আল কুরআন


সূরা আল-ফুরকান (আয়াত: 33)

সূরা আল-ফুরকান (আয়াত: 33)



হরকত ছাড়া:

ولا يأتونك بمثل إلا جئناك بالحق وأحسن تفسيرا ﴿٣٣﴾




হরকত সহ:

وَ لَا یَاْتُوْنَکَ بِمَثَلٍ اِلَّا جِئْنٰکَ بِالْحَقِّ وَ اَحْسَنَ تَفْسِیْرًا ﴿ؕ۳۳﴾




উচ্চারণ: ওয়ালা ইয়া’তূনাকা বিমাছালিন ইল্লা-জি’না-কা বিল হাক্কিওয়া আহছানা তাফছীরা-।




আল বায়ান: আর তারা তোমার কাছে যে কোন বিষয়ই নিয়ে আসুক না কেন, আমি এর সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা তোমার কাছে নিয়ে এসেছি।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৩. আর তারা আপনার কাছে যে বিষয়ই উপস্থিত করে না কেন, আমরা সেটার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আপনার কাছে নিয়ে আসি।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমার কাছে তারা এমন কোন সমস্যাই নিয়ে আসে না যার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি তোমাকে দান করিনি।




আহসানুল বায়ান: (৩৩) ওরা তোমার নিকট কোন সমস্যা উপস্থিত করলেই আমি তোমাকে ওর সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা দান করি। [1]



মুজিবুর রহমান: তারা তোমার নিকট এমন কোন সমস্যা উপস্থিত করেনি যার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি তোমাকে দান করিনি।



ফযলুর রহমান: তারা তোমার কাছে কখনও কোন উপমা নিয়ে এলেই আমি তোমাকে (সে সম্পর্কিত) সঠিক তথ্য ও (তার) যথার্থ ব্যাখ্যা জানিয়ে দেই।



মুহিউদ্দিন খান: তারা আপনার কাছে কোন সমস্যা উপস্থাপিত করলেই আমি আপনাকে তার সঠিক জওয়াব ও সুন্দর ব্যাখ্যা দান করি।



জহুরুল হক: আর তারা তোমার কাছে নিয়ে আসতে পারবে না কোনো সমস্যা, আমরা কিন্তু তোমার নিকট নিয়ে আসব প্রকৃত-সত্য ও শ্রেষ্ঠ- সুন্দর ব্যাখ্যা।



Sahih International: And they do not come to you with an argument except that We bring you the truth and the best explanation.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩৩. আর তারা আপনার কাছে যে বিষয়ই উপস্থিত করে না কেন, আমরা সেটার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আপনার কাছে নিয়ে আসি।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩৩) ওরা তোমার নিকট কোন সমস্যা উপস্থিত করলেই আমি তোমাকে ওর সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা দান করি। [1]


তাফসীর:

[1] এখানে সময়ের ব্যবধানে কিছু কিছু করে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার কারণ বর্ণনা করা হচ্ছে যে, মুশরিকরা যখনই কোন উদাহরণ অথবা আপত্তি বা কোন সন্দেহ উপস্থাপিত করবে, আমি তখনই কুরআনের মাধ্যমে তার উত্তর বা ব্যাখ্যা প্রদান করব। এর ফলে তাদের অন্যদেরকে পথহারা করার সুযোগ থাকবে না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩২-৩৪ নং আয়াতের তাফসীর:



(وَقَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا....) শানে নুযূল:



ইবনু আব্বাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনন মুশরিকরা বলত, যদি মুহাম্মাদ তাঁর কথা অনুযায়ী নাবীই হয় তাহলে তার প্রতিপালক তাকে শাস্তি দেবেন না। যদি এমনটিই হয় তাহলে তার ওপর কুরআন একত্রে নাযিল হয় না কেন, তাঁর ওপর এক আয়াত, দুই আয়াত এভাবে নাযিল হয় কেন। তখন এ আয়াতটি নাযিল হয়। (হাকিম এটা সহীহ বলেছেন, লুবানুল নুকূল পৃঃ ২০৩)



