সূরা আল-ফুরকান (আয়াত: 31)
হরকত ছাড়া:
وكذلك جعلنا لكل نبي عدوا من المجرمين وكفى بربك هاديا ونصيرا ﴿٣١﴾
হরকত সহ:
وَ کَذٰلِکَ جَعَلْنَا لِکُلِّ نَبِیٍّ عَدُوًّا مِّنَ الْمُجْرِمِیْنَ ؕ وَ کَفٰی بِرَبِّکَ هَادِیًا وَّ نَصِیْرًا ﴿۳۱﴾
উচ্চারণ: ওয়া কাযা-লিকা জা‘আলনা-লিকুল্লি নাবিইয়িন ‘আদুওওয়াম মিনাল মুজরিমীনা ওয়া কাফা-বিরাব্বিকা হা-দিয়াওঁ ওয়া নাসীরা-।
আল বায়ান: আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু বানিয়েছি। আর পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে তোমার রবই যথেষ্ট।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩১. আল্লাহ বলেন, আর এভাবেই আমরা প্ৰত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের থেকে শক্ৰ বানিয়ে থাকি। আর আপনার রবই পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারীরূপে যথেষ্ট।
তাইসীরুল ক্বুরআন: এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য হতে শত্রু বানিয়ে দিয়েছি, পথ প্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।
আহসানুল বায়ান: (৩১) এভাবেই আমি অপরাধীদেরকে প্রত্যেক নবীর শত্রু করেছিলাম।[1] তোমার জন্য তোমার প্রতিপালকই পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারীরূপে যথেষ্ট। [2]
মুজিবুর রহমান: এভাবেই প্রত্যেক নাবীর জন্য আমি অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু করেছি। তোমার জন্য তোমার রাব্ব পথ প্রদর্শক ও সাহায্যকারী রূপে যথেষ্ট।
ফযলুর রহমান: এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদেরকে শত্রু করেছিলাম। তবে (তোমার জন্য) তোমার প্রভুই পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে যথেষ্ট।
মুহিউদ্দিন খান: এমনিভাবে প্রত্যেক নবীর জন্যে আমি অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু করেছি। আপনার জন্যে আপনার পালনকর্তা পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারীরূপে যথেষ্ট।
জহুরুল হক: আর এইভাবেই আমরা প্রত্যেক নবীর জন্য শত্রু সৃষ্টি করেছি অপরাধীদের মধ্যে থেকে। আর তোমার প্রভুই পথপ্রদর্শক ও সহায়করূপে যথেষ্ট।
Sahih International: And thus have We made for every prophet an enemy from among the criminals. But sufficient is your Lord as a guide and a helper.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩১. আল্লাহ বলেন, আর এভাবেই আমরা প্ৰত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের থেকে শক্ৰ বানিয়ে থাকি। আর আপনার রবই পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারীরূপে যথেষ্ট।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩১) এভাবেই আমি অপরাধীদেরকে প্রত্যেক নবীর শত্রু করেছিলাম।[1] তোমার জন্য তোমার প্রতিপালকই পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারীরূপে যথেষ্ট। [2]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, হে নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)! যেরূপ তোমার জাতির ঐ সমস্ত লোক তোমার শত্রু যারা কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করেছে, এইরূপ পূর্ববর্তী উম্মতেও ছিল। অর্থাৎ, প্রত্যেক নবীর শত্রু ওরাই হয়, যারা পাপী, তারা অন্যদেরকে ভ্রষ্টতার দিকে আহবান করে। সূরা আনআমের ১১২নং আয়াতে এই বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
