সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 111)
হরকত ছাড়া:
إني جزيتهم اليوم بما صبروا أنهم هم الفائزون ﴿١١١﴾
হরকত সহ:
اِنِّیْ جَزَیْتُهُمُ الْیَوْمَ بِمَا صَبَرُوْۤا ۙ اَنَّهُمْ هُمُ الْفَآئِزُوْنَ ﴿۱۱۱﴾
উচ্চারণ: ইন্নী জাযাইতুহুমুল ইয়াওমা বিমা-সাবারূ আন্নাহুম হুমুল ফাইযূন।
আল বায়ান: নিশ্চয় আমি তাদের ধৈর্যের কারণে আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করলাম; নিশ্চয় তারাই হল সফলকাম।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১১. নিশ্চয় আমি আজ তাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমনভাবে পুরস্কৃত করলাম যে, তারাই হল সফলকাম।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আজ আমি তাদেরকে পুরস্কৃত করলাম তাদের ধৈর্য ধারণের কারণে, আজ তারাই তো সফলকাম।
আহসানুল বায়ান: (১১১) আমি আজ তাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমনভাবে পুরস্কৃত করলাম যে, তারাই হল সফলকাম।’ [1]
মুজিবুর রহমান: আমি আজ তাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমনভাবে পুরস্কৃত করলাম যে, তারাই হল সফলকাম।
ফযলুর রহমান: আজ আমি তাদেরকে তাদের ধৈর্যের এমন প্রতিদান দিয়েছি যে, তারাই (আজ) সফলকাম।
মুহিউদ্দিন খান: আজ আমি তাদেরকে তাদের সবরের কারণে এমন প্রতিদান দিয়েছি যে, তারাই সফলকাম।
জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ তারা যা অধ্যবসায় করত সেজন্য আজকের দিনে আমি তাদের পুরস্কার দান করছি, আর তারা তো নিজেরাই হচ্ছে সফলকাম।
Sahih International: Indeed, I have rewarded them this Day for their patient endurance - that they are the attainers [of success]."
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১১১. নিশ্চয় আমি আজ তাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমনভাবে পুরস্কৃত করলাম যে, তারাই হল সফলকাম।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১১১) আমি আজ তাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমনভাবে পুরস্কৃত করলাম যে, তারাই হল সফলকাম।’ [1]
তাফসীর:
[1] পৃথিবীতে বিশ্বাসীদের ধৈর্য-পরীক্ষার একটি পর্যায় এমনও আসে যে, যখন তারা বিশ্বাস ও ঈমানের চাহিদানুসারে সৎকর্ম সম্পাদন করে, তখন দ্বীনের ব্যাপারে অনভিজ্ঞ ও ঈমানের ব্যাপারে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে উপহাসের পাত্র বানায়। অনেক দুর্বল ঈমানের মালিক সেই সব উপহাস ও ভৎর্সনার ভয়ে আল্লাহর আদেশের উপর আমল ছেড়ে দেয়। যেমন দাড়ি রাখা, শরয়ী পর্দা করা, বিবাহ-শাদীতে বিধর্মীদের রীতি-নীতি হতে দূরে থাকা ইত্যাদি। সৌভাগ্যের অধিকারী তারাই, যারা কোন প্রকার ব্যঙ্গ-বিদ্রূপকে পরোয়া করে না এবং কোন অবস্থাতেই আল্লাহ তথা রসূলের আনুগত্য হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় না। আল্লাহর প্রিয়পাত্রের একটি গুণ এই যে, ‘তারা কোন নিন্দুকের নিন্দার ভয় করে না।’ আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেবেন এবং তাদেরকে সফলতা দানে সম্মানিত করবেন; যেমন এই আয়াতে সে কথা ব্যক্ত হয়েছে। হে আল্লাহ! আমাদেরকে তাদের দলভুক্ত করো। আমীন।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১০৮-১১১ নং আয়াতের তাফসীর:
