আল কুরআন


সূরা আল-আম্বিয়া (আয়াত: 7)

সূরা আল-আম্বিয়া (আয়াত: 7)



হরকত ছাড়া:

وما أرسلنا قبلك إلا رجالا نوحي إليهم فاسألوا أهل الذكر إن كنتم لا تعلمون ﴿٧﴾




হরকত সহ:

وَ مَاۤ اَرْسَلْنَا قَبْلَکَ اِلَّا رِجَالًا نُّوْحِیْۤ اِلَیْهِمْ فَسْـَٔلُوْۤا اَهْلَ الذِّکْرِ اِنْ کُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ ﴿۷﴾




উচ্চারণ: ওয়ামাআরছালনা-কাবলাকা ইল্লা-রিজা-লাননূহীইলাইহিম ফাছআলূআহলাযযিকরি ইন কুনতুম লা-তা‘লামূন।




আল বায়ান: আর তোমার পূর্বে আমি পুরুষই পাঠিয়েছিলাম, যাদের প্রতি আমি ওহী পাঠাতাম। সুতরাং তোমরা জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর যদি তোমরা না জান।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭. আর আপনার আগে আমরা ওহীসহ পুরুষদেরকেই পাঠিয়েছিলাম(১); সুতরাং যদি তোমরা না জান তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর।(২)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমার পূর্বে যে সব রসূল পাঠিয়েছিলাম যাদের প্রতি আমি ওয়াহী করতাম তারা মানুষই ছিল, তোমরা যদি না জান তবে (অবতীর্ণ) কিতাবের জ্ঞান যাদের আছে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর।




আহসানুল বায়ান: (৭) তোমার পূর্বে পুরুষদেরকেই আমি (রসূলরূপে) প্রেরণ করেছি; [1] যাদের নিকট আমি অহী পাঠাতাম। তোমরা যদি না জান, তাহলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর। [2]



মুজিবুর রহমান: তোমার পূর্বে আমি অহীসহ মানুষই পাঠিয়েছিলাম; তোমরা যদি না জান তাহলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর।



ফযলুর রহমান: তোমার পূর্বে আমি মানুষকেই রসূল করে পাঠিয়েছিলাম, যাদের কাছে ওহী পাঠাতাম। তোমরা যদি না জান তাহলে যাদের আসমানি কিতাবের জ্ঞান আছে তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর।



মুহিউদ্দিন খান: আপনার পূর্বে আমি মানুষই প্রেরণ করেছি, যাদের কাছে আমি ওহী পাঠাতাম। অতএব তোমরা যদি না জান তবে যারা স্মরণ রাখে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর।



জহুরুল হক: আর তোমার আগে আমরা মানুষ ছাড়া অন্য কাউকে পাঠাই নি যাদের কাছে আমরা প্রত্যাদেশ দিয়েছিলাম, কাজেই স্মারকগ্রন্থের অধিকারীদের তোমরা জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো।



Sahih International: And We sent not before you, [O Muhammad], except men to whom We revealed [the message], so ask the people of the message if you do not know.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭. আর আপনার আগে আমরা ওহীসহ পুরুষদেরকেই পাঠিয়েছিলাম(১); সুতরাং যদি তোমরা না জান তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর।(২)


তাফসীর:

(১) এটি হচ্ছে “এ ব্যক্তি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ” তাদের এ উক্তির জবাব। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মানবিক সত্তাকে তাঁর নবী না হওয়ার বিরুদ্ধে যুক্তি হিসেবে পেশ করতো। জবাব দেয়া হয়েছে যে, পূর্ব যুগের যেসব লোককে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে বলে তোমরা মানো তারা সবাইও মানুষ ছিলেন এবং মানুষ থাকা অবস্থায়ই তারা আল্লাহর অহী লাভ করেছিলেন। যেমন অন্য আয়াতে বলেছেন, “আর আমরা আপনার আগেও জনপদবাসীদের মধ্য থেকে পুরুষদেরকেই পাঠিয়েছিলাম, যাদের কাছে ওহী পাঠাতাম।” [সূরা ইউসুফ: ১০৯]

এ আয়াত থেকে আরো জানা গেল যে, মহান আল্লাহ নবুওয়ত ও রিসালাতের জন্য শুধুমাত্র পুরুষদেরকেই মনোনীত করেছেন। নারীরা এটার যোগ্যতা রাখে না বলেই তাদের দেয়া হয়নি। সৃষ্টিগতভাবে এতবড় গুরু-দায়িত্ব নেয়ার যোগ্যতা তাদের নেই। নবুওয়তের প্রচার-প্রসারের জন্য যে নিরলস সংগ্রাম দরকার হয় তা নারীরা কখনো করতে পারে না। তাদেরকে তাদের সৃষ্টি উপযোগী দায়িত্বই দেয়া হয়েছে। তাদের দায়িত্বও কম জবাবদিহীতাও স্বল্প। তাদেরকে এ দায়িত্ব না দিয়ে আল্লাহ তাদের উপর বিরাট রহমত করেছেন।


