আল কুরআন


সূরা আল-ফুরকান (আয়াত: 41)

সূরা আল-ফুরকান (আয়াত: 41)



হরকত ছাড়া:

وإذا رأوك إن يتخذونك إلا هزوا أهذا الذي بعث الله رسولا ﴿٤١﴾




হরকত সহ:

وَ اِذَا رَاَوْکَ اِنْ یَّتَّخِذُوْنَکَ اِلَّا هُزُوًا ؕ اَهٰذَا الَّذِیْ بَعَثَ اللّٰهُ رَسُوْلًا ﴿۴۱﴾




উচ্চারণ: ওয়া ইযা-রাআওকা ইয়ঁইয়াত্তাখিযূনাকা ইল্লা-হুযুওয়ান আহা-যাল্লাযী বা‘আছাল্লাহু রাছূলা-।




আল বায়ান: আর তারা যখন তোমাকে দেখে, তখন তারা তোমাকে ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্র হিসেবেই গ্রহণ করে, ‘এ-ই কি সেই লোক, যাকে আল্লাহ রাসূল করে পাঠিয়েছেন’?




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪১. আর তারা যখন আপনাকে দেখে, তখন তারা আপনাকে শুধু ঠাট্টা-বিদ্ররূপের পাত্ররূপে গণ্য করে, বলে, এ-ই কি সে, যাকে আল্লাহ্‌ রাসূল করে পাঠিয়েছেন?




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা যখন তোমাকে দেখে, তারা তোমাকে ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্র ছাড়া অন্য কিছু গণ্য করে না, আর বলে : এটা কি সেই লোক আল্লাহ যাকে রসূল করে পাঠিয়েছেন?




আহসানুল বায়ান: (৪১) ওরা যখন তোমাকে দেখে, তখন ওরা তোমাকে কেবল উপহাসের পাত্ররূপে গণ্য করে এবং বলে, ‘এই কি সেই; যাকে আল্লাহ রসূল করে পাঠিয়েছেন? [1]



মুজিবুর রহমান: তারা যখন তোমাকে দেখে তখন তারা তোমাকে শুধু ঠাট্টা-বিদ্রুপের পাত্র রূপে গণ্য করে এবং বলেঃ এ-ই কি সে, যাকে আল্লাহ রাসূল করে পাঠিয়েছেন!



ফযলুর রহমান: তারা যখন তোমাকে দেখে তখন তোমাকে নিয়ে শুধু ঠাট্টা-বিদ্রূপই করে; (আর বলে) “এই কি সেই লোকটি যাকে আল্লাহ রসূল করে পাঠিয়েছেন?”



মুহিউদ্দিন খান: তারা যখন আপনাকে দেখে, তখন আপনাকে কেবল বিদ্রুপের পাত্ররূপে গ্রহণ করে, বলে, এ-ই কি সে যাকে আল্লাহ ‘রসূল’ করে প্রেরণ করেছেন?



জহুরুল হক: আর তারা যখন তোমাকে দেখে তখন তারা তোমাকে ঠাট্টা-বিদ্রপের পাত্র ছাড়া অন্যভাবে গ্রহণ করে না। "এ-ই কি সে যাকে আল্লাহ্ রসূল বানিয়েছেন?



Sahih International: And when they see you, [O Muhammad], they take you not except in ridicule, [saying], "Is this the one whom Allah has sent as a messenger?



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪১. আর তারা যখন আপনাকে দেখে, তখন তারা আপনাকে শুধু ঠাট্টা-বিদ্ররূপের পাত্ররূপে গণ্য করে, বলে, এ-ই কি সে, যাকে আল্লাহ্– রাসূল করে পাঠিয়েছেন?


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪১) ওরা যখন তোমাকে দেখে, তখন ওরা তোমাকে কেবল উপহাসের পাত্ররূপে গণ্য করে এবং বলে, ‘এই কি সেই; যাকে আল্লাহ রসূল করে পাঠিয়েছেন? [1]


তাফসীর:

[1] অন্যত্র এভাবে বলা হয়েছে {أَهَذَا الَّذِي يَذْكُرُ آلِهَتَكُمْ} অর্থাৎ, এই কি সেই, যে তোমাদের উপাস্যগুলির সমালোচনা করে? (সূরা আম্বিয়া ৩৬ আয়াত) অর্থাৎ, তাদের সম্পর্কে বলে যে, তাদের কোন এখতিয়ার নেই। এই সত্য প্রকাশ করে দেওয়াটাই মুশরিকদের নিকট তাদের মা’বূদদের জন্য অপমানকর ছিল। যেমন বর্তমানের কবরপূজারীদেরকে যদি বলা হয় যে, কবরবাসী বুযুর্গের বিশ্ব-নিয়ন্ত্রণে কোন এখতিয়ার বা ক্ষমতা নেই, তাহলে তারা বলে যে, এরা আল্লাহর ওলীদের প্রতি বেআদবী করছে!