[2] অর্থাৎ, কাফেররা যদিও অন্যদেরকে আল্লাহর পথে বাধা দেয়, কিন্তু তোমার প্রভু যাকে হিদায়াত দিতে চান, তাকে হিদায়াত হতে কে বাধা দিতে পারে? সত্যিকার হিদায়াতদানকারী ও সাহায্যকারী তো শুধুমাত্র তোমার প্রভু।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩০-৩১ নং আয়াতের তাফসীর:
কুরআনকে যেভাবে চর্চা করা, মেনে চলা ও মর্যাদা দেয়া এবং বিশ্বাস করা উচিত উম্মাতের যারা তা করে না তাদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ তা‘আলার কাছে বলবেন: হে আল্লাহ তা‘আলা! আমার এ জাতি কুরআনকে পরিত্যাগ করেছে। তারা কুরআনকে বর্জন করেছে, কুরআনকে মেনে নেয়নি এবং তার যথার্থ মর্যাদা দেয়নি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ অভিযোগ দুনিয়াতেই করেছেন, না আখিরাতে করবেন তা নিয়ে মতামত পাওয়া যায়, তবে পরবর্তী আয়াত দ্বারা বুঝা যায়ন এ অভিযোগ দুনিয়াতেই করেছেন। তাই তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَكَذٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا مِّنَ الْمُجْرِمِيْنَ)
অর্থাৎ আপনার শত্র“রা কুরআন অমান্য করলে সে জন্য আপনার সবর করা উচিত।
আর এভাবেই আখিরাতে অপরাধীরা তাদের রাসূলদের শত্র“ হয়ে যাবে। কেননা তারা মানুষকে অন্যায় কাজের দিকে আহ্বান করত আর আল্লাহ তা‘আলার পথে বাধা দিত। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَكَذٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيٰطِيْنَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوْحِيْ بَعْضُهُمْ إِلٰي بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُوْرًا ط وَلَوْ شَا۬ءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوْهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُوْنَ - وَلِتَصْغٰٓي إِلَيْهِ أَفْئِدَةُ الَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ وَلِيَرْضَوْهُ وَلِيَقْتَرِفُوْا مَا هُمْ مُّقْتَرِفُوْنَ)
“অনুরূপভাবে আমি মানব ও জিনের মধ্যে যারা শয়তান তাদেরকে প্রত্যেক নাবীর শত্র“ করেছি, প্রতারণার উদ্দেশ্যে তাদের একে অন্যকে চমকপ্রদ কথা অতি গোপনীয়ভাবে জানিয়ে দেয়। যদি তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করতেন তবে তারা এটা করত না; সুতরাং তুমি তাদেরকে ও তারা যা মিথ্যা রচনা করে তাকে বর্জন কর। আর তারা এ উদ্দেশ্যে প্ররোচিত করে যে, যারা আাখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের মন যেন তার প্রতি অনুরাগী হয় এবং তাতে যেন তারা পরিতুষ্ট হয় আর তারা যে অপকর্ম করে তারাও যেন সেসব অপকর্ম করতে থাকে। (সূরা আন‘আম ৬:১১২-১১৩)
সুতরাং যারা অপরাধী তারা রাসূলের শত্র“ হয়ে যাবে। আর এ কারণে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তাই আমাদের উচিত রাসূলের নির্দেশিত পথে চলা। কেননা রাসূলের দেখানো পথে না চললে রাসূলের শত্র“তে পরিণত হতে হবে। আর রাসূলের শত্র“ মানে আল্লাহ তা‘আলার শত্র“। যারা আল্লাহ তা‘আলার শত্র“ তারা কখনো জান্নাতে যেতে পারবে না। আর কুরআনকে বেশি বেশি চর্চা, পালন ও মেনে চলা উচিত। কারণ যারা কুরআন বর্জন করবে তাদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অভিযোগ করেছেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কুরআন বর্জন করার পরিণতি খুবই খারাপ, তাই বেশি বেশি তার চর্চা ও বিধি-বিধান মেনে চলা উচিত।
২. যারা অন্যায় কাজ করে তারা রাসূলদের ও আল্লাহ তা‘আলার শত্র“।
