আল কুরআন


সূরা আন-নামাল (আয়াত: 58)

সূরা আন-নামাল (আয়াত: 58)



হরকত ছাড়া:

وأمطرنا عليهم مطرا فساء مطر المنذرين ﴿٥٨﴾




হরকত সহ:

وَ اَمْطَرْنَا عَلَیْهِمْ مَّطَرًا ۚ فَسَآءَ مَطَرُ الْمُنْذَرِیْنَ ﴿۵۸﴾




উচ্চারণ: ওয়া আমতারনা-‘আলাইহিম মাতারান ফাছাআ মাতারুল মুনযারীন।




আল বায়ান: আমি তাদের উপর মুষলধারে (পাথরের) বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। ভীতি প্রদর্শিতদের জন্য কতইনা নিকৃষ্ট ছিল এই বৃষ্টি!




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৮. আর আমরা তাদের উপর ভয়ংকর বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম; সুতরাং ভীতি প্ৰদৰ্শিতদের জন্য এ বর্ষণ কতই না নিকৃষ্ট ছিল!




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর আমি তাদের উপর বর্ষিয়ে ছিলাম এক ভয়ংকর বৃষ্টি। ভীতি প্রদর্শিতদের উপর এ বৃষ্টি ছিল কতই না মন্দ!




আহসানুল বায়ান: (৫৮) তাদের উপর বিশেষ ধরনের বৃষ্টি বর্ষণ করলাম;[1] যাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল, তাদের জন্য এই বর্ষণ ছিল কত মারাত্মক![2]



মুজিবুর রহমান: তাদের উপর ভয়ঙ্কর বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম; যাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল তাদের জন্য এই বর্ষণ ছিল কত মারাত্মক।



ফযলুর রহমান: আর তাদের ওপর এক (শাস্তির) বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের (ওপর) এই বৃষ্টি বড়ই খারাপ ছিল।



মুহিউদ্দিন খান: আর তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম মুষলধারে বৃষ্টি। সেই সতর্ককৃতদের উপর কতই না মারাত্নক ছিল সে বৃষ্টি।



জহুরুল হক: আর তাদের উপরে আমরা বর্ষণ করেছিলাম এক বৃষ্টি, অতএব বড় মন্দ ছিল সতর্কীকৃতদের বর্ষণ!



Sahih International: And We rained upon them a rain [of stones], and evil was the rain of those who were warned.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৮. আর আমরা তাদের উপর ভয়ংকর বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম; সুতরাং ভীতি প্ৰদৰ্শিতদের জন্য এ বর্ষণ কতই না নিকৃষ্ট ছিল!


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৮) তাদের উপর বিশেষ ধরনের বৃষ্টি বর্ষণ করলাম;[1] যাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল, তাদের জন্য এই বর্ষণ ছিল কত মারাত্মক![2]


তাফসীর:

[1] তাদের উপর যে আযাব আপতিত হয়েছিল তার বিস্তারিত আলোচনা এর পূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে। আর তা হল, তাদের গ্রামকে তাদের উপর উল্টে দেওয়া হয়েছিল। তারপর তাদের উপর পাথর বর্ষণ করা হয়েছিল।

[2] অর্থাৎ, যাদেরকে আম্বিয়া দ্বারা সতর্ক করা হয়েছিল ও যাদের উপর হুজ্জত কায়েম হয়েছিল, তা সত্ত্বেও তারা মিথ্যা ও সত্যপ্রত্যাখ্যানের পথ পরিহার করেনি, তাদের জন্য এই বর্ষণ ছিল কত মারাত্মক!


