সূরা আন-নূর (আয়াত: 46)
হরকত ছাড়া:
لقد أنزلنا آيات مبينات والله يهدي من يشاء إلى صراط مستقيم ﴿٤٦﴾
হরকত সহ:
لَقَدْ اَنْزَلْنَاۤ اٰیٰتٍ مُّبَیِّنٰتٍ ؕ وَ اللّٰهُ یَهْدِیْ مَنْ یَّشَآءُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ ﴿۴۶﴾
উচ্চারণ: লাকাদ আনযালনাআ-য়া-তিম মুবাইয়িনা-তিওঁ ওয়াল্লা-হু ইয়াহদী মাইঁ ইয়াশাউ ইলা-সিরা-তিম মুছতাকীম।
আল বায়ান: অবশ্যই আমি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল সঠিক পথ দেখান।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৬. অবশ্যই আমরা সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি, আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি সুস্পষ্ট নিদর্শন অবতীর্ণ করেছি, আল্লাহ যাকে চান সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।
আহসানুল বায়ান: (৪৬) আমি অবশ্যই সুস্পষ্ট নিদর্শন অবতীর্ণ করেছি। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন। [1]
মুজিবুর রহমান: আমিতো সুস্পষ্ট নিদর্শন অবতীর্ণ করেছি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।
ফযলুর রহমান: আমি তো সুস্পষ্ট আয়াত নাযিল করেছি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।
মুহিউদ্দিন খান: আমি তো সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ অবর্তীর্ণ করেছি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালনা করেন।
জহুরুল হক: আমরা নিশ্চয়ই সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী অবতারণ করেছি, আর আল্লাহ্ সহজ-সঠিক পথের দিকে চালিত করেন যাকে তিনি ইচ্ছে করেন।
Sahih International: We have certainly sent down distinct verses. And Allah guides whom He wills to a straight path.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৬. অবশ্যই আমরা সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি, আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৬) আমি অবশ্যই সুস্পষ্ট নিদর্শন অবতীর্ণ করেছি। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন। [1]
তাফসীর:
[1] ‘সুস্পষ্ট নিদর্শন’ বলতে কুরআন কারীমকে বুঝানো হয়েছে, যাতে এমন প্রতিটি জিনিসের বর্ণনা রয়েছে যার সম্পর্ক ধর্ম তথা সুচরিত্রের সঙ্গে আছে; যার উপর নির্ভর করছে মানুষের সুখ ও সফলতা। মহান আল্লাহ বলেন, {مَّا فَرَّطْنَا فِي الكِتَابِ مِن شَيْءٍ} অর্থাৎ, আমি কিতাবে কোন কিছু লিপিবদ্ধ করতে ত্রুটি করিনি। (আনআম ৩৮ আয়াত) যার ভাগ্যে হিদায়াত প্রাপ্তি রয়েছে আল্লাহ তাকে সঠিক চিন্তাশক্তি ও সত্য হৃদয় দান করে থাকেন। যার ফলে তার সম্মুখে হিদায়াতের পথ খুলে যায়। ‘সিরাতে মুস্তাকীম’ (সরল পথ) বলতে উক্ত হিদায়াতের পথকেই বুঝানো হয়েছে; যার মধ্যে কোন বক্রতা নেই; যে পথ অবলম্বন করে মানুষ নিজের গন্তব্যস্থল জান্নাতে পৌঁছতে পারে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৩-৪৬ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর আরো কিছু ক্ষমতার কথা বর্ণনা করেছেন, যা কেবলমাত্র তিনিই করতে সক্ষম। এ ব্যাপারে আর কেউ ক্ষমতাবান নয়। يُزْجِيْ অর্থ-হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া, سَحَابًا অর্থ খণ্ড খণ্ড মেঘ, يُؤَلِّفُ অর্থ খণ্ড খণ্ড মেঘগুলোকে একত্রিত করা। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা খণ্ড খণ্ড মেঘগুলো হাকিয়ে নিয়ে একত্রিত করে পাহাড়ের ন্যায় মেঘমালায় পরিণত করেন, অতঃপর তা থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। এছাড়া তিনি আকাশের শিলাস্তুপ হতে শিলা বর্ষণ করেন। এর দ্বারা কাউকে আঘাত হানেন আবার কাউকে এর আঘাত হতে রক্ষা করেন।
আবার কেউ এর অর্থ নিয়েছেন যে, এ আঘাত বলতে শিলাবৃষ্টি দ্বারা ক্ষেতের সব ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়া। আর যার ওপর রহমত করেন তাকে ক্ষেতের ফসল নষ্ট হওয়ার আযাব থেকে বাঁচিয়ে দেন।
আর এ মেঘমালার মধ্যে এমন বিদ্যুৎ ঝলক রয়েছে যাতে মানুষের দৃষ্টিশক্তি প্রায় কেড়ে নেয়ার উপক্রম হয়। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْطكُلَّمَآ أَضَآءَ لَهُمْ مَّشَوْا فِيْهِ لاق وَإِذَآ أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُوْا ط وَلَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ ط إِنَّ اللّٰهَ عَلٰي كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ)