৩. আল্লাহ তা‘আলা যাকে পথ দেখান তাকে গোমরাহ করার কেউ নেই। আর যাকে গোমরাহ করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩০-৩১ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল ও নবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) সম্পর্কে খবর দিতে গিয়ে বলেন যে, নবী (সঃ) বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায়তো এই কুরঅনকে পরিত্যাজ্য মনে করে। এটা এভাবে যে, মুশরিকরা কুরআন কারীম শ্রবণ করতো না এবং তাতে কর্ণপাত করতো না। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “কাফিররা বলে-তোমরা এই কুরআন শ্রবণ করো না এবং ওটা আবৃত্তিকালে শোরগোল সৃষ্টি করো যাতে তোমরা জয়ী হতে পার।” (৪১:২৬) কাফিরদের সামনে যখন কুরআন কারীম পাঠ করা হতো তখন তারা হট্টগোল ও গোলমাল করতো এবং আজে বাজে কথা বলতে যাতে তারা কুরআন শুনতে না পায়। এটাই হলো তাদের কুরআন পরিত্যাগ করা ও ওর প্রতি ঈমান না আনা।
কুরআনের সত্যতা স্বীকার না করার অর্থও হলো ওটা পরিত্যাগ করা। কুরআন সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করা পরিত্যাগ করা হলো কুরআনকে পরিত্যাগ করা। কুরআন অনুযায়ী আমল, ওর নির্দেশাবলী প্রতিপালন এবং ওর নিষেধাবলী থেকে পরহেযগারী অবলম্বন পরিত্যাগ করাও হলো কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করা। কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে কবিতা, গান এবং খেল-তামাশার প্রতি আকৃষ্ট হওয়াও হলো ওকে পরিত্যাজ্য মনে করা। সুতরাং অনুগ্রহশীল ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহর নিকট আমরা প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাদেরকে এমন জিনিস হতে পরিত্রাণ দান করেন যার উপর তাঁর ক্রোধ পতিত হয় এবং যেন তিনি আমাদেরকে এমন জিনিসের আমলকারী বানিয়ে দেন যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। যেমন তাঁর কিতাব হিফয করা, ওটা অনুধাবন করা এবং দিন রাত ওর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা। নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু ও দাতা।
মহান আল্লাহ বলেনঃ এই ভাবেই প্রত্যেক নবীর শক্ত করেছিলাম আমি অপরাধীদেরকে। অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তোমার কওম যেমন কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করছে, পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতেরাও তেমনই ছিল। কেননা, আল্লাহ তা'আলা প্রত্যক নবীরই শক্ত করেছেন অপরাধীদেরকে। তারা মানুষকে তাদের বিভ্রান্তির দিকে ও তাদের কুফরীর দিকে আহ্বান করতো। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর শক্র করেছিলাম মানব ও দানব শয়তানদেরকে।” (৬:১১২) এজন্যেই আল্লাহ তা'আলা এখানে বলেনঃ তোমার জন্যে তোমার প্রতিপালকই পথ-প্রদর্শক ও সাহায্যকারীরূপে যথেষ্ট। অর্থাৎ যে আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্য স্বীকার করবে, তাঁর কিতাবের উপর ঈমান আনবে এবং ওর সত্যতা স্বীকার করতঃ ওর অনুসরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ হবেন তার পথ-প্রদর্শক ও সাহায্যকারী। পথ-প্রদর্শক ও সাহায্যকারী বলার কারণ এই যে, মুশরিকরা লোকদেরকে কুরআনের অনুসরণ হতে বাধা প্রদান করতো, যাতে কেউই এর দ্বারা হিদায়াত প্রাপ্ত হতে না পারে এবং তাদের পন্থা যেন কুরআনের পন্থার উপর জয়যুক্ত হয়। এজন্যেই মহান আল্লাহ বলেনঃ এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর শক্র করেছি অপরাধীদেরকে (শেষ পর্যন্ত)।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।