পূর্বের আয়াতগুলো থেকেই কাফেরদের আলোচনা চলে আসছে। এখানেও কাফিরদের সম্পকে আলোচনা করা হয়েছে যারা কুরআনকে মেনে নিতে পারেনি। তাদের অভিযোগ, কুরআন কেন পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব তাওরাত ইঞ্জিলের মত একত্রে নাযিল হল না? কেউ বলেছেন: এ কথা মক্কার কুরাইশরা বলেছিল। ইবনু আব্বাস (رضي الله عنه) বলেন: যখন কুরআন খণ্ড খণ্ড আকারে নাযিল হতে লাগল তখন ইয়াহূদীরা বলতে লাগল, কেন কুরআন একত্রে নাযিল হয় না; যেমন তাওরাত, ইঞ্জিল একত্রে নাযিল হয়েছে।



আল্লাহ তা‘আলা কুরআনকে খণ্ড খণ্ড আকারে নাযিল করার হেকমত বর্ণনা করছেন যে, যাতে কুরআনের মাধ্যমে তোমার অন্তর দীনের ওপর অটল রাখতে পারি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাওয়াতী কাজে অনেক কষ্টের সম্মুখীন হতেন, মানুষ দাওয়াত বর্জন করত, বিভিন্নভাবে কষ্ট দিত। এসব কষ্ট সহ্য করেও তিনি দাওয়াতী কাজ চালিয়ে যেতেন, তিনি চাইতেন তারপরেও মানুষ ঈমান আনুক। ফলে আল্লাহ তা‘আলা বিভিন্ন সময় সান্ত্বনা, পূর্ববর্তী নাবীগণের কষ্টময় জীবন ইত্যাদি মাঝে মাঝে তুলে ধরতেন যাতে এসব কষ্ট তিনি সহজে সহ্য করে নেন এবং তাতে অটল থাকতে পারেন। এছাড়াও আরো অনেক হেকমত রয়েছে।

(وَرَتَّلْنٰهُ تَرْتِيْلًا)



অর্থাৎ থেমে থেমে অবকাশ দিয়ে নাযিল করেছেন যাতে কোন সমস্যা উপস্থিত হলে সমাধান দিতে পারা যায়। সুতরাং কোরআন ক্রমে ক্রমে নাযিল করা; একত্রে নাযিল না করা ঈমান না আনার কোন কারণ হতে পারে না।



(وَلَا يَأْتُوْنَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنٰكَ بِالْحَقِّ)



অর্থাৎ সত্যকে প্রত্যাখ্যান ও প্রতিরোধ করার জন্য তারা যে কোন প্রকার উপমা নিয়ে আসুক, আমি তোমার ওপর নাযিল করব যা সত্য ও পরিপূর্ণ বর্ণনা সম্বলিত থাকবে। এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন: যে সকল কাফির-মুশরিকদেরকে কিয়ামতের দিন মুখের ওপর ভর দিয়ে জাহান্নামে উপস্থিত করা হবে অবস্থানের দিক দিয়ে তারা সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও পথভ্রষ্ট।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কুরআন খণ্ড খণ্ড আকারে নাযিল করার হেকমত জানতে পারলাম।