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪১-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর:



কাফির-মুশরিকরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করত। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِذَا رَاٰكَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْآ إِنْ يَّتَّخِذُوْنَكَ إِلَّا هُزُوًا ط أَهٰذَا الَّذِيْ يَذْكُرُ اٰلِهَتَكُمْ ج وَهُمْ بِذِكْرِ الرَّحْمٰنِ هُمْ كٰفِرُوْنَ)



“কাফিররা যখন তোমাকে দেখে তখন তারা তোমাকে কেবল বিদ্রুপের পাত্ররূপেই গ্রহণ করে। তারা বলে, ‘এ-ই কি সে, যে তোমাদের দেব-দেবীগুলোর সমালোচনা করে?’ অথচ তারাই তো ‘রাহ্মান’-এর উল্লেখের বিরোধিতা করে।” (সূরা আম্বিয়া ২১:৩৬) আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, তোমরা রাসূলকে নিয়ে ঠাট্টা করবে এজন্য তো রাসূল প্রেরণ করিনি। বরং তোমাদের কর্তব্য তাঁর অনুসরণ করবে, তাঁকে মেনে চলবে। কিন্তু তা না করে তোমরা তার বিপরীত করছ।



আর তারা তাদের শির্কী কার্যকলাপের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। যেমন তাদের কথা:



(وَانْطَلَقَ الْمَلَأُ مِنْهُمْ أَنِ امْشُوْا وَاصْبِرُوْا عَلٰٓي اٰلِهَتِكُمْ)



“আর তাদের নেতারা এ কথা বলে চলে যায় যে, তোমরা চলে যাও এবং অবিচল চিত্তে তোমাদের মা‘দূদের পূজায় লেগে থাক এবং নিজেদের উপাস্যদের ব্যাপারে ধৈর্যধারণ কর।” (সূরা স্ব-দ ৩৮:৬)



অর্থাৎ শরীয়ত বিরোধী কাজে প্রবৃত্তির অনুসরণ এক প্রকার র্শিক। ইবনু আববাস (رضي الله عنه) বলেন: শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ করা, নিজের মনমত চলা একপ্রকার মূর্তিপূজা। তারপর তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করেন। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(أَفَمَنْ زُيِّنَ لَه۫ سُوْٓءُ عَمَلِه۪ فَرَاٰهُ حَسَنًا ط فَإِنَّ اللّٰهَ يُضِلُّ مَنْ يَّشَا۬ءُ وَيَهْدِيْ مَنْ يَّشَا۬ءُ ﱸﺘ فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرٰتٍ ط إِنَّ اللّٰهَ عَلِيْمٌۭ بِمَا يَصْنَعُوْنَ)



“যাকে তার খারাপ কাজ সুন্দর করে দেখানো হয় এবং সে তাকে উত্তম মনে করে (সে কি তার সমান যে মন্দকে মন্দ মনে করে)? নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। অতএব তুমি তাদের জন্য অনুতাপ করে নিজেকে ধ্বংস করবে না। তারা যা করে আল্লাহ তা‘আলা তা অবশ্যই জানেন।” (সূরা ফাতির ৩৫:৮)



এদের সম্পর্কেই আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, এরা হচ্ছে চতুস্পদ জন্তুর চেয়েও অধম। কারণ চতুষ্পদ জন্তুকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে তা তারা শুনে ও মেনে চলে। কিন্তু এ সকল মানুষ তাদেরকে যে উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে তা ভুলে গিয়ে শির্কী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েছে। তাই ওরা সবচেয়ে নিকৃষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পর্কে বলেন:



(وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيْرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ ﺘ لَهُمْ قُلُوْبٌ لَّا يَفْقَهُوْنَ بِهَا ز وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُوْنَ بِهَا ز وَلَهُمْ اٰذَانٌ لَّا يَسْمَعُوْنَ بِهَا ط أُولٰ۬ئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ ط أُولٰ۬ئِكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ)‏



“আমি তো বহু জিন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি, তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তারা তা দ্বারা উপলব্ধি করে না, তাদের চক্ষু আছে কিন্তু তারা তা দ্বারা দেখে না, এবং তাদের কর্ণ আছে কিন্তু তারা তা দ্বারা শ্রবণ করে না, তারাই পশুর ন্যায়, বরং তারা অধিক বিভ্রান্ত। তারাই গাফিল।” (সূরা আ‘রাফ ৭:১৭৯)



