সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 152)
হরকত ছাড়া:
الذين يفسدون في الأرض ولا يصلحون ﴿١٥٢﴾
হরকত সহ:
الَّذِیْنَ یُفْسِدُوْنَ فِی الْاَرْضِ وَ لَا یُصْلِحُوْنَ ﴿۱۵۲﴾
উচ্চারণ: আল্লাযীনা ইউফছিদূনা ফিল আরদিওয়ালা-ইউসলিহূন।
আল বায়ান: ‘যারা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৫২. যারা যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং সংশোধন করে না।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, সংস্কার করে না।’
আহসানুল বায়ান: (১৫২) এরা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না।’
মুজিবুর রহমান: যারা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করেনা।
ফযলুর রহমান: যারা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, ভাল কাজ করে না।”
মুহিউদ্দিন খান: যারা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না;
জহুরুল হক: যারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে আর শান্তিস্থাপন করে না।
Sahih International: Who cause corruption in the land and do not amend."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৫২. যারা যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং সংশোধন করে না।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৫২) এরা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না।’
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৪১-১৫৯ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে সালেহ (عليه السلام) ও তাঁর সম্প্রদায় সামূদ জাতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এদের সম্পর্কে সূরা আ‘রাফে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৪৬-১৫২ নং আয়াতের তাফসীর
হযরত সালেহ (আঃ) স্বীয় কওমের মধ্যে ওয়াজ করতে রয়েছেন, তাদেরকে আল্লাহর নিয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। তিনি তাদেরকে আল্লাহর শাস্তির ভয় দেখিয়ে বলেনঃ যিনি তোমাদের জীবিকায় প্রশস্ততা দান করেছেন, যিনি তোমাদের জন্যে বাগান, প্রস্রবণ, শস্যক্ষেত্র, ফলমূল ইত্যাদি সরবরাহ করেছেন, শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে যিনি তোমাদের জীবনের দিনগুলো পূর্ণ করতে রয়েছেন, তোমরা তাঁর অবাধ্যাচরণ করে এসব নিয়ামত এবং শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে কালাতিপাত করে যেতে পারবে এটা মনে করে নিয়েছো কি? আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে এখন যে মৰূত দূর্গ, সুউচ্চ ও সুন্দর প্রাসাদে বাস করতে দিয়েছেন, তোমরা কি মনে করেছে যে, তাঁর নাফরমানীর পরেও এগুলোর সবই ঠিক থাকবে? বড়ই আফসোসের বিষয় যে, তোমরা আল্লাহর নিয়ামতরাজির মর্যাদা দিলে না। তোমরা তো নৈপুণ্যের সাথে পাহাড় কেটে গৃহ নির্মাণ করছে, কিন্তু তোমরা যে কাজ করতে রয়েছে তাতে এসব যে ধ্বংস হয়ে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। এসব চাকচিক্যময় প্রাসাদ তোমরা তৈরী করছো। শুধুমাত্র তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও শক্তি প্রকাশ করার জন্যে। এতে কোনই লাভ নেই, বরং এর শাস্তি তোমাদের নিজেদেরকে ভোগ করতে হবে। সুতরাং তোমাদের আল্লাহকে ভয় করা এবং আমার আনুগত্য করা উচিত। তোমাদের উচিত তোমাদের সৃষ্টিকর্তা, আহার্যদাতা, নিয়ামতদাতা এবং অনুগ্রহকারীর ইবাদত করা এবং তার হুকুম মান্য করা ও তাঁর একত্ববাদ স্বীকার করে নেয়া। তাহলে তোমরা দুনিয়া ও আখিরাতে সুফল প্রাপ্ত হবে। তোমাদের তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং তাসবীহ তাহলীল করা একান্ত কর্তব্য। সকাল-সন্ধ্যায় তোমাদের তাঁরই ইবাদত করা উচিত এবং তোমাদের বর্তমান নেতৃবর্গকে মান্য করা মোটেই উচিত নয়। তারা সীমালংঘন করেছে। তাওহীদের অনুসরণ করা তারা। ভুলে গেছে। তারা ভূ-পৃষ্ঠে শান্তি স্থাপন না করে শুধু অশান্তিই সৃষ্টি করছে। তারা নিজেরা নাফরমানী, পাপ ও অন্যায় কাজে লিপ্ত রয়েছে এবং অন্যদেরকেও সেদিকে আহ্বান করছে। সত্যের আনুকূল্য করে নিজেদের সংশোধিত করার চেষ্টা তারা মোটেই করছে না।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।