সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 106)
হরকত ছাড়া:
قالوا ربنا غلبت علينا شقوتنا وكنا قوما ضالين ﴿١٠٦﴾
হরকত সহ:
قَالُوْا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَیْنَا شِقْوَتُنَا وَ کُنَّا قَوْمًا ضَآلِّیْنَ ﴿۱۰۶﴾
উচ্চারণ: কা-লূরাব্বানা-গালাবাত ‘আলাইনা-শিকওয়াতুনা-ওয়াকুন্না-কাওমান দাল্লীন।
আল বায়ান: তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল, আর আমরা ছিলাম পথভ্রষ্ট’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৬. তারা বলবে, হে আমাদের রব! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল এবং আমরা ছিলাম এক পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়;
তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা বলবে- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পরাস্ত করেছিল, আর আমরা ছিলাম এক পথভ্রষ্ট জাতি।
আহসানুল বায়ান: (১০৬) তারা বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল[1] এবং আমরা ছিলাম এক বিভ্রান্ত সম্প্রদায়।
মুজিবুর রহমান: তারা বলবেঃ হে আমাদের রাব্ব! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল এবং আমরা ছিলাম এক বিভ্রান্ত সম্প্রদায়।
ফযলুর রহমান: (উত্তরে) তারা বলবে, “হে আমাদের প্রভু! আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পরাভূত করেছিল এবং আমরা ছিলাম এক বিভ্রান্ত জনগোষ্ঠী।”
মুহিউদ্দিন খান: তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দূর্ভাগ্যের হাতে পরাভূত ছিলাম এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত জাতি।
জহুরুল হক: তারা বলবে -- "আমাদের প্রভু! আমাদের দুর্দশা আমাদের উপরে প্রভাব বিস্তার করেছিল, এবং আমরা পথভ্রষ্ট জাতি হয়ে গিয়েছিলাম।
Sahih International: They will say, "Our Lord, our wretchedness overcame us, and we were a people astray.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১০৬. তারা বলবে, হে আমাদের রব! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল এবং আমরা ছিলাম এক পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়;
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১০৬) তারা বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল[1] এবং আমরা ছিলাম এক বিভ্রান্ত সম্প্রদায়।
তাফসীর:
[1] আত্মতৃপ্তি ও কামনা-বাসনা বা কুপ্রবৃত্তি যা মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে, তাকে এখানে দুর্ভাগ্য বলা হয়েছে। কারণ, এর পরিণাম সর্বদা দুর্ভাগ্যই হবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১০৫-১০৭ নং আয়াতের তাফসীর:
কিয়ামতের দিন কাফির-মুশরিকদেরকে বলা হবে তোমাদের কাছে যখন আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হত তখন তোমরা কি তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে না? তখন তারা সত্য বুঝতে পারবে যে, রাসূলগণ তাদেরকে আসমানী কিতাব দ্বারা সত্যের দিকে আহ্বান করেছেন কিন্তু তারা সত্য গ্রহণ করেনি।
আমরা যে জুলুম ও সত্য বিমুখ হয়েছি তার ফলে দুর্ভাগ্য আমাদের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে, তাই আজ আমরা জাহান্নামী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “অত্যধিক ক্রোধে তা ফেটে পড়ার উপক্রম হবে, যখনই তাতে কোন দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখনই তাদেরকে জাহান্নামের রক্ষীরা জিজ্ঞেস করবেঃ তোমাদের নিকট কি কোন সতর্ককারী আসেনি? তারা উত্তরে বলবে: হ্যাঁ, আমাদের নিকট সতর্ককারী এসেছিল, আমরা তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলাম এবং বলেছিলাম: আল্লাহ তা‘আলা কিছুই নাযিল করেননি, তোমরা তো মহা গুমরাহীতে রয়েছ। এবং তারা আরো বলবে: যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে অনুধাবন করতাম, তবে আমরা জাহান্নামবাসী হতাম না। অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। সুতরাং অভিশাপ জাহান্নামবাসীদের জন্য!” (সূরা মুলক ৬৭:৮-১১)