(২) এখানে أَهْلَ الذِّكْرِ বা “জ্ঞানীদের” বলে তাওরাত ও ইঞ্জলের যেসব আলেম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তাদেরকে বোঝানো হয়েছে। উদ্দেশ্য এই যে, যে ইহুদীরা ইসলাম বৈরিতার ক্ষেত্রে আজ তোমার সাথে গলা মিলিয়ে চলছে এবং তোমাদেরকে বিরোধিতা করার কায়দা কৌশল শেখাচ্ছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, মূসা ও বনী-ইসরাঈলের অন্যান্য নবীগণ কী ছিলেন? মানুষ ছিলেন, না ফেরেশতা ছিলেন? কেননা, তারা সবাই জানে যে পুর্ববর্তী সকল নবী মানুষই ছিলেন। এটা তো মূলত: তাদের জন্য রহমতস্বরূপ। কারণ, তাদের মধ্য থেকে পাঠানোর কারণেই তিনি তাদের কাছে বাণী পৌছাতে সক্ষম হয়েছেন। আর মানুষও নবীদের থেকে রিসালাত ও হুকুম আহকাম গ্রহণ করতে পেরেছেন। [ইবন কাসীর]

এ আয়াত থেকে জানা গেল যে, শরীআতের বিধি -বিধান জানে না, এরূপ মুর্খ ব্যক্তিদের উপর আলেমদের অনুসরণ করা ওয়াজিব। তারা আলেমদের কাছে জিজ্ঞেস করে তদনুযায়ী আমল করবে। [সা’দী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭) তোমার পূর্বে পুরুষদেরকেই আমি (রসূলরূপে) প্রেরণ করেছি; [1] যাদের নিকট আমি অহী পাঠাতাম। তোমরা যদি না জান, তাহলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর। [2]


তাফসীর:

[1] সমস্ত নবীই পুরুষ মানুষ ছিলেন। না মানুষ ছাড়া, না পুরুষ ছাড়া অন্য কেউ নবী হয়েছেন। অর্থাৎ, নবুঅত শুধুমাত্র মানুষের ও পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট। এ থেকে বোঝা গেল যে, কোন নারী নবী হননি। কারণ নবুঅতের দায়িত্ব ও কর্তব্য এমন, যা নারীদের স্বভাব ও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

[2] এখানে أهل الذكر (আহলে ইলম বা জ্ঞানী) বলতে আহলে কিতাবকে বুঝানো হয়েছে, যারা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবের জ্ঞান রাখত। অর্থাৎ, তোমরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর যে, যে সকল নবী গত হয়েছে তারা মানুষ ছিল, না অন্য কিছু? উত্তরে তারা বলবে, সমস্ত নবী মানুষই ছিলেন। এ থেকে কিছু লোক তাকলীদ (অন্ধানুকরণ) করার আবশ্যকতা প্রমাণ করেন; যা সঠিক নয়। তাকলীদ হল কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও তার নির্দিষ্ট ফিকহ (শরয়ী জ্ঞান)-কে একমাত্র অবলম্বনীয় মনে করা ও তার উপর আমল করা; অন্য কথায় তা বিনা দলীলে মেনে নেওয়া। অথচ আয়াতে আহলে যিকর বলতে কোন বিশেষ ব্যাক্তিকে বুঝানো হয়নি; বরং প্রত্যেক সেই জ্ঞানীকে বুঝানো হয়েছে যে তাওরাত ও ইঞ্জীলের জ্ঞান রাখত। বাস্তবপক্ষে এখানে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির তাকলীদ খন্ডন করা হয়েছে। আলোচ্য আয়াতে তো উলামাদের দিকে রুজু করার উপর তাকীদ রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অপরিহার্য; যা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। এখানে কোন ব্যক্তি বিশেষের অাঁচল ধরার হুকুম দেওয়া হয়নি। পক্ষান্তরে তাওরাত ও ইঞ্জীল আসমানী গ্রন্থ ছিল এবং কোন মানব রচিত ফিকহ ছিল না? সুতরাং এর অর্থ হল, উলামাদের সাহায্যে শরীয়তের উক্তি ও বক্তব্য সম্পর্কে জেনে নাও। আর এটাই হল আলোচ্য আয়াতের সঠিক মর্মার্থ।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭-৯ নং আয়াতের তাফসীর:



এ আয়াতে মক্কার কাফির-মুশরিকসহ সকল যুগের রাসূলের ব্যাপারে ভ্রান্ত ধারণা পোষণকারীদের জবাব দেয়া হয়েছে। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখে মক্কার মুশরিকরা বলছিল এ কেমন রাসূল! যে খাবার খায়, বাজারে যায়। রাসূল তো এমন হওয়া দরকার যার আমাদের মত খাওয়া, পান করা এবং বাজারে যাওয়ার প্রয়োজন হবেনা, বরং রাসূল হবেন একজন ফেরেশতা বা তার সাথে ফেরেশতা থাকবেন।



আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: ‘তোমার পূর্বে রাসূল হিসেবে আমি পুরুষ মানুষই পাঠিয়েছিলাম’ অর্থাৎ যত রাসূল দুনিয়াতে আগমন করেছে সবাই পুরুষ মানুষ ছিলেন। তাদের এমন শরীর দিয়েছিলেন যা খাবারের মুখাপেক্ষী ছিল, তারা চিরস্থায়ীও ছিলনা। অতএব হে মক্কাবাসী! তোমাদের যদি এ কথা বিশ্বাস না হয় তাহলে যারা জ্ঞানী তথা তোমাদের মাঝে আসমানী কিতাবের জ্ঞান রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জিজ্ঞেস কর। যেমন আহলে কিতাবরা, যারা তাওরাত ও ইনজিল পেয়েছে এবং সঠিক ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এখান থেকে আরেকটি বিষয় বুঝা গেল যে, কোন নারী নাবী হননি। কারণ নবুআতের দায়িত্ব ও কর্তব্য এমন, যা কোন নারীর স্বভাব ও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(وَمَآ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًا نُّوْحِيْٓ إِلَيْهِمْ مِّنْ أَهْلِ الْقُرٰي)



“তোমার পূর্বেও জনপদবাসীর মধ্য হতে পুরুষকেই প্রেরণ করেছিলাম, যাদের নিকট ওয়াহী পাঠাতাম।” (সূরা ইউসুফ ১২:১০৯)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِّنْ قَبْلِكَ الْخُلْدَ ط أَفَاْئِنْ مِّتَّ فَهُمُ الْخٰلِدُوْنَ)‏



“আমি তোমার পূর্বেও কোন মানুষকে অনন্ত‎ জীবন দান করিনি; সুতরাং তোমার মৃত্যু হলে তারা কি চিরজীবী হয়ে থাকবে?” (সূরা আম্বিয়া ২১:৩৪)



যদি দুনিয়াতে ফেরেশতা বসবাস করত তাহলে ফেরেশতাকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করতেন।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(قُلْ لَّوْ كَانَ فِي الْأَرْضِ مَلَا۬ئِكَةٌ يَّمْشُوْنَ مُطْمَئِنِّيْنَ لَنَزَّلْنَا عَلَيْهِمْ مِّنَ السَّمَا۬ءِ مَلَكًا رَّسُوْلًا‏)‏



“বল:‎ ‘ফেরেশতাগণ যদি নিশ্চিন্ত‎ হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করত তবে আমি আকাশ হতে তাদের নিকট অবশ্যই ফেরেশ্তা রাসূল করে পাঠাতাম।’’ (সূরা ইসরা ১৭:৯৫)



أَهْلَ الذِّكْرِ



অর্থ আহলুল ইলম বা জ্ঞানী, এখানে আহলে কিতাবদেরকে বুঝানো হয়েছে যারা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবের জ্ঞান রাখত। এ আয়াত থেকে অনেকে তাকলীদের দলীল পেশ করতে অপচেষ্টা করে থাকে। বরং এ আয়াত তাকলীদের বিরুদ্ধে দলীল। বলা হয়েছে না জানা থাকলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করতে। আর জ্ঞানী তো একজন নয়, জ্ঞানী ব্যক্তি অনেক থাকেন। সুতরাং কোন বিষয়ে না জানা থাকলে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য একাধিক জ্ঞানীর কাছে জিজ্ঞাসা করবে।



অতএব মানুষকেই রাসূল হিসেবে প্রেরণ করা মানুষদের জন্য উপযোগী ও যুক্তিযুক্ত। যেহেতু সাধারণ মানুষের মতই নাবী-রাসূলগণ মাটির তৈরী, সেহেতু তারাও আহার গ্রহণ করা, বাজারে যাতায়াত করার মুখাপেক্ষী ছিল, এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং এসব প্রমাণাদি পেশ করার পরেও যারা সঠিক বিষয়ে ঈমান আনবে না তাদের ধ্বংস অনিবার্য, যেমন পূর্ববর্তীরা হয়েছিল।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সকল রাসূল মাটির তৈরি ছিলেন, মানুষের যা প্রয়োজন হত তাদেরও তাই হত।

