সূরা আল-হজ্জ (আয়াত: 51)
হরকত ছাড়া:
والذين سعوا في آياتنا معاجزين أولئك أصحاب الجحيم ﴿٥١﴾
হরকত সহ:
وَ الَّذِیْنَ سَعَوْا فِیْۤ اٰیٰتِنَا مُعٰجِزِیْنَ اُولٰٓئِکَ اَصْحٰبُ الْجَحِیْمِ ﴿۵۱﴾
উচ্চারণ: ওয়াল্লাযীনা ছা‘আও ফীআ-য়া-তিনা-মু‘আ-জিযীনা উলাইকা আসহা-বুল জাহীম।
আল বায়ান: আর যারা আমার আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করে দেয়ার চেষ্টা করে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫১. এবং যারা আমাদের আয়াতসমূহকে ব্যৰ্থ করার চেষ্টা করে, তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর যারা আমার নিদর্শনের বিরুদ্ধে চেষ্টা চালায়, সেগুলোর উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করার জন্য, তারাই হল জাহান্নামের বাসিন্দা।
আহসানুল বায়ান: (৫১) আর যারা আমার আয়াতকে ব্যর্থ করার অপচেষ্টা করে[1] তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী।
মুজিবুর রহমান: আর যারা আমার আয়াত ব্যর্থ করার চেষ্টা করে তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী।
ফযলুর রহমান: আর যারা আমার নিদর্শনসমূহ ব্যর্থ করার চেষ্টা করে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী (হবে)।
মুহিউদ্দিন খান: এবং যারা আমার আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করার জন্যে চেষ্টা করে, তারাই দোযখের অধিবাসী।
জহুরুল হক: আর যারা আমাদের নির্দেশাবলী বিফল করার চেষ্টা করে তারাই হচ্ছে জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দা।
Sahih International: But the ones who strove against Our verses, [seeking] to cause failure - those are the companions of Hellfire.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫১. এবং যারা আমাদের আয়াতসমূহকে ব্যৰ্থ করার চেষ্টা করে, তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫১) আর যারা আমার আয়াতকে ব্যর্থ করার অপচেষ্টা করে[1] তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী।
তাফসীর:
[1] مُعَاجِزِين শব্দের অর্থ হল এই ধারণা পোষণ করা যে, তারা আমাকে ব্যর্থ করে দেবে, নিষ্ক্রিয় বা ক্লান্ত করে ফেলবে, আর আমি তাদেরকে পাকড়াও করতে সক্ষম হব না। কারণ তারা পুনর্জীবন ও হিসাব-নিকাশের ব্যাপারে অবিশ্বাসী ছিল।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৯-৫১ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে কাফির-মুশরিকদের পূর্বোক্ত দাবীর জবাব প্রদান করা হচ্ছে, যে দাবী তারা করত। তারা তাদেরকে শাস্তি তাড়াতাড়ি দেয়ার জন্য বলত, তাই তাদের এ কথার জবাবে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে নাবী! তুমি বল, আমার কাজতো কেবল সতর্ক করা ও সুসংবাদ দেয়া। আযাব ও শাস্তি প্রেরণ করা আল্লাহ তা‘আলার কাজ। এটা আমার ক্ষমতার বাইরে। কাউকে দ্রুত পাকড়াও করা অথবা দেরীতে পাকড়াও করার কাজ তাঁর হিকমত ও ইচ্ছাধীন। তার জ্ঞানও আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া আর কারো নেই। এ কথা যদিও মক্কাবাসীর উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেহেতু সারা বিশ্ববাসীর জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন তাই ‘হে মানুষ’ দিয়ে সম্বোধন করা হয়েছে। এ আয়াতে কিয়ামত পর্যন্ত আগত ঐ সমস্ত কাফির-মুশরিকদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে যারা মক্কার লোকদের মত আচরণ করবে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন: যারা সতর্কবাণী শোনার পর ঈমান আনবে ও সৎ আমল করবে তারাই হবে ক্ষমাপ্রাপ্ত দল এবং তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী। পক্ষান্তরে যারাই স্বৈরাচারিতা করবে, আয়াতকে মিথ্যা বলবে তারাই হবে জাহান্নামী।
আয়াত হতে শি¬ক্ষণীয় বিষয়:
১. আকাশ থেকে শাস্তি প্রেরণ করা কেবল আল্লাহ তা‘আলারই কাজ।
২. কোন্ কাজ করলে জান্নাতী এবং কোন্ কাজ করলে মানুষ জাহান্নামী হবে তা জানতে পারলাম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৯-৫১ নং আয়াতের তাফসীর:
কাফিররা যখন তাড়াতাড়ি শাস্তি চাইলো তখন আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসূলকে (সঃ) বলছেনঃ হে রাসূল (সঃ)! তুমি তাদেরকে বলে দাওঃ হে লোক সকল! আমি তো আল্লাহ তাআলার একজন প্রেরিত বান্দা। আমি তোমাদেরকে ঐ শাস্তি হতে সতর্ক করতে এসেছি যা তোমাদের সামনে রয়েছে। তোমাদের হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আমার নয়। শাস্তি আল্লাহ তাআলার অধিকারে রয়েছে। ইচ্ছা করলে তিনি এখনই তা নাজিল করবেন, ইচ্ছা করলে বিলম্বে করবেন। কার ভাগে হিদায়াত রয়েছে এবং কে আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত তা আমার জানা নেই। হুকুমত তারই হাতে। তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারে না। তিনি খুব তাড়াতাড়ি হিসাব গ্রহণকারী। আমার অধিকার শুধু এটুকুই যে, আমি একজন সতর্ককারী ও ভয় প্রদর্শক। যাদের অন্তরে ইয়াকীন ও ঈমান রয়েছে এবং তাদের আমল দ্বারা তা প্রমাণিত হয়, তাদের সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার যোগ্য। তাঁর পূণ্যগুলিও প্রশংসা লাভের যোগ্যতা রাখে।
(আরবী) দ্বারা জান্নাতকে বুঝানো হয়েছে। যারা অন্যদেরকে আল্লাহর পথ ও রাসূলের (সঃ) আনুগত্য হতে বিরত রাখে তারা জাহান্নামী। তারা হবে কঠিন শাস্তি ও প্রজ্জলিত অগ্নির খড়ি। আল্লাহ আমাদেরকে ওটা হতে রক্ষা করুন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যারা কুফরী করেছে এবং আল্লাহর পথ হতে (মানুষকে) বিরত রেখেছে, তাদের ফাসাদ সৃষ্টির কারণে আমি তাদের শাস্তির উপর শাস্তি বৃদ্ধি করবো।” (১৬:৮৮)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।