“মনে হয় যেন বিদ্যুৎ চমক তাদের দৃষ্টি শক্তি কেড়ে নিবে, যখন তিনি তাদের জন্য একটু আলো (বিদ্যুৎ) প্রজ্জ্বলিত করেন তখন তাতে তারা চলতে থাকে এবং যখন তাদের ওপর অন্ধকারাচ্ছন্ন করেন তখন তারা দাঁড়িয়ে থাকে। আর যদি আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করেন নিশ্চয় তাদের শ্রবণ শক্তি ও তাদের দর্শন শক্তি হরণ করতে পারেন। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা সর্ব বিষয়ের ওপর শক্তিমান।” (সূরা বাকারাহ ২:২০)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তিনিই একমাত্র প্রতিপালক যিনি দিবস ও রাত্রির পরিবর্তন ঘটান। যার ফলে কখনো রাত বড় হয়, আবার কখনো দিন বড় হয়। অথবা কখনো দিনের উজ্জ্বলতাকে কালো করে দেন মেঘের অন্ধকার দিয়ে এবং রাতের অন্ধকারকে চাঁদের আলো দিয়ে বদলে দেন। যারা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন তাদের জন্য এগুলোর মাঝে শিক্ষা রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(إِنَّ فِيْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَاٰيٰتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ)
“নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টির মধ্যে এবং দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য স্পষ্ট নিদর্শনাবলী রয়েছে”। (সূরা আলি ইমরান ৩:১৯০)
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তিনি বিভিন্ন প্রজাতির সকল জীব-জন্তু ও তরুলতা পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তাদের সৃষ্টির মূল উপাদান হল পানি, যে সকল প্রাণীর প্রজননের মাধ্যমে জন্ম হয় তারা বীর্য দ্বারা সৃষ্টি হয় যা হল পানি। আর যেসকল তরুলতা মাটি থেকে সৃষ্টি হয় তার মূল উপাদান হল মানুষের সেচ দেয়া পানি অথবা আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত পানি।
(فَمِنْهُمْ مَّنْ يَّمْشِيْ عَلٰي بَطْنِه)
অর্থাৎ যেমন সাপ পেটের ওপর ভর করে চলে, মানুষ ও অনেক প্রাণি দু’পায়ের ওপর চলাচল করে। গরু, ছাগল ও অনেক প্রাণি চার পায়ের ওপর চলাচল করে। তবে অনেক প্রাণি আছে যাদের পা চারের অধিক। সে জন্য আল্লাহ তা‘আলা পরে বলেছেন, তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمَا مِنْ دَآبَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَا۬ئِرٍ يَّطِيْرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّآ أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ ط مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتٰبِ مِنْ شَيْءٍ ثُمَّ إِلٰي رَبِّهِمْ يُحْشَرُوْنَ)
“ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণশীল যত জীব আছে এবং উভয় ডানার সাহায্যে উড্ডয়নশীল যত পাখী আছে সবই তাদের মত একটি জাতি। কিতাবে (লাওহে মাহফূজে) কোন কিছুই আমি বাদ দেইনি। অতঃপর স্বীয় প্রতিপালকের দিকে তাদেরকে একত্র করা হবে।” (সূরা আনআম ৬:৩৮)
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ইচ্ছামত যা খুশি তাই সৃষ্টি করতে পারেন। এগুলো দেখে যারা সুপথ পাওয়ার তারা সুপথ পায়, আর যারা গোমরাহ হওয়ার তারা গোমরাহ হয়ে যায়।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. সকল বস্তুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।
২. আকাশে শিলাস্তুপ রয়েছে।
৩. দিবা-রাত্রি পরিবর্তনশীল।
৪. পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রকার প্রাণী রয়েছে যারা পেট দিয়ে, দু’পা দিয়ে আবার কোন প্রজাতি চার পা দিয়েও চলাফেরা করে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: এই নৈপুণ্যপূর্ণ আহকাম ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্তসমূহ এই কুরআন কারীমে আল্লাহ তা'আলাই বর্ণনা করেছেন। তিনি জ্ঞানীদেরকে বুঝবার তাওফীক দিয়েছেন। মহান আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন সরল সঠিক পথ-প্রদর্শন করেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।