন্যে যে, তোমরা যেন বলতে না পারকিতাব তো আমাদের পূর্বে দুটি দলের উপর অবতীর্ণ করা হয়েছিল, কিন্তু আমরা তো এর পাঠ ও শিক্ষাদান হতে ছিলাম সম্পূর্ণ উদাসীন। যদি এ কিতাব আমাদের উপর অবতীর্ণ করা হতো তবে অবশ্যই আমরা তাদের চেয়ে বেশী সুপথগামী হতাম। এখন জেনে রেখো যে, তোমাদের কাছেও তোমাদের প্রতিপালকের দলীল, হিদায়াত ও রহমত এসে গেছে। অন্য একটি আয়াতে রয়েছেঃ “এরা হলো সুসংবাদদাতা ও ভয়-প্রদর্শনকারী রাসূল যাতে লোকদের জন্যে রাসূলদের পরে কোন হুজ্জত বাকী না থাকে। আর একটি আয়াতে রয়েছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “হে আহলে কিতাব! তোমাদের কাছে রাসূলশূন্য যুগে আমার রাসূল এসে গেছে যে তোমাদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছে, যাতে তোমরা বলতে না পার- আমাদের কাছে কোন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী আসেনি, কারণ এখন তো তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভয়-প্রদর্শনকারী এসে গেছে।” (৫:১৯) এ ধরনের আরো বহু আয়াত রয়েছে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।