অতঃপর তারা আল্লাহ তা‘আলার কাছে আবেদন পেশ করবে, হে আল্লাহ! আমাদেরকে এখান থেকে বের করুন, আমরা কোনদিন আপনার ও আপনার রাসূলদের বিরোধিতা করব না বরং তাদের প্রতি ঈমান আনব এবং তাদের নির্দেশিত পথে চলব। আর যদি পুনরায় কুফরী করি তাহলে তো আমরা জালিম। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, যদি তাদেরকে দুনিয়াতে আবার প্রেরণ করা হয় তাহলে সেরূপই কুফরী করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَلَوْ رُدُّوْا لَعَادُوْا لِمَا نُهُوْا عَنْهُ وَإِنَّهُمْ لَكٰذِبُوْنَ)
“এবং তারা প্রত্যাবর্তিত হলেও যা করতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল পুনরায় তারা তাই করত এবং নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী” (সূরা আন‘আম ৬:২৮) এ সম্পর্কে অত্র সূরার ৯৯-১০০ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলার বিধান সত্য বলে বিশ্বাস করতে হবে, মিথ্যা প্রতিপন্ন করলে জাহান্নামে যেতে হবে।
২. কাফিররা যখন শাস্তি দেখবে তখন তারা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১০৫-১০৭ নং আয়াতের তাফসীর:
কাফিরদেরকে তাদের কুফরী, পাপ ও সত্য-প্রত্যাখ্যানের কারণে কিয়ামতের দিন যে ভীতি প্রদর্শন করা হবে ও ধমক দেয়া হবে এখানে তারই বর্ণনা দেয়া হচ্ছে।
তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ আমি তোমাদের নিকট রাসূল পাঠিয়েছিলাম, তোমাদের উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছিলাম, তোমাদের সন্দেহ। দূর করে দিয়েছিলাম, তোমাদের কোনই যুক্তি-প্রমাণ অবশিষ্ট রাখিনি। যেমন মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যেন রাসূলদের পরে লোকদের জন্যে আল্লাহর উপর কোন বাদানুবাদের সুযোগ না থাকে।” (৪: ১৬৫) আর এ জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত আমি শাস্তি প্রদানকারী নই।” (১৭:১৫) তিনি আরো বলেনঃ (আরবী) পর্যন্ত। অর্থাৎ “যখনই তাতে (জাহান্নামে) কোন দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তাদেরকে রক্ষীরা জিজ্ঞেস করবেঃ তোমাদের কাছে কি কোন সতর্ককারী আসেনি? তারা বলবেঃ অবশ্যই আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিল, আমরা তাদেরকে মিথ্যাবাদী গণ্য করেছিলাম এবং বলেছিলামঃ আল্ল। `ই অবতীর্ণ করেননি, তোমরা তো মহা-বিভ্রান্তিতে রয়েছে। তারা আরো বলবেঃ যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম তাহলে আমরা জাহান্নামবাসী হতাম না। তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে; সুতরাং অভিশাপ জাহান্নামীদের জন্যে।” (৬৭: ৮-১১)
এ জন্যেই তারা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল এবং আমরা ছিলাম এক বিভ্রান্ত সম্প্রদায়।
তারা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! এই আগুন হতে আমাদেরকে উদ্ধার করুন এবং পুনরায় দুনিয়ায় ফিরিয়ে দিন। অতঃপর আমরা যদি পুনরায় কুফরী করি তবে তো আমরা অবশ্যই সীমালংঘনকারী হবো ও শাস্তির যোগ্য হয়ে যাবো। যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ তা'আলা তাদের উক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি, এখন বের হওয়ার কোন পথ আছে কি? তোমাদের এই শাস্তি তো এই জন্যে যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হতো তখন তোমরা তাকে অস্বীকার করতে এবং আল্লাহর শরীক স্থির করা হলে তোমরা তা বিশ্বাস করতে; বস্তুতঃ সমুচ্চ, মহান আল্লাহরই সমস্ত কর্তৃত্ব।” (৪০:১১-১২) অর্থাৎ এখন তোমাদের জন্যে সব পথই বন্ধ। আমলের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন হলো প্রতিদান প্রদানের সময়। তাওহীদের সময় তোমরা শিরক করেছিলে। সুতরাং এখন অনুশোচনা করে কি লাভ?
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।