আল কুরআন


সূরা আল-আম্বিয়া (আয়াত: 77)

সূরা আল-আম্বিয়া (আয়াত: 77)



হরকত ছাড়া:

ونصرناه من القوم الذين كذبوا بآياتنا إنهم كانوا قوم سوء فأغرقناهم أجمعين ﴿٧٧﴾




হরকত সহ:

وَ نَصَرْنٰهُ مِنَ الْقَوْمِ الَّذِیْنَ کَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا ؕ اِنَّهُمْ کَانُوْا قَوْمَ سَوْءٍ فَاَغْرَقْنٰهُمْ اَجْمَعِیْنَ ﴿۷۷﴾




উচ্চারণ: ওয়া নাসারনা-হু মিনাল কাওমিল্লাযীনা কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা- ইন্নাহুম কা-নূ কাওমা ছাওইন ফাআগরাকনা-হুম আজমা‘ঈন।




আল বায়ান: আর আমি তাকে সেই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছিলাম, যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল। তারা ছিল এক মন্দ কওম। তাই আমি তাদের সকলকেই পানিতে ডুবিয়ে মেরেছিলাম।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৭. এবং আমরা তাকে সাহায্য করেছিলাম সে সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যারা আমার নিদর্শনাবলীতে মিথ্যারোপ করেছিল; নিশ্চয় তারা ছিল এক মন্দ সম্প্রদায়। এজন্য আমরা তাদের সবাইকেই নিমজ্জিত করেছিলাম।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর আমি তাকে সেই লোকেদের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছিলাম যারা আমার আয়াতকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারা ছিল এক খারাপ সম্প্রদায়, কাজেই তাদের সব্বাইকে (বানে) ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।




আহসানুল বায়ান: (৭৭) এবং আমি তাকে সাহায্য করেছিলাম সেই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যাজ্ঞান করেছিল, তারা ছিল এক মন্দ সম্প্রদায়; এ জন্য তাদের সকলকেই আমি নিমজ্জিত করেছিলাম।



মুজিবুর রহমান: এবং আমি তাকে সাহায্য করেছিলাম সেই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যারা আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করেছিল, তারা ছিল এক মন্দ সম্প্রদায়; এ জন্য তাদের সবাইকে আমি নিমজ্জিত করেছিলাম।



ফযলুর রহমান: এবং তাকে সেই লোকদের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছিলাম যারা আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছিল। নিশ্চয়ই তারা ছিল এক পাপী জনগোষ্ঠী। তাই আমি তাদের সকলকে ডুবিয়ে মেরেছিলাম।



মুহিউদ্দিন খান: এবং আমি তাঁকে ঐ সম্প্রদায়ের বিপক্ষে সাহায্য করেছিলাম, যারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করেছিল। নিশ্চয়, তারা ছিল এক মন্দ সম্প্রদায়। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে নিমজ্জত করেছিলাম।



জহুরুল হক: আর আমরা তাঁকে সাহায্য করেছিলাম সেই লোকদের বিরুদ্ধে যারা আমাদের নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করেছিল। নিঃসন্দেহ তারা ছিল দুষ্ট লোক, তাই তাদের সবাইকে আমরা ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।



Sahih International: And We saved him from the people who denied Our signs. Indeed, they were a people of evil, so We drowned them, all together.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭৭. এবং আমরা তাকে সাহায্য করেছিলাম সে সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যারা আমার নিদর্শনাবলীতে মিথ্যারোপ করেছিল; নিশ্চয় তারা ছিল এক মন্দ সম্প্রদায়। এজন্য আমরা তাদের সবাইকেই নিমজ্জিত করেছিলাম।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭৭) এবং আমি তাকে সাহায্য করেছিলাম সেই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যাজ্ঞান করেছিল, তারা ছিল এক মন্দ সম্প্রদায়; এ জন্য তাদের সকলকেই আমি নিমজ্জিত করেছিলাম।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭৬-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতদ্বয়ে নূহ (عليه السلام)-এর কথা আলোচনা করা হয়েছে। مِنْ قَبْلُ অর্থাৎ ইবরাহীম (عليه السلام)-এর পূর্বে। নূহ (عليه السلام) ইবরাহীম (عليه السلام)-এর পূর্বে দুনিয়াতে এসে স্বজাতির মাঝে তাওহীদের দাওয়াত দিয়েেিছলেন। তিনি বিভিন্নভাবে দাওয়াত দিয়েছিলেন, তাঁর দাওয়াতী পদ্ধতিগুলো সূরা নূহে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু যখন তাঁর জাতি দাওয়াত গ্রহণ করল না, তখন তিনি আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করলেন এভাবে: যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন



(وَقَالَ نُوْحٌ رَّبِّ لَا تَذَرْ عَلَي الْأَرْضِ مِنَ الْكٰفِرِيْنَ دَيَّارًا -‏ إِنَّكَ إِنْ تَذَرْهُمْ يُضِلُّوْا عِبَادَكَ وَلَا يَلِدُوْآ إِلَّا فَاجِرًا كَفَّارًا)‏



“ নূহ আরো বলেছিল: হে আমার প্রতিপালক! পৃথিবীতে কাফিরদের মধ্য হতে কোন গৃহবাসীকে ছেড়ে দেবেন না। তুমি যদি তাদেরকে ছেড়ে দাও তারা তোমার‎ বান্দাদেরকে বিভ্রান্ত করবে এবং যারা জন্ম লাভ করবে তারা হবে দু®কৃতিকারী ও কাফির।” (সূরা নূহ ৭১:২৬-২৭) আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ডাকে সাড়া দিলেন, তাঁকে ও তাঁর পরিবার তথা যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিল তাদেরকে রক্ষা করে অবাধ্য সবাইকে মহাপ্লাবনে ডুবিয়ে মারলেন।



এ স¤পর্কে সূরা হিজর, সূরা সফফাতের ৭৫-৭৭ নং, সূরা কামারের ১০-১১ নং আয়াতসহ অনেক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলাকে একনিষ্ঠভাবে আহ্বান করলে আল্লাহ তা‘আলা আহ্বানে সাড়া দেন এবং বিপদ থেকে মুক্তি দান করেন।

২. অপরাধ করলে অবশ্যই তার জন্য শাস্তি ভোগ করতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭৬-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা খবর দিচ্ছেন যে, হযরত নূহকে (আঃ) তাঁর কওম যখন মিথ্যা প্রতিপাদন করে ও কষ্ট দেয় তখন তার প্রতিপালককে ডাক দিয়ে বলেনঃ “হে আল্লাহ! আমি অপারগ হয়ে গেছি। সুতরাং আপনি আমাকে সাহায্য করুন!` তিনি আরো বলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! পৃথিবীতে কাফিরদের মধ্য হতে কোন গৃহবাসীকে অব্যাহতি দিয়েন না। যদি আপনি তাদেরকে অব্যাহতি দেন তবে তারা আপনার বান্দাদেরকে বিভ্রান্ত করবে এবং জন্ম দিতে থাকবে শুধু দুষ্কৃতিকারী ও কাফির।” আল্লাহ তাআলা তার প্রার্থনা কবুল করলেন। তিনি তাকে ও তার মু'মিন অনুসারীদেরকে পরিত্রাণ দেন। এবং তার পরিবার পরিজনকেও রক্ষা করেন। শুধু তাদেরকে নয় যাদের নাম ধ্বংস প্রাপ্তদের তালিকা ভুক্ত ছিল। তার উপর ঈমান আনয়নকারীদের সংখ্যা খুবই কম ছিল। আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে (আঃ) তাঁর কওমের জুলুম ও অবিচার হতে মুক্তি দেন। সাড়ে নয়শত বছর তিনি তাদের মধ্যে অবস্থান করে তাদেরকে তাবলীগ করতে থাকেন। কিন্তু অল্প কয়েকজন ছাড়া সবাই শিরক ও কুফরীর উপরই রয়ে যায়। এমন কি তারা তাকে কষ্ট দিতে থাকে। এবং তাঁকে কষ্ট দেয়ার ব্যাপারে একে অপরকে উত্তেজিত করে। মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি হযরত নূহকে (আঃ) সাহায্য করেছিলাম ঐ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যারা আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করেছিল এবং তাকে তাদের উৎপীড়ন হতে রক্ষা করেছিলাম এবং তার প্রার্থনা অনুযায়ী ভূ-পৃষ্ঠে একজন কাফিরও পরিত্রাণ পায় নাই। সবকেই ডুবিয়ে দেয়া হয়।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।