সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 115)
হরকত ছাড়া:
إن أنا إلا نذير مبين ﴿١١٥﴾
হরকত সহ:
اِنْ اَنَا اِلَّا نَذِیْرٌ مُّبِیْنٌ ﴿۱۱۵﴾ؕ
উচ্চারণ: ইন আনা ইল্লা-নাযীরুম মুবীন।
আল বায়ান: ‘আমি তো কেবল সুস্পষ্ট সতর্ককারী’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১৫. আমি তো শুধু একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।’
আহসানুল বায়ান: (১১৫) আমি তো কেবল একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।’ [1]
মুজিবুর রহমান: আমিতো শুধু একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।
ফযলুর রহমান: আমি কেবল একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।”
মুহিউদ্দিন খান: আমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
জহুরুল হক: আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী ভিন্ন নই।
Sahih International: I am only a clear warner."
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১১৫. আমি তো শুধু একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১১৫) আমি তো কেবল একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।’ [1]
তাফসীর:
[1] অতএব যে আল্লাহর ভয়ে আমার আনুগত্য করবে, সে আমার ও আমি তার। দুনিয়ার চোখে সে উচ্চ হোক অথবা নীচ, সম্মানিত হোক বা অসম্মানিত।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১০৫-১২২ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা নূহ (عليه السلام) ও তাঁর অবাধ্য সম্প্রদায় সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
নূহ (عليه السلام) আল্লাহ তা‘আলার ভয় ও নিজের রিসালাতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দাওয়াতী কাজ শুরু করলেন। তিনি বললেন: আমি দাওয়াতী কাজের জন্য তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না, শুধু আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করবে এবং আমার আনুগত্য করবে। এরূপ দাওয়াত দেয়ার ফলে যা সচরাচর হয়ে থাকে তাই হল। সমাজের নিম্ন শ্রেণির লোকেরা ঈমান আনল আর উচ্চ বংশ ও ক্ষমতাসীনরা ঈমান আনল না, এমনকি উল্টাভাবে আরো হত্যা করার ভয় দেখালো। সাহাবীরা প্রথম দফায় যখন আবিসিনিয়ায় হিজরত করে তখন বাদশা হিরাকল আবূ সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করেছিল “সমাজের ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা তাঁর প্রতি ঈমান আনে, না দুর্বলরা? তিনি বলেছিলেন: দুর্বলরা, হিরাকল বলল: নাবীদের অনুসারীগণ এরকমই হয়। (সহীহ বুখারী হা: ৭)
(فَافْتَحْ بَيْنِيْ وَبَيْنَهُمْ)
অর্থাৎ যখন জাতির অধিকাংশ লোক দাওয়াত কবূল করল না বরং হত্যা করার হুমকি দিল তখন নূহ (عليه السلام) দু‘আ করলেন যেন আল্লাহ তা‘আলা মু’মিন ও অবাধ্য লোকদের মাঝে ফায়সালা করে দেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা বন্যা দিয়ে অবাধ্যদেরকে ডুবিয়ে মারলেন।
নূহ (عليه السلام) ও তাঁর জাতি সম্পর্কে পূর্বে সূরা হূদের ২৫-৪৯ নং আয়াত ও সূরা নূহে আলোচনা করা হয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১১১-১১৫ নং আয়াতের তাফসীর
হযরত নূহ (আঃ)-এর কওম তাঁর পয়গামের উত্তর দেয় যে, কতকগুলো ইতর শ্রেণীর লোক তাঁর অনুসারী হয়েছে, কাজেই তাঁর অনুসরণ তারা কি করে করতে পারে? তাদের একথার জবাবে আল্লহর নবী হযরত নূহ (আঃ) বলেনঃ আমার এটা দায়িত্ব নয় যে, যে আমার আহ্বানে সাড়া দেবে আমি তার পেশা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। আভ্যন্তরীণ অবস্থার সংবাদ রাখা এবং হিসাব গ্রহণ আল্লাহ তা'আলারই কাজ। বড়ই দুঃখজনক ব্যাপার যে, তোমাদের বুদ্ধিটুকুও নেই! তোমাদের এ চাহিদা পূরণ করা আমার সাধ্যের অতিরিক্ত। তা এই যে, আমার মজলিস হতে আমি মিসকীনদেরকে দূরে সরিয়ে দিই। মুমিনদেরকে তাড়িয়ে দেয়া আমার কাজ নয়। আমি তো শুধুমাত্র একজন স্পষ্ট সতর্ককারী। যে আমাকে মানবে সে-ই আমার লোক। আর যে আমাকে মানবে তার সাথে আমার কোনই সম্পর্ক নেই। যে আমার দাওয়াত কবুল করবে সে আমার এবং আমি তার, সে ইতর হোক বা ভদ্রই হোক এবং ধনী হোক বা দরিদ্রই হোক।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।