যখন কাফির-মুশরিকরা জাহান্নাম হতে বের হতে চাইবে তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ধমক দিয়ে বলবেন: তোমরা এখানেই অবস্থান কর আর এ ব্যাপারে আমার সাথে কোন কথাবার্তা বল না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(يُرِيْدُوْنَ أَنْ يَّخْرُجُوْا مِنَ النَّارِ وَمَا هُمْ بِخٰرِجِيْنَ مِنْهَا ز وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِيْمٌ)
“তারা চাইবে বের হয়ে আসতে জাহান্নাম থেকে কিন্তু তারা সেখান থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি।” (সূরা মায়িদাহ ৫:৩৭)
অতঃপর তাদেরকে তাদের পাপের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হবে যে, যারা আমার মু’মিন বান্দা ছিল তোমরা তাদের ঈমানের কারণে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করতে ও হাসি-তামাশা করতে, যার ফলে আজ তোমাদের পরিণতি জাহান্নাম। অতএব তোমরা জাহান্নামের শাস্তি আস্বাদন কর। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(اِنَّ الَّذِیْنَ اَجْرَمُوْا کَانُوْا مِنَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا یَضْحَکُوْنَﭬﺘ وَاِذَا مَرُّوْا بِھِمْ یَتَغَامَزُوْنَﭭ)
“নিশ্চয়ই যারা অপরাধী তারা মু’মিনদরকে উপহাস করত। এবং তারা যখন তাদের নিকট দিয়ে যেতো তখন চোখ টিপে কটাক্ষ করত।” (সূরা মুতাফ্ফিফীন ৮৩:২৯-৩০)
আর এসব কারণেই তারা ঈমান নিয়ে আসতে পারেনি, বরং আরো বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়েছে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, মু’মিনরা ঈমানের ওপর অটল থাকতে গিয়ে যত রকম বাধা-বিপত্তি এসেছে সকল বাধা বিপত্তিতে এবং তাদেরকে নিয়ে যত ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করা হয়েছে সকল ঠাট্টা-বিদ্রপ উপেক্ষা করে যে ধৈর্য ধারণ করেছে সে জন্য আমি উত্তম পুরষ্কার প্রদান করলাম।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(أَهٰٓؤُلَا۬ءِ الَّذِيْنَ أَقْسَمْتُمْ لَا يَنَالُهُمُ اللّٰهُ بِرَحْمَةٍ ط اُدْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَآ أَنْتُمْ تَحْزَنُوْنَ)
“এরাই কি তারা, যাদের সম্বন্ধে তোমরা শপথ করে বলতে যে, ‘আল্লাহ তা‘আলা এদের প্রতি কোন দয়া প্রদর্শন করবেন না। এদেরকে বলা হবে, ‘তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর, তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তিতও হবে না।’’ (সূরা আ‘রাফ: ৭:৪৯)
সুতরাং ঈমানের ওপর অটল থাকতে গিয়ে মু’মিনদেরকে অনেক ধৈর্য ধারণ করতে হবে। অনেকে অনেক মন্তব্য করবে, কেউ বিদ্রƒপ করবে, তাই বলে ঈমান থেকে দূরে সরে যাওয়া যাবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. জাহান্নামে যাবার পর সেখান থেকে বের হবার সুযোগ থাকবে না।
২. কাউকে কোন ভাল কাজের জন্য উপহাস করা যাবে না।
৩. ধৈর্যধারণ করলে তার পুরস্কার আখিরাতে পাওয়া যাবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১০৮-১১১ নং আয়াতের তাফসীর:
এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে কাফিরদেরকে জবাব দেয়া হচ্ছে যে, যখন তারা জাহান্নাম হতে বের হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে তখন তাদেরকে বলা হবেঃ তোমরা হীন অবস্থায় এখানেই থাকো। খবরদার! এ ব্যাপারে তোমরা আমার সাথে কথা বলো না! প্রম দয়ালু ও দাতা আল্লাহর হবে এটা উক্তি। কাফির ও মুশরিকরা সমস্ত কল্যাণ থেকে নিরাশ হয়ে যাবে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন যে, জাহান্নামীরা প্রথমে জাহান্নামের রক্ষককে ডাকতে থাকবে। ডাকতে থাকবে তারা চল্লিশ বছর পর্যন্ত। কিন্তু কোন উত্তর তারা পাবে না। চল্লিশ বছর পরে উত্তর দেয়া হবেঃ “তোমরা এখানেই পড়ে থাকো।” জাহান্নামের রক্ষকের কাছে এবং মহান আল্লাহর কাছে তাদের ডাকের কোনই গুরুত্ব থাকবে না। আবার তারা আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করবে ও বলবেঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুর্ভাগ্যের কারণে আমরা ধ্বংস হয়ে গিয়েছি এবং বিভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছি। হে আল্লাহ! এখন আপনি আমাদেরকে এখান থেকে বের করে নিন এবং পুনরায় দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিন! এরপরেও যদি আমরা মন্দ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ি তবে আপনার ইচ্ছামত শাস্তি আপনি দিবেন। আমাদের আর কিছুই বলার থাকবে না। তাদের এ কথার জবাব তাদেরকে এই দুনিয়ার দ্বিগুণ বয়স পর্যন্তও দেয়া হবে না। তারপর তাদেরকে বলা হবেঃ “তোমরা আমার রহমত হতে দূর হয়ে গিয়ে এই জাহান্নামের মধ্যেই লাঞ্ছিত অবস্থায় অবস্থান করতে থাকো। আমার সাথে আর একটি কথাও বলো না।” তখন তারা সম্পূর্ণরূপে নিরাশ হয়ে যাবে এবং গাধার মত বিকট শব্দ করতে থাকবে। ঐ সময় তাদের চেহারা বদলে যাবে এবং তাদের সুন্দর আকৃতি কদাকৃতিতে রূপান্তরিত হবে। এমন কি কতকগুলো, মুমিন ব্যক্তি শাফাআতের অনুমতি লাভ করে এখানে আসবে কিন্তু তাদের কাউকেও চিনতে পারবে না। জাহান্নামীরা তাদেরকে দেখে বলবেঃ “আমি অমুক।” কিন্তু তারা তাদেরকে উত্তরে বলবেঃ “তোমরা মিথ্যা বলছো, আমরা তোমাদেরকে চিনি না।” তখন ঐ জাহান্নামীরা মহান আল্লাহকে ডাকতে থাকবে। উত্তরে তাদেরকে যে কথা বলা হবে তা উপরে বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর জাহান্নামের দরযা বন্ধ করে দেয়া হবে এবং তারা সেখানেই সড়তে পচতে থাকবে।
তাদেরকে লজ্জিত করার উদ্দেশ্যে তাদের সামনে এক বড় পাপকার্য পেশ করা হবে। মহান আল্লাহ তাদেরকে বলবেনঃ আমার বান্দাদের মধ্যে এক দল এমন ছিল যারা বলতো-হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন ও আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। কিন্তু হে জাহান্নামীর দল! তোমরা আমার ঐ বান্দাদেরকে নিয়ে এতো ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে যে, ওটা তোমাদেরকে আমার কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল। তোমরা তো তাদেরকে নিয়ে হাসি ঠাট্টাই করতে। যেমন অন্য জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “পাপীরা মুমিনদেরকে দেখে হাসততা ও তাদেরকে উপহাস করতো।” (৮৩:২৯)
তাই আল্লাহ তাআলা জাহান্নামীদেরকে বলবেনঃ আমি আজ আমার ঐ মমিন বান্দাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমনভাবে পুরস্কৃত করলাম যে, তারাই হলো সফলকাম। আমি তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে নিলাম এবং জান্নাতে প্রবিষ্ট করলাম।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।