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৪-৫৮ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলোতে লূত (عليه السلام) ও তাঁর সম্প্রদায়ের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। যাদের ব্যাপারে পূর্বে সূরা আ‘রাফের ৮০-৮৪ ও সূরা হূদের ৭৬-৮৩ নং আয়াতসহ একাধিক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৪-৫৮ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দা ও রাসূল হযরত লূত (আঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা করছেন যে, তিনি তাঁর উম্মত অর্থাৎ তার কওমকে তাদের এমন জঘন্যতম কাজের জন্যে ভীতি প্রদর্শন করেন যে কাজ তাদের পূর্বে কেউই করেনি অর্থাৎ কাম-তৃপ্তির জন্যে নারীকে ছেড়ে পুরুষে উপগত হওয়া। সমস্ত কওমের অবস্থা এই ছিল যে, পুরুষ লোকেরা পুরুষ লোকেদের দ্বারা এবং স্ত্রীলোকেরা স্ত্রীলোকদের দ্বারা তাদের কাম-প্রবৃত্তি চরিতার্থ করতো। সাথে সাথে তারা এতো বেহায়া হয়ে গিয়েছিল যে, ঐ জঘন্য কাজ গোপনে করাও প্রয়োজন মনে করতো না। প্রকাশ্যে তারা এই বেহায়াপূর্ণ কার্যে লিপ্ত হয়ে পড়তো। স্ত্রীলোকদেরকে ছেড়ে তারা পুরুষ লোকদের কাছে আসতো। এ জন্যেই হযরত লূত (আঃ) তাদেরকে বলেনঃ “তোমরা তোমাদের অজ্ঞতাপূর্ণ কাজ হতে ফিরে এসো। তোমরা এমনই মূর্খ হয়ে গেছে যে, শরীয়তের পবিত্রতার সাথে সাথে তোমাদের স্বাভাবিক পবিত্রতাও বিদায় নিতে শুরু করেছে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তোমরা বিশ্ব জগতের পুরুষদের নিকট আসছে এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে যে জোড়াসমূহ সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে ছেড়ে দিচ্ছ? বরং তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।” (২৬:১৬৫-১৬৬)

মহান আল্লাহ বলেন যে, তারা উত্তরে বলেছিলঃ “তোমরা পূত-পরিবারকে তোমাদের জনপদ হতে বহিস্কৃত কর, তারা তো এমন লোক যারা পবিত্র সাজতে চায়।”

যখন কাফিররা হযরত লূত (আঃ) ও তাঁর পরিবারকে দেশান্তর করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং সবাই একমত হয়ে যায় তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ধ্বংস করে দেন এবং হযরত লূত (আঃ) ও তাঁর পরিবারবর্গকে তাদের হতে এবং যে শাস্তি তাদের উপর আপতিত হয়েছিল তা হতে রক্ষা করেন। হ্যাঁ, তবে তাঁর স্ত্রী, যে তাঁর কওমের সাথেই ছিল এবং ঐ ধ্বংসপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রথম হতেই তার নাম লিপিবদ্ধ হয়েছিল, সে এখানে বাকী রয়ে যায় এবং শাস্তিপ্রাপ্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। কেননা, সে ঐ ধ্বংসপ্রাপ্তদেরকে তাদের দ্বীন ও রীতি নীতিতে সাহায্য করতো। সে তাদের দুষ্কর্মকে পছন্দ করতো। সে-ই হযরত নূত (আঃ)-এর অতিথিদের খবর তাঁর কওমের নিকট পৌছিয়ে দিয়েছিল। তবে এটা স্মরণ রাখা দরকার যে, সে তাদের অশ্লীল কাজে শরীক ছিল না। আল্লাহর নবীর স্ত্রী বদকার হবে এটা নবীর মর্যাদার পরিপন্থী।

ঐ কওমের উপর আকাশ হতে পাথর বর্ষিত হয়, যে পাথরগুলোর উপর তাদের নাম অংকিত ছিল। প্রত্যেকের উপর তার নামেরই পাথর পড়েছিল এবং তাদের একজনও বাঁচেনি। অত্যাচারীদের হতে আল্লাহর শাস্তি দূর হয় না। তাদের উপর আল্লাহর হুজ্জত কায়েম হয়ে গিয়েছিল। তাদেরকে সতর্ক ও ভয় প্রদর্শন করা হয়েছিল এবং তাদের উপর রিসালাতের তাবলীগ যথেষ্ট পরিমাণে হয়েছিল। কিন্তু তারা বিরোধিতাকরণ, অবিশ্বাসকরণ ও বেঈমানীর উপর অটল ছিল। তারা আল্লাহর নবী হযরত লূত (আঃ)-কে কষ্ট দিয়েছিল, এমনকি তাঁকে দেশ হতে বহিস্কৃত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। তৎক্ষণাৎ ঐ মন্দ প্রস্তর-বৃষ্টি তাদের উপর বর্ষিত হয় এবং তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।