২. কিয়ামতের দিন কাফিরদেরকে মুখের ওপর ভর করে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৩২-৩৪ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা কাফিরদের অত্যধিক প্রতিবাদ, হঠকারিতা এবং নিরর্থক কথার খবর দিতে গিয়ে বলেনঃ “সমগ্র কুরআন তার উপর (মুহাম্মাদ সঃ-এর উপর) একবারে অবতীর্ণ হলো না কেন?' এ কথা তারা বলেছিল। অর্থাৎ হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-এর উপর যে কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ করা হয়েছে তা একযোগেই কেন অবতীর্ণ হয়নি যেমন তার পূর্বে আসমানী কিতাবসমূহ একযোগে অবতীর্ণ হয়েছিল, যেমন তাওরাত, ইঞ্জীল, যনূর ইত্যাদি? তাদের এ প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, তিনি কুরআনকে ক্রমান্বয়ে তেইশ বছরে ঘটনাবলী ও প্রয়োজনীয় বিধান অনুপাতে অবতীর্ণ করেছেন যাতে এর দ্বারা মুমিনদের হৃদয় মজবুত হয়। এজন্যেই তিনি বলেনঃ এভাবেই আমি অবতীর্ণ করেছি তোমার হৃদয়কে ওটা দ্বারা মজবুত করবার জন্যে এবং আমি ক্রমে ক্রমে স্পষ্টভাবে আবৃত্তি করেছি।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তারা তোমার নিকট এমন কোন সমস্যা উপস্থিত করেনি যার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি তোমাকে দান করিনি। অর্থাৎ হে নবী (সঃ)! তারা তোমার কাছে যে কোন সমস্যা উপস্থিত করেছে তারই সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি তোমাকে দান করেছি। কুরআন ও রাসূল (সঃ)-এর দোষ-ত্রুটি বের করার উদ্দেশ্যে কাফির ও মুশরিকরা যখনই কোন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে সাথে সাথে আল্লাহর পক্ষ হতে হযরত জিবরাঈল (আঃ) তাদের ঐ প্রশ্নের উত্তর সম্বলিত আয়াত নিয়ে হাযির হয়েছেন। এটা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর বড় মর্যাদা যে, মহামহিমান্বিত আল্লাহর নিকট হতে সকাল-সন্ধ্যায়, দিনে-রাত্রে, সফরে ও বাড়ীতে তাঁর অহী আসতে থেকেছে। প্রত্যেকবারই ফেরেশতা তাঁর কাছে কুরআন নিয়ে এসেছেন। কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার এই পদ্ধতি পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতির বিপরীত ছিল। এর দ্বারা সমস্ত নবীর উপর এ নবীর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা প্রমাণিত হচ্ছে। সুতরাং কুরআন হলো আসমানী কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব এবং হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী।

আল্লাহ তা'আলা কুরআন কারীমের মধ্যে একই সাথে দু’টি বিশেষণ একত্রিত করেছেন। ঊর্ধ্ব জগতের লাওহে মাহফুয হতে দুনিয়ার আকাশের বায়তুল ইযযায় একযোগে এটা অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর ঘটনার অনুপাতে ক্রমান্বয়ে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হতে থেকেছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ “কদরের রাত্রে কুরআন কারীম দুনিয়ার আকাশে একযোগে অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর বিশ বছরে অল্প অল্প করে দুনিয়ায় অবতীর্ণ হতে থেকেছে। (এটা ইমাম নাসাঈ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

এখানে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তারা তোমার নিকট এমন কোন সমস্যা উপস্থিত করেনি যার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি তোমাকে দান করিনি।” অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি খণ্ড খণ্ডভাবে যাতে তুমি মানুষের নিকট পাঠ করতে পার ক্রমে ক্রমে এবং আমি ওটা ক্রমশঃ অবতীর্ণ করেছি।” (১৭: ১০৬)

এরপর আল্লাহ তা'আলা কাফিরদের দুরবস্থা, কিয়ামতের দিন তাদের প্রত্যাবর্তনস্থল এবং অত্যন্ত জঘন্য অবস্থায় ও নিকৃষ্ট বিশেষণে তাদের জাহান্নামে একত্রিত হওয়ার সংবাদ দিতে গিয়ে বলেনঃ যাদেরকে মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায় জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে, তাদেরই স্থান হবে অতি নিকৃষ্ট এবং তারাই পথভ্রষ্ট।

সহীহ হাদীসে হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক জিজ্ঞেস করেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! কিয়ামতের দিন কাফিরকে কিভাবে মুখের ভরে চলা অবস্থায় একত্রিত করা হবে?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “নিশ্চয়ই যিনি তাকে পায়ের ভরে চালিয়ে থাকেন তিনিই তাকে মুখের ভরে চালাতেও সক্ষম।” মুজাহিদ (রঃ), হাসান (রাঃ), কাতাদা (রঃ) এবং আরো বহু মুফাসসির এরূপই বর্ণনা করেছেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।