আল কুরআন


সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 120)

সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 120)



হরকত ছাড়া:

ثم أغرقنا بعد الباقين ﴿١٢٠﴾




হরকত সহ:

ثُمَّ اَغْرَقْنَا بَعْدُ الْبٰقِیْنَ ﴿۱۲۰﴾ؕ




উচ্চারণ: ছু ম্মা আগরাকনা-বা‘দুল বা-কীন।




আল বায়ান: তারপর বাকীদের ডুবিয়ে দিলাম।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১২০. এরপর আমরা বাকী সবাইকে ডুবিয়ে দিলাম।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারপর অবশিষ্ট সবাইকে ডুবিয়ে দিলাম।




আহসানুল বায়ান: (১২০) তারপর অবশিষ্ট সকলকে ডুবিয়ে দিলাম।[1]



মুজিবুর রহমান: অতঃপর অবশিষ্ট সবাইকে নিমজ্জিত করলাম।



ফযলুর রহমান: এরপর অবশিষ্টদেরকে ডুবিয়ে দিলাম।



মুহিউদ্দিন খান: এরপর অবশিষ্ট সবাইকে নিমজ্জত করলাম।



জহুরুল হক: তারপর আমরা ডুবিয়ে দিলাম পরবর্তী অবশিষ্টদের।



Sahih International: Then We drowned thereafter the remaining ones.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১২০. এরপর আমরা বাকী সবাইকে ডুবিয়ে দিলাম।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১২০) তারপর অবশিষ্ট সকলকে ডুবিয়ে দিলাম।[1]


তাফসীর:

[1] এর বিস্তারিত আলোচনা কিছু পার হয়ে গেছে, আর কিছু পরবর্তীতে আসবে। নূহ (আঃ) ৯৫০ বছর দাওয়াতের কাজ করা সত্ত্বেও তাঁর জাতির লোক অসৎ ব্যবহার ও বিমুখতার উপরেই কায়েম থাকল। পরিশেষে নূহ (আঃ) অভিশাপ করলেন। আল্লাহ কিশ্তী তৈরী করার ও তাতে ঈমানদার মানুষ, জীব-জন্তু ও প্রয়োজনীয় মালপত্র তুলে নেওয়ার আদেশ দিলেন। আর এভাবে ঈমানদারদের বাঁচিয়ে নিয়ে অন্যদেরকে -- এমন কি তার স্ত্রী-পুত্রকেও, যারা ঈমান আনেনি -- ডুবিয়ে মেরে ফেলা হল।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০৫-১২২ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা নূহ (عليه السلام) ও তাঁর অবাধ্য সম্প্রদায় সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।



নূহ (عليه السلام) আল্লাহ তা‘আলার ভয় ও নিজের রিসালাতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দাওয়াতী কাজ শুরু করলেন। তিনি বললেন: আমি দাওয়াতী কাজের জন্য তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না, শুধু আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করবে এবং আমার আনুগত্য করবে। এরূপ দাওয়াত দেয়ার ফলে যা সচরাচর হয়ে থাকে তাই হল। সমাজের নিম্ন শ্রেণির লোকেরা ঈমান আনল আর উচ্চ বংশ ও ক্ষমতাসীনরা ঈমান আনল না, এমনকি উল্টাভাবে আরো হত্যা করার ভয় দেখালো। সাহাবীরা প্রথম দফায় যখন আবিসিনিয়ায় হিজরত করে তখন বাদশা হিরাকল আবূ সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করেছিল “সমাজের ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা তাঁর প্রতি ঈমান আনে, না দুর্বলরা? তিনি বলেছিলেন: দুর্বলরা, হিরাকল বলল: নাবীদের অনুসারীগণ এরকমই হয়। (সহীহ বুখারী হা: ৭)



(فَافْتَحْ بَيْنِيْ وَبَيْنَهُمْ)



অর্থাৎ যখন জাতির অধিকাংশ লোক দাওয়াত কবূল করল না বরং হত্যা করার হুমকি দিল তখন নূহ (عليه السلام) দু‘আ করলেন যেন আল্লাহ তা‘আলা মু’মিন ও অবাধ্য লোকদের মাঝে ফায়সালা করে দেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা বন্যা দিয়ে অবাধ্যদেরকে ডুবিয়ে মারলেন।



নূহ (عليه السلام) ও তাঁর জাতি সম্পর্কে পূর্বে সূরা হূদের ২৫-৪৯ নং আয়াত ও সূরা নূহে আলোচনা করা হয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১১৬-১২২ নং আয়াতের তাফসীর

দীর্ঘদিন ধরে হযরত নূহ (আঃ) তাঁর কওমের মধ্যে অবস্থান করেন। দিন-রাত তাদেরকে তিনি প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহর পথে আহ্বান করতে থাকেন। কিন্তু যতই তিনি সৎ কর্মে বেড়ে চলেন ততই তারা মন্দ কর্মে এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত শক্তির দাপট দেখিয়ে বলেঃ “যদি তুমি আমাদেরকে দ্বীনের দাওয়াত দেয়া বন্ধ না কর তবে আমরা তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করবো।” তিনিও তখন তাদের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর দরবারে হাত উঠিয়ে দেন। তিনি বলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো আমাকে অস্বীকার করছে। সুতরাং আপনি আমার ও তাদের মধ্যে স্পষ্ট মীমাংসা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সাথে যেসব মুমিন রয়েছে তাদেরকে রক্ষা করুন।” মহামহিমান্বিত আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা কবুল করেন এবং মানুষ, জীবজন্তু ও আসবাবপত্রে ভরপুর নৌকায় আরোহণের নির্দেশ দেন। এরপর আসমান ও যমীন হতে প্লাবন এসে পড়ে এবং ভূ-পৃষ্ঠের সমস্ত কাফিরের মূলোৎপাটিত হয়। এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই মুমিন নয়। আল্লাহ পরাক্রমশালী, আবার সাথে। সাথে তিনি পরম দয়ালুও বটে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।