আল কুরআন


সূরা আল-ফুরকান (আয়াত: 30)

সূরা আল-ফুরকান (আয়াত: 30)



হরকত ছাড়া:

وقال الرسول يارب إن قومي اتخذوا هذا القرآن مهجورا ﴿٣٠﴾




হরকত সহ:

وَ قَالَ الرَّسُوْلُ یٰرَبِّ اِنَّ قَوْمِی اتَّخَذُوْا هٰذَا الْقُرْاٰنَ مَهْجُوْرًا ﴿۳۰﴾




উচ্চারণ: ওয়া কা-লাররাছূলুইয়া-রাব্বি ইন্না কাওমিততাখাযূহা-যাল কুরআ-না মাহজূরা-।




আল বায়ান: আর রাসূল বলবে, ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমার কওম এ কুরআনকে পরিত্যাজ্য গণ্য করেছে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩০. আর রাসূল বললেন, হে আমার রব! আমার সম্প্রদায় তো এ কুরআনকে পরিত্যাজ্য সাব্যস্ত করেছে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: রসূল বলবে- ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার জাতির লোকেরা এ কুরআনকে পরিত্যক্ত গণ্য করেছিল।’




আহসানুল বায়ান: (৩০) রসূল বলে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো এ কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করেছে।’[1]



মুজিবুর রহমান: তখন রাসূল বলবেঃ হে আমার রাব্ব! আমার সম্প্রদায়তো এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করেছিল।



ফযলুর রহমান: রসূল বলবে, “হে আমার প্রভু! আমার লোকেরা তো এই কোরআনকে ফেলে রেখেছিল”



মুহিউদ্দিন খান: রসূল বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় এই কোরআনকে প্রলাপ সাব্যস্ত করেছে।



জহুরুল হক: আর রসূল বলছেন -- "হে আমার প্রভু! নিঃসন্দেহ আমার স্বজাতি এই কুরআনকে পরিত্যজ্য বলে ধরে নিয়েছিল। "



Sahih International: And the Messenger has said, "O my Lord, indeed my people have taken this Qur'an as [a thing] abandoned."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩০. আর রাসূল বললেন, হে আমার রব! আমার সম্প্রদায় তো এ কুরআনকে পরিত্যাজ্য সাব্যস্ত করেছে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩০) রসূল বলে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো এ কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করেছে।’[1]


তাফসীর:

[1] মুশরিকরা কুরআন পাঠের সময় খুব হৈ-হল্লা করত, যাতে কুরআন না শোনা যায়। এটাও এক ধরনের কুরআন পরিত্যাগ করার নামান্তর। কুরআনের প্রতি ঈমান না আনা এবং সেই মত আমল না করাও কুরআন বর্জন করার নামান্তর। কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা না করা, তার আদেশাবলী পালন না করা ও তাঁর নিষেধাজ্ঞাবলী হতে বিরত না থাকাও এক প্রকার কুরআন ছেড়ে দেওয়ার নামান্তর। অনুরূপ তার উপর অন্য কোন কিতাবকে অগ্রাধিকার দেওয়াও তা পরিত্যাজ্য মনে করার মধ্যে গণ্য। উক্ত সকল লোকদের বিরুদ্ধে কিয়ামত দিবসে রসূল (সাঃ) বিচার প্রার্থনা করবেন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩০-৩১ নং আয়াতের তাফসীর:



কুরআনকে যেভাবে চর্চা করা, মেনে চলা ও মর্যাদা দেয়া এবং বিশ্বাস করা উচিত উম্মাতের যারা তা করে না তাদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ তা‘আলার কাছে বলবেন: হে আল্লাহ তা‘আলা! আমার এ জাতি কুরআনকে পরিত্যাগ করেছে। তারা কুরআনকে বর্জন করেছে, কুরআনকে মেনে নেয়নি এবং তার যথার্থ মর্যাদা দেয়নি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ অভিযোগ দুনিয়াতেই করেছেন, না আখিরাতে করবেন তা নিয়ে মতামত পাওয়া যায়, তবে পরবর্তী আয়াত দ্বারা বুঝা যায়ন এ অভিযোগ দুনিয়াতেই করেছেন। তাই তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَكَذٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا مِّنَ الْمُجْرِمِيْنَ)



অর্থাৎ আপনার শত্র“রা কুরআন অমান্য করলে সে জন্য আপনার সবর করা উচিত।



আর এভাবেই আখিরাতে অপরাধীরা তাদের রাসূলদের শত্র“ হয়ে যাবে। কেননা তারা মানুষকে অন্যায় কাজের দিকে আহ্বান করত আর আল্লাহ তা‘আলার পথে বাধা দিত। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَكَذٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيٰطِيْنَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوْحِيْ بَعْضُهُمْ إِلٰي بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُوْرًا ط وَلَوْ شَا۬ءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوْهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُوْنَ - وَلِتَصْغٰٓي إِلَيْهِ أَفْئِدَةُ الَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ وَلِيَرْضَوْهُ وَلِيَقْتَرِفُوْا مَا هُمْ مُّقْتَرِفُوْنَ) ‏