তাই প্রতিটি মানুষের উচিত আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন সে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কার্য সম্পাদন করা ও যথাযথভাবে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করা।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর রাসূলের কোন বিষয়ে হাসি-তামাশা করা যাবে না, তা করলে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে।

২. শির্কী কার্যকলাপ পরিহার করতে হবে।

৩. প্রবৃত্তির অনুসরণ করার অর্থ হলো তাকে একপ্রকার মা‘বূদ বানিয়ে নেয়া।

৪. একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪১-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, মুশরিকরা যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে দেখে তখন তাঁকে উপহাস ও বিদ্রুপ করে। যেমন তিনি বলেনঃ “যখন কাফিররা তোমাকে দেখে তখন তারা তোমাকে শুধু ঠাট্টা-বিদ্রুপের পাত্র রূপে গণ্য করে।” অর্থাৎ তারা তাকে দোষ-ত্রুটির সাথে বিশেষিত করে। এখানে মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তারা যখন তোমাকে দেখে তখন তারা তোমাকে শুধু ঠাট্টা-বিদ্রুপের পাত্র রূপে গণ্য করে এবং বলে- এই কি সে, যাকে আল্লাহ রাসূল করে পাঠিয়েছেন। অর্থাৎ তারা তাঁকে খাটো করার জন্যে একথা বলে। তাই আল্লাহ তাদের দুষ্কৃতি ও বদভ্যাসের বর্ণনা দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তোমার পূর্বেও রাসূলদেরকে বিদ্রুপ করা হয়েছিল।” (৬: ১০) মহান আল্লাহর উক্তিঃ সে তো আমাদেরকে আমাদের দেবতাগণ হতে দূরে সরিয়ে দিতো। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা ঐ মুশরিকদের উক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, তারা বলে- আমরা আমাদের দেবতাদের আনুগত্যে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত না থাকলে সে তো আমাদেরকে তাদের ইবাদত হতে সরিয়ে দিতো। আল্লাহ তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির সুরে বলেনঃ যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন জানবে কে সর্বাধিক পথভ্রষ্ট।

এরপর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে জানিয়ে দেন যে, যার তকদীরে আল্লাহ দুর্ভোগ ও পথভ্রষ্টতা লিখে দিয়েছেন তাকে মহামহিমান্বিত আল্লাহ ছাড়া আর কেউই সুপথ প্রদর্শন করতে পারে না। তাই তিনি বলেনঃ তুমি কি দেখো না তাকে, যে তার কামনা বাসনাকে ইলাহরূপে গ্রহণ করে? অর্থাৎ যে প্রবৃত্তির দাস এবং প্রবৃত্তি যা চায় তাই যে ভাল মনে করে, সেটাই তার দ্বীন ও মাযহাব। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তবে কি যে ব্যক্তির খারাপ কাজ তার জন্যে শোভনীয় করা হয়েছে, অতঃপর সে ওটাকে উত্তম দেখে? নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন।” (৩৫: ৮) এ জন্যেই তিনি এখানে বলেনঃ তবুও কি তুমি তার কর্মবিধায়ক হবে?

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, অজ্ঞতার যুগে একজন লোক কিছুকাল যাবত সাদা পাথরের ইবাদত করতো। অতঃপর যখন দেখতো যে, ওটার চেয়ে অন্যটি উৎকৃষ্টতর, তখন পূর্বটির পূজা ছেড়ে দিয়ে ঐ দ্বিতীয়টির পূজা শুরু করে দিতো।

এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তুমি কি দেখো না যে, তাদের অধিকাংশ শুনে ও বুঝে? তারা তো পশুরই মত; তারা আরো অধম। অর্থাৎ তাদের অবস্থা বিচরণকারী পশুর চেয়েও খারাপ। কারণ পশুরা ঐ কাজই করে যে কাজের জন্যে ওগুলোকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর এই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে এক শরীক বিহীন আল্লাহর ইবাদতের জন্যে। কিন্তু তারা তা পালন করেনি। বরং তারা তাকে বাদ দিয়ে অন্যের ইবাদত করে এবং তাদের কাছে দলীল প্রমাণাদি কায়েম হওয়া এবং তাদের নিকট রাসূলদেরকে প্রেরণ করা সত্ত্বেও তারা তাঁর সাথে শরীক স্থাপন করে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।