২. জানা না থাকলে যারা জানে তাদের নিকট মানার উদ্দেশ্যে জেনে নিতে হবে।

৩. কোন মানুষ দুনিয়াতে চিরস্থায়ী নয়, এমন কি নাবী-রাসূলগণও নন।

৪. কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা আলেমের তাকলীদ করা বৈধ নয়, বরং যিনি কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে সঠিক ফায়সালা দেবেন তার কথাই গ্রহণ করতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭-৯ নং আয়াতের তাফসীর:

মানুষের মধ্য হতে কেউ যে রাসূল হতে পারেন কাফিররা এটা অস্বীকার করতো। তাদের এই বিশ্বাস খণ্ডন করার জন্যে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে নবী (সাঃ) তোমার পূর্বে যত নবী ও রাসূল এসেছিল সবাই তো মানুষই ছিল, তাদের কেউই ফেরেশতা ছিল না। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ)! তোমার পূর্বে আমি যত সব রাসূল পাঠিয়েছিলাম এবং তাদের কাছে ওয়াহী করেছিলাম তারা সূবাই শহরবাসী মানুষই ছিল।” (১২৪ ১০৯) অন্য এক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ) ! তুমি বলঃ আমি তো নতুন অসাধারণ এবং প্রথম নবী নই।” (৪৬:১) এই কাফিরদের পূর্ববর্তী কাফিররাও তাদের নবীদেরকে মান্য করার ব্যাপারে এই কৌশলই অবলম্বন করেছিল। যেমন কুরআন কারীমে এই বর্ণনা রয়েছে যে, তারা বলেছিলঃ (আরবী) অর্থাৎ “একজন মানুষই কি আমাদেরকে পথ প্রদর্শন করবে?” (৬৪:৬) এখানে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আচ্ছা, তোমরা আহলে ইলম অর্থাৎ ইয়াহুদী, খৃস্টান ও অন্যান্য দলকে জিজ্ঞেস করে দেখো তো যে, তাদের কাছে কি মানুষই রাসূল হয়ে এসেছিল, না ফেরেশতা?` এটাও আল্লাহ তাআলার একটা অনুগ্রহ যে, মানুষের কাছে তাদেরই মত মানুষকে রাসূলরূপে প্রেরণ করে থাকেন যাতে তারা তাদের সাথে উঠা বসা করতে পারে এবং তাদের নিকট হতে শিক্ষা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। আর যাতে তারা তাদের কথাই বুঝতে পারে। তাদের কেউই এরূপ দেহ বিশিষ্ট ছিল না যে, তাদের পানা হারের প্রয়োজন হতো না। বরং তারা সবাই পানাহারের মুখাপেক্ষী ছিল যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমার পূর্বে যতগুলি রাসূল পাঠিয়েছিলাম তারা সবাই খাদ্য খেতো এবং বাজারে চলাফেরাও করতো।` (২৫:২০) অর্থাৎ তারা সবাই মানুষই ছিল। মানুষের মতই তারা পানাহার করতো এবং কাজকর্ম ও ব্যবসা বাণিজ্যের জন্যে বাজারে গমনাগমন করতে থাকতো।
সুতরাং এগুলো তাদের পয়গম্বরীর পরিপন্থী নয়। যেমন মুশরিকরা বলতোঃ (আরবী) অর্থাৎ “এটা কেমন রাসূল যে, সে খাদ্য খায় ও বাজারে গমনাগমন করে? তার কাছে কোন ফেরেশতা আসে না কেন, যে তার সংগে থাকত সতর্ককারীরূপে? আচ্ছা এটা না হয় না-ই হলো, তা হলে তাকে কোন ধন ভাণ্ডারের মালিক বানিয়ে দেয়া হয় নাই কেন? কেনই বা তাকে কোন বাগান প্রদান করা হয় নাই। যদ্ধারা সে স্বচ্চলভাবে জীবন যাপন করতো?” (২৫:৭-৮) অনুরূপভাবে পূর্ববর্তী নবীরাও দুনিয়ায় চিরস্থায়ী ভাবে অবস্থান করে নাই। এসেছে ও গিয়েছে। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমাদের পূর্বে কোন মানুষের জন্যে আমি চিরস্থায়ী জীবন করি নাই।` (২১৪ ৩৪) তাদের কাছে অবশ্যই আল্লাহর ওয়াহী আসতো এবং ফেরেশতারা তাঁর আহ্কাম পৌঁছিয়ে দিতেন। ফুমের কারণে ধ্বংস হয়ে যায় এবং তারা পরিত্রাণ পায়। তাদের অনুসারীরাও সফলকাম হয় এবং সীমা অতিক্রমকারীদেরকে অর্থাৎ নবীদেরকে যারা মিথ্যা প্রতিপাদন করেছিল তাদেরকে তিনি ধ্বংস করে দেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।