“অনুরূপভাবে আমি মানব ও জিনের মধ্যে যারা শয়তান তাদেরকে প্রত্যেক নাবীর শত্র“ করেছি, প্রতারণার উদ্দেশ্যে তাদের একে অন্যকে চমকপ্রদ কথা অতি গোপনীয়ভাবে জানিয়ে দেয়। যদি তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করতেন তবে তারা এটা করত না; সুতরাং তুমি তাদেরকে ও তারা যা মিথ্যা রচনা করে তাকে বর্জন কর। আর তারা এ উদ্দেশ্যে প্ররোচিত করে যে, যারা আাখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের মন যেন তার প্রতি অনুরাগী হয় এবং তাতে যেন তারা পরিতুষ্ট হয় আর তারা যে অপকর্ম করে তারাও যেন সেসব অপকর্ম করতে থাকে। (সূরা আন‘আম ৬:১১২-১১৩)



সুতরাং যারা অপরাধী তারা রাসূলের শত্র“ হয়ে যাবে। আর এ কারণে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তাই আমাদের উচিত রাসূলের নির্দেশিত পথে চলা। কেননা রাসূলের দেখানো পথে না চললে রাসূলের শত্র“তে পরিণত হতে হবে। আর রাসূলের শত্র“ মানে আল্লাহ তা‘আলার শত্র“। যারা আল্লাহ তা‘আলার শত্র“ তারা কখনো জান্নাতে যেতে পারবে না। আর কুরআনকে বেশি বেশি চর্চা, পালন ও মেনে চলা উচিত। কারণ যারা কুরআন বর্জন করবে তাদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অভিযোগ করেছেন।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কুরআন বর্জন করার পরিণতি খুবই খারাপ, তাই বেশি বেশি তার চর্চা ও বিধি-বিধান মেনে চলা উচিত।

২. যারা অন্যায় কাজ করে তারা রাসূলদের ও আল্লাহ তা‘আলার শত্র“।

৩. আল্লাহ তা‘আলা যাকে পথ দেখান তাকে গোমরাহ করার কেউ নেই। আর যাকে গোমরাহ করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৩০-৩১ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল ও নবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) সম্পর্কে খবর দিতে গিয়ে বলেন যে, নবী (সঃ) বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায়তো এই কুরঅনকে পরিত্যাজ্য মনে করে। এটা এভাবে যে, মুশরিকরা কুরআন কারীম শ্রবণ করতো না এবং তাতে কর্ণপাত করতো না। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “কাফিররা বলে-তোমরা এই কুরআন শ্রবণ করো না এবং ওটা আবৃত্তিকালে শোরগোল সৃষ্টি করো যাতে তোমরা জয়ী হতে পার।” (৪১:২৬) কাফিরদের সামনে যখন কুরআন কারীম পাঠ করা হতো তখন তারা হট্টগোল ও গোলমাল করতো এবং আজে বাজে কথা বলতে যাতে তারা কুরআন শুনতে না পায়। এটাই হলো তাদের কুরআন পরিত্যাগ করা ও ওর প্রতি ঈমান না আনা।
কুরআনের সত্যতা স্বীকার না করার অর্থও হলো ওটা পরিত্যাগ করা। কুরআন সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করা পরিত্যাগ করা হলো কুরআনকে পরিত্যাগ করা। কুরআন অনুযায়ী আমল, ওর নির্দেশাবলী প্রতিপালন এবং ওর নিষেধাবলী থেকে পরহেযগারী অবলম্বন পরিত্যাগ করাও হলো কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করা। কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে কবিতা, গান এবং খেল-তামাশার প্রতি আকৃষ্ট হওয়াও হলো ওকে পরিত্যাজ্য মনে করা। সুতরাং অনুগ্রহশীল ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহর নিকট আমরা প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাদেরকে এমন জিনিস হতে পরিত্রাণ দান করেন যার উপর তাঁর ক্রোধ পতিত হয় এবং যেন তিনি আমাদেরকে এমন জিনিসের আমলকারী বানিয়ে দেন যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। যেমন তাঁর কিতাব হিফয করা, ওটা অনুধাবন করা এবং দিন রাত ওর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা। নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু ও দাতা।

মহান আল্লাহ বলেনঃ এই ভাবেই প্রত্যেক নবীর শক্ত করেছিলাম আমি অপরাধীদেরকে। অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তোমার কওম যেমন কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করছে, পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতেরাও তেমনই ছিল। কেননা, আল্লাহ তা'আলা প্রত্যক নবীরই শক্ত করেছেন অপরাধীদেরকে। তারা মানুষকে তাদের বিভ্রান্তির দিকে ও তাদের কুফরীর দিকে আহ্বান করতো। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর শক্র করেছিলাম মানব ও দানব শয়তানদেরকে।” (৬:১১২) এজন্যেই আল্লাহ তা'আলা এখানে বলেনঃ তোমার জন্যে তোমার প্রতিপালকই পথ-প্রদর্শক ও সাহায্যকারীরূপে যথেষ্ট। অর্থাৎ যে আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্য স্বীকার করবে, তাঁর কিতাবের উপর ঈমান আনবে এবং ওর সত্যতা স্বীকার করতঃ ওর অনুসরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ হবেন তার পথ-প্রদর্শক ও সাহায্যকারী। পথ-প্রদর্শক ও সাহায্যকারী বলার কারণ এই যে, মুশরিকরা লোকদেরকে কুরআনের অনুসরণ হতে বাধা প্রদান করতো, যাতে কেউই এর দ্বারা হিদায়াত প্রাপ্ত হতে না পারে এবং তাদের পন্থা যেন কুরআনের পন্থার উপর জয়যুক্ত হয়। এজন্যেই মহান আল্লাহ বলেনঃ এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর শক্র করেছি অপরাধীদেরকে (শেষ পর্যন্ত)।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।